Posts

গল্প

"স্বামী" প্রথম পরিচ্ছেদ

June 23, 2026

Rezwana Roji

Original Author শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়

Translated by রেজওয়ানা প্রধান

31
View

সৌদামিনী নামটা আমার বাবার দেওয়া। আমি প্রায়ই ভাবি আমাকে এক বছরের বেশি তো তিনি চোখে দেখে যেতে পাননি, তবে এমন করে আমার ভিতরে বাহিরে মিলিয়ে নাম রেখে গিয়েছিলেন কি করে ? বীজ মন্ত্রের মত এই একটি কথায় আমার সমস্ত ভবিষ্যৎ জীবনের ইতিহাসটাই যেন বাবা ব্যক্ত করে গেছেন। 

রূপ ?তা আছে মানি, কিন্তু নাগো না এ আমার দেমাক নয়, দেমাক নয় । বুক চিরে দেখান যায় না নইলে এই মুহূর্তেই দেখিয়ে দিতাম রূপ নিয়ে গৌরব করবার আমার আর বাকি কিছুই নেই, একেবারে কিছু নেই। আঠারো উনিশ? হ্যাঁ তাই বটে। আমার বয়স উনিশ বছর ।বাহিরের দেহটা আমার তার বেশি প্রাচীন হতে পায়নি । কিন্তু এই বুকের ভেতরটায়? এখানে যে বুড়ি তার উনআশি বছরের শুকনো হাড়- গোড় নিয়ে বসে আছে তাকে দেখতে পাচ্ছ না ? পেলে এতক্ষন ভয়ে আতকে উঠতে। 

একলা ঘরের মধ্যে হলেও তো আজও আমার লজ্জায় মরতে ইচ্ছে করে ! তবে এ কলঙ্কের কালি কাগজের উপর ঢেলে দেবার আমার কি আবশ্যক ছিল ! সমস্ত লজ্জার মাথা খেয়ে সেইটাই তো আজ আমাকে বলতে হবে নইলে আমার মুক্তি হবে কিসে?


 

সব মেয়ের মত আমিও তো আমার স্বামীকে বিয়ের মন্তরের ভেতর দিয়েই পেয়েছিলুম তবু কেন তাতে আমার মন উঠলো না। তাই যে দামটা আমাকে দিতে হলো আমার অতি বড় শত্রুর জন্যেও তা একদিনের জন্যেও কামনা করিনে।

কিন্তু দাম আমাকে দিতে হলো ।  যিনি সমস্ত পাপ -পুণ্য , লাভ- ক্ষতি ন্যায় - অন্যায়ের মালিক তিনি আমাকে এক বিন্দু রেহাই দিলেন না । করায় ক্রান্তিতে আদায় করে সর্বশ্রান্ত করে যখন আমাকে পথে বার করে দিলেন ,লজ্জা শরমের আর যখন কোথাও কিছু অবশিষ্ট রাখলেন না তখনই শুধু দেখিয়ে দিলেন ওরে সর্বনাশী, এ তুই করছিস কি? স্বামী যে তোর আত্মা।

তাকে ছেড়ে তুই যাবি কোথায় ?একদিন না একদিন তোর ওই শূন্য বুকের মধ্যে তাকে যে তোর পেতেই হবে। এ জন্মে হোক, আগামী জন্মে হোক, কোটি জন্ম পরেই হোক , তাকে যে তোর চাই ই । তুই যে তারই ।

জানি, যা হারিয়েছি তার অনন্ত গুণ আজ ফিরে পেয়েছি। কিন্তু তবু যে একথা কিছুতেই ভুলতে পারিনে, এটা আমার নারী দেহ। আজ আমার আনন্দ রাখবারও জায়গা নেই, কিন্তু ব্যাথা রাখবারও যে ঠাঁই দেখি না প্রভু। 

এ দেহের প্রত্যেক অনু-পরমানু যে আহোরাত্র কাঁপছে, ওরে অস্পৃশ্যা, ওরে পতিতা ,আমাদের আর বেঁধে পোড়াস নে, আমাদের ছুটি দে, আমরা একবার মরে বাঁচি।

 কিন্তু থাক সে কথা।

বাবা মারা গেলেন এক বছরের মেয়ে নিয়ে মা বাপের বাড়ি চলে এলেন। মামার ছেলে পিলে ছিল না তাই গরিবের ঘর হলেও আমার আদর যত্নের কোন ত্রুটি হলো না ।বড় বয়স পর্যন্ত তার কাছে বসে ইংরেজি বাংলা কত বই না আমি পড়েছিলুম।


 

কিন্তু মামা ছিলেন ঘোর নাস্তিক। ঠাকুর-দেবতা কিছুই মানতেন না ,বাড়িতে একটা পূজা অর্চনা কি বার ব্রতও কোনদিন হতে দেখিনি, এসব তিনি দুচোক্ষে দেখতে পারতেন না।

নাস্তিক বৈকি? মামা মুখে বলতেন বটে তিনি Agnostic, কিন্তু সেও তো একটা মস্ত ফাঁকি! 

কথাটা যিনি প্রথম আবিষ্কার করেছিলেন তিনি তো শুধু লোকের চোখে ধুলো দেবার জন্যই নিজেদের আগাগোড়া ফাঁকির পিছনে একটা আকাশ-পাতাল জোড়া ফাঁকি জুড়ে দিয়ে আত্মরক্ষা করেছিলেন। কিন্তু তখন কি ছাই এসব বুঝেছিলুম? আসল কথা হচ্ছে সূর্যের চেয়ে বালির তাতেই গায়ে বেশি ফসকা পড়ে । আমার মামার ও হয়েছিল ঠিক সেই দশা।

শুধু আমার মামা বোধ করি যেন লুকিয়ে বসে কিসব করতেন সে কিন্তু আমি ছাড়া আর কেউ জানতে পেত না তা মা যা খুশি করুন আমি কিন্তু মামার বিদ্ধে ষোল আনার জায়গায় ১৮ আনা শিখে নিয়েছিলুম।

আমার বেশ মনে পড়ে দোরগোড়ায় সাধু সন্ন্যাসীরা এসে দাঁড়ালে তিনি তাদের সঙ্গে এমনি ঠাট্টা শুরু করে দিতেন যে বেচারারা পালাবার পথ পেতো না ।আমি হেসে হাততালি দিয়ে গড়িয়ে লুটিয়ে পড়তাম এমনি করেই আমাদের দিন কাটছিল। 

শুধু মা এক একদিন ভারী গোল বাধাতেন । মুখ ভারী করে এসে বলতেন দাদা সদুর তো দিন দিন বয়স হচ্ছে এখন থেকে একটু খোঁজাখুঁজি না করলে,, সময়ে বিয়ে দেবে কি করে?

মামা আশ্চর্য হয়ে বলতেন বলিস কি গিরি, তোর মেয়ে তো এখনো ১২ পেরো নি এর মধ্যেই তোর - ,সাহেবদের মেয়েরা তো এ বয়সে-

মা কাঁদো কাঁদো গলায় জবাব দিতেন, সাহেবদের কথা কেন তুলছো দাদা আমরা তো সত্যি আর সাহেব নাই ! ঠাকুর দেবতা না মানো তারা কিছু আর ঝগড়া করতে আসছেন না, কিন্তু পাড়াগাঁয়ের সমাজ তো আছে তাকে উড়িয়ে দেবে কি করে?

মামা হেসে বলতেন ভাবিসনে বোন সে সব আমি জানি ,এ যেমন তোকে হেসে উড়িয়ে দিচ্ছি ঠিক এমনি করে আমাদের নাচ্ছার সমাজটাকেও হেসে উড়িয়ে দেব।

            মা মুখ ভার করে বিড়বিড় করে বকতে বকতে উঠে যেতেন । মামা গ্রাহ্য করতেন না বটে কিন্তু মামার ভারি ভয় হত কেমন করে যেন বুঝতে পারতুম ,মামা যাই বলুন মার কাছ থেকে আমাকে তিনি রক্ষা করতে পারবেন না।

   কেন যে বিয়ের কথায় ভয় হতে শুরু হয়েছিল তা বলছি আমাদের পশ্চিম- পাড়ার বুক চিরে যে নালাটা গ্রামের সমস্ত বর্ষার জল নদীতে ঢেলে দিত ,তার দুপারে যে দু ঘরের বাস ছিল তার এক ঘর আমরা অন্য ঘর গ্রামের জমিদার বিপিন মজুমদারের ।এই মজুমদার বংশ যেমন ধনী তেমনি দুর্দান্ত গায়ের ভেতরে - বাইরে এদের প্রতাপের সীমা ছিল না ,নরেন ছিল এই বংশের একমাত্র বংশধর।

   আজ এত বড় মিথ্যেটা মুখে আনতে আমার যে কি হচ্ছে সে আমার অন্তর্যামী ছাড়া আর কে জানবে বলো , কিন্তু তখন ভেবেছিলুম এ বুঝি সত্যিই একটা জিনিস সত্যিই বুঝি নরেন কে ভালোবাসি।

             কবে যে এই মোহটা প্রথম জন্ম ছিল সে আমি বলতে পারিনা। সে কলকাতায় বি, এ  পড়তো কিন্তু ছুটির সময় বাড়ি এলে মামার সঙ্গে ফিলোজফি আলোচনা করতে প্রায়ই আসতো। তখনকার দিনে Agnosticism- ই ছিল বোধ করি লেখাপড়া জানাদের ফ্যাশন।  এ নিয়েই বেশিরভাগ তর্ক হতো কত দিন মামা তার গৌরব দেখাবার জন্য নরেন বাবুর তর্কের জবাব দিতে আমাকে ডেকে পাঠাতেন, কতদিন সন্ধ্যা ছাড়িয়ে রাত্রি হয়ে যেত, দুজনের তর্কের কোন মীমাংসা হতো না কিন্তু আমি প্রায়ই জিততাম ,তার কারণ আজ আর আমার অবিদিত নেই।

মাঝে মাঝে সে হঠাৎ তর্কের মাঝখানে ভঙ্গ দিয়ে, মামার মুখ পানে চেয়ে গভীর বিষয়ে বলে উঠতো ,আচ্ছা ব্রজবাবু এ বয়সে এত বড় লজিকের জ্ঞান তর্ক করবার এমন একটা আশ্চর্য ক্ষমতা কি আপনি একটা ফিনোমিনন বলে মনে করেন না?


 

আমি গর্বে সৌভাগ্যে ঘাড় হেট করতুম ওরে হতভাগী সেদিন ঘারটা তোর চিরকালের মত একেবারে ভেঙে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে নি কেন?

 মামা উচ্চ অঙ্গের একটু হাস্য করে বলতেন কি যেন নরেনে শুধু শেখাবার ক্যাপাসিটি।

কিন্তু তরকা তর্ক আমার তত ভালো লাগতো না যত ভালো লাগত তার মুখের মনটিক্রিস্টোর গল্প। কিন্তু গল্প আর শেষ হতে চাইত না আমার অধৈর্যেরও আর সীমা পাওয়া যায় না , সকালে ঘুম ভেঙ্গে পর্যন্ত সারাদিন একশ'বার মনে করতুম কখন বেলা পড়বে কখন নরেন বাবু আসবে।

এমনি তর্ক করে আর গল্প শুনে আমার বিয়ের বয়স বার ছাড়িয়ে তেরোর শেষে গড়িয়ে গেল কিন্তু বিয়ে আমার হলো না।

     তখন বর্ষার নবযৌবনের দিনে মজুমদারদের বাগানের একটা মস্ত বকুল গাছের তলা ঝরা ফুলে ফুলে একেবারে বোঝায় হয়ে যেত । আমাদের বাগানের ধারের সেই নালাটা পার হয়ে আমি রোজ গিয়ে কুড়িয়ে আনতুম । সেদিন বিকালেও মাথার উপর গাঢ় মেঘ উপেক্ষা করেই দ্রুত পদে যাচ্ছি, মা দেখতে পেয়ে বললেন ওলো ছুটে তো যাচ্ছিস জল যে এল বলে।

আমি বললুম জল এখন আসবে নামাজ ছুটে গিয়ে দুটো কুড়িয়ে আনি।

    মা বললেন ১৫ মিনিটের মধ্যে বৃষ্টি নামবে সদু, কথা শোন- যাসনে।

এই অবেলায় ভিজে গেলে ওই চুলের বোঝা আর শুকোবে না তা বলে দিচ্চি।

   আমি বললুম তোমার দুটি পায়ে পরি মা যাই। বৃষ্টি এসে পড়লে মালিদের ওই চালাটার মধ্যে গিয়ে দাঁড়াবো। বলতে বলতে ছুটে পালিয়ে গেলুম। মায়ের আমি একটি মেয়ে দুঃখ দিতে আমাকে কিছুতেই পারতেন না । ছেলেবেলা থেকেই ফুল যে কত ভালোবাসি সে তো তিনি নিজেও জানতেন, তাই চুপ করে রইলেন কতদিন ভাবি সেদিন যদি হতভাগীর চুলের মুঠি ধরে টেনে আনতেন মা, এমন করে হয়তো তোমার মুখ পোড়াতুম না।

     বকুল ফুলে কোচর প্রায় ভর্তি হয়ে এসেছে এমন সময় মা যা বললেন তাই হল ঝমঝম করে বৃষ্টি এলো ছুটে গিয়ে মালিদের চালার মধ্যে ঢুকে পড়ল কেউ নেই খুঁটি ঠেস দিয়ে দাঁড়িয়ে মেঘের পানে চেয়ে ভাবছি ঝমঝম করে ছুটে এসে কে ঢুকে পড়ল মুখ ফিরিয়ে চেয়ে দেখে তিনি যে বাড়ি এসেছেন কই সে তো আমি শুনিনি আমাকে দেখে চমকে উঠে বললেন অ্যা সদু যে 

 এখানে?

অনেকদিন তাকে দেখিনি অনেকদিন তার গলা শুনিনি আমার বুকের মধ্যে যেন আনন্দের ঢেউ বয়ে গেল কান পর্যন্ত লজ্জায় রাঙ্গা হয়ে উঠলো মুখে পানে চেয়ে তো জবাব দিতে পারলুম না মাটির দিকে চেয়ে বললুম আমিতো রোজই ফুল কুড়াতে আসি কবে এলেন?

নরেন মালিদের একটা ভাঙা খাটিয়া টেনে নিয়ে বসে বললে আজ সকালে কিন্তু তুমি কার হুকুমে ফুল চুরি কর শুনি? 

গম্ভীর গলায় আশ্চর্য হয়ে হঠাৎ মুখ তুলে দেখি চোখ দুটো তার চাপা হাসিতে নাচচে ।

লজ্জা! লজ্জা!

এই পড়ার মুখে ও কোথা থেকে হাসি এসে পরল বললুম তাই বৈ কি! কষ্ট করে কুড়িয়ে নিলে বুঝি চুরি করা হয়?

নরেন ফাঁস করে দাঁড়িয়ে উঠে বললে আর আমি যদি ওই কুরআন ও ফুলগুলো তোমার কোচরের ভেতর থেকে আর একবার কুড়িয়ে নেই তাকে কি বলে? 

জানিনে, কেন আমার ভয় হল সত্যিই যেন এইবার সে এসে আমার আঁচল চেপে ধরবে । হাতের মুঠো আমার আলগা হয়ে গিয়ে চোখের পলকে সমস্ত ফুল ঝপ করে মাটিতে পড়ে গেল। 

ও কি করলে? 

আমি কোন মতে আপনাকে সামলে নিয়ে বললুম , আপনাদেরই তো ফুল বেশ তো নিন না কুড়িয়ে।

এ্যা !এত অভিমান! বলেছে উঠে এসে আমার আঁচল টা টেনে নিয়ে ফুল কুড়িয়ে রাখতে লাগলো, কেন জানিনা হঠাৎ আমার দু চোখ জলে ভরে গেল , আমি জোর করে মুখ ফিরিয়ে আর এক দিকে চেয়ে রইলুম।

সমস্ত ফুলগুলি কুড়িয়ে আমার আঁচলে একটা গেঁড়ো দিয়ে নরেন তার জায়গায় ফিরে গেল। খানিকক্ষণ আমার পানে চুপ করে চেয়ে থেকে বললে যে ঠাট্টা বুঝতে পারে না, এত অল্পে রাগ করে তার ফিলোজফি পড়া কেন? আমি কালই গিয়ে ব্রজ বাবুকে বলে দেব তিনি আর যেন পন্ডশ্রম না করেন। 

আমি আগেই চোখ মুছে ফেলেছি বললুম কে রাগ করেছে? 

যে ফুল ফেলে দিলে? 

ফুলতো আপনি পড়ে গেল। 

মুখ খানাও বুঝি আপনি ফিরে আছে? 

আমি তো মেঘ দেখচি।

মেঘ বুঝি এদিকে ফিরে দেখা যায় না? 

কৈ যায়?  বলে আমি ভুলে হঠাৎ মুখ ফিরাতেই দুজনার চোখাচোখি হয়ে গেল ,নরেন ফিক করে হেসে বললে,, একখানা আশি থাকলে যায় কিনা দেখিয়ে দিতাম নিজের মুখে চোখেই একসঙ্গে মেঘ বিদ্যুৎ দেখতে পেতে। কষ্ট করে আকাশে খুঁজতে হতো না।

আমি তখন চোখ ফিরিয়ে নিলুম রুপের প্রশংসা আমি ঢের শুনেছি, কিন্তু নরেনের চাপা হাসি, চাপা ইঙ্গিত সেদিন আমার বুকের মধ্যে ঢুকে আমার হৃদপিণ্ডটাকে যেন সজরে দুলিয়ে দিলে। এইতো সে পাঁচ বছর আগের কথা কিন্তু আজ মনে হয় সে সৌদামিনী বুঝি আর কেউ ছিল।

নরেন বললে মেঘনা কাটলে , ব্রজবাবুকে বলে দেব লেখাপড়া শেখান মিছে, তিনি আর যেন কষ্ট না করেন।

আমি বললুম ব্যস্ত ভালই তো আমিও সব পড়তেও চাইনি বরং গল্পের বই পড়তেই আমার ঢের ভালো লাগে।

নরেন হাততালি দিয়ে বলে উঠলো দাঁড়াও, বলে দিচ্ছি আজকাল নোবেল পড়া হচ্ছে বুঝি? 

আমি বললুম গল্পের বই তবে আপনি নিজে পড়েন কেন? 

নরেন বললে সে শুধু তোমাকে গল্প বলবার জন্যে ।নইলে পড়তাম না, বৃষ্টির দিকে চেয়ে বললে আচ্ছা এ জল যদি আজ না থামে ? কি করবে।

বললুম ভিজে ভিজে চলে যাব। 

আচ্ছা ,যদি আমাদের পাহাড়ি বৃষ্টি হতো তা হলে?

গল্প জিনিসটা চিরদিন কি ভালই বাসি !একটুখানি গন্ধ পাওয়া মাত্র আমার চোখের দৃষ্টি এক মুহূর্তে আকাশ থেকে নরনের মুখের উপর নেমে এলো , জিজ্ঞেস করে ফেললুম সে দেশের বৃষ্টির মধ্যে বুঝি বেরোনো যায় না?

নরেন বললে একেবারে না, গায়ে তীরের মত বেঁধে। 

আচ্ছা তুমি সে বৃষ্টি দেখেছো? পোড়া মুখ দিয়ে তুমি বার হয়ে গেল। ভাবি জিভটা সঙ্গে সঙ্গে যদি মুখ থেকে খসে পড়ে যেত!

সে বললে এরপর যদি একজন আপনি বলে ডাকে সে আর একজনের মরা মুখ দেখবে। 

কেন দিব্যি দিলেন ?আমি তো কিছুতেই তুমি বলবো না। 

বেশ তাহলে মরা -মুখ দেখো।

দিব্যি কিছুই না ।আমি মানি নে। 

কেমন মানো না, একবার আপনি বলে প্রমাণ করে দাও। 

মনে মনে রাগ করে বললুম পোড়ামুখী নিচে তেজ তোর রইল কোথায়। মুখ দিয়ে তো কিছুতেই বার করতে পারলি না কিন্তু দুর্গতির যদি ওখানে সেদিন শেষ হয়ে যেত ক্রমে আকাশের জল থামলো বটে কিন্তু পৃথিবীর জলে সমস্ত দুনিয়াটা যেন ঘুমিয়ে একাকার করে দিল সন্ধ্যা হয় হয়।

Comments

    Please login to post comment. Login