Posts

উপন্যাস

এক ছাতার নিচে। পর্ব: ৫২

June 16, 2026

busra islam

5
View

#গল্প: এক ছাতার নিচে 

#লেখিকা: বুশরা নাদরাহ 

 #পর্ব: ৫২ 

 বিকেলের শেষ আলোটা ধীরে মুছে যাচ্ছিল।   আকাশের রঙ বদলাচ্ছে, আর তার সাথে সাথে বাড়ির ভেতরটাও ডুবে যাচ্ছে এক অচেনা অন্ধকারে।  সারাদিন কারো মুখে কথা নেই। আছে শুধু নীরবতা।  কিন্তু এই নীরবতার ভাঁজে লুকিয়ে হাজারটা প্রশ্ন। 

 ফারহানা বেগম সোফায় বসে কাঁদছেন।   রাবেয়া বেগম তাকে সামলাতে ব্যস্ত।    

ঠিক তখনই— বাইরে গাড়ির শব্দ। একটা থেমে যাওয়া মুহূর্ত। 

 ইশতিয়াক শেখ বাসায় ফিরলেন। পা ফেলছেন খুব ধীরে, যেন প্রতিটা শব্দ আজ ভারী।   মুখ কঠিন, আগের চেয়েও বেশি।   চোখে অদ্ভুত স্থিরতা— যত তাড়াতাড়ি সম্ভব মেয়েকে বিদায় করে নিজের সম্মান বাঁচানো।

  ফারহানা বেগম, রাবেয়া বেগম— দুজনেই চুপ।   কারো সাহস হচ্ছে না কিছু জিজ্ঞেস করার।

  ইশতিয়াক শেখ ধীরে ধীরে সোফায় বসলেন।   একটা দীর্ঘ নিঃশ্বাস নিলেন। নীরবতা আরও গভীর হল। এই নীরবতার আড়ালে লুকিয়ে আছে একটা বিকেল।  

 কিছুক্ষণ পর মাথা নিচু করে বললেন—   

“শুনো। 

 ঘর থমকে গেল। 

 “কাল ইনায়াকে দেখতে আসবে।  

ফারহানা বেগম ফিসফিস করলেন,  

"এত তাড়াতাড়ি? গলায় লুকানো ভয়। 

 “ওকে বিদায় করে নিজের সম্মান বাঁচাতে পারলেই আমি শান্তি। 

কথা টা বললেন ইশতিয়াক।  

" এটা তো ওর সারাজীবনের ব্যাপার। সিদ্ধান্তটা বুঝে শুনে নিন। 

 ইশতিয়াক শেখ উঠে দাঁড়িয়ে গেলেন।  ফারহানা বেগম ভয়ে দু’কদম পিছিয়ে গেলেন। 

  “আমি যা বলেছি তাই হবে। এর উপরে একটা কথাও হবে না।  

দরজার আড়ালে ইনায়া দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে সব কথা শুনেছে । 

  "যত তাড়াতাড়ি সম্ভব বিদায়…। 

 শব্দটা ইনায়ার কানে বারবার বাজছে। প্রতিবার তাকে একটু একটু করে ভেঙে দিচ্ছে।  

ইনায়া ধীরে ধীরে পিছিয়ে গেল।   দেয়ালে পিঠ ঠেকিয়ে দাঁড়িয়ে রইল।   চোখ ভরে উঠেছে, কিন্তু কান্নাও যেন ভয় পাচ্ছে বের হতে।

Comments

    Please login to post comment. Login