
প্রকৃতির অপার মায়ায় কিছু কিছু জিনিষের সৌন্দর্য শুধু স্মৃতিতেই। সেই স্মৃতির পাতায় কখনও কখনও সৌন্দর্যের অবয়বে পরিস্ফুটন হয়ে উঠে মনের মধুরতা ও কদম্বতা। সৌন্দর্যের রুপবাহারে অবিরাম বর্ষণে আজ বহমান বারিধারা বর্ষা। প্রকৃতির সবুজ সমারোহ আর বর্ষার লুকোচুরি খেলায় রুপমাধুর্যের অবলোকনে প্রকৃতি কখনও কখনও হয়ে উঠে রুপমোহন। সেই রুপমোহনের মায়ায় শৈশবের প্রকৃতিতে কদমকে নিয়ে কতই না স্বপ্নের ভেলা ভাসিয়েছেন বহমান হৃদয়াঙ্গনে। বর্ষার অবিরাম ধারায় সবুজ প্রকৃতি সৌন্দর্যের যে রুপমোহটাই সাজিয়েছে আমি সেই কদম ফুলের কথাই বলছি। কদম ফুলে মালা না গাঁথলেও কতই না উপটৌকনের ঢালি সাজিয়েছেন ভালবাসার মানুষের হৃদয় গহিনে।
যান্ত্রিক সভ্যতা ও শহরায়নের যুগে প্রকৃতির উঠোনে সেই কদমের ঘ্রাণ এখন আর নেই। ও যেন অনেকটাই অতীত ও নেই আর আগের মতো বৈভব। বৃষ্টিতো ছুঁয়েছে বৃক্ষ অথচ রিমঝিম জলে কদমের কোমলতা ও স্পর্শের ছোঁয়াও কেমন যেন উদাসীন। চোখ জুড়ানো ঘন সবুজ পত্র-পল্লবের ফাঁকে ফাঁকে বন্ধুতায় চিরচেনা হলুদের রুপালী আভায় উকিঁ দেয় ফুল কদম যেন প্রকৃতির নৈসর্গের একটি ছোট গল্প। সেই গল্পে অনেক বিরহীরাও মরমে কদমতলে বংশী বাজিয়েছেন। কদমের শুভ্ররাগে হৃদয় রাঙিয়ে নেওয়ার সুযোগ এই ইট-পাথুরে নাগরিক সভ্যতায় নেই বলেই আমার এই লেখনী একটু অতীতে ফেরা বা স্মৃতিচারিত শৈশবে একটু হোঁচট খাওয়া, সেই কর্দমাক্ত রাস্তা আর গাঁয়ের দস্যি ছেলেদের কদম ফুলে হৈ-হুল্লোড়ে মাতোয়ারা। আমার এ ছোট লেখনীতে কি আর ফুটিয়েছে, পল্লী কবি তাঁর ''পল্লী বর্ষা'' র চার পঙক্তিতে ফুটিয়েছেন তার চেয়েও ঢের-
" কাহার ঝিয়ারী কদম্ব- শাখে নিঝঝুম নিরালায়,
ছোট ছোট রেণু খুলিয়া দেখিছে অস্ফুট কলিকায়।
বাদলের জলে নাহিয়া সে মেয়ে হেসে কুটি কুটি হয়,
সে হাসি তাহার অধর নিঙাড়ি লুটাইছে বনময়।।"
— আবু হানিফ ---