Posts

গল্প

পিছনে কে যেন আছে- পর্ব ৩

June 20, 2026

FIJON QURAYSH

Original Author ফিজন কোরাইশ

15
View

পর্ব ২: ঘাড়ের ওপর ঠান্ডা হাত

রাফির শরীর জমে গেল।

ঘাড়ের ওপর রাখা হাতটা ছিল বরফের মতো ঠান্ডা।

সে নড়তে পারছিল না।

শ্বাস নিতে কষ্ট হচ্ছিল।

জমিদার বাড়ির সামনে দাঁড়িয়ে থাকা সাদা পোশাকের মেয়েটা তখনও হাসছিল।

চারপাশে অদ্ভুত নীরবতা।

কোনো পাখির ডাক নেই।

কোনো বাতাসের শব্দ নেই।

শুধু নিজের হৃদস্পন্দন।

ধুক...

ধুক...

ধুক...

হঠাৎ ঘাড়ের ওপরের হাতটা সরে গেল।

রাফি আর এক মুহূর্তও দাঁড়াল না।

সে প্রাণপণে দৌড় দিল।

এবার সে পেছনে তাকাল না।

কিছুক্ষণ পর দূরে গ্রামের আলো দেখা গেল।

মানুষের বাড়িঘর দেখা গেল।

তখন তার মনে হলো সে বেঁচে গেছে।

বাড়িতে পৌঁছে দরজা বন্ধ করে দিল।

মা অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করলেন,

“তোর কী হয়েছে?”

রাফি কিছুই বলল না।

কারণ সে জানত, কেউ বিশ্বাস করবে না।

সেই রাতে তার ঘুম এল না।

রাত তিনটার দিকে হঠাৎ তার ফোনে একটি নোটিফিকেশন এল।

অজানা নম্বর।

একটি ছবি।

ছবিটা খুলতেই তার বুক কেঁপে উঠল।

এটা তার নিজের ঘরের ছবি।

একদম এই মুহূর্তের।

বিছানা।

টেবিল।

জানালা।

সবকিছু।

কিন্তু ছবির এক কোণে একটা কালো অবয়ব দাঁড়িয়ে ছিল।

যেটা সে খালি চোখে দেখতে পাচ্ছিল না।

রাফি দ্রুত ঘরের চারদিকে তাকাল।

কেউ নেই।

আবার ছবির দিকে তাকাল।

অবয়বটা এবার আগের চেয়ে কাছে।

মনে হচ্ছিল সে এগিয়ে আসছে।

রাফির হাত কাঁপতে লাগল।

ঠিক তখনই তার আলমারির ভেতর থেকে—

ঠক...

ঠক...

ঠক...

কেউ যেন ভেতর থেকে দরজায় আঘাত করছে।

সে ধীরে ধীরে এগিয়ে গেল।

আলমারির সামনে দাঁড়াল।

শব্দ বন্ধ হয়ে গেছে।

কাঁপা হাতে দরজা খুলল।

ভেতরে শুধু কাপড়।

আর কিছু না।

কিন্তু আলমারির পেছনের কাঠে নখ দিয়ে আঁচড়ানো একটা বাক্য লেখা ছিল—

“আমি তোমাকে খুঁজে পেয়েছি।”

রাফি পিছিয়ে গেল।

তারপর সে এমন একটা জিনিস দেখল যা কোনোভাবেই সম্ভব নয়।

আয়নায় তার প্রতিচ্ছবি দেখা যাচ্ছে।

কিন্তু প্রতিচ্ছবিটা তার মতো আচরণ করছে না।

রাফি স্থির দাঁড়িয়ে।

কিন্তু আয়নার রাফি ধীরে ধীরে হাসছে।

একটা ভয়ংকর হাসি।

তারপর আয়নার ভেতরের রাফি ঠোঁট নাড়ল।

“পেছনে তাকাও...”

রাফির বুক কেঁপে উঠল।

সে তাকাল না।

কারণ তার মনে হচ্ছিল, তার পেছনে সত্যিই কেউ দাঁড়িয়ে আছে।

ঠিক তখনই ঘরের লাইট নিভে গেল।

পুরো ঘর অন্ধকার।

মোবাইলের আলো জ্বালতেই সে দেখল—

মেঝেতে ভেজা পায়ের ছাপ।

একটার পর একটা।

আর সেই পায়ের ছাপগুলো এসে শেষ হয়েছে—

তার বিছানার নিচে।

রাফির হাত কাঁপছে।

মোবাইলের আলো ধীরে ধীরে বিছানার নিচে ফেলল।

প্রথমে কিছুই দেখা গেল না।

তারপর...

অন্ধকারের মধ্যে দুটো ফ্যাকাশে চোখ খুলে গেল।

আর একটা কর্কশ কণ্ঠস্বর ভেসে এল—

“এবার তোমার পালা...”

চলবে... 👻📖

Comments

    Please login to post comment. Login