তখন বিকেল পাঁচটা। আকাশটা বেশ কিছুক্ষণ ধরেই মেঘলা হয়ে আছে। চারপাশটা কেমন যেন অন্ধকার, যেকোনো সময় ঝুম বৃষ্টি নামতে পারে। অর্নী তার ঘরের টেবিল ল্যাম্পের মৃদু আলোতে মনোযোগ দিয়ে একটা রহস্য উপন্যাস পড়ছিল। বাইরে হালকা ঠান্ডা বাতাস বইছে। হঠাৎ করেই তার ঘরের মেইন দরজার নিচ দিয়ে একটা খসখস আওয়াজ হলো, যেন কেউ কোনো কাগজ ভেতরে ঠেলে দিল।
অর্নী চমকে উঠে বইটা রাখল। চোর-ডাকাতের ভয় নেই, তাও এই নিস্তব্ধ বিকেলে এমন আওয়াজে তার বুকটা ধক করে উঠল। সে আলতো পায়ে দরজার কাছে এগিয়ে গেল। নিচে তাকিয়ে দেখল, দরজার ফাঁক গলে একটা গাঢ় নীল রঙের খাম মেঝেতে পড়ে আছে।
সে দ্রুত দরজা খুলে বাইরে তাকাল, কিন্তু করিডোরে বা সিঁড়িতে কাউকে দেখতে পেল না। পুরো জায়গাটা একদম জনমানবহীন। অর্নী খামটা হাতে তুলে নিল। বর্তমান যুগের এই ডিজিটাল সময়ে কেউ চিঠি পাঠিয়েছে! তাও আবার এমন অদ্ভুত নীল খামের চিঠি! খামের ওপরে কোনো স্ট্যাম্প নেই, কোনো প্রেরকের নাম বা ঠিকানা লেখা নেই। শুধু মাঝখানে বড় বড় বাঁকা অক্ষরে লেখা—"অর্নী"।
উত্সুক এবং কিছুটা ভীত মন নিয়ে অর্নী নিজের ঘরে এসে দরজাটা লক করে দিল। তারপর খামটা সাবধানে ছিঁড়ে ফেলল। ভেতরে একটা সাদা দামি কাগজ, আর তাতে চকমকে নীল কালিতে মাত্র দুটো লাইন লেখা:
"আজ থেকে ঠিক সাত দিন পর, এই মেঘলা বিকেলেই আমাদের দেখা হবে। যেখানে তোমার জীবনের সবচেয়ে বড় আনন্দ শুরু হয়েছিল, ঠিক সেখানেই তোমার জীবনের শেষ অধ্যায় রচিত হবে।"
চিঠিটা পড়া মাত্রই অর্নীর পুরো শরীর ঠান্ডা হয়ে গেল। তার হাত কাঁপতে শুরু করল এবং হাতের চিঠিটা মেঝেতে পড়ে গেল। তার মাথায় হাজারটা প্রশ্ন ঘুরতে লাগল। কে এই চিঠি পাঠাল? আর 'যেখানে শুরু, সেখানেই শেষ'—এই রহস্যময় কথার মানেই বা কী? অর্নী কি কোনো বড় বিপদে পড়তে যাচ্ছে, নাকি এর পেছনে লুকিয়ে আছে তার অতীত জীবনের কোনো হারিয়ে যাওয়া পুরনো ভালোবাসা, যা সে অনেক আগেই ভুলে যেতে চেয়েছিল?
জানালা দিয়ে হঠাত্ একঝলক ঠান্ডা বাতাস এসে অর্নীর মুখের ওপর পড়ল। বাইরে তখন প্রবল বেগে বৃষ্টি শুরু হয়ে গেছে। অর্নী মেঝেতে পড়ে থাকা নীল চিঠিটার দিকে তাকিয়ে রইল, আর তার মনে হলো—আগামী সাত দিন তার জীবনের সবচেয়ে দীর্ঘ এবং ভয়ঙ্কর সাত দিন হতে চলেছে।
(চলবে...)