Posts

উপন্যাস

ভালোবাসার শেষ ঠিকানা তুমি (দ্বিতীয় পর্ব)

June 23, 2026

Md Abdullah

Original Author মো:আব্দুল্লাহ

Translated by পর্ব দ্বিতীয়

5
View

রাকিব ও রিয়া

দ্বিতীয় পর্ব: বাধার শুরু

রাকিব আর রিয়ার সম্পর্কের ছয় মাস পেরিয়ে গেছে।

তাদের দিনগুলো যেন স্বপ্নের মতো কাটছিল। সকালে কলেজে দেখা, ক্লাস শেষে গল্প, রাতে ফোনে কথা—সবকিছুই সুন্দর ছিল।

কিন্তু সুখের দিন সবসময় একই রকম থাকে না।

একদিন রিয়া বাসায় ফিরতেই তার বড় ভাই তার মোবাইল ফোন হাতে নিয়ে বসে ছিল।

রিয়া ভয় পেয়ে গেল।

"মোবাইলটা তোমার কাছে কেন?" — রিয়া জিজ্ঞেস করল।

তার ভাই গম্ভীর গলায় বলল,

"রাকিব কে?"

রিয়ার বুক ধক করে উঠল।

সে বুঝে গেল, সবকিছু জেনে গেছে।

সেদিন বাসায় অনেক ঝামেলা হলো।

রিয়ার বাবা-মা স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন, এখন কোনো সম্পর্ক নয়। আগে পড়াশোনা শেষ করতে হবে।

রিয়া অনেক বোঝানোর চেষ্টা করল, কিন্তু কেউ তার কথা শুনল না।

অন্যদিকে রাকিবও খবরটা জানতে পারল।

তার মন খারাপ হয়ে গেল।

পরদিন কলেজে দেখা হলে রিয়ার চোখ লাল ছিল।

মনে হচ্ছিল সারারাত কেঁদেছে।

রাকিব ধীরে বলল,

"কি হয়েছে?"

রিয়া চোখের জল লুকিয়ে বলল,

"বাড়িতে সব জেনে গেছে।"

রাকিব কিছুক্ষণ চুপ করে রইল।

তারপর বলল,

"ভয় পেও না। আমি আছি।"

এই ছোট্ট কথাটা শুনে রিয়ার মনে একটু সাহস ফিরে এল।

কিন্তু সামনে আরও বড় ঝড় অপেক্ষা করছিল।

কয়েক সপ্তাহ পর রিয়ার বাবা জানালেন, তার বদলি হয়েছে।

তাদের পুরো পরিবার চট্টগ্রামে চলে যাবে।

খবরটা শুনে রিয়া যেন আকাশ থেকে পড়ল।

সে সঙ্গে সঙ্গে রাকিবকে ফোন করল।

ফোনের ওপাশে কয়েক সেকেন্ড নীরবতা।

তারপর রাকিব শুধু বলল,

"তুমি চলে যাবে?"

রিয়া কান্না চেপে বলল,

"আমার কিছু করার নেই।"

সেদিন দুজনের কেউই ঠিকমতো কথা বলতে পারেনি।

বিদায়ের দিন যত এগিয়ে আসছিল, ততই তাদের মন ভারী হয়ে উঠছিল।

অবশেষে সেই দিন এসে গেল।

রিয়া চলে যাওয়ার আগের বিকেলে তারা নদীর পাড়ে শেষবারের মতো দেখা করল।

সূর্য ডুবে যাচ্ছিল।

চারদিকে অদ্ভুত নীরবতা।

রিয়া কাঁদতে কাঁদতে বলল,

"আমাকে ভুলে যেও না।"

রাকিব তার দিকে তাকিয়ে বলল,

"তোমাকে ভুলে যাওয়ার মতো মানুষ আমি না।"

রিয়া চোখের জল মুছে বলল,

"দূরে চলে গেলে যদি সব বদলে যায়?"

রাকিব মাথা নাড়ল।

"সত্যিকারের ভালোবাসা বদলায় না।"

সেদিন বিদায়ের সময় দুজনেই অনেক কেঁদেছিল।

পরদিন ভোরে রিয়া তার পরিবারের সঙ্গে চট্টগ্রামের উদ্দেশ্যে রওনা দিল।

বাসের জানালা দিয়ে শেষবারের মতো নিজের শহরটাকে দেখছিল সে।

আর অন্যদিকে রাকিব দাঁড়িয়ে ছিল একা।

তার মনে হচ্ছিল পৃথিবীর সবচেয়ে প্রিয় মানুষটা আজ অনেক দূরে চলে যাচ্ছে।

কিন্তু সে জানত না—

এই দূরত্বই তাদের ভালোবাসার সবচেয়ে কঠিন পরীক্ষা হতে চলেছে।

(চলবে...)

Comments

    Please login to post comment. Login