Posts

উপন্যাস

এক ছাতার নিচে। পর্ব:৫৩

June 17, 2026

busra islam

11
View

#গল্প- এক ছাতার নিচে

 #লেখিকা- বুশরা নাদরাহ

 #পর্ব - ৫৩  

রাত গভীর হয়ে গেছে চারপাশে নিস্তব্ধতা ছড়িয়ে পরেছে।  কিন্তু ইনায়ার ভেতরের ঝড় থামছেই না। বিছানার কোণায় গুটিসুটি মেরে বসে আছে সে। চোখের পানি থামার নামই নিচ্ছে না।

 আজকের সেই একটা কথাই বারবার কানে বাজছে—  "কাল ইনায়াকে দেখতে আসবে।

  ইনায়া দু’হাতে মুখ চেপে ধরে রাখলো।চোখের পানি থামতেই চাইছে না। মনে পড়ছে—  রায়হানের সাথে কাটানো ছোট ছোট মুহূর্তগুলো।  হাসি।রাগ।অভিমান।  আর সেই নির্ভরতার অনুভূতি। যেটা শুধু রায়হানের কাছেই পেত সে।

  " আমি অন্য কারো হয়ে যাবো?

 " কাল অন্য কেউ এসে আমাকে দেখবে?

  " আমি অন্য কারো বউ হবো?

নিজেই নিজের কাছে প্রশ্ন করল সে।  ভাবতেই ইনায়ার বুকের ভেতর থেকে কেঁপে উঠে।  মনে হচ্ছে— কেউ যেন তার বুকের ভেতরটা চেপে ধরেছে। 

ইনায়া ফোনটা হাতে নিল। কাঁপা হাতে রায়হানের নাম্বারে কল দিল। একবার।দুইবার

  “দুঃখিত, আপনি যে নাম্বারে ডায়াল করেছেন, সেটি এই মুহূর্তে বন্ধ আছে। 

 ফোনটা ধীরে ধীরে  নিচে নামিয়ে আনল ইনায়া।  চোখ থেকে পানি গড়িয়ে পড়ল। 

 " আপনি ফোনটা বন্ধ করে রাখছেন কেন?  

ভাঙা গলায় বলল সে। 

 হঠাৎ করেই যেন একটা ভয় তাকে গ্রাস করল।  সে তাড়াতাড়ি আরিশার নাম্বারে কল দিল। দুইবার রিং হওয়ার পর।  

"হ্যালো? 

"আরিশা। ইনায়ার কণ্ঠ কাঁপছে।  

"কি হয়েছে তোর? তুই কাঁদছিস?  

ইনায়া কিছু বলতে পারলো না। 

 " কিরে। কথা বল।

 " তোর ভাইয়া কোথায়? ফোন বন্ধ করে রেখেছে কেন?  জানিস?

   আরিশা এবার একটু থেমে ধীরে বলল, 

 "তুই কিছু জানিস না।তাই না? 

ইনায়ার বুক ধক করে উঠল। 

 "কি, কি জানবো? 

 আরিশা দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেলল, 

'আজকে বিকালে তোর বাবা আমাদের বাসায় আসছিল।  

ইনায়া যেন নিঃশ্বাস নিতে ভুলে গেল।  মাথাটা হঠাৎ করে ঘুরতে লাগল ।

 আরিশার কণ্ঠ এবার একটু ভারী হয়ে গেল,

  " সাথে আরো কয়েকজন নিয়ে এসেছিল।অনেক চিল্লাচিল্লি হয়েছে।  

ইনায়ার হাত থেকে ফোনটা প্রায় পড়ে যাচ্ছিল।

  "রায়হান ভাইয়া অনেক রাগ করেছে।  

ইনায়ার চোখ বড় হয়ে গেছে। শরীর ঠান্ডা হয়ে যাচ্ছে ধীরে ধীরে।

Comments

    Please login to post comment. Login