Posts

উপন্যাস

এক ছাতার নিচে। পর্ব:৫৫

June 22, 2026

busra islam

8
View

# গল্প- এক ছাতার নিচে

 # লেখিকা - বুশরা নাদরাহ

 # পর্ব- ৫৫  

তারপর রায়হানের কণ্ঠ ভেসে আসে

  " তাড়াতাড়ি নিচে আসো।কতক্ষণ যাবত বসে আছি। 

 ইনায়া থমকে যায়। কান্নার মাঝেই অবিশ্বাস নিয়ে বলে, 

" কি বলছেন?  

 " তুমি তাড়াতাড়ি নিচে আসো।আমি নিচে বসে আছি।  

“আমি,,,আমি বিশ্বাস করতে পারছি না। 

 রায়হান শান্ত গলায় বলে—  

"বিশ্বাস না হলে নিচে এসে দেখো।

   ইনায়ার বুকের ভেতরটা ধক করে ওঠে।  রায়হান আবার বলে—

 "একটা কালো শাড়ি পরে আসো। 

ইনায়া কাঁপা গলায় বলল,  

" আপনি আগে বললেন না কেন? আমি তো কান্না করতে করতে চেহারার বারোটা বাজিয়ে ফেলছি।  

 " হায়রে আল্লাহ।তুমি ফ্রেশ হয়ে শাড়ি টা পরে নিচে চলে আসো।  

 কথাটা শুনে ইনায়ার চোখ দিয়ে এক ফোটা পানি গড়িয়ে পড়ে,কিন্তু সেই কান্না  টা ছিল সুখের। হালকা একটা হাসি ফুটে ওঠে ইনায়ার ঠোঁটের কোনে।

  রায়হান আর কিছু না বলে কলটা কেটে দেয়।

  কল কেটে যাওয়ার পর থেকেই ইনায়া আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে মুচকি মুচকি  হাসছে। কিছুক্ষণ আগের সেই ভাঙা মেয়েটা যেন হঠাৎ করেই বদলে গেছে।  

সে আলমারি খুলে ধীরে ধীরে একটা কালো শাড়ি বের করে।  

রাবেয়া বেগম অবাক হয়ে তাকিয়ে থাকে, 

 "কি রে মা।ঠিক আছিস? হঠাৎ করে হাসছিস কেন? 

 ইনায়া শুধু হালকা হাসে। কোনো উত্তর দেয় না।  ধীরে ধীরে নিজেকে পরিপাটি করতে থাকে। চোখের পানি মুছে ফেলে, চুলে হালকা বেনুনি করে। ঠোঁটে হালকা লিপস্টিক দেয়।কিছুক্ষণের মধ্যেই পুরো রেডি হয়ে যায় সে।

শাড়ির আঁচল দিয়ে মাথায় কাপড় দিয়ে চাচির সাথে ধীরে ধীরে নিচে নামে।  

নিচে নামতেই দেখে। ড্রয়িংরুম ভরা মানুষ। সবার মাঝে বসে আছে রায়হান। চোখে শান্ত একটা হাসি।কালো শার্টটা তার গায়ের সাদা রঙের সাথে এমনভাবে কনট্রাস্ট তৈরি করেছে, যে তাকে একদম আলাদা করে চোখে পড়ে। 

শার্টের হাতা হালকা গুটানো। হাতের শিরাগুলো স্পষ্ট, যা তাকে আরো আকর্ষণীয় করে তুলেছে।

 চুলগুলো পরিপাটি, তবুও হালকা এলোমেলো ভাব রয়েছে।মুখের গড়ন শার্প। চোয়াল শক্ত,মুখে হালকা দাড়ি। সব মিলিয়ে একদম গম্ভীর একটা উপস্থিতি। 

 কিন্তু সবচেয়ে আলাদা তার চোখ, যা স্থির হয়ে আছে সিঁড়ির দিকে।একদম গভীর দৃষ্টি। সেই চোখে কোন তাড়া নেই, আছে শুধু অপেক্ষা। চাপা একরাশ অনুভূতি, যা বাইরে প্রকাশ করছে না।

 এক হাতে মোবাইল ধরা।মাঝে মাঝে সময় দেখছে তারপর আবার চোখ গিয়ে থেমে যাচ্ছে সিঁড়ির দিকেই।  

ঠোঁট শক্ত।হাসি নেই, কিন্তু সেই না-হাসার মধ্যেই একটা অদ্ভুত টান রয়েছে। 

ইনায়া নিচে নামার সাথে সাথেই সবাই একসাথে ইনায়ার দিকে তাকাল।  

শারমিন বেগম এর মুখে প্রশান্তির হাসি ফুটে উঠল।   

 রাহুল চৌধুরী মাথা নেড়ে বলল,

  " মাশাল্লাহ।  

আরিশা দৌড়ে এসে ইনায়ার হাত ধরল,  

  " ভাবি। তোমাকে কালো শাড়িতে জাস্ট ওয়াও।

 রুহি পাশ থেকে ফিসফিস করে রায়হান কে বলল, 

  "ভাই, ভাবি তো মাশাল্লাহ  অনেক সুন্দর।

  রায়হান কিছুই বলল না। শুধু ইনায়ার দিকে তাকিয়ে মুচকি একটা হাসি দিল। 

 শারমিন বেগম ইনায়া কে কাছে ডাকে বসালেন।

    " আজ থেকেই তুমি আমাদের মেয়ে।  

সবার চোখে মুখে খুশি বিরাজ করছে। কথাবার্তা শুরু হয় দুই পরিবারের মাঝে।  গম্ভীরতা, নীরবতা,সব মিলিয়ে অদ্ভুত একটা পরিবেশ।

  কিছুক্ষণ পর— হঠাৎই শারমিন বেগম ব্যাগ থেকে একটা আংটি বের করে। কেউ কিছু বুঝে ওঠার আগেই আংটিটা ইনায়ার হাতে পরিয়ে দেন তিনি।  

ইনায়া অবাক হয়ে তাকিয়ে থাকে।তার চোখে পানি কিন্তু সেই পানিতে আজ কষ্ট নেই,আছে অদ্ভুত এক স্বস্তি। 

 দুই পরিবারের সম্মতিতে সেখানেই বিয়ের তারিখ ঠিক হয়ে যায়। সবকিছু যেন স্বপ্নের মতো লাগছে ইনায়ার কাছে। কিছুক্ষণ আগেও যে মেয়েটা ভেঙে পড়েছিল। এখন সে দাঁড়িয়ে আছে নিজের ভালোবাসার মানুষের সামনে।

Comments

    Please login to post comment. Login