Author: #Yaxisus_Storyverse
Part 3
Fenji Village-এর আকাশ হঠাৎ করে অস্বাভাবিকভাবে লাল হয়ে উঠল। মেঘগুলো যেন রক্তে ভিজে গেছে।
তারপর শুরু হলো বৃষ্টি।
রক্তের বৃষ্টি।
প্রথমে মানুষ ভেবেছিল—চোখের ভুল। কিন্তু মাটিতে পড়তেই যখন বৃষ্টির ফোঁটাগুলো গাঢ় লাল হয়ে কাদার সঙ্গে মিশে গেল, তখন গ্রামে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
কেউ ঘরের দরজা বন্ধ করে ফেলে, কেউ সন্তানদের বুকে জড়িয়ে ধরে, আবার কেউ দিশেহারা হয়ে এদিক–ওদিক ছুটতে থাকে।
ঠিক তখনই—
গ্রামের মাঝখানের খোলা জায়গায় বাতাস ছিঁড়ে একটি কালো ছায়া নেমে আসে।
একজন মানুষ।
গায়ের পোশাক গাঢ় লাল আর কালো রঙের মিশ্রণ, বুকে খোদাই করা অদ্ভুত এক প্রতীক—রক্তের মতো দেখতে। তার চোখে কোনো আবেগ নেই, নেই করুণা—শুধু শীতল নিষ্ঠুরতা।
সে Bloody Demonic Academy-এর একজন উচ্চস্তরের Master
এই Academy-এর লোকেরা শক্তি অর্জনের জন্য নিষিদ্ধ ও বিকৃত পথ বেছে নেয়। মানুষের জীবন, রক্ত, যন্ত্রণা—সবই তাদের কাছে শক্তি বাড়ানোর উপকরণ মাত্র।
লোকটি এক পা সামনে বাড়াতেই মাটিতে সূক্ষ্ম ফাটল ধরে। বাতাস ভারী হয়ে ওঠে।
— “এই গ্রামটা আজ থেকে অস্তিত্বহীন”
বলেই লোকটি কণ্ঠে বিকৃত হাসি ছড়িয়ে দেয়।
একজন যুবক কাঁপা পায়ে সামনে এগিয়ে আসে।
— “আমরা সাধারণ মানুষ… আমাদের কী অপরাধ?”
কোনো উত্তর আসে না।
লোকটি শুধু হাত তোলে।
পরের মুহূর্তেই যুবকের শরীর বাতাসে ছিটকে গিয়ে দেয়ালে আছড়ে পড়ে। শব্দ হয়—তারপর নিস্তব্ধতা।
লোকটি ধীরে ধীরে গ্রাম জুড়ে হাঁটতে থাকে। প্রতিটি পদক্ষেপের সাথেই মৃত্যু নামে।
কেউ পালাতে চায়—অদৃশ্য শক্তিতে মাটিতে চেপে ধরা পড়ে।
কেউ মাটিতে লুটিয়ে পড়ে কাঁদে—একটি নিঃশব্দ আঘাতে প্রাণ হারায়।
মানুষের আর্তনাদে Fenji Village নরকে পরিণত হয়
মনোয়ারা বেগম তখনও শয্যাশায়ী। শরীর দুর্বল, শ্বাস নিতে কষ্ট হচ্ছে। বাইরে থেকে ভেসে আসা ভয়ংকর শব্দে তিনি কাঁপা গলায় ডাকলেন—
— “মাহবুব… বাইরে কী হচ্ছে?”
মাহবুব সাহেব দরজার সামনে দাঁড়িয়ে ছিলেন। তিনি সব বুঝতে পারছিলেন। দরজার ওপাশে মৃত্যু ঘুরে বেড়াচ্ছে।
তিনি ফিরে তাকালেন স্ত্রীর দিকে। চোখে ভয় নয়—গভীর বেদনা।
— “চাঁদবি এখানে নেই…”
তিনি ফিসফিস করে বললেন,
— “এইটাই একমাত্র সান্ত্বনা।”
দরজা ভেঙে গেল।
Bloody Demonic Sect-এর সেই Master ঘরে ঢুকে পড়ে। একবার চারপাশে তাকিয়ে তার দৃষ্টি গিয়ে থামে বিছানায় শুয়ে থাকা নারীর ওপর।
মাহবুব সাহেব স্ত্রীর সামনে দাঁড়িয়ে যান।
লোকটির চোখে কোনো পরিবর্তন আসে না।
একটি আঘাত।
মাহবুব সাহেব মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। নিঃশ্বাস থেমে যায়।
মনোয়ারা বেগম চিৎকার করার চেষ্টা করেন, কিন্তু কণ্ঠ ভেঙে যায়। চোখ দিয়ে শুধু জল গড়িয়ে পড়ে।
পরের মুহূর্তেই—সব শেষ।
ঘর আবার নিস্তব্ধ।
মাহবুব সাহেবের হাতের কাছে পড়ে থাকে একটি ভাঁজ করা চিঠি।
আর কিছুক্ষণের মধ্যেই—
Fenji Village নিঃশেষ হয়ে যায়।
রক্তের বৃষ্টি থামে।
চিৎকার থামে।
শুধু পড়ে থাকে ধ্বংসস্তূপের মাঝে একটি নিশ্চুপ গ্রাম…
Fenji Village সেদিন শেষ গিয়েছিল।
আর সেই সত্য থেকে অনেক দূরে—
Black Crow Forest-এর ভেতরে,
চাঁদবি তখনও জানত না, তার জীবন ঠিক কোন পথে ঢুকে পড়েছে।
চারপাশের ঝোপঝাড় ভেঙে একসাথে বেরিয়ে আসে Giant Monkey Beast-এর পুরো দল।
কেউ চার পায়ে দৌড়ে আসে, কেউ গাছ বেয়ে লাফিয়ে নামছে। ভারী শরীর মাটিতে পড়তেই চারদিক কেঁপে ওঠে।
নাইদ এক পা সামনে দেয়।
— “ডান দিকটা আমি সামলাচ্ছি।”
আলো মাথা নেড়ে বাঁ দিকে ঘুরে দাঁড়ায়। তার শরীরের চারপাশে আগুনের তাপ ধীরে ধীরে ছড়িয়ে পড়ে।
প্রথম Beast লাফিয়ে আক্রমণ করতেই আলো হাত ঝাঁকায়। আগুনের ঢেউ গিয়ে আছড়ে পড়ে Beast-এর গায়ে। তার শরীর জ্বলে উঠে, আর সে গর্জন করতে করতে মাটিতে পড়ে যায়।
একই সময়ে নাইদ দু’হাত মেলে ধরে। তার আঙুলের ফাঁক দিয়ে নীলচে বিদ্যুৎ কাঁপতে থাকে। সে সামনে ছুটে গিয়ে এক Beast-এর বুকে বিদ্যুৎ ঠেকিয়ে দেয়। বিদ্যুৎ শরীরের ভেতর দিয়ে ছড়িয়ে পড়তেই Beast শক্ত হয়ে যায়, তারপর নিস্তেজ হয়ে পড়ে।
কিন্তু দল থামে না।
একসাথে তিনটা Beast নাইদের দিকে ঝাঁপিয়ে আসে। নাইদ মাটিতে পা ঠুকে বিদ্যুৎ ছড়িয়ে দেয়। বিদ্যুতের ঢেউ মাটি বেয়ে ছড়িয়ে পড়ে, তিনটাকেই একসাথে ছিটকে দেয়।
ঠিক তখনই মাটি ভারী শব্দে কেঁপে ওঠে।
দলের প্রধান Beast সামনে এগিয়ে আসে।
ওটা অন্যদের চেয়ে অনেক বড়। তার গায়ের চামড়া পাথরের মতো শক্ত, লোমের নিচে পেশি ফুলে আছে। চোখ দুটো লালচে, ঠান্ডা আর নিষ্ঠুর।
আলো আগুন ছুড়ে মারে।
আগুন Beast-এর গায়ে আঘাত করে—কিন্তু সে আগুন তার চামড়া ভেদ করতে পারছে না।
নাইদ বিদ্যুৎ দিয়ে সরাসরি ঘা মারে। বিদ্যুৎ গায়ের ওপর দিয়ে ছড়িয়ে পড়ে, কিন্তু Beast গর্জন করে দাঁড়িয়ে থাকে।
— “Earth 2rd Stage…” নাইদ ধীরে বলে।
প্রধান Beast হঠাৎ পাশ কাটিয়ে দৌড়ে যায়—সোজা চাঁদবির দিকে।
চাঁদবির শরীর জমে যায়। পা নড়ছে না।
নাইদ চোখের পলকে সামনে এসে পড়ে। তার হাত থেকে বিদ্যুৎ ছুটে গিয়ে Beast-এর থাবায় আঘাত করে। আঘাতে Beast থেমে যায়, চাঁদবি পিছনে ছিটকে পড়ে।
— “পিছনে থাক!” নাইদ গর্জে ওঠে।
এদিকে আলো পুরো শক্তি ছাড়ে। আগুন এবার শুধু আঘাত করছে না, Beast-এর চারপাশে ঘুরে তাকে আটকে ফেলছে। আগুনে মোড়া অবস্থাতেই নাইদ সামনে গিয়ে একের পর এক বিদ্যুতের ঘা বসাতে থাকে।
Beast গর্জন করতে করতে মাটিতে আছড়ে পড়ে। চামড়া ফেটে যায়, শরীর ভারী হয়ে আসে।
শেষ আঘাতে Beast আর উঠতে পারে না।
বাকি Beast-রা এক মুহূর্ত থেমে যায়। আলো আর নাইদ দুজনেই সামনে দাঁড়িয়ে—একজন আগুনে ঘেরা, আরেকজন বিদ্যুতের ঝলক ছড়াচ্ছে।
এক এক করে বাকি Beast-রা পিছু হটে যায়।
চারপাশে আবার নীরবতা নামে।
চাঁদবি হাঁপাতে হাঁপাতে দাঁড়িয়ে থাকে।
চারপাশে ধীরে ধীরে নিস্তব্ধতা নেমে আসে।
ভাঙা ঝোপঝাড়, ক্ষতবিক্ষত মাটি আর Beast-এর নিথর দেহ—সব মিলিয়ে জায়গাটা যেন যুদ্ধের স্মৃতিচিহ্ন হয়ে দাঁড়িয়ে থাকে।
চাঁদবি কিছুক্ষণ চুপ করে দাঁড়িয়ে থাকে।
তার দৃষ্টি গিয়ে পড়ে আলো আর নাইদের ওপর।
এক মুহূর্তের জন্য তার বুকের ভেতর অদ্ভুত একটা ভাব জাগে।
সে যদি ওদের মতো হতো?
তারপর সে আলো আর নাইদের দিকে তাকায়।
কণ্ঠে এবার স্পষ্ট তাড়াহুড়ো।
— “Black Dinjin Flower… সেটা আমি কোথায় পাব?”
নাইদ চারপাশের জঙ্গলের দিকে একবার তাকায়। গাছপালার ভিড়, অচেনা পথ।
— “নির্দিষ্ট কোনো জায়গা নেই। খুঁজলে পাওয়া যাবে” সে শান্ত স্বরে বলে।
চাঁদবির বুকটা একটু হালকা হয়।
তারপর সে আবার প্রশ্ন করে—
— “তোমরা এখানে কেন এসেছ?”
আলো সামান্য হেসে উত্তর দেয়—
— “আমরা Sunmoon Academy থেকে এসেছি।”
— “কিছুদিন আগে আমাদের শক্তির স্তরে পরিবর্তন এসেছে। তাই নিজেদের সামর্থ্য পরীক্ষা করার জন্য এখানে আসা।”
আলো একটু গর্বের সাথেই বলে—
— “আমি Earth 2nd Stage থেকে Earth 3rd Stage-এ পৌঁছেছি”
নাইদ শান্তভাবে যোগ করে—
— “আর আমি Earth 3rd Stage ছেড়ে Rougen 1st Stage-এ প্রবেশ করেছি।”
চাঁদবি চুপ করে শুনতে থাকে।
এই সব স্তরের মানে সে বোঝে না।
কথা বলতে বলতে তারা জঙ্গলের আরও ভেতরের দিকে এগোয়।
গাছগুলো আরও ঘন হয়ে ওঠে।
একসময় তারা একটি গুহার সামনে এসে দাঁড়ায়।
ভেতরটা শুষ্ক, আশপাশ তুলনামূলকভাবে নিরাপদ।
আলো বলে—
— “আজ রাতটা এখানেই কাটানো যায়।”
নাইদ চারপাশটা ভালো করে দেখে নেয়। তারপর বলে—
— “ঠিক আছে। এর বেশি গভীরে যাওয়া ঠিক হবে না।”
একটু থেমে সে যোগ করে—
— “আরও ভেতরে গেলে Rougen 1st Stage, এমনকি 2nd Stage-এর Beast থাকার সম্ভাবনা আছে। ওদের সঙ্গে মুখোমুখি হওয়া আমাদের পক্ষে ঠিক হবে না”
তারপর নাইদ চাঁদবির দিকে তাকায়।
— “কাল সকালে আমরা Black Dinjin Flower খুঁজতে বের হবো,” সে বলে।
— “পেয়ে গেলে আর দেরি করব না, ফিরে যাবো।”
তারা সিদ্ধান্ত নেয়—রাতের বেলা আলো আর নাইদ পালা করে গুহার বাইরে পাহারা দেবে, যাতে কোনো বিপদ এলে সঙ্গে সঙ্গে বোঝা যায়।
রাত আরও গভীর হয়।
জঙ্গলের ভেতর থেকে অচেনা শব্দ ভেসে আসে।
গুহার ভেতর আগুনের ক্ষীণ আলো টিমটিম করতে থাকে
একসময় চাঁদবির চোখ বন্ধ হয়ে আসে।
ঠিক তখনই—
ঘুমের মধ্যে সে স্পষ্ট শুনতে পায়,
কেউ যেন খুব কাছে থেকে তার নাম ধরে ডাকছে।
চাঁদবির চোখ হঠাৎ খুলে যায়।
চলবে…