Posts

উপন্যাস

ভয়ংকর প্রেম কাহিনী পর্ব ১০ (শেষ পর্ব)

June 16, 2026

Md Josam

Original Author MD samim sikdar

Translated by MD Shamim sikdar

5
View

ভয়ংকর প্রেম কাহিনী
পর্ব ১০: চিরকালের অন্ধকার ও শেষ নিশ্বাস (শেষ পর্ব)
হাসপাতালের আইসিইউ-এর সাদা দেয়ালগুলো যেন রক্তের ছোপ ধরে কালো হয়ে গিয়েছিল। আদিত্য শুয়ে ছিল অক্সিজেন মাস্ক নিয়ে। তার বুকে ব্যান্ডেজ, শরীরে অসংখ্য তার। ডাক্তাররা মাথা নেড়ে বলে গিয়েছিলেন, “মিরাকল ছাড়া বাঁচবে না। তার শরীরে দুটো আত্মা লড়াই করছে।”
আয়েশা তার বাবার পাশে বসে ছিল। এখন সে পুরোপুরি এক কিশোরী। তার চোখে পরীর কালো দৃষ্টি আর আদিত্যের মায়া মিশে গিয়েছিল। “বাবা, তুমি যেয়ো না। আমি একা থাকব কীভাবে?”
রাহিম (রাহাত) হাসপাতালের বাইরে দাঁড়িয়ে ছিল। তার শরীরে এখন পুরোপুরি জমিদারের আত্মা জেগে উঠেছে। পাশে দাঁড়িয়ে ছিল পরী — এবার পুরোপুরি দৃশ্যমান, সাদা শাড়িতে রক্তের দাগ। তারা দুজন এখন এক। দুইশো বছরের অভিশপ্ত প্রেম পূর্ণতার দিকে এগোচ্ছিল।
সব রহস্যের উন্মোচন
রাত দুটোর সময় আদিত্যের শরীর হঠাৎ কেঁপে উঠল। তার চোখ খুলে গেল। কিন্তু সেই চোখ আর আদিত্যের ছিল না। রাহিমের ছিল। সে বিছানায় উঠে বসল। আয়েশা পিছিয়ে গেল।
“আমি ফিরে এসেছি,” রাহিম হাসল। “আদিত্য শুধু একটা খোলস ছিল। আমাকে জাগানোর জন্য পরী তাকে বেছে নিয়েছিল। আমি ১৮১২ সালে পরীকে মেরেছিলাম। কিন্তু তার অভিশাপ আমাকে চিরকাল তাড়া করেছে। প্রতি জন্মে সে আমাকে খুঁজেছে। এবার শেষ।”
আয়েশা কাঁদতে কাঁদতে বলল, “তাহলে বাবা কোথায়? আসল আদিত্য?”
“সে এখনও ভিতরে লুকিয়ে আছে। কিন্তু শীঘ্রই চলে যাবে।”
হঠাৎ হাসপাতালের সব আলো নিভে গেল। পরী পুরো ঘরে ছড়িয়ে পড়ল। আয়েশার শরীর কেঁপে উঠল। পরী তার মেয়ের শরীরে পুরোপুরি ঢুকে পড়ল। আয়েশার চোখ লাল হয়ে গেল।
“এবার আমরা তিনজন এক,” পরী-আয়েশা বলল। “রাহিম, তুমি আমার। আয়েশা আমাদের সন্তান। আদিত্যের আর দরকার নেই।”
শেষ যুদ্ধ
আদিত্যের শরীর থেকে শেষবারের মতো তার নিজস্ব আত্মা জেগে উঠল। সে বিছানা থেকে নেমে দাঁড়াল। তার চোখে জল, কিন্তু দৃঢ়তা। “আমি তোমাদের সবাইকে ভালোবেসেছিলাম। নাদিয়াকে, সামিয়াকে, সুমনকে, রাহাতকে... এমনকি তোমাকেও পরী। কিন্তু তোমরা সবকিছু ধ্বংস করে দিয়েছ।”
রাহিম হাসল। “তুমি দুর্বল। মানুষের ভালোবাসা দুর্বল।”
লড়াই শুরু হল। হাসপাতালের করিডরে অদৃশ্য ঝড় উঠল। রাহিম আদিত্যকে দেয়ালে ছুড়ে ফেলল। আয়েশা-পরী তার শরীর থেকে কালো শক্তি বের করে আদিত্যকে আক্রমণ করল। আদিত্য কোনো অস্ত্র ছাড়াই লড়ছিল — তার ভালোবাসা, তার কষ্ট, তার সমস্ত স্মৃতি দিয়ে।
সে চিৎকার করে বলল, “আমি তোমাদের অভিশাপ ভাঙব!”
সে নিজের বুকের ক্ষতস্থানে হাত দিয়ে রক্ত নিয়ে মেঝেতে একটা বৃত্ত আঁকল। তারপর নিজের জীবনের সব স্মৃতি — মায়ের মৃত্যু, সৎমার অত্যাচার, নাদিয়ার প্রথম চুমু, সামিয়ার শেষ হাসি, বন্ধুদের আত্মত্যাগ — সব এক করে পরীর দিকে ছুড়ে দিল।
এক প্রচণ্ড বিস্ফোরণ হল। হাসপাতালের জানালা ভেঙে গেল।
সবার মৃত্যু
প্রথমে রাহিম চিৎকার করে উঠল। তার শরীর থেকে ধোঁয়া বেরোতে লাগল। “না... আমি আবার মরব না!” কিন্তু আদিত্যের আত্মশক্তির সামনে সে ধীরে ধীরে গলে যেতে লাগল। তার শরীর মাটিতে পড়ে ছাই হয়ে গেল। রাহাতের শেষবারের মতো মুখটা আদিত্যের দিকে তাকিয়ে হাসল — যেন পুরোনো বন্ধুত্বের এক ঝলক। তারপর শূন্য।
আয়েশা-পরী চিৎকার করতে লাগল। পরী তার মেয়ের শরীর থেকে বেরিয়ে আসতে চাইল, কিন্তু আদিত্য তাকে জড়িয়ে ধরল। “তুমি আমাকে ভালোবেসেছিলে। আমিও তোমাকে। কিন্তু এই ভালোবাসা বিষ। চলো, একসঙ্গে যাই।”
আয়েশা কাঁদতে কাঁদতে বলল, “বাবা... আমি তোমাকে ভালোবাসি। ক্ষমা করো।”
আদিত্য তার মেয়েকে শেষবার জড়িয়ে ধরল। তার শরীর থেকে আলো বেরোতে লাগল। পরী, আয়েশা আর আদিত্য একসঙ্গে মিশে গেল। তিন আত্মা এক হয়ে গেল।
হাসপাতালের ঘরে একটা তীব্র আলো ফুটে উঠল, তারপর সব অন্ধকার।
যখন আলো জ্বলল, দেখা গেল তিনজনের শরীরই মেঝেতে পড়ে আছে। আদিত্যের মুখে শান্তি। আয়েশার চোখ খোলা, যেন শেষবার বাবাকে দেখছে। পরীর আত্মা আর দেখা যাচ্ছিল না।
চিরকালের সমাপ্তি
পরের দিন সকালে হাসপাতালের লোকজন তাদের খুঁজে পেল। তিনটি দেহ। কোনো কারণ খুঁজে পাওয়া গেল না। শুধু আদিত্যের হাতে একটা লাল ফুল ছিল, যা ধীরে ধীরে মিলিয়ে গেল।
রাহাত, সুমন, নাদিয়া, সামিয়া, করিম, আয়েশা, আদিত্য — সবাই চলে গেছে। যারা এই ভয়ংকর প্রেমের স্পর্শে এসেছিল, কেউ বাঁচেনি।
গ্রামের পুরোনো আমগাছের নিচে একটা কবর দেওয়া হল। কেউ নাম লিখল না। শুধু লেখা হল — “এখানে একটা ভয়ংকর প্রেম ঘুমিয়ে আছে।”
বহু বছর পরও লোকেরা বলাবলি করে, বর্ষার রাতে নদীর ধারে তিনটি ছায়া দেখা যায়। একজন পুরুষ, একজন নারী আর এক কিশোরী। তারা হাসে, কাঁদে, আর একে অপরকে জড়িয়ে ধরে। কিন্তু তাদের চোখে শান্তি নেই। শুধু অসীম কষ্ট।
আদিত্যের জীবন শুরু হয়েছিল এক ঝড়ের রাতে মায়ের মৃত্যুর সঙ্গে। শেষ হল আরেক ঝড়ের রাতে সবাইকে নিয়ে।
ভালোবাসা যখন অভিশাপ হয়ে যায়, তখন মৃত্যুও মুক্তি দেয় না। শুধু চিরকালের অন্ধকার বাড়িয়ে দেয়।
ভয়ংকর প্রেম কাহিনী — সমাপ্ত।
এই উপন্যাসের প্রতিটি চরিত্র কষ্টে ভরা জীবন কাটিয়ে শেষ পর্যন্ত মৃত্যুর মাধ্যমে শান্তি খুঁজেছে, কিন্তু পায়নি। তাদের প্রেম, বন্ধুত্ব, আত্মত্যাগ সবই অভিশাপের বলি হয়েছে।

((প্রিয় দর্শক, আপনাদের এই গল্পটি কেমন লাগলো তা কমেন্টে জানাবেন। এই গল্পটি 

১০ পর্বে শেষ করা হয়েছে। এই উপন্যাস

Comments

    Please login to post comment. Login