আছেননি কোন ভাই, কিছু টাকা দিয়ে এই অন্ধ শিল্পীটাকে সাহায্য করবেন? চারটা ভাত খেয়ে জীবনটা বাচাঁবো! রেললাইন বহে সমান্তরাল! যা জীবনের রেলগাড়ী আর বহমান বিচিত্রতায় চিরকালই সমান। চলমান রেলে প্রতিটা ষ্টপেজেই আছে ক্ষনিকের আনন্দঘন মুহূর্ত, নেই বেদনার ছোঁয়া। তেমনি জীবন নামের রেলগাড়ীর প্রতিটা স্টপেজেই আছে হাসিকান্না, আনন্দঘন ও ভালবাসার এক অপূর্ব অন্তিম মুহুর্তের শেষ স্টপেজও। জীবন যাত্রার বহমান স্টপেজে এমনেই এক আনন্দঘন মুহুর্তে অপেক্ষার প্রহরে ছোট অনুভতির এক বিচিত্র ছোটগল্প। কেনই বা জন্ম? কেনই বা প্রস্থান? কি আছে, এই জীবন সমীকরণে?
কি সুন্দর বিচিত্রতায় এই ধরণীর বুকে বৈচিত্রময় মানুষের বাস। কালের আবর্তে আমাদের অনেকের সাথে পরিচিত হতে হয় আবার ক্ষণিকের কষাঘাতে চিটকেও পড়তে হয়। তবুও ক্ষণিকেই ঘটে যাওয়া কিছু রোমন্থর স্মৃতিও রয়ে যায় জীবনের আকাঁ-বাকাঁ ডায়েরীতে যা চিরকালেই স্মৃতিতে স্মৃতিময়। এইতো সে দিন ভৈরব বাজার রেলষ্টেশনে ট্রেনের অপেক্ষায় প্রহর গুনছি, এক অন্ধ পথ শিল্পী ষ্টেশনের প্ল্যাটফর্মে কিছু লোকের ভীড়ে একতারায় সুরের ঝংকার তুলে গাইতেছিলেন, "কেন পিরিতি বাড়াইলারে বন্ধু ছেড়ে যাইবা যদি............।"
হৃদয়ে জমে থাকা আবেগ আর সেতুবন্ধনের অপার এক মমতায় তিনি তৈরি করেছেন এই রেলষ্টেশনের প্লার্টফর্মে আরেকটি প্লার্টফর্ম যা একমাত্র অসহায় হৃদয়েরই উপলব্ধি। সুন্দর ভঙ্গিমায় অসাধারণ কন্ঠে গাওয়া ও চাওয়াতেও ছিল কত অসহায়ত্ব, একটু মায়া, মমতা আর ভালোবাসার পরশে বাধাঁনো লোকগুলির অনুভুতি। অনুভুতি আর উপলব্দির শেষাংশেই লোকদের দুয়ারে অনুনয়ের সহিত বলতেছিল, আছেননি কোন ভাই গানটি শুনে যদি কারো দয়া লেগে থাকে তাহলে কিছু টাকা দিয়ে এই অন্ধ অসহায়টাকে একটু সাহায্য করুন চারটা ভাত খেয়ে জীবনটা বাচাঁবো।।

আমি এখানে গান, জীবিকা ও ভিক্ষাবৃত্তির কথা বলছি না। মানুষের বৈচিত্রময় বিচিত্রটাই ছোট্ট পরিসরে তুলে ধরার চেষ্টা করেছি মাত্র। আমরা এই পৃথিবীতে কেন এসেছি, কোথায়ইবা যাবো? কেনইবা এত বৈচিত্র্যময়তায় বহমান?
-- আবু হানিফ -