Posts

গল্প

প্রতিশোধ।

June 18, 2026

Shafin pro

5
View

রক্তের ঋণ: একটি প্রতিশোধ ও প্রত্যাবর্তনের মহাকাব্যপ্রথম পরিচ্ছেদ: 

সুখী নীড় এবং ঝড়ের পূর্বাভাসনদীমাতৃক বাংলার এক শান্ত, সবুজ গ্রাম ‘অনন্তপুর’। সেই গ্রামের এক কোণে গড়ে উঠেছিল অভ্র আর তুলির ছোট্ট সংসার। অভ্র পেশায় একজন সৎ ও পরিশ্রমী কৃষক এবং কাঠমিস্ত্রি। নিজের হাতে গড়া কাঠের দোতলা বাড়িটায় তারা বাস করত। তাদের সংসারে ছিল দুটি আলো—নয় বছরের বড় মেয়ে ‘দিয়া’ আর ছয় বছরের ছোট ছেলে ‘আদি’।তাদের জীবনটা ছিল এক টুকরো স্বর্গ। সকালবেলা তুলির হাতের গরম ভাতের সুগন্ধ আর আদি-দিয়ার খুনসুটিতে অভ্রর ঘুম ভাঙত। আদি ছিল একটু চঞ্চল, সারাদিন প্রজাপতির পেছনে ছোটা আর বাবার কাঠের কাজের যন্ত্রাংশ নিয়ে খেলা করাই ছিল তার আনন্দ। দিয়া ছিল শান্ত, মায়ের ছায়াসঙ্গী। অভ্র প্রায়ই বলত, "তুলি, দুনিয়ার সব ধন-সম্পদ এক দিকে, আর আমার এই পরিবার এক দিকে। আমি এর চেয়ে বেশি আর কিছুই ঈশ্বরের কাছে চাই না।"কিন্তু মানুষের সুখের দিনগুলো বোধহয় নিয়তির সহ্য হয় না। অনন্তপুর গ্রামের পাশেই ছিল এক গহীন জঙ্গল, যা ‘কালনাগিনীর জঙ্গল’ নামে পরিচিত ছিল। সেই জঙ্গলের ওপারে আস্তানা ছিল এই অঞ্চলের কুখ্যাত এবং নিষ্ঠুর ডাকাত দলপতি ‘কালু খাঁ’-র। কালু খাঁ শুধু একজন ডাকাতই ছিল না, সে ছিল এক পিশাচ। লুটপাট, খুন এবং শিশু পাচার ছিল তার প্রধান ব্যবসা।কয়েকদিন ধরেই কালু খাঁর কিছু লোক অনন্তপুর গ্রামের আশেপাশে ঘোরাঘুরি করছিল। অভ্রর সুখী পরিবারের ওপর তাদের কুদৃষ্টি পড়েছিল। বিশেষ করে চটপটে আর সুস্থ-সবল আদিকে দেখে কালু খাঁর মাথায় এক কুৎসিত বুদ্ধি খেলে যায়। বিদেশি এক ধনী ক্রেতার কাছে চড়া দামে শিশু বিক্রি করার চুক্তি করেছিল সে, আর সেই চুক্তির বলি হিসেবে সে বেছে নিল অভ্রর কলিজার টুকরো আদিকে।দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: সেই অভিশপ্ত রাততখন বর্ষাকাল। আকাশে মেঘের ঘনঘটা, বাইরে অঝোরে বৃষ্টি পড়ছে। বজ্রপাতের শব্দে পুরো গ্রাম কেঁপে কেঁপে উঠছে। গভীর রাতে যখন অভ্রর পরিবার গভীর ঘুমে মগ্ন, ঠিক তখনই কালনাগিনীর মতো কালু খাঁর ডাকাত দল তাদের বাড়িতে হানা দিল।দড়াম করে সদর দরজা ভেঙে ভেতরে ঢুকল চার-পাঁচজন সশস্ত্র মুখোশধারী ডাকাত। শব্দের চোটে অভ্র আর তুলির ঘুম ভেঙে গেল। অভ্র কিছু বুঝে ওঠার আগেই এক ডাকাত তার মাথায় লাঠির বাড়ি মারল। রক্তাক্ত অবস্থায় মেঝেতে লুটিয়ে পড়ল অভ্র। তুলি চিৎকার করে আদিকে বুকে জড়িয়ে ধরতে চাইল, কিন্তু অন্য এক ডাকাত তুলিকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দিল এবং তার মুখ বেঁধে ফেলল। দিয়া ভয়ে খাটের কোণে গুটিসুটি মেরে কাঁপছিল।ছয় বছরের আদি ভয়ে "মা! বাবা!" বলে চিৎকার করে উঠল। কিন্তু নিষ্ঠুর কালু খাঁ নিজের শক্ত হাতে আদির মুখ চেপে ধরল এবং তাকে একটা বস্তায় পুরে ফেলল। যাওয়ার আগে কালু খাঁ অভ্রর কানের কাছে গিয়ে ফিসফিস করে বলল, "তোর ছেলেকে নিয়ে গেলাম। যদি বাঁচতে চাস, তবে পুলিশকে জানাবি না। আর যদি সাহস থাকে, তবে কালনাগিনীর জঙ্গলে এসে নিয়ে যা।"ডাকাত দল চলে যাওয়ার পর, রক্তাক্ত অভ্র কোনোমতে উঠে তুলির মুখের বাঁধন খুলে দিল। কিন্তু ততক্ষণে অনেক দেরি হয়ে গেছে। ঘর জুড়ে শুধু আদির ফেলে যাওয়া একটা ছোট খেলনা গাড়ি পড়ে ছিল। তুলি সেই খেলনা বুকে জড়িয়ে ধরে পাগলের মতো কাঁদতে লাগল, "আমার আদিকে এনে দাও! ওরা আমার কোল খালি করে দিল!"তৃতীয় পরিচ্ছেদ: আক্রোশের জন্ম এবং শপথপরদিন সকালে অভ্রর মাথায় ব্যান্ডেজ বাঁধা, কিন্তু তার চোখে তখন কোনো কান্নার জল ছিল না। সেখানে জ্বলছিল এক তীব্র আগ্নেয়গিরি, এক প্রতিশোধের আগুন। গ্রামের মানুষ এসে তাকে সান্ত্বনা দিচ্ছিল এবং পুলিশে খবর দেওয়ার পরামর্শ দিচ্ছিল। কিন্তু অভ্র জানত, এই দুর্নীতিগ্রস্ত পুলিশ কালু খাঁর কিছুই করতে পারবে না। নিজের ছেলেকে ফিরিয়ে আনতে হলে তাকেই কালনাগিনী হতে হবে।অভ্র তার ঘরের এক কোণ থেকে বের করল তার পুরোনো দিনের এক জিনিস—একটি ধারালো, ভারী কুড়াল এবং একটি শিকারি ধনুক, যা তার শিকারি দাদা তাকে দিয়েছিলেন। সে বহু বছর ধরে এগুলো স্পর্শ করেনি। কিন্তু আজ তার শান্ত রূপ বিলীন হয়ে গেছে। সে এখন আর একজন সাধারণ কাঠমিস্ত্রি নয়, সে একজন বাবা, যার সন্তানকে কেড়ে নেওয়া হয়েছে।তুলির চোখের দিকে তাকিয়ে অভ্র বলল, "তুলি, তুমি দিয়াকে নিয়ে সাবধানে থেকো। আমি ঈশ্বরের নামে শপথ করে বলছি, হয় আমি আদিকে নিয়ে এই বাড়িতে ফিরব, আর না হয় কালু খাঁর রক্তে এই মাটি ভেজাব। আমার ছেলেকে যে হাত ছুঁয়েছে, সেই হাত আমি শরীর থেকে আলাদা করে দেব।"দিয়া এসে বাবার হাত ধরে বলল, "বাবা, ভাইকে ফিরিয়ে এনো।" অভ্র দিয়ার কপালে চুমু খেয়ে, পিঠে ধনুকের তূণ আর হাতে কুড়াল নিয়ে কালনাগিনীর জঙ্গলের দিকে রওনা হলো। শুরু হলো এক দীর্ঘ এবং ভয়ঙ্কর প্রতিশোধের যাত্রা।চতুর্থ পরিচ্ছেদ: কালনাগিনীর জঙ্গলে প্রবেশ ও প্রথম রক্তকালনাগিনীর জঙ্গল ছিল অত্যন্ত ভয়ঙ্কর। সেখানে যেমন ছিল বিষাক্ত সাপ আর হিংস্র পশুর ভয়, তেমনি ছিল কালু খাঁর পাতা ফাঁদ। কিন্তু অভ্রর মনে তখন ভয়ের কোনো স্থান ছিল না। তার মাথায় শুধু ঘুরছিল আদির সেই শেষ চিৎকার।জঙ্গলের ভেতরে প্রায় দুই দিন অভ্র না খেয়ে, শুধু গাছের ফল আর ঝরনার জল খেয়ে কাটিয়ে দিল। সে ডাকাতদের পায়ের ছাপ এবং ভাঙা ডালপালা অনুসরণ করে এগোতে লাগল। তৃতীয় দিনে, জঙ্গলের একটি পুরোনো ভাঙা মন্দিরের কাছে সে কালু খাঁর দুজন ডাকাতকে দেখতে পেল। তারা মদ্যপান করছিল আর আদির অপহরণ নিয়ে হাসাহাসি করছিল।এক ডাকাত বলছিল, "বাচ্চাটা দেখতে বেশ সুন্দর। কালু খাঁ এটাকে বর্ডারের ওপারে পাঠালে অনেক টাকা পাবে।"এই কথা শোনার পর অভ্রর ভেতরের মানুষটি পুরোপুরি হিংস্র হয়ে উঠল। সে গাছের আড়ালে লুকিয়ে থেকে তার ধনুকে তীর জুড়ল। ‘শূঁ শব্দ করে প্রথম তীরটি গিয়ে বিঁধল এক ডাকাতের গলায়। সে কোনো শব্দ করার আগেই মাটিতে পড়ে গেল। অন্য ডাকাতটি চমকে উঠে তলোয়ার বের করার আগেই অভ্র চিতার মতো লাফিয়ে পড়ল তার ওপর।তার হাতের ভারী কুড়ালটি সজোরে গিয়ে পড়ল ডাকাতের কাঁধে। রক্তাক্ত ডাকাতটি চিৎকার করে উঠল, "কে তুই?"অভ্র তার চুল চেপে ধরে বলল, "আমি আদির বাবা! বল, কালু খাঁ আমার ছেলেকে কোথায় রেখেছে?"মৃত্যুর ভয়ে ডাকাতটি কাঁপতে কাঁপতে বলল, "পাহাড়ের চূড়ায়... পুরোনো নীলকুঠিতে... কাল রাতে ওখানেই ওকে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। আমাদের ছেড়ে দাও!"অভ্রর চোখে তখন দয়া ছিল না। সে বলল, "তোরা আমার সংসারের সুখ কেড়েছিস, তোদের কোনো ক্ষমা নেই।" এক কোপে সে ডাকাতের খেলা শেষ করে দিল। এটি ছিল অভ্রর জীবনের প্রথম খুন, কিন্তু তার মনে কোনো অপরাধবোধ ছিল না। তার মনে হলো, এটি প্রতিশোধের যজ্ঞের প্রথম আহুতি।পঞ্চম পরিচ্ছেদ: নীলকুঠির দুর্গ এবং কঠিন পরীক্ষাপাহাড়ের চূড়ায় অবস্থিত নীলকুঠিটি ছিল এক পরিত্যক্ত প্রাচীন জমিদার বাড়ি। চারিদিকে বড় বড় দেয়াল আর কালু খাঁর সশস্ত্র পাহারা। অভ্র বুঝতে পারল, সরাসরি আক্রমণ করলে সে নিজের জীবন তো হারাবেই, আদিকেও বাঁচাতে পারবে না। তাই তাকে বুদ্ধির আশ্রয় নিতে হলো।সে রাতের অন্ধকারের জন্য অপেক্ষা করল। যখন গভীর রাত হলো এবং পাহারাদাররা কিছুটা অসতর্ক হলো, অভ্র পেছনের দেয়াল বেয়ে ভেতরে ঢুকে পড়ল। প্রতিটি পদক্ষেপে ছিল মৃত্যুর ঝুঁকি। সে বিড়ালের মতো নিঃশব্দে নীলকুঠির ভেতরের ঘরে প্রবেশ করল।হঠাৎ সে এক ঘরের মধ্য থেকে আদির কান্নার আওয়াজ শুনতে পেল। "মা... বাবা... আমাকে বাড়ি নিয়ে যাও..." আদির এই দুর্বল কণ্ঠস্বর শুনে অভ্রর বুক ফেটে যাচ্ছিল। সে ঘরের দরজার ফাঁক দিয়ে দেখল, আদি একটা লোহার খাঁচার ভেতরে বন্দি, আর বাইরে দুজন পাহারাদার ঘুমাচ্ছে।অভ্র অত্যন্ত সাবধানে ঘরের ভেতরে ঢুকল। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত, তার পা একটি শুকনো কাঠের টুকরোয় পড়তেই মট করে শব্দ হলো। এক পাহারাদার জেগে উঠেই চিৎকার দিতে চাইল, কিন্তু অভ্র ক্ষিপ্র গতিতে তার মুখ চেপে ধরে কুড়াল দিয়ে তার বুক ঝাঁঝরা করে দিল। অন্য পাহারাদারটি জেগে উঠে অভ্রর ওপর তলোয়ার নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ল।তলোয়ারের আঘাতে অভ্রর বাম হাত কেটে রক্ত ফিনকি দিয়ে বের হতে লাগল। কিন্তু অভ্র যন্ত্রণাকে তোয়াক্কা না করে ডান হাতের কুড়াল দিয়ে পাহারাদারের পায়ে আঘাত করল। সে মাটিতে পড়ে গেলে অভ্র তার বুকের ওপর চড়ে বসে যতক্ষণ না তার শ্বাস বন্ধ হলো, ততক্ষণ তার গলা চেপে ধরে রাখল।অভ্র খাঁচার কাছে গিয়ে বলল, "আদি! বাবা, আমি এসেছি!"আদি খাঁচার ভেতর থেকে বাবাকে দেখে কেঁদে উঠল, "বাবা! তোমার মাথা থেকে রক্ত পড়ছে! আমাকে বের করো!"অভ্র লোহার তালাটি কুড়ালের চাড় দিয়ে ভেঙে ফেলল এবং আদিকে বুকে জড়িয়ে ধরল। কতদিন পর সে তার কলিজার টুকরোকে স্পর্শ করল! কিন্তু গল্প এখানেই শেষ নয়। মূল খলনায়ক কালু খাঁ তখনও বেঁচে ছিল।ষষ্ঠ পরিচ্ছেদ: চূড়ান্ত সংঘাত ও প্রতিশোধের সমাপ্তিঠিক যখন অভ্র আদিকে নিয়ে ঘর থেকে বের হতে যাবে, তখনই পুরো ঘরে আলো জ্বলে উঠল। দরজায় দাঁড়িয়ে ছিল স্বয়ং কালু খাঁ এবং তার বাকি চার-পাঁচজন অনুচর। কালু খাঁর হাতে ছিল একটি আধুনিক বন্দুক।কালু খাঁ অট্টহাসি দিয়ে বলল, "বাহ্! কাঠমিস্ত্রি তো বড় শিকারি হয়ে উঠেছে! আমার চারটে লোককে মেরে তুই ভেবেছিস আমার ডেরা থেকে ছেলেকে নিয়ে পালিয়ে যাবি?"অভ্র আদিকে নিজের পেছনে লুকিয়ে রাখল। সে কালু খাঁর দিকে তাকিয়ে শান্ত কিন্তু দৃঢ় কণ্ঠে বলল, "কালু খাঁ, তুই আমার ঘর ভেঙেছিস। তুই একজন বাবার আক্রোশ দেখিসনি। আজ এখান থেকে হয় আমি আর আমার ছেলে যাব, না হয় তোর লাশ যাবে।"কালু খাঁ তার লোকদের বলল, "মার শালাকে!"লড়াই শুরু হলো। অভ্র আদিকে এক কোণে লুকিয়ে রেখে ডাকাতদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ল। তার ধনুকের শেষ দুটি তীর দুজন ডাকাতের বুক ভেদ করল। বাকি দুজন যখন তাকে তলোয়ার দিয়ে আঘাত করতে এলো, অভ্র তার কুড়াল দিয়ে তাদের প্রতিহত করল। অত্যন্ত কুশলী কাঠমিস্ত্রি হওয়ার কারণে তার হাতের কবজির জোর ছিল সাধারণ মানুষের চেয়ে অনেক বেশি। সে এক ডাকাতের তলোয়ার কেড়ে নিয়ে অন্য ডাকাতের পেট চিরে দিল।কিন্তু এই লড়াইয়ের মধ্যে কালু খাঁ অভ্রর পায়ে গুলি করল। অভ্র চিৎকার করে মাটিতে পড়ে গেল। তার পা থেকে রক্ত ঝরছিল। কালু খাঁ ধীর পায়ে অভ্রর দিকে এগিয়ে এলো, তার বন্দুকের নল অভ্রর কপালে ঠেকিয়ে বলল, "খুব তো লাফাচ্ছিলে হে বাবা! এখন কারে ডাকবা? তোমার ভগবানও আজকে তোমারে বাঁচাতে পারবে না।"মাটিতে পড়ে থাকা অভ্র তখন দেখল, কালু খাঁর পায়ের কাছেই তার ফেলে যাওয়া ধারালো কুড়ালটি পড়ে আছে। আদি দূর থেকে চিৎকার করে কাঁদছিল। আদির সেই কান্না অভ্রর শরীরে অলৌকিক শক্তি এনে দিল।কালু খাঁ যখন ট্রিগার চাপতে যাবে, ঠিক সেই মুহূর্তে অভ্র বিদ্যুৎ গতিতে মাটিতে গড়ান দিয়ে কালু খাঁর পায়ে তার কুড়ালটি সজোরে চালিয়ে দিল। এক কোপে কালু খাঁর ডান পা হাঁটু থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে গেল। কালু খাঁ যন্ত্রণায় চিৎকার করে মাটিতে পড়ে গেল এবং তার হাত থেকে বন্দুকটি ছিটকে গেল।অভ্র টেনে হিঁচড়ে উঠে দাঁড়াল। তার নিজের শরীরও তখন রক্তে ভেজা। সে কালু খাঁর বুকের ওপর তার ভারী পা চেপে ধরল। কালু খাঁ তখন যন্ত্রণায় ছটফট করতে করতে বলল, "আমাকে মেরো না... আমাকে ছেড়ে দাও... আমি তোমাকে অনেক টাকা দেব..."অভ্র কুড়ালটি উঁচিয়ে ধরে বলল, "টাকা? তুই আমার ছেলের প্রতিটি ফোঁটা চোখের জলের দাম দিতে পারবি? তুই আমার স্ত্রীর বুক খালি করেছিস। এই নে তোর পাপের পাওনা!"এক তীব্র আক্রোশে অভ্র কুড়ালটি কালু খাঁর গলায় নামিয়ে আনল। কালু খাঁর চিৎকার চিরতরে স্তব্ধ হয়ে গেল। অনন্তপুরের বুকে ত্রাস সৃষ্টি করা কালু খাঁর অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটল এক বাবার প্রতিশোধের আগুনে।উপসংহার: আলোর পথে প্রত্যাবর্তনভোর হচ্ছে। কালনাগিনীর জঙ্গলের ওপর সূর্যোদয়ের প্রথম আলো এসে পড়েছে। অভ্র রক্তাক্ত, ক্লান্ত, কিন্তু তার মুখে এক বিজয়ের হাসি। সে আদিকে কোলে তুলে নিল। আদি তার বাবার গলা জড়িয়ে ধরে শান্ত হয়ে ঘুমাচ্ছিল, সে জানত তার বাবা থাকা মানে সে পৃথিবীর সবচেয়ে নিরাপদ স্থানে আছে।জঙ্গল পার হয়ে যখন অভ্র তার গ্রামের সীমানায় পৌঁছাল, তখন সকাল গড়িয়ে দুপুর। গ্রামের মানুষ অভ্রকে এই অবস্থায় দেখে স্তব্ধ হয়ে গেল। তারা বিশ্বাসই করতে পারছিল না যে এক সাধারণ মানুষ একাই পুরো ডাকাত দলকে ধ্বংস করে ফিরে এসেছে।বাড়ির উঠোনে তুলি আর দিয়া বসে ছিল। অভ্রকে আসতে দেখে তুলি পাগলের মতো ছুটে এলো। অভ্র আদির কোল থেকে নামিয়ে তুলির কোলে দিল। তুলি আদিকে বুকে জড়িয়ে ধরে হাউমাউ করে কেঁদে উঠল। দিয়া এসে তার বাবার ক্ষতবিক্ষত হাতটি জড়িয়ে ধরল।অভ্র তুলির দিকে তাকিয়ে বলল, "আমি আমার কথা রেখেছি, তুলি। আমাদের পরিবার আবার পূর্ণ হলো।"সেই ঘটনার পর অনন্তপুর গ্রামে আর কোনোদিন কোনো ডাকাত দল হানা দেওয়ার সাহস করেনি। অভ্রর ক্ষতগুলো শুকিয়ে গিয়েছিল, কিন্তু তার বীরত্বের গল্প গ্রামের মানুষের মুখে মুখে রয়ে গেল। অভ্র আবার তার কুড়াল দিয়ে কাঠ কাটার কাজে ফিরে গেল, তবে এবার আর কোনো ভয়ের ছায়া তাদের সংসারে ছিল না। দিয়া আর আদির হাসিতে আবার মুখরিত হয়ে উঠল সেই কাঠের দোতলা বাড়ি। প্রতিশোধের আগুন নিভে গিয়ে সেখানে এখন জ্বলছিল এক শান্তির প্রদীপ। 

গল্পটি কেমন লাগলো লিখে জানাতে পারেন এবং বেশি বেশি কমেন্টস করুন এবং প্ল্যাটফর্ম টি বেশি বেশি প্রচার করে যান।

Comments

    Please login to post comment. Login