Travel

ঢাকা থেকে মংলা সমুদ্র বন্দর সুন্দর বন ভ্রমণের।

June 12, 2026

142 views

যাত্রার বিবরণ ও পথিমধ্যের অভিজ্ঞতা১.

 যাত্রা শুরু ও গুলিস্তানে সকালের নাস্তাভ্রমণের দিন সকাল ঠিক ৭:০০ টায় বাসা থেকে বের হয়ে ঢাকার গুলিস্তান বাস টার্মিনালে পৌঁছাই। মংলার সরাসরি বাসের টিকিট কেটে, বাস ছাড়ার আগে গুলিস্তানের একটি স্থানীয় হোটেল থেকে সকালের গরম-গরম পরোটা, ভাজি আর চা দিয়ে নাস্তা সম্পন্ন করি।২. মাওয়া ঘাট ও পদ্মা সেতু পারাপারগুলিস্তান থেকে ছেড়ে আসা বাসটি ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়ে ধরে দ্রুত এগিয়ে চলে। কিছুক্ষণের মধ্যেই বাসটি মাওয়ায় এসে থামে। সেখানে হালকা ফ্রেশ হয়ে আবার বাসে উঠি। এরপরই আসে সেই মাহেন্দ্রক্ষণ—চোখের সামনে ভেসে ওঠে বিশাল পদ্মা সেতু। বাসের জানালা দিয়ে খরস্রোতা পদ্মা নদী আর সেতুর নান্দনিক সৌন্দর্য দেখতে দেখতে আমরা ওপাড়ে পৌঁছে যাই।৩. ভাঙ্গা মোড়ে সংক্ষিপ্ত বিরতি ও টুকটাক খাওয়াপদ্মা সেতু পার হয়ে বাসটি ফরিদপুরের ভাঙ্গা মোড়ে গিয়ে কিছুক্ষণ থামে। রাস্তার চারপাশের আধুনিক ফ্লাইওভারের দৃশ্য ছিল দেখার মতো। এখানে নেমে স্থানীয় বাজারের বিখ্যাত মিষ্টি ও হালকা কিছু স্ন্যাক্স কিনে খাই, যা ভ্রমণের ক্লান্তি অনেকটাই দূর করে দেয়।৪. গোপালগঞ্জ ও বাগেরহাট হয়ে মংলা আগমনভাঙ্গা থেকে আমাদের বাসটি গোপালগঞ্জ ও বাগেরহাটের কাটাখালী মোড় হয়ে মংলার দিকে এগিয়ে চলে। পুরো পথেই দুপাশের সবুজ প্রকৃতি, খেজুর গাছ আর গ্রামীণ পরিবেশ দেখতে দেখতে চোখ জুড়িয়ে যায়। পথে বিভিন্ন স্টপেজে ডাব এবং স্থানীয় ফল কিনে খাওয়া হয়। ঢাকা থেকে রওনা হওয়ার পর প্রায় ৪ থেকে ৫ ঘণ্টার মধ্যে বাসটি মংলা বন্দরে এসে পৌঁছায়।বানিশান্তায় অবস্থান ও রাত্রিযাপনমংলা ঘাটে নেমে নদী পার হয়ে অপর পাড়ে পশুর নদীর তীর ঘেঁষে অবস্থিত বিখ্যাত 'বানিশান্তা' এলাকায় যাই। সুন্দরবনের খুব কাছে এবং শান্ত পরিবেশ হওয়ায় এখানেই একটি মাঝারি মানের হোটেল রুম ভাড়া করি। কম বাজেটে থাকার জন্য বানিশান্তার লজগুলো বেশ উপযোগী।হোটেলে ব্যাগ রেখে ফ্রেশ হয়ে দুপুরের খাবারের জন্য বের হই। স্থানীয় একটি হোটেলে পশুর নদীর তাজা চিংড়ি মাছ এবং দেশি মুরগি দিয়ে তৃপ্তি সহকারে দুপুরের খাবার শেষ করি। বিকেলটা কাটে পশুর নদীর পাড়ে সূর্যাস্ত দেখে এবং স্থানীয় বাজার থেকে সুন্দরবনের খাঁটি মধু ও কিছু স্মারক (Showpiece) কেনাকাটা করে। রাতে হালকা ডিনার করে দ্রুত ঘুমিয়ে পড়ি পরের দিনের মূল আকর্ষণের জন্য।দ্বিতীয় দিন: সুন্দরবন ভ্রমণসকাল সকাল ঘুম থেকে উঠে বানিশান্তা ঘাট থেকে সুন্দরবনে যাওয়ার জন্য একটি ট্রলার বা ছোট ইঞ্জিনচালিত নৌকা ভাড়া করি (সহযাত্রী থাকলে খরচ অনেক কমে যায়)। সকালের নাস্তা শেষ করেই আমাদের ট্রলার ছুটে চলে সুন্দরবনের করমজল পর্যটন কেন্দ্রের দিকে।করমজল ভ্রমণ: বনের ভেতরে কাঠের ট্রেইল (Wooden Trail) ধরে হাঁটার সময় চারপাশে শ্বাসমূল (Pneumatophores) এবং ঘন ম্যানগ্রোভ বনের রূপ দেখে আমি মুগ্ধ হই।বন্যপ্রাণী দর্শন: করমজলে হরিণ ও কুমির প্রজনন কেন্দ্রটি ঘুরে দেখি। সেখানে বানরের দল, চিত্রা হরিণ এবং বিশাল আকৃতির নোনা জলের কুমির দেখার অভিজ্ঞতা ছিল অসাধারণ।ফিরে আসা: সুন্দরবনের শান্ত ও রহস্যময় পরিবেশে কয়েক ঘণ্টা কাটিয়ে দুপুরের দিকে আবার বানিশান্তা ঘাটে ফিরে আসি। হোটেলে ফিরে চেক-আউট করে দুপুরের খাবার খেয়ে আবার ঢাকার বাসে উঠি। ভ্রমণটি এখানে শেষ করছি। পরে ঢাক গিয়ে যদি আবার লিখতে পারি এর ভিতর তাহা উল্লেখ করে দিব। ধন্যবাদ।

Picked up where you left off

Comments

    Please login to post comment. Login