Posts

ফিকশন

The Book Of Shadow (পর্ব ১) রুদ্র সিয়াম

June 17, 2026

Rudro Siyam

Original Author Rudro Siyam

12
View

নিহান স্কুল ছুটির পর হাঁটছে বাসার দিকে। ব্রিজের কাছে এসে নিহান আকাশের দিকে তাকালো। সূর্য যেন তাকেই টার্গেট করে পুরো রোদ দিচ্ছে তার মাথায়। একে তো নিহানের কাধে ভারী ব্যাগ। তারপর প্রচন্ড গরমে সে ঘামতে লাগলো।

ডানপকেটে হাত দিয়ে নিহান দেখলো ১০০টাকার নোট, এটা দিয়ে আইসক্রিম খাওয়া যাবে। টিফিনের জন্য তার আম্মু দিয়েছিল। তবে টাকাটা খরচ করা হয়নি। নিহান ব্রিজের ওপর উঠলো তার বাসা ব্রিজের ওপারে। চাইলে ঢাকা শহরে গাড়িতে করে যাওয়া যায়। তবে নিহান হেটে ব্রিজের মাঝ বরাবর থামে। সেখানে রাস্তার ফুটপাতে এই গরমে একলোক কমিক্স বই বিক্রি করে। সবই পুরাতন তবে এখান থেকে খুব সস্তায় কেনা যায়।গতবার স্পাইডার কমিক্স কিনেছিল নিহান। এরকম আইসক্রিম না খেয়ে ভাবলো কমিক্স কিনবে।

ব্রিজের একদম মধ্যভাগে আসার পর নিহান দেখলো লোকটাকে বসে আছে বইগুলো নিয়ে। গরমে ঘেমে যাচ্ছে আর বার বার কাধে ঝুলতে থাকা গামছা দিয়ে ঘাম মুছে ফেলছেন।

নিহান এগিয়ে গেল ফুটপাতের দোকানে। বই ও কমিক্স এদিক সেদিক করে দেখতে লাগলো। না। আজ কোন কমিক্স বই পাওয়া গেল না। হঠাৎ তার চোখ আটকে গেল একটা বইয়ের প্রচ্ছেদে 'The Book of Shadow'. 
বইটার কভারে একটা লোক অন্ধকারে দাড়িয়ে আছে রাস্তায় স্ট্রিট লাইটের আলো এসে পড়ায় রাস্তার মাঝে তার বিশাল ছায়ামূর্তি দেখা যাচ্ছে। খুব আশ্চর্য বিষয় যে বইটা এতো পুরানো ও নোংরা যে লেখকের নাম টা উঠে গেছে। তাই আর জানা হলো না। দাম জিজ্ঞেস করতেই দোকানি বলল, ৫৫টাকা দিস। যা। তোর থেকে বেশি চাইমু না।
নিহান দামাদামি পছন্দ করে না। তাই বইটা ব্যগে ঢুকিয়ে নেয়। আর ৫৫টাকা দিয়ে বাকি টাকা নিয়ে চলে আসে বাসায়।


বাসায় এসেই নিহান ফ্রেশ না হয়েই জামা চেন্জ না করেই খাটে বসে পড়ে। আর ' The book of shadow' বইটা পড়তে থাকে। বইয়ের ভূমিকায় লেখা,

"কখনও এরকম বই পাবলিশ করিব। তাহা আমি কল্পনা করিনি। তবু আমার যে জ্ঞান লাভ হইয়াছে ছায়ার মাধ্যমে তা সকলের মাঝে পৌছে দেওয়াই আমার উদ্দেশ্য। "

এমন সময় রান্না ঘর থেকে নিহানের মা (এরিনা) এসে বলল, কি রে। গোসল না করে এসব কি পড়া হচ্ছে?

নিহান খানিকটা বিরক্ত হয়ে বলল, এটা একটা বই।

এরিনা বললেন, বই? কত টাকা নিসে?

নিহান বলল, কত টাকা নিয়েছে সেটা ইম্পর্ট্যান্ট না। আমার ভালোলাগসে এজন্য কিনেছি এটার দাম আমার কাছে ম্যটার করে না।

এরিনা বললেন, ঠিক আছে। তবে স্কুল শেষে এসে আগে গোসল করে নিতে হবে। তারপর তুমি তোমার একাডেমিক বই পড়বা। ওইগুলা না পড়ে এসব কী?

নিহান বলল, একাডেমিক বই আমার ভালোলাগে না৷ সূত্র মুখস্ত করা, থিওরী মুখস্ত করা। সব মুখস্তবিদ্যা আমি বিরক্ত হয়ে গেছি।

এরিনা বললেন, হু? পড়াশোনায় আবার কিসের বিরক্ত। এখনই যদি বিরক্ত হও তাহলে আরো ফিউচারে বই পড়বে? তোমার তো ডক্টর হতে হবে তাই না।

নিহান আর কথা বাড়ালো না। জানে সে তর্ক করে লাভ নাই। উনার মা নিজের কথাই বলবেন। নিহানকে বুঝবে না।

দীর্ঘশ্বাস ফেলে নিহান বইটা বালিশের ওপর রেখে টাওয়াল নিয়ে গোসল করতে ঢুকে। তবে বইটা যেন তার দিকেই তাকিয়ে ছিল। কিছু একটা বলতে চায়। বইটা পড়ে রইলো সেখানে। কেউ ছুয়েও দেখলো না।

দুপুরবেলা নিহান নিজের রুমে বসে হোমওয়ার্ক করছিল।

এমন সময় এলিনা এসে বললেন, তোমার ফুপু আর ফুপাতো বোন নেনসিকা (১২ বছরের) এসেছে। তোমার সাথে কথা বলতে চায়।

খাতা থেকে চোখ না সরিয়ে বিরক্ত হয়ে নিহান বলল, তাদের বলো আমি ব্যস্ত আছি এখন দেখা করতে পারবো না।

এলিনা হতাশ হয়ে বললেন, এমন করো কেন? তারা তোমার আত্মীয় একটু দেখা করলে কি হয়? দিন দিন শুধু মেজাজ দেখছি।

নিহান এবার চোখ তুলে তাকালো এলিনার দিকে। নিহান বলল, আমার আত্মীয় আসছে টাকা চাওয়ার জন্য আমার জন্য না। তারা বিল্ডিং বানাবে সেই জন্য টাকা ধার চাইতে আসছে।

এলিনা রেগে বললেন, তুমি খুব বেয়াদব হয়ে গেছো মুখে মুখে তর্ক করছো।

নিহান অবাক হয়ে গেল। নিহান বলল, আমি মুখে মুখে তর্ক করছি? আমি যা সত্য তাই বলছি।

এলিনা বলল, থাকো তোমার সত্য নিয়ে। আমরা ঘুরতে যাচ্ছি একা ঘরে পড়ে থাকো।

নিহান বলল, আচ্ছা যাও।

এলিনা বলল, আমরা মেলায় পার্কে যাচ্ছি। সেখানে অনেক মজা হবে।

নিহান কপাল কুচকে  বলল, আরে যাও তো বিরক্ত করো না।

এলিনা খানিকটা ভয় পেয়ে সেখান থেকে চলে গেলেন।

রাতে খাবার টেবিলে দেখা গেল নেনসিকা থেকে গেছে। টেবিলে বসে ডিনার করছে।

নিহান কে দেখে তার বাবা হেসে বলল, তো দিনকাল কেমন চলছে নিহান?

নিহান বলল, ভালো পাপা। তোমার অফিসের কাজ কেমন?

বাবা মুচকি হেসে বললেন, সেটা আর বলো না। একটা কাজ শেষ হয়।৷বস আরেকটা কাজ ধরিয়ে দেন। মনে হয় আমি একটা মেশিন। হাহাহা। তবে এই মেশিন হওয়াতেও আনন্দ আছে।

নেনসিকা বলল, কিসের আনন্দ মামা?

বাবা বললেন, এই যে পরিবার এর জন্য সারাদিন কাজ করি। তারপর একসাথে বসে খাবার খাই।এটাই কয়জন এর ভাঙ্গে জোটে। আজ কি হয়েছে জানো এলিনা।

এলিনা ভাত বেড়ে দিচ্ছিলেন সবার প্লেটে সায় দিয়ে বলল, কি হয়েছে?

বাবা করুনার স্বরে বলল, অফিস থেকে বাসার ফিরার সময় দেখি একলোক ডাস্টবিন থেকে ময়লা কুড়িয়ে খাচ্ছে। কুকুরটা যেভাবে ময়লা খায়। সেভাবে ময়লার ওপর বসে মানুষের সেইসব ফেলে দেওয়া খাবার খাচ্ছে। আমার খুব মায়া হলো। তবে আমি কি করব?

এলিনা বলল, এরকম হাজার মানুষ দেশে না খেয়ে থাকে। তুমি কয়জন কে সাহায্য করবা? আর আল্লাহ এর রহমতে আমাদের ভালোই রাখসেন। (হঠাৎ নিহান এর দিকে তাকিয়ে) ভাত না খেয়ে কথা শুনছিস কেন? ভাত খা।

নিহান অবাক হয়ে বলল, আমি আবার কি করলাম?

বাবা বললেন, আহা। ওকে বকাবকি করো কেন?

এলিনা রাগি স্বরে বলল, বকাবকি করব না? সকালে যে টিফিন এর টাকা দেই এগুলো না খেয়ে কমিক্স বই কিনে, গল্পের বই কিনে।।আবার নিজের একাডেমিক বইগুলো পড়ে না।

বাবা হেসে বললেন, এই ব্যপার। ওর বয়সে আমিও একরম করতাম।

এলিনা একটু রাগ শান্ত করে বলল, হুম।।তোমার ছেলে তোমার মতোই হইসে।

হঠাৎ নেনসিকা বলে উঠলো, মামী। তোমার রান্না খুব মজা হয়েছে। আরেকটু মাংস দাও আমাকে চেটেপুটে খাই।

বিরক্ত হয়ে নিহান মনে মনে বলল, ঢং কতো। টিকটকার মেয়ে।আমি দুইচোখে দেখতে পারি না।

বাবা বললেন, দাও দাও। ওকে আরেকটু মাংস দাও।

মন খারাপ করে এলিনা বললেন, আরে এগুলো তো সকালের নাস্তায় খাবে।

বাবা খানিক রেগে বললেন, আরে একটু মাংস দিলে কি কমে যাবে? তোমার কিপটামি স্বভাব গেলো না।

এলিনা বলল, আমি কিপটা?

কথাটা বলেই কড়াইতে থাকা সকল মাংস নেনসিকার প্লেটে ঢেলে দিল।

নেনসিকা বলল, মামী আমি এতোগুলা খেতে পারব না।

রাগি চোখে তাকালো বাবা এলিনার দিকে। এলিনাও রাগি চোখে তাকিয়ে আছে বাবার দিকে।


#The_Book_of_shadow
#পর্ব_১
#রুদ্র_সিয়াম
 

Comments

    Please login to post comment. Login