এক গ্রামে এক দরিদ্র কৃষক আফসার মিয়া বসবাস করতেন।তিনি ছিলেন খুবই ধার্মিক ও সৎ ব্যক্তি।তার ঘরে একজন স্ত্রী ও দুটি কন্যা ও দুটি পুত্র সন্তান ছিল। তার বড় কন্যার বিয়ে হয়েছিল। তার বড় কন্যা নিজের শশুর বাড়িতে থাকে। তারপর ছেলে আঁকলাম খুব ধনী ছিল সে খুব ভালো চাকরি করতো। তবুও সে বিয়ে করে নিজের মত আলাদা হয়ে যায়। আফসার মিয়া স্বপ্ন ছিল সৌদি আরবে গিয়ে বউকে নিয়ে হজ করা। তিনি তার ছেলেকে এটি বলেছিলেন। কিন্তু তার ছেলে তো বাবার কোন কথায় কানে তুলে না। এটি ছিল তার প্রথম স্ত্রী সন্তান। এখন তুমি যে তিনি যে বউয়ের সাথে বাস করেন সেটি তার দ্বিতীয় স্ত্রী। এই পরিবারে ছয়জনের খরচা চালাতে তিনি হিমশিম খান। তবুও তার ইচ্ছা সে কোনভাবে হলেও মক্কায় হজ্জ করতে যাবে। তিনি একদিন মসজিদে গিয়ে নামাজ পড়ার পর ইমামের সাথে দেখা করলেন। তিনি ইমামকে সালাম দিলেন বললেন আপনি কেমন আছেন। ইমাম সাহেব সালামের জবাব দিয়ে বললেন, আলহামদুলিল্লাহ আমি ভালো আছি।আপনি কেমন আছেন।আফসার মিয়া বললেন, আলহামদুলিল্লাহ আমিও ভাল আছি আল্লাহ যেমন রেখেছেন তাতেই অনেক শুকরিয়া। ইমাম সাহেব বললেন,আপনার কি আমাকে কিছু জিজ্ঞাসা করার আছে তাহলে নির্দ্বিতায় করে ফেলেন ফেলুন। আফসার মিয়া বলল আমার খুব শখ হজে যাওয়া। কারণ হজ হলো ইসলামের পাঁচটি স্তম্ভের মধ্যে একটি স্তম্ভ। কিন্তু আমার সেই সামর্থ্য নেই। আমার ছেলে অনেকটা থাকা সত্ত্বেও সে আমাকে একটুও সাহায্য করতে চায় না। ইমাম সাহেব তখন বললেন আপনার ছেলে যে কাজটি করছে সেটি মন্দ। আপনার ইচ্ছা আছে কিন্তু সামর্থ্য নেই। দেখুন সব মানুষেরই কিন্তু সামর্থ হয় না হজ করার জন্য।আর সেজন্য আল্লাহতাআলা শুধু সামর্থ্যবান এর জন্য হজ ফরজ করেছেন। যেহেতু আপনার ছেলে সামর্থ্য আছে কিন্তু মা বাবাকে হজ করার ইচ্ছা নাই সেহেতো আপনি তার সাথে এ ব্যাপারে কিছু বলার নেই। অনেক ধনী লোক মানুষকে দেখানোর জন্য হজে যায়। তারা যে কত বড় পাপ করে তারা কল্পনা করতে পারে না। আর অনেক লোক এভাবেই টাকার অভাবে আল্লাহর মক্কা ও রাসূল সাল্লাহু সাল্লামের মসজিদে নববীতে স্বপ্নের দেশ সৌদি আরবে যেতে পারেনা। তখন আফসার মিয়া হজের জন্য পাগলামি বন্ধ করলো। সে বুঝতে পারল যে যদি আল্লাহর ইচ্ছা হয় তবে সে অবশ্যই হজে যেতে পারবে।
ইনশাআল্লাহ