চারি দিকে শুধু মাঠ আর মাঠ।তাপমাত্রা ৭০% সেঃ প্রাইভেট গাড়ীতে চড়ছিলাম। সে দিন ছিল শুক্রবার। আমি মাহফুজুর রহমান ও আমার বন্ধু সাব্বির আহমেদ একটু সকাল সকালেই উঠেছিলাম মিশরে যাব বলে।আমরা অবস্থান রত ছিলাম মক্কা মুয়াজ্জমার একঠি পাশের হোটেলে। ড্রাইবার ঠিক সময মতই আমাদের নিকটে পৌছে গেল।আমি আর সাব্বির দুই জনে গাড়ীতে চড়ে বসলাম।ড্রাইবার আমাদের বললেন ”আ জাহাবতু ইলাল মিশরী ইয়া আখি”আমি তেমন আরবী ভাষা বুঝি না।কিন্তু আমার বন্ধু মোটা মুটি আরবী ভাষা কিছুটা আয়ত্তে আছে।সে সুধু বললো “না-ম”এটা বলার সাথেই ড্রাইভার রওনা হয়ে গেল মিশরের উদ্দেশ্যে।চলতে শুরু করলাম মাইলের পর মাইল পথ।যেখানে ছিল না কোনও গাছপালা, ছিল না কোনও পানির ব্যবস্থা।তবে নিজেদের পানির পাত্র ভর্তি করে নিয়ে ছিলাম মক্কা মুয়াজ্জমার সেই বিখ্যাত পানি দিয়ে।জম জম কূপের পানি।চলতে থাকলাম অবিরাম নির্বিশ্রামে।এক পর্যায়ে পৌছালাম আমরা কূহে তূরের নিকটে। কূহে তূর বেশী দূরে ছিল না।আমরা যেখানে ছিলাম সেখান থেকে কূহে তূর স্পষ্ট দেখা যাচ্ছিল।আমার গাড়ীর জানালার ফাঁক দিয়ে তাকিয়ে দেখছিলাম কোথায় কেমন অবস্থা।তাকানো যাচ্ছিল না বাইরের দিকে,তাপমাত্রা ছিল অনেক বেশি।রাস্তা থেকে মোনে হচ্ছিল আগুনে ফুলকি বের হচ্ছে।দূর প্রান্তে মোনে হচ্ছিল কূয়াশা কূয়াশা ভাব তাপের কারনে।
হঠাৎ সামনে দেখতে পেলাম দুইজন ব্যক্তি আরবীয় মোনে হয় মাথায় হাত দিয়ে বসে আছে।সেখানে ধূ-ধূ বালুকণা যার থেকে যে আগুনের লেলিহান উঠছে।আমরা তাদেরকে দেখে গাড়ীটি দাড় করালাম।আমার বন্ধু জিজ্ঞাসা করলো ”আইনা যাহাবতা?”তারা জবাবে বললো ”লাক্বাদ ওয়াক্বা'না ফি মুশকিলাহ, ফাকাদনা ওয়াসীলাতান-নাক্লিল খাসসাতা বিনা, ওয়া নাহনু আল-আনা ফিত-তারীক, ওয়া লা নাদরী ইলা আইনা নাযহাব”আমরা বিপদে পড়েছি। আমাদের বাহন (যাতায়াতের মাধ্যম) হারিয়ে ফেলেছি। আমরা এখন পথে আছি, কোথায় যাব বুঝতে পারছি না।তখন আমার বন্ধু সাব্বির তাদেরকে হাত ইশারা দিয়ে তুলে নিল গাড়ীতে।আমাদের গড়িটি ছিল ১০ ছিটের ,আমরা মাঝের ছিটে বসা ছিলাম আর পথিক দুইজন ছিল পিছনের ছিটে বসা । তারা পিছন থেকে দু জন কি যেন কানাকানি করছিল।আমি আমার বন্ধু সাব্বিরকে আস্তে আস্তে বললাম বন্ধু এ দুইজনকে গাড়ীতে তুলে কাজটি বোধহয় ঠিক করি নাই।আমার বন্ধু বললো কেন রে এমন বলছিস কেন! আমি বললাম ওদের দিকে একটু তাকিয়ে দেখ ওদের ভিতর ভয় বা চিন্তার কোনও লেশ মাত্রও পাচ্ছি না।আমার বন্ধুও বেশ মোনযোগের সাথে তাদেরকে দেখছিল,আসলেই তাদের ভয় বা কোন কস্টই দেখা যাচ্ছিল না। এ দিকে সন্ধ্যা ঘুনিয়ে আসছে। আমরাও বেশ ক্লান্ত হয়ে পড়েছি ,চোখে ঘুম ঘুম ভাব তবুও ঘুমাতে ভয় লাগছে যাদি গলা কেটে দেয়!
কথায় বলে না মানুষ যে জিনিসে ভয় পায় সেটাই তার সামনে চলে আসে।সন্ধ্যা নেমে গেল আমরা ঠিক এমন মুহুর্তে চলছিলাম ফজিলাহ নামক এক স্থান দিয়ে। যে জায়গাটি ছিল বেশী সিমসাম ।অবশ্য এমনিতেও সব জায়গাই ছিল নির্জন,কিন্তু অন্যের তুলনায় এই জায়গাটি ছিল বেশী নির্জন।ঠিক এমন একটি জায়গায় আমাদের মাথায় পিস্তল ঠেকিয়ে ধরলো ,বললো গাড়ীটি দাড় করাতে আমরা নিরুপায় ভিতু হয়ে গাড়ীটি দাড় করালাম।আমাদের গাড়ীটি বালুর ধূসর দিয়ে পাহাড়ের কোল ঘেসে অনেক দূরে নিয়ে যেতে বললো,আমরা নিয়ে গেলাম পাহাড়ের কোল ঘেষেে আমাদের দাড়াতে বললো আমরা দাড়িয়ে গেলাম।এবার পাহাড়ের পাদদেশ থেকে আরো ৩ জন এগিয়ে এলো। আমরা ভাবলাম এত বড় ১ টি গাড়ী আর বোধহয় আমাদের প্রাণ রক্ষা হলো না।আমি আর আমার বন্ধু এবং ড্রাইভার সহ হাত উচু করে দাড়িয়ে গেলাম।আমাদের তাদের সাথে নিয়ে গেল পাহাড়ের গুহার ভিতরে।
তারা আমাদের উচ্চ কর্কশ স্বরে বললো,লা হাজাতা লানা বিকুম ফি হায়াতিনা, ওয়া লাকিন্নানা নুরীদু আমওয়ালাকুম। ফা ইম্মা আন তু'তূনা আল-মাল, ওয়া ইম্মা আন তাফকিদূ হায়াতাকুম,অর্থ:
আমাদের জীবনে তোমাদের কোনো প্রয়োজন নেই। তবে আমাদের দরকার তোমাদের টাকা-পয়সা। হয় আমাদের টাকা দাও, না হলে তোমাদের জীবন হারাবে।আমাদের ড্রাইভার সাহেব নিজের উপর ধিক্কার এবং দোষ দিতে লাগলো এবং কেঁদে কেঁদে বললো”ইয়া সাইয়্যিদী, ফিল হাকীকাহ, লাক্বাদিরতাকাবতু খাতাআন কাবীরান ইন্দামা জি'তু মা'আকুম, ওয়া লাও লাম আতি মা'আকুম, ফারুব্বামা লাম্মা ওয়াকাআনা ফি হাযিহিল মুসীবাতিল কাবীরাহ।অর্থ:
স্যার, আসলে আপনাদের সঙ্গে এসে আমি বড় ভুল করেছি। যদি আপনাদের সঙ্গে না আসতাম, তাহলে হয়তো আমরা এত বড় বিপদে পড়তাম না।তার কথাশুনে ভাল লাগছে না আমাদেরও। কারণ হয়ত আমাদের কিছু টাকা পয়সা যাবে, কিন্ত বেচারার তো গাড়ীটাই চলে যাবে।আমাদের সকল চিন্তা ভাবনাই হয়ত বিফলে যাবে।আমরা অপেক্ষা করছিলাম আর আল্লাকে ডাকতে থাকলাম ,তখনকের সময় ভাগ্য হয়ত আমাদের সাথে ছিল। আমরা দেখতে পেলাম ফজিলাহ অন্চলের সেনা বাহীনিরা টহল দিচ্ছে। আমার বন্ধু সাব্বির একটি বুদ্ধি উপস্থিত করলো লাল একটি কাপড় টাঙিয়ে সংকেত দিবে।অবম্য তারা সামনে ছিল না । আমাদেরকে মরুভূমির অনেক দূরে রেখেছিল সেটা ছিল এমন জায়গা যেখান থেকে ফিরে আসতে গেলে আমরা এমনিতেই মারা যাব কারন আমাদের কাছে কোনও পানি ওখাবার কিছুই রেখে যাইনি। আমাদের গাড়ীটা নিয়ে চলে গেছে হয়তবা অন্য কোন শিকারে। তবে খোদার অশেষ মেহেরবাণী আমাদের সংকেত তাদের দৃষ্টি গোচর হলোেআ বন্ধু তাদের বোঝালো আমরা বিপদে পড়েছি আমাদের সাথে একটি গড়িও ছিল।আমরা তাদের বোঝাতে সক্ষম হলাম,সেথান থেকে আমাদের বাঁচিয়ে নিয়ে আসলো সেনা বাহিনী।কিন্তু গাড়ীটি পাওয়া গেল না। এরপর আমরা আর খোজ নিতে পারিনি গাড়ীটি পাওয়া গেছে কি না।