Posts

গল্প

দশ টাকা দানে গাইবি বউ পেলাম।

June 17, 2026

Shafin pro

9
View

একদা এক বিকেলে আমি ফুটপাত ধরে হেঁটে বাড়ি ফিরছিলাম। পকেটে তখন চরম টান। ঠিক এমন সময় এক অদ্ভুতদর্শন পথের ফকির আমার পথ আটকে দাঁড়াল। তার চুল-দাড়ি জটা পাকানো, চোখে এক রহস্যময় চাউনি।সে হাত বাড়িয়ে কর্কশ গলায় বলল, "এই ছেলে! ১০ টাকা দিয়া যা!"আমি একটু বিরক্তই হলাম। পকেট হাতড়ে একটা ক্ষয়প্রাপ্ত ১০ টাকার নোট তার হাতে দিতেই ফকির সেটি কপালে ছোঁয়াল। তারপর বিকট এক হাসি দিয়ে বলল, "বিয়ে না কইরা একদিন তুই যাইবি, আর এমনেই ঘরে বউ পাবি! লটারি জিলিপি, তর কপাল খুলব টপাটপ!"আমি ভাবলাম পাগল ছাগলের প্রলাপ। ধুর! বিয়ে না করে নাকি বউ পাওয়া যায়! হেসে উড়িয়ে দিয়ে বাড়ি ফিরে এলাম। কিন্তু আমি জানতাম না, ফকিরের এই অদ্ভুত বাণীতেই আমার ভাগ্যের চাকা ঘুরতে চলেছে।অধ্যায় ১: বৈঠকখানার হইচই ও এক রহস্যময় আগমনআমাদের মধ্যবিত্ত পরিবারটি সবসময়ই নাটুকে। বাবা অবসরপ্রাপ্ত সরকারি চাকরিজীবী, খবরের কাগজ নিয়ে সারাদিন খুঁতখুঁত করেন। মা সারাক্ষণ রান্নাবান্না আর আমাদের ভাইবোনের পেছনে কাঠি করা নিয়ে ব্যস্ত। আমার ছোট বোন রিয়া সারাদিন টিকটক আর রিলস বানায়, আর আমার একমাত্র মামা—যিনি নিজেকে ‘মহাজ্ঞানী’ ভাবেন কিন্তু আসলে আস্ত একটা আড্ডাবাজ—আমাদের বাসাতেই আস্তানা গেড়েছেন।আমি বাড়ি ফিরে ড্রয়িংরুমে বসতেই মা এক বাটি মুড়ি চানাচুর এনে দিলেন।বাবা চশমার ওপর দিয়ে তাকিয়ে বললেন, "কী রে, মুখটা এমন শুকনা কেন? অফিসে বস ঝাড়ি দিছে?"মামা সোফায় পা তুলে চা খেতে খেতে বললেন, "আরে ভাগ্নে, বসের ঝাড়ি হইলো জীবনের টনিক। তবে তোর চেহারায় অন্য লক্ষণ। মনে হচ্ছে কোনো পরীর দেখা পাইছিস!"আমি চানাচুর চিবোতে চিবোতে বললাম, "পরীর দেখা না মামা, এক ফকিরের দেখা পাইছি। ১০ টাকা নিয়া বলল, বিয়ে না করেই নাকি ঘরে বউ পামু।"রিয়া পাশ থেকে খিলখিল করে হেসে উঠল, "ভাইয়া, তোমার যা চেহারা, ফকির ঠিকই বলছে। তোমার কপালে এমনিতেও কোনো মেয়ে জুটত না। দয়া করে কেউ যদি ঘরে চলেও আসে, তাও ভালো!"মা রান্নাঘর থেকে খুন্তি হাতে বের হয়ে এলেন, "খবরদার রিয়া, আমার ছেলের নামে এসব বলবি না। ও রাজপুত্তুর! তবে ফকিরের কথা ফালতু না, দিলের দোয়ায় অনেক কিছু হয়।"ঠিক সেই মুহূর্তে আমাদের কলিংবেলটা একটানা বেজে উঠল। তীব্র শব্দে যেন পুরো বাড়ি কেঁপে উঠল।বাবা বললেন, "রিয়া, দেখ তো কে এলো? এই অসময়ে আবার কে বিরক্ত করতে আসে!"রিয়া দরজা খুলতেই পুরো লিভিং রুমে পিনপতন নীরবতা নেমে এলো।দরজায় দাঁড়িয়ে আছে এক অপরূপা তরুণী। পরনে দামী বেনারসি শাড়ি, কপালে লাল টিপ, কিন্তু তার চুলগুলো উসকোখুসকো। সবচেয়ে বড় কথা, মেয়েটির দুই চোখে জল, সে হাপাচ্ছে।সে সোজা ঘরের ভেতর ঢুকে আমার সামনে এসে দাঁড়াল। আমি তো হা করে তাকিয়ে আছি।মেয়েটি হঠাৎ আমার হাত দুটো ধরে কেঁদে ফেলল, "দয়া করে আমাকে বাঁচান! ওরা আমার পেছনে লেগেছে। আমি আপনার কাছে আশ্রয় চাই।"মা খুন্তি ফেলে এগিয়ে এলেন, "মাগো তুমি কে? কার বউ? কার বাড়ি থেকে পালায়া আসছ?"মেয়েটি ডুকরে কেঁদে উঠে বলল, "আমি জানি না। আমার নাম তানিয়া। আমি শুধু জানি, আমি এই বাড়ির বউ হতে চাই। আপনি আমাকে বাঁচান!"মামা লাফ দিয়ে সোফা থেকে নামলেন, "ওরে বাবা! ফকিরের ভবিষ্যৎবাণী তো লাইভ অ্যাকশন হয়ে গেল! ভাগ্নে, তুই তো ১০ টাকার বদলে জ্যান্ত আলাদিনের চেরাগ পাইছিস!"অধ্যায় ২: টপাটপ বড়লোক এবং মা-বাবার টেনশনতানিয়া আমাদের বাড়িতে আশ্রয় নিল। সে খুবই ভদ্র আর শান্তশিষ্ট মেয়ে। কিন্তু তার অতীত সম্পর্কে সে কিছুই বলতে চাইল না। সে শুধু বলল, "আমি এক বড় বিপদ থেকে পালাচ্ছি। সময় হলে সব বলব।"সবচেয়ে অদ্ভুত বিষয় ঘটল তানিয়া আমাদের বাড়িতে আসার ঠিক পরদিন থেকে। আমার জীবনে আর্থিক অলৌকিকতা শুরু হলো।পরদিন সকালে অফিসে যেতেই বসের রুমে ডাক পড়ল। আমি ভাবলাম চাকরিটাই গেল বুঝি। কিন্তু বস আমাকে দেখে দাঁত কেলিয়ে হাসলেন।"আরে আরে, আমাদের কোম্পানির সেরা রত্ন! এই নাও তোমার প্রমোশন লেটার। আর হ্যাঁ, ক্লায়েন্ট তোমার একটা আইডিয়া পছন্দ করে পাঁচ কোটি টাকার ফান্ড দিয়েছে। তোমার কমিশন বাবদ এই নাও ৫০ লাখ টাকার চেক!"আমি তো টাসকি খেয়ে গেলাম। ৫০ লাখ টাকা!ছুটে বাড়ি এলাম। এসে দেখি মামা উত্তেজিত হয়ে বারান্দায় নাচছেন।"ভাগ্নে! তুই বিশ্বাস করবি না! আমি যে লটারির টিকিটটা পকেটে নিয়া ঘুরতাম, সেটায় প্রথম পুরস্কার বাঁধছে! পুরো দুই কোটি টাকা!"মা এসে বললেন, "বাবা, তোর বাবার এক পুরনো জমি নিয়া মামলা চলছিল বিশ বছর ধরে। আজ উকিল ফোন দিয়া বলল, বিপক্ষ দল আপস করতে চায়। আমাদের পাঁচ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দেবে!"এক সপ্তাহের মধ্যে আমাদের ব্যাংক ব্যালেন্স রকেটের গতিতে বাড়তে লাগল। আমরা টপাটপ ধনী হয়ে গেলাম! পুরান ঢাকার ভাড়া বাসা ছেড়ে আমরা গুলশানে একটা বিশাল ডুপ্লেক্স বাড়ি কিনে ফেললাম। নতুন গাড়ি, নতুন আসবাবপত্র, দামী পোশাক—সব যেন রূপকথার মতো বদলে গেল।বাবা একদিন তানিয়াকে ডেকে বললেন, "মা তানিয়া, তুমি আসার পর থেকেই আমাদের এই টপাটপ বড়লোক হওয়া। তুমি আমাদের ঘরের লক্ষ্মী। আমার ছেলেটার সাথে তোমার বিয়েটা কিন্তু এবার পাকাপোক্ত করতে হয়।"তানিয়া লজ্জা পেয়ে মাথা নিচু করল। আমি মনে মনে সেই ১০ টাকার ফকিরকে কোটি কোটি সালাম জানালাম।অধ্যায় ৩: বাসার সামনে গুন্ডাদের মেলাটাকা-পয়সা তো হলো, কিন্তু শান্তিতে ঘুমানোর জো রইল না।গুলশানের আমাদের নতুন আলিশান বাড়ির সামনে প্রতিদিন এক অদ্ভুত কাণ্ড ঘটতে লাগল। প্রতিদিন সকাল হলেই দেখা যেত, কালো সানগ্লাস পরা, হাতে রামদা আর হকিস্টিক নিয়ে একদল গুন্ডা আমাদের গেটের সামনে পাহারায় বসে আছে।প্রথম দিন বাবা বারান্দা থেকে তাদের দেখে চিৎকার করে উঠলেন, "ওরে গৃহস্থ! ডাকাত পড়ছে রে! মামা, পুলিশে ফোন দাও!"মামা লাঠি নিয়ে বীরদর্পে নিচে গেলেন, কিন্তু গেটের ওপাশ থেকে এক গুন্ডা যখন তার কোমরে গোঁজা পিস্তলটা একটু বের করে দেখাল, মামা তিন লাফে আবার দোতলায় চলে এলেন।"ভাগ্নে, ওরা সাধারণ চোর-ছ্যাঁচোড় না। ওগো বডি ল্যাঙ্গুয়েজ তো ডনদের মতো!"রিয়া জানালা দিয়ে উঁকি মেরে বলল, "ভাইয়া, গুন্ডাগুলো কিন্তু বেশ হ্যান্ডসাম। স্পেশালি ওই যে লাল শার্ট পরা লিডারটা। ওর সাথে একটা রিলস বানালে মিলিয়ন ভিউ হতো!"মা রিয়ার মাথায় একটা গাট্টা মেরে বললেন, "মরার মেয়ে, তোর তো সারাজীবন টিকটকই গেল না! এখন আমাদের জান বাঁচে কীভাবে সেই চিন্তা কর।"সবচেয়ে অদ্ভুত ব্যাপার হলো, গুন্ডারা কিন্তু আমাদের বাড়ি ভাঙচুর করছিল না বা টাকা-পয়সাও চাচ্ছিল না। তাদের মূল টার্গেট ছিল বাড়ির ভেতর ঢোকা এবং তানিয়াকে ছিনতাই করে নিয়ে যাওয়া।একদিন আমি সাহস করে সিকিউরিটি গার্ডদের সাথে নিয়ে মেইন গেটের কাছে গেলাম।গুন্ডাদের লিডার, যার নাম ছিল ‘কালা কাল্লু’, সে পানের পিক ফেলে বলল, "এই যে বড়লোক মিঞা! বেশি ট্যাকা হইছে বইলা ডরাই না। ওই মাইয়াডারে আমাগো হাতে দিয়া দাও, নাইলে এই বাড়ি উড়ায়ে দিমু!"আমি বুক ফুলিয়ে বললাম, "কাকে দেব? তানিয়া আমার হবু বউ! কেন দেব তোমায়?"কাল্লু হাসল, "হবু বউ? আরে মিয়া, তোমরা তো আছ অন্ধকারের মধ্যে। তোমরা জানোই না ওই মাইয়ার বাপ কে!""কে ওর বাপ?" আমি জিজ্ঞেস করলাম।কাল্লু বলল, "ওসব ওস্তাদে কইতে নিষেধ করছে। খালি জানি, ওই মাইয়াকে ধইরা দিতে পারলে আমাগো লাইফ সেট!"আমরা সবাই চরম বিভ্রান্তিতে পড়ে গেলাম। আমরা কেউই জানতাম না কেন তানিয়ার জন্য এই গুন্ডারা রীতিমতো প্রতিদিন বাসার সামনে এসে লাইনে দাঁড়িয়ে হাজিরা দিচ্ছে। তানিয়াকে জিজ্ঞেস করলেই ও শুধু কাঁদত আর বলত, "ওরা আমাকে শেষ করে দেবে।"অধ্যায় ৪: আসল রহস্য এবং হাসির ধামাকাএকদিন পরিস্থিতি চরম রূপ নিল। কাল্লু আর তার দলবল গেট ভেঙে ভেতরে ঢোকার চেষ্টা করল।বাবা ড্রয়িংরুমের সোফার নিচে লুকিয়ে কোরআন শরিফ পড়ছেন। মা রান্নাঘরের বেলন-চৌকি নিয়ে যুদ্ধের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। রিয়া তখনো লাইভ স্ট্রিমিং করছে—"গাইজ, দেখ আমাদের বাড়িতে গুন্ডা অ্যাটাক করেছে, লাইক আর শেয়ার করো!"আর আমাদের মহাজ্ঞানী মামা একটা হেলমেট মাথায় দিয়ে বাথরুমে ঢুকে খিল এঁটে দিয়েছেন।আমি তানিয়ার হাত ধরে বললাম, "তানিয়া, প্লিজ বলো, তোমার বাবা কে? কেন এরা তোমাকে ছিনতাই করতে চায়? আমরা তো এখন কোটিপতি, আমরা যেকোনো সমস্যা সমাধান করতে পারব!"তানিয়া চোখ মুছে বলল, "ঠিক আছে, আর লুকিয়ে লাভ নেই। আমার বাবা হলেন দেশের সবচেয়ে বড় শিল্পপতি, যার শত শত টেক্সটাইল মিল আর রিয়েল এস্টেট ব্যবসা আছে। তিনি হাজার হাজার কোটি টাকার মালিক!"আমরা সবাই থ হয়ে গেলাম। রিয়া লাইভ বন্ধ করে চেঁচিয়ে উঠল, "কীহ্! আমার ভাবি কোটিপতির মেয়ে!"তানিয়া বলতে লাগল, "বাবা আমার বিয়ে এক লোভী মন্ত্রীর ছেলের সাথে ঠিক করেছিলেন। আমি রাজি না হওয়ায় বাবা আমাকে ঘরে বন্দি করে রাখেন। আমি বিয়ের আসর থেকে পালিয়ে ওই ফকিরের সাহায্য চেয়েছিলাম। ফকির আমাকে বলেছিল—এই ঠিকানায় চলে যাও, এখানে এক ছেলে ১০ টাকা দিয়ে তোমার ভাগ্য কিনে নিয়েছে। তাই আমি এখানে চলে আসি। আর আমার বাবা গুন্ডা পাঠিয়েছেন আমাকে জোর করে ফিরিয়ে নিতে।"ঠিক তখনই মেইন দরজা ভেঙে কাল্লু তার দলবল নিয়ে ভেতরে ঢুকল।"অনেক নাটক হইছে! চলেন ছোটনিলী (ছোট আপা), বড় সাহেব আপনার জন্য অপেক্ষা করতাছেন!" কাল্লু চিৎকার দিল।আমি লাঠি নিয়ে সামনে দাঁড়ালাম, "খবরদার! আমার বউকে ছোঁবে না!"কাল্লু আমাকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দিতেই হঠাৎ অলৌকিক কিছু একটা ঘটল।হঠাৎ আমাদের বাড়ির সামনে চার-পাঁচটা কালো রঙের দামী প্রাডো গাড়ি এসে থামল। সেখান থেকে স্যুট-টাই পরা বডিগার্ডসহ এক গম্ভীর চেহারার বয়স্ক ভদ্রলোক নেমে এলেন। তাকে দেখেই কাল্লু আর তার গুন্ডারা থরথর করে কাঁপতে লাগল।তিনি আর কেউ নন—তানিয়ার কোটিপতি বাবা!তিনি ঘরে ঢুকে তানিয়াকে দেখলেন, তারপর আমার দিকে তাকালেন।বাবা সোফার নিচ থেকে মাথা বের করে বললেন, "ভাইসাব, আমরা ভদ্রলোক। দয়া করে মারামারি করবেন না।"তানিয়ার বাবা হঠাৎ হেসে উঠলেন। এমন এক অট্টহাসি যা পুরো বাড়ি কাঁপিয়ে দিল।তিনি বললেন, "মারামারি কেন করব? আমি তো আমার জামাই আর বেয়াই মশাইকে দেখতে এসেছি!"আমরা সবাই হা। তানিয়াও অবাক।ভদ্রলোক আমার দিকে এগিয়ে এসে আমার কাঁধে হাত রাখলেন, "বাবা, আমি আসলে দেখতে চেয়েছিলাম আমার মেয়ে কার কাছে আশ্রয় নিয়েছে। তোমরা যে এত বড়লোক হয়েছ টপাটপ, সেটার পেছনেও আমার হাত ছিল। তোমাদের কোম্পানির ওই পাঁচ কোটি টাকার ফান্ড, তোমার মামার লটারির টিকিট, আর বেয়াই মশাইয়ের জমির ক্ষতিপূরণ—সবই আমি পর্দার আড়াল থেকে করিয়েছি! আমি দেখতে চেয়েছিলাম, টাকা পাওয়ার পর তোমরা আমার মেয়েকে ভুলে যাও কি না। আর এই কাল্লু আর তার দলবল? ওরা আমারই বিশ্বস্ত লোক, তোমাদের সাহস পরীক্ষা করার জন্য ওদের পাঠিয়েছিলাম!"কাল্লু সানগ্লাস খুলে দাঁত বের করে হাসল, "জি স্যার, আমরা আসলে অ্যাক্টিং করতাছিলাম। আপনেরা কিছু মনে কইরেন না।"বাথরুম থেকে মামা হেলমেট খুলে বের হয়ে এলেন, "আমি আগেই জানতাম! এটা একটা মহাজাগতিক পরীক্ষা ছিল। আর আমি এই পরীক্ষায় লেটার মার্কস পেয়ে পাস করেছি!"মা খুন্তি উঁচিয়ে বললেন, "হ হ, বাথরুমে লুকিয়ে থেকে লেটার মার্কস পাইছ!"তানিয়ার বাবা আমার বাবার হাত ধরে বললেন, "বেয়াই মশাই, আমার মেয়েকে আপনার ছেলের হাতে তুলে দিতে আমার কোনো আপত্তি নেই। ফকির সাহেব আসলেই ঠিক বলেছিলেন, ১০ টাকার বিনিময়ে আমার মেয়ে তার আসল ঠিকানা খুঁজে পেয়েছে।"উপসংহারধুমধাম করে আমাদের বিয়ে হয়ে গেল। গুলশানের ডুপ্লেক্স বাড়িতে এখন আমরা সবাই সুখে-শান্তিতে আছি। রিয়া এখন তানিয়া ভাবির সাথে দামী দামী শপিং মলের রিলস বানিয়ে টিকটকে সুপারহিট। মামা তানিয়ার বাবার কোম্পানিতে এক বড় পদের ‘উপদেষ্টা’ হয়ে বসেছেন, যার কাজ শুধু চা খাওয়া আর জ্ঞান দেওয়া।আর আমি? আমি প্রতিদিন পকেটে কয়েকটা ১০ টাকার নোট নিয়ে ঘুরি। যদি আবার কোনো দিন সেই অলৌকিক ফকিরের দেখা পেয়ে যাই, তবে এবার তাকে ১০০ টাকা দেব—কে জানে, হয়তো এবার নাসার রকেট বা কোনো দ্বীপের মালিকানা পেয়ে যাব!

গল্পটি আপনাদের ভালো লেগেছে আশা করি। ধন্যবাদ

Comments

    Please login to post comment. Login