Posts

বাংলা সাহিত্য

ডক্টর (গল্প) রুদ্র সিয়াম

June 17, 2026

Rudro Siyam

Original Author Rudro Siyam

12
View

জোবান বিছানা থেকে  লাল ইস্ত্রী করা শার্ট তুলে পড়ে ফেললেন। তারপর আয়নায় নিজেকে দেখে চুল ঠিক করছেন৷ এমন সময় তার বউ (পারুল) তার পেছনে এসে দাড়িয়ে একটা মুচকি হাসি দিল।

পারুল নিজের ফোলা পেটে হাত দিয়ে বলল, আজকে অফিস না গেলে হয় না।

জোবান চিরুনি রেখে পেছন ফিরে পারুলের কাছে এসে কপালে চুমু খেয়ে বলল, মন তো চায় না তোমাকে ছেড়ে কাজে যাই। তবে কি করব বলো? কাজ তো করতে হবে।

তারপর জোবান পারুলের ফোলা পেটে হাত রাখলো। বোঝার চেষ্টা করলো বাচ্চা নড়াচড়া করছে নাকি। এই তো জোবান অনুভব করলো বাচ্চার পা পেটে এসে লাথি মেরেছে। জোবান খুশিতে মুচকি হাসলো।

জোবান বলল, ৩মাস পর তোমার ডেলিভারি সেই টাকাও তো জোগাড় করতে হবে। ব্যাংকের থেকে লোন নিতে চেয়েছি তার রিজেক্ট করে দিয়েছে। তাছাড়া তোমাকে বললাম, কয়েকদিন তোমার পরিবার এর কাছে থেকে এসো। তুমি শুনলে না।

পারুল বলল, সৎমা এর কাছে যাওয়ার চেয়ে না যাওয়াই ভালো।

জোবান খাটের ওপর থেকে টিফিন ব্যাগটা তুলে গলায় ঝুলিয়ে নিল। তার বাসা থেকে ফার্মেসি প্রায় ৩ কিলোমিটার দূরে।।এই গ্রাম থেকে অটোতে করে যেতে ১৫টাকা ভাড়া যাতে প্রতিদিন। এই গ্রামে এসে ফার্মেসি দেওয়ার একটাই কারন জোবানের এখানে দোকান ভাড়ার এডভান্স টাকা দিতে হয় না। তাই যে জমানো ২০ হাজার টাকা ছিল। ওটা দিয়ে ঔষুধ কিনে ব্যবসা শুরু করে জোবান। গত ৬মাসে ব্যবসা ভালোই যাচ্ছে। এদিকে আবার পরিবারে নতুন মানুষ আসছে। সব দিক দিয়েই জোবানের লাইফটা সুন্দর যাচ্ছিল।

দরকার সামনে দাড়িয়ে জোবান বিদায় নেওয়ার জন্য বলল, যাই তাহলে।

ভুরু কুচকে আছে পারুল। জোবান বুঝলো পারুল কি চায়। জোবান পারুল এর কাছে গিয়ে ঠোঁট এগিয়ে দিল।

অটো চলতে লাগলো ফার্মেসির দিকে। জোহান গ্রামের দূরের ক্ষেত, খামার দেখতে লাগলো। তবে তার মাথায় ঘুরছে পারুলের চিন্তা। পারুল বাসায় একা। একে তো প্রেগন্যন্ট তার ওপর আবার ঘরের সকল কাজ করে একা একা। ভারী কর্মঠ মেয়ে পেয়েছি।

তবে জোবান কাজের মাঝে প্রচন্ড আতর্কে থাকে সবসময়। দুশ্চিন্তা ঘোরে যে পারুল হয়তো চাপকলে পানি আনতে গিয়েছে পা পিছলে পড়ে গেল। তার মিসকারেজ হয়েছে। সে সময় জোবান পাশে নাই। কেউ পাশে নাই। এটা ভাবতেই জোবান এর কাজে মনোযোগ বসে না আজকাল।

এই যে এক কাস্টমার বলছে, ভাই। আমার ব্লাড প্রেসারটা একটু মেপে দেন।

তবে জোবান এর মাথায় তো ঘুরছে যত্তসব নেগেটিভ চিন্তা। আচ্ছা প্রত্যেক স্বামী ই প্রথম সন্তানের সময় এমন সব অদ্ভুদ চিন্তা করে জোবানের জানতে ইচ্ছা করে। তবে কাকে জিজ্ঞেস করবে? সময়ই বা কোথায়। শুধু ফার্মেসি আর বাসা এটাই তার জীবন। বাড়তি আড্ডাও দেয় না সে।

কাস্টমার এর চেহারা করুন। রোগা, পাতলা চিকন শরীর এর হাড্ডি দেখা যায়।

জোবান ব্লাড প্রেসার মেপে দেখলো নরমাল।

জোবান বলল, একটা প্রশ্ন করি মাইন্ড করবেন না। আপনি কি নেশাপানি করেছেন?

কাস্টমার ছেলে বলল, আমি ৩টা ইয়াবা খাওয়ার পর দেখি বুক ধরফর করে। নিঃশ্বাস বন্ধ হইয়া আহে। এইলাইগা আপনার কাসে আইলাম।

জোবান বলল, ব্লাড প্রেসার এখন ওকে। ওগুলো নেশার সাইড এফেক্ট ছিল। আপনার ওভারডোজ হয়েছে এগুলো আর খাবেন না। আমি একটা কিছু ঔষুধ দেই এগুলো শরীরে ভিটামিন পূরন করবে। আপাতত কয়দিন অফ করে দেন নেশা।

কাস্টমার বলল, আইচ্ছা ডক্টর আপনারা তো সব জানেন। আপনাগো কি কখনও ঠান্ডা কাশি লাগে না?

জোবান হেসে বলল, অবশ্যই লাগে।।আমরা ডক্টর আমাদেরও রোগ বালাই আছে।

কাস্টমার বলল৷, ঠিক আছে। ঔষধ দেন। যাইগা।

জোবান কিছু ঔষধ দিয়ে দিল।

রাতে বাড়ি ফিরতে ফিরতে জোবান এর দেরি হয়ে গেল আজ। রাত ৯টা বাজে। তবে গ্রামে এটা মধ্যরাত বলা চলে।

অটো থেকে নেমে জোবান বাড়ির দিকে এগিয়ে গেল। চারিদিক চুপচাপ। জঙ্গল পাড় করলেই তাদের টিন ঘর। এখানে ভাড়াটা কম মাসে ২হাজার টাকা।

জোবান টিনের ঘরের উঠানে এসে থমকে দাড়ালো। বাইরে লাইট জ্বলছে না। পুরো বাড়ি অন্ধকার। ভয় পেয়ে জোবান বলল, পারুল।

কোন জবাব আসলো না। আস্তে আস্তে জোবান ঘরের দিকে এগিয়ে যেতে লাগলো। তার হার্টবিট বেড়ে যাচ্ছে। কিছু একটা অশুভ এর ঈঙ্গিত দিচ্ছে।

ঘরে ঢুকে জোবান লাইট অন করতেই অবাক হয়ে দেখলো ফ্রিজের কাছে হেলান দিয়ে পড়ে আছে পারুল। তার জামাকাপড় রক্তে মাখামাখি। জোরে জোরে নিশ্বাস ফেলছে পারুল। পারুল পেটে হাত দিয়ে আছে। আর তার সাদা পাজামা রক্তে ভরে গেছে।

জোবান এর হাতের থেকে টিফিন এর বাটিটা পড়ে গেল মাটিতে। জোবান দৌড়ে গেল পারুলের কাছে। তাড়াতাড়ি করে পারুলকে কোলে নিয়ে রাস্তায় এসে অটোতে উঠিয়ে ৪কিলোমিটার দূরে একটা হাসপাতালে নিয়ে আসলো জোবান। জোবান এর শরীর রক্তে মাখামাখি তার হাত কাপছে৷

তবে জোবান নিজেকে শক্ত রাখছে। আর তারপর হাসপাতালে অপারেশন চলছে পারুলের। 
এদিকে জোবান হাসপাতালের বাইরে এসে দোকান থেকে পানি কিনে মুখ হাত ধুয়ে নেয়।

তারপর ভাবে, এই কাজ কে করতে পারে? তার ওয়াইফ প্রেগন্যন্ট ছিল। কোন অমানুষ পারলো তাকে ছুড়ি দিয়ে আঘাত করতে? একটুও কি বিবেকে বাধলো না। এই প্রশ্নটা ঘুরতে লাগলো জোবানের মাথায়।

জোবান বসে পড়লো হাসপাতালের সিড়িতে। মন খারাপ করে নিজেকে দোষারোপ করতে লাগলো। সব দোষ তার। কেন আজকে ফার্মেসি গেল। না হলে এসব কিছুই হতো না।

২.

চারিদিকে ভোর হয়ে গেছে। জোহান না ঘুমিয়ে সিড়িতেই বসে ছিল। ওদিকে পারুলের অপারেশন চলছে।

হঠাৎ নার্স এসে জোবানকে বলল, প্রচুর ব্লাড গিয়েছে। তবে আপনার বি পসিটিভ ব্লাড মজুদ থাকায় সমস্যা হয়নি।

আগ্রহ নিয়ে জানতে চাইলো জোবান,  সে ঠিক আছে তো।

নার্স বলল, এখন মোটামুটি সুস্থ। তবে স্যাড নিউজ আমরা বাচ্চাটাকে বাচাতে পারিনি।

জোবানের শরীরে শিহরন দিয়ে উঠলো। কল্পনাগুলো এলোমেলো হয়ে গেল। দূরে বড়ই গাছের একটা মরা পাতা পড়ে গেল বাতাসে মাটিতে। যা কেউ লক্ষ্যই করলো না।

নার্স বলল, আপনার উনি কি হয়?

জোবান কোনমতে বলল, আমার ওয়াইফ।

নার্স বলল, এতো বড় ঘটনা হলো। আপনি কি পুলিশ ক্যাস করেছেন?

জোবান অবাক হয়ে বলল, কি হয়েছে? আমি ফার্মেসির ডক্টর আমাকে বলতে পারেন।

নার্স বলল, উনার পেটে ছুড়ি দিয়ে আঘাত করে বাচ্চাটাকেই টার্গেট করা হয়েছে। এমনকি আমরা যখন পেট কেটে বাচ্চাটা বের করি। দেখা গেল বাচ্চার হার্টে ছুড়ির কাটা দাগ। এমনকি আপনার ওয়াইফ এর ভাজাইনা তেও অনেকগুলো ছুড়ির দাগ পাওয়া গেছে। কেটে একদম বিভস্র করে দিয়েছে।

জোবান এর চোখ দিয়ে অটোমেটিক অশ্রু পড়তে লাগলো গাল বেয়ে।

নার্স বলল, আপনার কি কোন শত্রু ছিল?  যে এই কাজ করতে পারে?

জোবান বলল, না। আমরা এই গ্রামে নতুন। আর আমার কোন শত্রু বা বন্ধুও নাই। আর পারুল তো ঘর থেকেই বের হয় না। একা থাকতে পছন্দ করে।

নার্স বলল, আচ্ছা। আপনার ওয়াইফ এর সাথে কথা বলুন।

জোবান হাসপাতালের কক্ষে ঢুকলো। বেডে শুয়ে আছে পারুল। তার হাতে সেলাইন দেওয়া হচ্ছে। জোবান নিজেকে শক্ত রাখসে। কি বলবে বুঝতে পারছে না।

জোবান পারুল এর পাশে বসতেই পারুল হাত বাড়িয়ে জোবান এর গাল স্পর্শ করেই কেদে ফেলল।  জোবান আর নিজেকে আটকে রাখতে পারলো না।  দুচোখ বেয়ে অশ্রু গলিয়ে পড়ছে।

জোবান পারুলের চুলে হাত বুলিয়ে বলল, সব ঠিক হয়ে যাবে।।সব ঠিক হয়ে যাবে।

পারুল বলল, কেন আমাদের সাথে এমন হলো? আমরা তো কারো ক্ষতি করিনি।

জোবান কোন উত্তর দিতে পারলো না।

২দিন পর ডক্টর পারুলকে রিলিজ করলো। এই ২দিনে জোবান জানতেও চায়নি লোকটার চেহারা কেমন বা কি বিষয়? কারন পারুলের ট্রমাকে ফিরিতে আনতে চায় না। আবার পুলিশের কাছে যাবে সেই মনের সাহস ও ছিল না জোবানের।

একটা অটোতে করে পারুলকে ধরে উঠায় জোবান। তারপর পারুলের হাত শক্ত করে ধরে অটোতে বসে। অটো চলতে থাকে বাসার দিকে। পারুল গ্রামের দৃশ্য দেখছিল।

হঠাৎ একটা ব্যনারে পোস্টারে পারুল এর চোখ আটকে গেল। এই তো সেই লোকটা যে তাকে ক্ষতি করেছি। পোস্টারে সাদ হোসেন লোকটার নাম নিচে লেখা সহ-সম্পাদক।

পারুল বলল, জোবান ওই লোকটার পোস্টারের সাদ হোসেন।

জোবান এর বাইরে তাকিয়ে দেখলো গাছে লাগানো পোস্টার। সেখানে চেয়ারম্যান আলমগীর হোসেন এর নিচেই সাদ হোসেন এর চেহারা ও পোস্টার।

চোখ বড় বড় করে তাকিয়ে রইলো জোবান।

জোবান মনে মনে বলল, এই তাহলে সেই লোক। যেকিনা আমার ওয়াইফকে ক্ষতি করেছে।

৩.

জোবান বিকেল ৪টা বাজে থানায় আসলো কম্পিলিন করাতে সাদ হোসেন এর বিরুদ্ধে।  সুপারভাইজার গফুর বসে ছিলেন। খানিকবাদে জোবানকে ডাকা হলো।

জোবান চেয়ারে বসলো মাথা নিচু করে আছে।

গফুর বললেন, জি। আপনার কি অভিযোগ করবেন?

জোবান রাগে দাঁতে দাত চেপে বলল, আমি ফার্মেসির ডক্টর। সবার সেবা করি। সেদিন আমি ফার্মেসি থেকে বাসায় এসে দেখি আমার ওয়াইফ আহত পরে তাকে হাসতাপাতাল নিয়ে যাই। তবে আমার বাচ্চাটাকে বাচাতে পারিনি।

গফুর সবকিছু খাতায় লিখলেন। তারপর গফুর বললেন, তো অপরাধী কে আপনার ওয়াইফ কি বললো?

জোবান শরীর সামনে এনে বলল, অপরাধী আমাদের আশেপাশেই ঘোরে, ক্ষমতার আড়ালে লুকিয়ে থাকে। চেয়ারম্যান এর ডানহাত সে সাদ হোসেন।

গফুর ঢেউক গিললেন। নিজেকে সামলে বললেন, এটা তো তাহলে খুব বিশাল ক্যাস। আমরা আপনার জিডি লিখে নিলাম। আমরা ব্যবস্থা নিব।

জোবান বলল, আপনারা কিছুই করতে পারবেন না।।কারন চেয়ারম্যান এর কথায় উঠবস করেন আপনি। আর সাদকে যদি এসে জেলে ভরেন। তাও সে টাকা দিয়ে ছুটে যাবে। তাই আমি আইন নিজের হাতে তুলে নিব।

গফুর খানিক্ষন  চুপচাপ থেকে বলল, যা ভালো মনে হয় করেন।।আপনি যেহেতু সব আগে থেকেই ভেবে রাখছেন। তো আমরা কি হেল্প করবো? নিজের সমস্যা নিজেই সমাধান করেন।

জোবান হঠাৎ রেগে টেবিলে থাপ্পড় মেরে বলল, আপনার ওয়াইফের সাথেও যদি একই ঘটনা হতো। তাহলে আপনি কি করতেন?

চুপ হয়ে গেলেন গফুর। কোন উত্তর না দিয়ে প্রশ্ন ঘুরিয়ে বললেন, আপনি তাহলে জিডি করবেন না তাই তো? দেখুন শুধু শুধু তর্ক করে পুলিশের সময় নষ্ট করবেন না আপনি যেতে পারেন।

জোবান রাগি তবে ঠান্ডা স্বরে বলল, হ্যা। আমি চলে যাচ্ছি। তবে খুনি হয়েই ফিরব এখানে। আবার দেখা হবে স্যার।

গফুর টেবিল থেকে পানির গ্লাস নিয়ে পান করলেন। উনার গলা কেন জানি শুকিয়ে গেছে।

জোবান সেখান থেকে চলে গেল। তখনই গফুর কল করলো সাদ হোসেন কে।

গফুর বলল, আপনি নাকি ডক্টর এর ওয়াইফকে হত্যার চেষ্টা করেছিলেন।

ফোনের ওপাশ থেকে শান্ত স্বরে সাদ বলল, হ্যা। করেছিলাম। এখন কি উনি আমার নামে অভিযোগ করতে আসছে?

গফুর ভয় পেয়ে বলল, আরে না স্যার। আপনার নামে অভিযোগ করবে এমন সাহস কার আছে? আমি তাকে বুঝিয়ে বাসায় পাঠিয়ে দিয়েছি।

সাদ বলল, কেন?

অবাক হয়ে গেল গফুর। গফুর আমতা আমতা করে বলল, কারন ইয়ে মানে।

সাদ স্পষ্ট গলায় বলল, তাকে বলুন আমার বটগাছতলা আস্তানায় আসতে আমি সেখানেই আছি।

গফুর বলল, আরে উনি তো চলে গেছে।

সাদ বলল, লোক পাঠিয়ে তাকে খবর টা দিয়ে দিবেন। আর আমি কিন্তু একাই আছি। আমি একাই একশ। কারো দরকার পড়ে না।

গফুর বলল, জি স্যার। জি স্যার বলতাসি।

গফুর ফোন রেখে পুলিশ কনস্টেবল কে বলল, তাড়াতাড়ি যাও একটু আগে যে লোক আসলো তাকে বলো সাদ তাকে দেখা করতে বলেছে বটগাছতলায়।

৪.

জোবান যখন শুনলো তাকে সাদের আস্তানায় যেতে হবে তখনই জোবান সতর্ক হয়ে গেল। গাড়িতে উঠার আগে একটা চিকন তার পকেটে ভরে নিল। তার প্লান ক্লিয়ার।

গাড়ি এসে থামলো বটগাছতলায়। মেইন রাস্তার বাম পাশের জঙ্গল পাড় করলেই দেখা যায় চারিদিকে ইটের গোলাকার দেয়াল। সামনে সরু জায়গা ভেতরে ঢোকার একটাই। সেই সরু জায়গা দিয়ে ভেতরে ঢুকলো জোবান।

জোবান দেখলো বটগাছের নিচে শান্ত হয়ে বসে আছে সাদ হোসেন।।তাকে দেখে একটা মুচকি হাসি দিয়ে কাছে ঢাকলো।

জোবান খুব সতর্কতার সাথে আশেপাশে তাকালো বোঝার চেষ্টা করলো এখানে আর কেউ আছে নাকি। কাউকে দেখতে পেল না।

জোবান এগিয়ে গেল সাদের সামনে দাড়িয়েই রইলো।

সাদ বসে আছে। মুখ তুলে চাইলো জোবানের দিকে। চোখগুলো লাল হয়ে আছে ঘুৃমের অভাবে।

সাদ বলল, কেমন আছেন ডক্টর।

জোবান এর সন্দেহ হলো। তার মানে কি সাদ তাকে আগে থেকেই চিনতো।

সাদ বুকে হাত দিয়ে কেশে উঠলো। তারপর ওয়াক করতেই সাদের বমির বদলে বের হলো রক্ত।

সাদ হাতের রক্তগুলো দেখিয়ে জোবানকে বলল, দেখুন এখনও শরীরে অনেক রক্ত।।ডক্টর বলেছে মদ্যপান এর কারনে শরীর ড্যমেজ হয়ে গেছে। তবে কি করবো পুরানো অভ্যাস ছাড়তে পারিনি।

জোবান দাতে দাত চেপে বলল, আমার ওয়াইফে কেন ক্ষতি করলেন? এটা তো মানুষের কাজ? একবারও বিবেকে বাধা দিল না? তার পেটে বাচ্চা ছিল?

উচ্চস্বরে হেসে উঠলো সাদ বলল , হাহাহা।
তারপর সরু চোখে সাদ বলল, বিবেক। সেটা কি ডক্টর? বিবেক বলতে কিছুই না।

জোবান আশেপাশে তাকিয়ে দেখলো কেউ নাই আর সাদ অনেক দুর্বল। ওকে জোবান একাই মারতে পারবে।

জোবান বসে সাদ এর শার্টের কলার ধরে ডান হাত মুষ্তিবদ্ধ করে সমস্ত শক্তি দিয়ে ঘুষি মারলো সাদের মুখে। তাল সামলাতে না পেরে সাদ মাটিতে পড়ে গেল। তার চোখ ফুলে লাল হয়ে যেতে লাগলো। পিট পিট করে ব্যথায় তাকাতেও পারলো না।

শুধু সাদ বলল, তুমি ভুল করছো ডক্টর।

সাদের কলার চেপে জোবান রেগে বলল, আমি ভুল করছি। তোর মতো শুয়োর নরপিশাচ দের জন্যই পৃথিবীটা নরক হয়েছে।

সাদ মুচকি হেসে বলল, আমি শুয়োর? আমি নরপিশাচ? হাহাহাহা।

জোবান পকেট থেকে সেই লম্বা তার টা বের করে। জোবান বলে, খুব হাসি পাচ্ছে তোর? ওয়েট।

তারপর জোবান তারগুলো দু'হাতে পেচিয়ে নেয় শক্ত করে। সাদকে একটুও সময় দেয় না কথার বলার। জোবান তার দিয়ে সাদের গলায় পেচিয়ে শক্ত করে টেনে রাখে।  ব্যথায় সাদ চেষ্টা করে তার টা খোলার তবে এতো সরু আর এতো টাইট করে চেপে রাখসে জোবান যে খুলতেও পারে না। সাদ চারিদিক ঝাপছা দেখতে থাকে। ভাবে হয়তো এভাবেই মারা যাবে।

তখনই জোবান গলা থেকে তার খুলে ফেলে। গলায় হাত দিয়ে কেশে উঠে সাদ। তার গলার তার এর স্পর্শে সরু দাগ পড়ে গেছে।

জোবান এর ঠোঁটের কোনায় হাসি রেখে বলল, এখন বুঝলি কেমন লাগে?

মাটিতে থু ফেলে সাদ রক্ত মাখা থু। জোরে জোরে শ্বাস নিয়ে নিজেকে শান্ত করে সে।

তারপর সাদ পকেট থেকে সিগারেট বের করে ধরায়। সিগারেট টানতে থাকে আর কাশতে থাকে।

এটা দেখে জোবান হেসে বলে, খা সিগারেট খা। এই টুকুই সময় তোর হাতে। তারপর ই তোকে মেরে ফেলব আমি।

সিগারেটে ধোঁয়া উড়িয়ে সাদ হেসে বলল, এটাই অনেক সময় আমার কাছে। আপনি বিবেকের কথা বলেন তাই না ডক্টর। আপনার ব্যপারে সব খোঁজ নিয়েছিলাম। আপনি ঢাকা থেকে কমদামে ঔষধ এনেছেন।।সেই মিডফোর্ট এর বিজ্রের নিচ থেকে।।যেখানে আপনার ডেটফেইল ঔষুধ লেভেল চ্যন্জ করে তারা ডেট বাড়িয়ে বিক্রি করে। আপনি সেটা জানতেন। তাও কম দামী হওয়ার আপনি কিনেছেন। আপনার থেকে আমি ঔষুধ কিনেছিলাম আমার ৪ বছরের মেয়ে নাদিয়ার জন্য। আপনার ঔষুধ খেয়ে সে রক্তবমি করে মারা গেছে। সেখানে আপনার বিবেক কই ডক্টর?

শরীরে শিহরন দিয়ে উঠলো জোবানের হাত থেকে  তার টা পড়ে গেল মাটিতে।

সাদ বলল, আপনি আমাকে জাজ করেন গালি দেন পিশাচ বলেন। আপনি কি ভালো? আপনার বিবেক বোধ কই ডক্টর। এখন আয়নায় নিজের মুখ দেখতে কেমন লাগছে ডক্টর।

একদিকে প্রচন্ড রাগ জোবানের কারন সাদ তার বাচ্চাকে মেরেছে। অন্যদিকে ডক্টর হিসেবে অপরাধবোধ।

সাদ বলল, কাজী নজরুল একটা কথা বলছে, আমরা আসলে সবাই পাপী।।নিজের পাপের বাটখারা পাল্লা দিয়া অন্যের পাপ মাপি। আমার জীবনে বেচে থাকার একজন ই ছিল নাদিয়া আমার মেয়ে। সে মারা গেছে। আপনি যেমন আপনার বাচ্চার জন্য আমার ওপর দেখাচ্ছেন আর বলছেন আপনি সঠিক। তাহলে আমি কেন রাগ দেখিয়ে ভুল হলাম। সমাজে আমাকে কেন ভিন্নচোখে দেখা হলো? আমি তো একজন পিতা ছিলাম। তাই না?

দু'পা পিছিয়ে নিল জোবান। তারপাশে তাকিয়ে দেখলো একটা ইটা পড়ে আছে মাটিতে জোবান ইট তুলে নিল হাতে। উদ্দেশ্য ইট দিয়ে মাথা থ্যতলে দিবে।
সিগারেট একদম শেষ পর্যায়ে এসে পড়েছে সাদের। সাদ শেষ টান দিয়ে ধোয়া ছাড়লেন। তারপর সিগারেট দূরে ফেলে দিলেন।

(সমাপ্ত)

#ডক্টর
#রুূ্ূ্দ্র_সিয়াম

Comments

    Please login to post comment. Login