Posts

উপন্যাস

ভয়ংকর প্রেম কাহিনী পর্ব৯

June 15, 2026

Md Josam

Original Author মোঃ জসিম

Translated by মোঃ জসিম

12
View

ভয়ংকর প্রেম কাহিনী
পর্ব ৯: রাহিমের জাগরণ ও আত্মার শেষ যুদ্ধ
নদীর ধারের সেই ভয়ংকর রাতের পর তিন সপ্তাহ কেটে গেছে। আদিত্য এখন আর আগের আদিত্য নেই। তার চোখের রং কখনো কালো, কখনো লালচে হয়ে যায়। আয়েশা তার পাশে সবসময় থাকে। মেয়েটা এখন পুরোপুরি কিশোরী। তার চলাফেরা, কথা বলা — সবকিছুতে পরীর ছায়া স্পষ্ট। সামিয়া তার পুরোনো বাড়িতে আদিত্যকে লুকিয়ে রেখেছে। রাহাত আর সুমনও আসে, কিন্তু তাদের চোখে এখন সন্দেহ আর ভয়।
রাহিমের পরিচয়
এক গভীর রাতে সামিয়া তার ল্যাবে সবাইকে ডাকল। টেবিলের উপর একটা পুরোনো আয়না রাখা। আয়নায় বিশেষ তেল মাখিয়ে সে মন্ত্র পড়ল। আয়না ঝাপসা হয়ে গেল, তারপর স্পষ্ট হয়ে উঠল একটা মুখ।
রাহিম উদ্দিন।
আদিত্য চমকে উঠল। “এ... এ তো...”
সামিয়া গম্ভীর গলায় বলল, “হ্যাঁ। রাহিমের পুনর্জন্ম হয়েছে। তার আত্মা তোমার শরীরেই লুকিয়ে ছিল, আদিত্য। পরী তোমাকে বাহক হিসেবে বেছে নিয়েছিল যাতে রাহিম জেগে উঠতে পারে। কিন্তু এখন রাহিম পুরোপুরি জেগে উঠতে চাইছে।”
আয়েশা হাসল। “বাবা, তুমি তো রাহিমই। শুধু এখনও পুরোপুরি জানো না।”
আদিত্য মাথা চেপে ধরল। তার ভিতরে প্রচণ্ড যন্ত্রণা। সে দেখতে পেল স্মৃতি — ১৮১২ সালের স্মৃতি। পরীকে চুমু খাওয়া, তারপর তাকে নদীতে ঠেলে দেওয়া, সম্পত্তির লোভ। আদিত্য চিৎকার করে উঠল, “না! আমি খুনি নই!”
সুমন বলল, “এখনই সময়। আমরা আদিত্যর শরীর থেকে রাহিমকে বের করে পরীকে সঙ্গে নিয়ে ধ্বংস করব।”
কিন্তু রাহাত চুপ করে ছিল। তার চোখে অদ্ভুত একটা দ্যুতি।
পরীর পূর্ণ দখলের চেষ্টা
সেই রাতেই পরী তার সর্বশক্তি প্রয়োগ করল। আদিত্য ঘুমের মধ্যে চলে গেল। স্বপ্নে সে দেখল নিজেকে — একদিকে রাহিমের রূপ, অন্যদিকে আদিত্য। পরী দুজনের মাঝে দাঁড়িয়ে হাসছে।
“তুমি রাহিম হয়ে যাও। আমি তোমাকে ক্ষমা করে দিয়েছি। আমরা চিরকাল একসঙ্গে থাকব। আয়েশা আমাদের মেয়ে।”
আদিত্যর শরীর কাঁপতে লাগল। তার গলা থেকে দুটো গলার স্বর বেরোতে লাগল — একটা তার নিজের, অন্যটা রাহিমের। সামিয়া তাকে জড়িয়ে ধরে কাঁদতে লাগল, “আদিত্য, ফিরে এসো! আমি তোমাকে ভালোবাসি!”
আয়েশা কিন্তু রেগে গেল। সে সামিয়ার দিকে হাত তুলল। সামিয়ার শরীর শূন্যে ভাসতে শুরু করল। তার গলা চেপে ধরা হচ্ছিল। আদিত্য কোনোমতে নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করে আয়েশাকে থামাল। “আয়েশা, সে তোমার মায়ের জায়গা নেয়নি। সে আমাকে বাঁচাতে চায়।”
বিশ্বাসঘাতকতা
সকাল হতেই সবচেয়ে বড় আঘাত এল। রাহাত অদৃশ্য হয়ে গিয়েছিল। সুমন তার ঘরে গিয়ে দেখল দেয়ালে রক্ত দিয়ে লেখা: “আমিই রাহিম। আমি অনেকদিন ধরে অপেক্ষা করছিলাম।”
রাহাতই রাহিমের পুনর্জন্ম। সে আদিত্যর সবচেয়ে কাছের বন্ধু হয়ে সবকিছু নজরে রেখেছিল। পরী আসলে রাহাত-রাহিমকে জাগানোর জন্য আদিত্যকে ব্যবহার করেছিল।
রাহাত (রাহিম) ফিরে এসে সবার সামনে দাঁড়াল। তার চেহারা এখন অনেক বেশি আকর্ষক, চোখে পুরোনো জমিদারের দম্ভ। “আদিত্য, তুমি শুধু একটা খোলস। এখন আমি পুরোপুরি জেগে উঠেছি। পরী আমার। আয়েশা আমার মেয়ে।”
লড়াই শুরু হয়ে গেল। রাহিমের শক্তি ছিল অপরিসীম। সে সুমনকে এক ঝটকায় দেয়ালে ছুড়ে ফেলল। সুমনের মাথা ফেটে রক্ত গড়িয়ে পড়ল। সে শেষ নিশ্বাসে আদিত্যকে বলল, “ভাই... লড়...”
আদিত্য চিৎকার করে রাহিমের উপর ঝাঁপিয়ে পড়ল। দুজনের শরীরে দুই আত্মা লড়াই করছিল। পরী আয়েশার শরীর থেকে বেরিয়ে পুরো ঘরে ছড়িয়ে পড়ল। বাড়ির সব আসবাব উলটে গেল, জানালা ভেঙে গেল।
সামিয়া আদিত্যকে বাঁচানোর জন্য একটা পুরোনো তন্ত্রের ছুরি নিয়ে রাহিমের দিকে ছুটে গেল। কিন্তু রাহিম তাকে ধরে ফেলল। “তুমি আমার পথের কাঁটা।”
সামিয়ার বুকে ছুরি বিঁধে গেল। আদিত্য দেখল তার প্রিয় মানুষটা তার সামনেই মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ছে। সামিয়া শেষবার হেসে বলল, “আমি... তোমাকে... ভালোবেসে... খুশি...”
আদিত্যর চূড়ান্ত বিদ্রোহ
আদিত্যর ভিতরে সবকিছু ভেঙে গেল। নাদিয়া, সুমন, সামিয়া — সবাই চলে গেছে। সে চিৎকার করে উঠল। তার শরীর থেকে অদ্ভুত আলো বেরোতে লাগল। সে রাহিমের (রাহাতের) গলা চেপে ধরল। “তুমি আমার সব কেড়ে নিয়েছ। এখন আমিও তোমাকে শেষ করব।”
আয়েশা কাঁদতে কাঁদতে দুজনের মাঝে দাঁড়াল। “বাবা! থামো! আমরা এক পরিবার!”
কিন্তু আদিত্য এবার পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে। সে পরীর শক্তি নিজের ভিতর থেকে বের করে রাহিমের দিকে ছুড়ে দিল। দুই প্রাচীন আত্মার মধ্যে ভয়ংকর সংঘর্ষ হল। ঘর কেঁপে উঠল। বাইরে আকাশে বজ্রপাত হতে লাগল।
রাহিম হাসতে হাসতে বলল, “তুমি আমাকে মারতে পারবে না। কারণ আমি তোমার অংশ।”
আদিত্য তার শেষ শক্তি দিয়ে নিজের বুকে ছুরি বিঁধিয়ে দিল। “তাহলে আমরা দুজনেই যাই।”
রক্তে ভেসে গেল ঘর। আয়েশা চিৎকার করে বাবাকে জড়িয়ে ধরল। পরী আর রাহিমের চিৎকারে চারপাশ কেঁপে উঠল।
কিন্তু কেউ পুরোপুরি মরেনি। আদিত্য জ্ঞান হারাল। তার শরীরে এখনও দুই আত্মা লড়াই করছে। আয়েশা তার বাবার রক্তাক্ত শরীর কোলে নিয়ে বসে রইল। তার চোখে এখন আর শুধু অন্ধকার নয়, মায়াও মিশে গেছে।
শেষের শুরু
দূরের হাসপাতালে আদিত্যকে নিয়ে যাওয়া হল। ডাক্তাররা বলল, “অবস্থা খুব খারাপ। বাঁচার সম্ভাবনা কম।”
আয়েশা একা বসে বাবার মুখের দিকে তাকিয়ে ফিসফিস করে বলল, “বাবা, তুমি মরো না। আমি তোমাকে ছাড়া থাকব না। যদি তুমি যাও, আমিও যাব।”
বাইরে ভোর হচ্ছিল। কিন্তু আদিত্যর জীবনে এখনও শেষ অধ্যায় বাকি। মৃত্যু, পুনর্জন্ম, প্রেম আর অভিশাপের চূড়ান্ত মীমাংসা।
(পর্ব ৯ সমাপ্ত)

Comments

    Please login to post comment. Login