Posts

উপন্যাস

এক ছাতার নিচে। পর্ব:৫৪

June 19, 2026

busra islam

4
View

গল্প- এক ছাতার নিচে

  লেখিকা- বুশরা নাদরাহ 

 পর্ব- ৫৪ 

 আরিশা ফোন রাখার পর ইনায়া আরো ভেঙে পরে। আজকের এই  রাতটা যেন ইনায়ার জীবনের সবচেয়ে দীর্ঘ রাত। চোখে একফোঁটা ঘুম নেই। শুধু অন্ধকার আর অগণিত চিন্তা।

  বিছানায় শুয়ে বাহিরে  তাকিয়ে আছে ইনায়া।কিন্তু চোখের সামনে শুধু ভাসছে  রায়হানের মুখ। তার হাসি, তার কথা, তাদের ছোট ছোট সুখের মুহূর্তগুলো। সবকিছু যেন হঠাৎ করেই হাতছাড়া হয়ে যাচ্ছে। এই ভাবনাতেই বুকটা মোচড় দিয়ে ওঠে ইনায়ার।  বালিশ আঁকড়ে ধরে নিঃশব্দে কাঁদতে থাকে।চোখের পানি থামতেই চাইছে না।

 "বাবা,  কেন এমন করল?  

অভিমান ধীরে ধীরে কষ্টে পরিণত হয়।আর সেই কষ্ট তাকে ভিতর থেকে ভেঙে দিচ্ছে।  

সকাল হয়। কিন্তু ইনায়ার জীবনে কোনো আলো আসে না।  পুরো বাড়িটা অস্বাভাবিক নীরব।সবাই যেন আছে, তবুও কেউ নেই। 

ইশতিয়াক শেখ এর ভয়ে কেউ কিছু বলার সাহস পাচ্ছে না।  ইনায়া সারাদিন রুমেই থাকে।ফারহানা বেগম, রাবেয়া বেগম অনেক বার ডাকার পরেও ইনায়ার কোন সারাশব্দ পায় না।

  একটা সময় ইনায়ার মনে অন্ধকার একটা চিন্তা আসে। 

" আমি নিজেকে শেষ করে দিলে হয়তো সব কষ্ট থেমে যাবে।আমি কি বিষ খাবো?  

 কিন্তু পরক্ষণেই রায়হানের মুখটা চোখে সামনে ভেসে উঠে।  তার কণ্ঠ, তার ভরসা। ইনায়া তার নিজের চিন্তায় ভয় পেয়ে যায়। 

 "নাহ। আমি পারবো না। 

বলেই আবার কান্নায় ভেঙে পড়ে সে। 

 ইহান বাসায় নেই।এই অনুপস্থিতিটা যেন তাকে আরও একা করে দেয়।  

সারাদিন ইনায়া বারবার রায়হানকে ফোন দেয়। কিন্তু প্রতিবারই সেই পরিচিত মহিলার কন্ঠ,

  "আপনি যে নাম্বার টি তে ফোন দিয়েছেন তা এই মুহূর্তে বন্ধ আছে। 

 প্রতিটা ব্যর্থ কল যেন তার বুকটা একটু একটু করে ভেঙে দিচ্ছে।  

বিকেলের দিকে দরজায় টোকা পড়ে।

  " কে?   

"মা। দরজা খোলো।  

 "আমি নিচে যাবো না। ছোট   আম্মু।

   "খোলো মা। তোমার বাবা আমাকে পাঠিয়েছে।   রাগ করো না। নিচে চলো মা। 

ইনায়া কাঁপা হাতে দরজা খোলে। চোখ লাল হয়ে আছে, মুখটা ফ্যাকাশে হয়ে গেছে। 

 রাবেয়া বেগম ভেতরে এসে ইনায়াকে জড়িয়ে ধরে। 

 ইনায়া ফিসফিস করে বলে,  

" আমি পারবো না।ছোট আম্মু। 

রাবেয়া বেগম নরম গলায় বলল, 

"পারবে তুমি মা। নিচে যেতে হবে, লোকজন এসে পরেছে।   

 কথাটা শুনেই ইনায়ার বুকটা কেঁপে ওঠে। চোখ দিয়ে পানি গড়িয়ে পড়ে। 

 ঠিক তখনই শেষবারের মতো আরেকটা চেষ্টা করার ইচ্ছে হয়।  কাঁপা হাতে ফোনটা তুলে নেয় হাতে।শেষবার কল দেয় রায়হানকে। 

 রিং হচ্ছে।  

ইনায়ার বুকের ভেতর ধুকধুক শব্দটা যেন আরও জোরে শোনা যায়। 

 হঠাৎ কলটা রিসিভ হয়।  

"হ্যালো।  

এই একটা শব্দ ইনায়াকে ভেঙে চূড়মার করে দেয়।

  "আপনি কোথায় ছিলেন? আমাকে দেখতে আসছে। কিছু করেন প্লিজ।আমি আপনাকে ছাড়া বাঁচবো না।  

 ইনায়ার কণ্ঠ কাঁপছিল। কান্নায় ভেঙে যাচ্ছিল প্রতিটা শব্দ।  

ওপাশে কয়েক সেকেন্ডের নীরবতা।

Comments

    Please login to post comment. Login