Posts

উপন্যাস

কুয়াশার পেছনে ( Part 4 )

June 22, 2026

Yaxisus Storyverse

Original Author Yaxisus Storyverse

7
View

#কুয়াশার_পেছনে

Author: #Yaxisus_Storyverse

Part 4

গুহার ভেতর আগুনের ক্ষীণ আলো টিমটিম করতে থাকে

একসময় চাঁদবির চোখ বন্ধ হয়ে আসে।

ঠিক তখনই— ঘুমের মধ্যে সে স্পষ্ট শুনতে পায়, কেউ যেন খুব কাছে থেকে তার নাম ধরে ডাকছে।

হঠাৎ—

একটি ক্ষীণ কণ্ঠস্বর তার কানে ভেসে এলো।

— “চাঁদবি…”

সে নড়েচড়ে উঠল।

চোখ খুলে চারদিকে তাকাল।

আলো তখনো গভীর ঘুমে। তার নিঃশ্বাস ধীর, মুখে কোনো অস্থিরতা নেই।

চাঁদবি মনে মনে ভাবল,

“বোধহয় স্বপ্ন…”

সে আবার চোখ বন্ধ করল।

কিন্তু কিছুক্ষণ পর আবার সেই কণ্ঠস্বর—

— “চাঁদবি…”

এবার কণ্ঠস্বর আরও স্পষ্ট।

চাঁদবির বুকের ভেতর অদ্ভুত একটা শীতলতা ছড়িয়ে পড়ল।

সে ধীরে উঠে বসল।

চারদিকে তাকিয়ে দেখল—গুহার ভেতরে কেউ নেই।

আলো ঘুমিয়ে আছে, আগুন শান্তভাবে জ্বলছে।

কিন্তু সেই ডাক থামেনি।

এবার সে বুঝতে পারল—

এটা মনের ভুল নয়।

চাঁদবি ধীরে ধীরে দাঁড়িয়ে পড়ল।

সে খুব সাবধানে গুহার ভেতর এগোতে লাগল।

ডাকের উৎস যেন গুহার একেবারে গভীর দিক থেকে আসছে।

হাঁটতে হাঁটতে সে একসময় এসে দাঁড়াল গুহার একটি পুরোনো, অস্বাভাবিক দেয়ালের সামনে।

দেয়ালটা অন্য জায়গার তুলনায় একটু আলাদা—

পাথরের রঙ গাঢ়, ফাটলগুলো অদ্ভুতভাবে জড়ানো

চাঁদবির বুক ধুকপুক করতে লাগল।

সে অনুভব করল—

দেয়ালের ওপাশে কেউ আছে।

অজান্তেই তার হাত উঠে গেল।

দেয়ালে হাত রাখতেই—

হঠাৎ করে চারপাশের বাতাস কেঁপে উঠল।

পাথরের ভেতর থেকে যেন কোনো শক্তি জেগে উঠল।

পরের মুহূর্তেই—

এক অদৃশ্য শক্তি তাকে টেনে নিল।

চাঁদবি চিৎকার করার সুযোগও পেল না।

সবকিছু অন্ধকার হয়ে গেল।

চাঁদবি যখন চোখ খুলল, তখন সে আর আগের গুহায় নেই।

চারদিকে অচেনা পরিবেশ।

একটি বিশাল গুহা—কিন্তু এই গুহার দেয়ালগুলো যেন জীবন্ত।

পাথরের গায়ে অদ্ভুত চিহ্ন খোদাই করা, বাতাস ভারী, নিঃশ্বাস নিতে কষ্ট হচ্ছে।

সে পিছনে তাকাল।

কিন্তু পিছনে যাওয়ার কোনো পথ নেই।

দেয়াল সম্পূর্ণ বন্ধ।

চাঁদবির বুক কেঁপে উঠল।

তার সামনে শুধু একটাই পথ—

সে ধীরে ধীরে সামনে এগোল।

কিছুদূর যাওয়ার পর হঠাৎ সে থমকে দাঁড়াল।

সামনে—

একটি কঙ্কাল পড়ে আছে।

কঙ্কালটি বসার ভঙ্গিতে হেলান দিয়ে আছে, যেন কোনোদিন কোনো মানুষ সেখানে বসে ছিল।

কিন্তু শরীরে কোনো মাংস নেই—শুধু শুকনো হাড়।

চাঁদবির শরীর ঠান্ডা হয়ে গেল।

ঠিক তখনই—

কঙ্কালের বুকের ভেতর থেকে কালো ধোঁয়ার মতো কিছু বেরিয়ে এলো।

ধীরে ধীরে সেই ধোঁয়া ঘনীভূত হয়ে একটি ছায়ার আকার নিল।

ছায়াটির কোনো নির্দিষ্ট মুখ নেই, কিন্তু চোখের জায়গায় দুটি লাল আলো জ্বলছে।

ছায়াটি ফিসফিস করে হাসল।

— “শেষ পর্যন্ত কেউ এলো…”

চাঁদবি পেছনে সরে গেল।

তার কণ্ঠ বেরোতে চাইল, কিন্তু শব্দ এল না।

ছায়াটি আরও কাছে এগিয়ে এল।

— “দুই শত বছর… আমি অপেক্ষা করেছি…”

তার কণ্ঠে ছিল বিকৃত আনন্দ।

— “শেষ পর্যন্ত আমার মুক্তির সময় এসেছে…”

চাঁদবি বুঝতে পারল—

এই ছায়াটি ভয়ানক কিছু।

ঠিক সেই সময়, গুহার বাইরে—

নাইদ পাহারা দিচ্ছিল।

হঠাৎ—

তার ভেতর দিয়ে বিদ্যুতের মতো একটা অনুভূতি বয়ে গেল।

তার চারপাশের বাতাস বদলে গেছে।

সে অনুভব করল—

কিছু একটা আসছে।

আর সেটা সাধারণ কিছু নয়।

নাইদের চোখ সংকুচিত হলো।

সে বুঝতে পারল—

এই শক্তি তাদের চেয়ে অনেক বেশি।

সে আর দেরি করল না।

দৌড়ে গুহার ভেতরে ঢুকে পড়ল।

— “আলো!”

তার কণ্ঠ এবার আগের মতো শান্ত নয়।

আলো চোখ খুলে বসে পড়ল।

— “কী হয়েছে?”

নাইদ দ্রুত বলল—

— “কিছু একটা আসছে… খুব শক্তিশালী।”

ঠিক তখনই আলো চারদিকে তাকাল।

— “চাঁদবি কোথায়?”

নাইদের বুক ধক করে উঠল।

সে দ্রুত চারপাশে তাকাল।

চাঁদবি নেই।

নাইদ ধীরে বলল—

— “আমি বাইরে ছিলাম… চাঁদবিকে বের হতে দেখিনি।”

আলো আর নাইদ দুজনেই বুঝে গেল—

কিছু একটা ভুল হয়েছে।

ঠিক তখনই—

গুহার বাইরে থেকে ভয়ংকর শক্তির ঢেউ অনুভূত হলো।

মাটি কেঁপে উঠল।

দূর থেকে ভারী পায়ের শব্দ আসতে লাগল।

তারপর—

একটি বিশাল আকৃতির Beast জঙ্গল থেকে বেরিয়ে এলো।

তার শরীর গাছের বাকলের মতো শক্ত।

চামড়া মোটা, শিরা ফুলে আছে।

চোখ দুটো সবুজ আলোয় জ্বলছে।

তার শরীরের চারপাশে অদ্ভুত সবুজ শক্তি ঘুরছে—

Wood Element।

Beast-এর চোখ পড়ে গেল গুহার সামনে বাঁধা ঘোড়ার ওপর।

ঘোড়াটি অস্থির হয়ে উঠল।

Beast ধীরে ধীরে এগিয়ে গেল।

তার থাবা উঠল।

ঠিক তখনই—

নাইদ আর আলো গুহা থেকে বেরিয়ে এল।

Beast মাথা ঘুরিয়ে তাকাল।

তার চোখে কোনো ভয় নেই—

শুধু শিকারি দৃষ্টিভঙ্গি।

নাইদের চোখ সংকুচিত হয়ে গেল। সে Beast-এর শরীর থেকে ছড়িয়ে পড়া শক্তি অনুভব করে বুঝে গেল—

“Rougen 2nd Stage…”

অন্যদিকে—

চাঁদবি তখনো সেই অজানা গুহায় দাঁড়িয়ে আছে।

ছায়াটি ধীরে ধীরে তার দিকে এগিয়ে আসছে।

— “ভয় পেয়েছ?”

ছায়াটি হাসল।

— “ভয় পাওয়ারই কথা। আমি একসময় Sinjo Creation 1st Stage-এর Demon ছিলাম।”

ছায়াটি বলতে লাগল—

— “দুই শত বছর আগে… আমি মানুষ হত্যা করতাম, শহর ধ্বংস করতাম। আমার শক্তির সামনে কেউ দাঁড়াতে পারত না।”

তার কণ্ঠে অহংকার।

— “কিন্তু একদিন… রাইদো দাফিন নামে এক মানুষ আমাকে পরাজিত করে।”

ছায়াটি একটু থেমে গেল।

— “আমার শরীর ধ্বংস হয়, কিন্তু আত্মা রয়ে যায়।”

তার চোখে হিংস্র আলো জ্বলে উঠল।

— “দুই শত বছর ধরে আমি অপেক্ষা করেছি… এমন একটি শরীরের জন্য, যেটা আমি দখল করতে পারি।”

তারপর সে চাঁদবির দিকে তাকাল।

— “আর এখন… তুমি এখানে।”

পরের মুহূর্তেই ছায়াটি ঝাঁপিয়ে পড়ল।

চাঁদবি চিৎকার করতে চাইল।

কিন্তু দেরি হয়ে গেছে।

ছায়াটি তার শরীরের ভেতরে ঢুকে গেল।

হঠাৎ সবকিছু বদলে গেল।

চাঁদবি অনুভব করল—

চারদিকে অদ্ভুত আলো।

এটা যেন আরেকটা দুনিয়া।

ছায়াটি চারদিকে তাকিয়ে অবাক হয়ে গেল।

— “এটা কী?”

তার কণ্ঠে বিস্ময়।

সে বুঝতে পারল—

চাঁদবির শরীর সাধারণ নয়।

হঠাৎ তার চোখ পড়ল সামনে।

একটি মেয়ে—

শান্তভাবে ঘুমিয়ে আছে।

তার চারপাশে অদ্ভুত সিলমোহরের মতো শক্তি ঘিরে আছে।

ছায়াটি ফিসফিস করল—

— “এই Soul… এখানে কেন?”

ঠিক তখনই—

মেয়েটির চোখ খুলে গেল।

পরের মুহূর্তেই—

তার শরীর থেকে ভয়ংকর শক্তি বিস্ফোরিত হলো।

ছায়াটি পিছিয়ে গেল।

তার কণ্ঠ কেঁপে উঠল—

— “অসম্ভব…”

মেয়েটি ধীরে উঠে দাঁড়াল।

তার চোখে কোনো ভয় নেই—

শুধু ঠান্ডা দৃঢ়তা।

— “তোর সাহস তো কম না…”

পরের মুহূর্তেই—

এক ঝলকে সে ছায়াটির সামনে চলে গেল।

তার হাত উঠল।

একটি অদৃশ্য আঘাত।

ছায়াটি চিৎকার করার সুযোগও পেল না।

এক মুহূর্তেই—

সে ধ্বংস হয়ে গেল।

মেয়েটি ধীরে বলল—

— “শেষ পর্যন্ত আমার সিল ভাঙল…”

তারপর সে চাঁদবির দিকে তাকাল।

— “চাঁদবি দাফিন…”

চাঁদবি কিছু বুঝে ওঠার আগেই—

সবকিছু অন্ধকার হয়ে গেল।

চাঁদবি হঠাৎ চোখ খুলল।

সে আবার আগের জায়গায়।

গুহার ভেতরে।

তার মাথা ঘুরছে।

ঠিক তখনই—

বাইর থেকে ভয়ংকর শব্দ আসতে লাগল।

সে দৌড়ে গুহার বাইরে বেরিয়ে এল।

যা দেখল, তা দেখে তার শরীর ঠান্ডা হয়ে গেল।

গুহার সামনে—

নাইদ আর আলো Beast-এর সামনে দাঁড়িয়ে আছে।

Beast গর্জন করছে।

তার শরীর থেকে সবুজ শক্তির ঢেউ বের হচ্ছে।

হঠাৎ Beast মাটি আঘাত করল।

মাটি ফেটে গাছের শিকড় বেরিয়ে এলো।

শিকড়গুলো সাপের মতো এগিয়ে গেল নাইদের দিকে।

নাইদ লাফিয়ে সরে গেল।

তার হাত থেকে বিদ্যুৎ বেরিয়ে এল।

বিদ্যুৎ আঘাত করল শিকড়ে।

শিকড়গুলো পুড়ে গেল।

কিন্তু Beast থামল না।

সে বিশাল থাবা দিয়ে আঘাত করল।

আলো আগুন ছুড়ে দিল।

আগুন আর গাছের শক্তি মুখোমুখি সংঘর্ষে বিস্ফোরণ ঘটল।

বাতাস কেঁপে উঠল।

Beast গর্জন করে সামনে এগিয়ে এল।

তার আঘাতে মাটি ভেঙে যাচ্ছে।

নাইদ বিদ্যুৎ দিয়ে আঘাত করছে, আলো আগুন দিয়ে প্রতিরোধ করছে।

কিন্তু Beast-এর শক্তি বেশি।

এক আঘাতে নাইদ ছিটকে গেল।

তার শরীর গাছের গুঁড়িতে আছড়ে পড়ল।

আলো সামনে দাঁড়াল।

তার চোখে আগুনের আলো।

সে পুরো শক্তি ছাড়ল।

আগুনের বিশাল ঢেউ Beast-এর দিকে ছুটে গেল।

কিন্তু Beast তার শরীর ঘুরিয়ে আঘাত করল।

আগুন ছিন্নভিন্ন হয়ে গেল।

Beast এবার আলোর দিকে ঝাঁপিয়ে পড়ল।

তার থাবা উঠল।

মুহূর্তের মধ্যেই—

চলবে…

Comments