আমার কোনো স্মৃতি নেই তার সাথে।
বুকের লোম নেড়ে কখনো আশ্চর্য হতে পারিনি,
কিংবা গেঞ্জির ছেঁড়া ছিদ্রে আঙুল ঢুকিয়ে ছুঁয়ে দেখা হয়নি
নিপাট দেহখানি।
মাথার চুল এলোমেলো করে বুকের ওপর গড়াগড়ি খেয়ে
তোমার কড়া-পড়া হাতের বেহেশতের কোমল ছোঁয়ায়
আশ্চর্য হতে পারিনি।
বাইরে তোমার কণ্ঠ শুনে
ভৌদৌড়ে বাহুডোরে আলিঙ্গন হতে পারিনি।
তোমার আদর মাখা শাসনে আপ্লুত হবো—
ঝুম বৃষ্টিতে তুমি হবে ছাতা,
চৈত্রে খুঁজবো বাবার বটের ছায়া।
সে সব কিছুই ঘটেনি।
হয়তো এসব কিছু হয়েছিল,
মস্তিষ্কের নিউরন এতটা পোক্ত ছিল না
যে ধরে রাখবে পরের কোনো দিনের জন্য—
একটু স্মৃতি মেখে আসবো,
বাবার কথা মনে করে কাঁদবো।
হয়তো ক্ষুদ্র সে মস্তিষ্ক
ভাবতেও পারেনি—
কদিন বাদেই সব স্মৃতি হয়ে যাবে।
অন্তত মুখের হাসিখানা ধরে রাখলেও পারতো।
সে সব হয়নি।
কিছুই মনে করতে পারি না—
বাবা কেমন।
কেমন হয় বাবারা?
তার সাথে আমার কোনো ছবিও ছিল না,
কিংবা তিনিও কোনো ছবি রেখে যাননি।
অন্তত আমার মুখখানি
মনে রাখুক—
সে কথাও কি মনে আসেনি?
কেন বাবা?
তোমার ছবিখানি বুকে জড়িয়ে কাঁদবো বলে?
কত গল্প বাবাকে ঘিরে,
অথচ মুখখানি মনে পড়ে না।
কেমন ছিলে বাবা?
বাবাদের যেমন সাধ থাকে—
ছেলে বড় হবে,
ছেলেদের বুঝি সাধ থাকতে নেই—
বাবা, তুমি বুড়ো হবে।
আমার ছেলের হাত ধরে
তুমিও হাঁটবে।