চার টেবিলে চায়ের কাপে ঝড় তোলার অভ্যাসে সে এক অদ্ভুত মোড় আসবে, তা কখনো ভাবিনি। সেদিন বিকেলের আড্ডাটা আর দশটা দিনের মতোই ছিল। বন্ধুদের হাসাহাসি, রাজনীতির তর্ক আর ধোঁয়া ওঠা চায়ের কাপে চুমুক—সব মিলিয়ে চার টেবিলের সেই চিরচেনা পরিবেশ। ঠিক তখনই ক্যাশ কাউন্টারের পাশে এসে দাঁড়াল একটি মেয়ে। হালকা নীল রঙের কুর্তি পরা, চোখে একটা স্নিগ্ধ শান্ত ভাব। সে একটা কফির অর্ডার দিয়ে অপেক্ষা করছিল। আমার চোখজোড়ো যেন আঠার মতো আটকে গেল তার ওপর। জীবনে কত মানুষই তো প্রতিদিন চোখের সামনে দিয়ে চলে যায়, কিন্তু কিছু মানুষ থাকে যারা প্রথম দেখাতেই মনের ভেতর একটা গভীর দাগ কেটে যায়। মেয়েটি কফি নিয়ে চলে যাওয়ার সময় একবার কেবল আমাদের টেবিলের দিকে তাকিয়েছিল। ব্যস, ওইটুকুই।সে চলে যাওয়ার পর মনের ভেতর একটা তীব্র শূন্যতা তৈরি হলো। আমি তার নাম জানি না, ঠিকানাও জানি না। সে কোথায় থাকে, কী করে—কোনো তথ্যই আমার কাছে নেই। মনে মনে নিজেকেই ধমক দিলাম, জানিনা তাকে আবার পুনরায় দেখতে পাব কিনা। এই বিশাল শহরের ভিড়ে একটা মানুষকে নাম-ঠিকানা ছাড়া আর কখনো খুঁজে পাওয়া কি আদেও সম্ভব? চার টেবিলের সেই আড্ডার জায়গাটা আমার কাছে হঠাৎ করেই খুব অর্থহীন মনে হতে লাগল। বন্ধুদের কথার পিঠে কথা বলার আগ্রহ হারিয়ে ফেললাম। মনে মনে শুধু একটা প্রতিজ্ঞা করলাম, এরপরে দেখা হলে তাকে সরাসরি তার নাম আর ঠিকানা জেনে নিতে হবে। নিজেকে এই বলে সান্ত্বনা দিলাম যে, ভাগ্য যদি সহায় হয় তবে আবার দেখা হবেই।দিন কাটছিল তার চেনা নিয়মে। আমি পেশায় একজন সার্জন, তাই ব্যস্ততা আমার নিত্যদিনের সঙ্গী। হাসপাতালের ডিউটি, ওটি আর পেশেন্ট দেখার ভিড়ে চার টেবিলের সেই রহস্যময়ী মেয়েটির স্মৃতি কিছুটা আবছা হয়ে এলেও পুরোপুরি মুছে যায়নি কখনো। হঠাৎ একদিন দুপুরের দিকে আমার এক পরিচিত সিনিয়র ডাক্তার ফোন করলেন। তিনি শহরের এক কোণায় অবস্থিত একটি স্বনামধন্য প্রাইভেট ক্লিনিকের ওনার। ফোনে তিনি বেশ জরুরি গলায় বললেন, "ডক্টর, আমাদের এখানে একটা ইমার্জেন্সি অ্যাপেন্ডিসাইটিস ফেটে যাওয়ার কেস এসেছে। পেশেন্টের অবস্থা খুব একটা ভালো না। আমাদের রেগুলার সার্জন ঢাকার বাইরে আছেন। আপনি কি কাইন্ডলি একটু এসে অপারেশনটা হ্যান্ডেল করবেন? আমি আপনাকে অফার করছি, প্লিজ না করবেন না।"মেডিকেল এথিক্স আর পেশাদারি দায়িত্ববোধ থেকে আমি তাকে ফিরিয়ে দিতে পারলাম না। দ্রুত নিজের গাড়ি নিয়ে রওনা হলাম সেই ক্লিনিকের উদ্দেশ্যে। ক্লিনিকে পৌঁছেই আমি ওটি (অপারেশন থিয়েটার) ড্রেস পরে স্ক্রাব করে ওটির ভেতরে ঢুকলাম। পেশেন্টকে অলরেডি অ্যানেশথেসিয়া দেওয়া হয়ে গেছে। ওটি লাইটের নিচে সবকিছু প্রস্তুত। আমি যখন ওটি টেবিলের পাশে গিয়ে দাঁড়ালাম, তখন দেখলাম অ্যাসিস্ট্যান্ট সার্জন এবং ওটি নার্সরা যার যার জায়গায় দাঁড়িয়ে আছেন। আমার অ্যাসিস্ট্যান্ট হিসেবে সবুজ ওটি গাউন আর মাস্ক পরে যে মেয়েটি দাঁড়িয়ে ছিল, তার চোখের দিকে তাকাতেই আমার বুকের ভেতরটা যেন এক মুহূর্তের জন্য স্তব্ধ হয়ে গেল।মাস্ক আর ক্যাপে তার মুখমণ্ডল ঢাকা থাকলেও, ওই শান্ত স্নিগ্ধ চোখ দুটো চিনতে আমার এক সেকেন্ডও সময় লাগেনি। এ তো সেই চার টেবিলের মেয়েটি! চার টেবিলে আড্ডা দিতে গিয়ে যার সাথে দেখা হয়ে গিয়েছিল, যাকে আর কোনোদিন দেখতে পাব কিনা তা নিয়ে দিনের পর দিন আক্ষেপে পুড়েছি, সে আজ আমার সামনে ওটি টেবিলে অ্যাসিস্ট্যান্ট হিসেবে দাঁড়িয়ে! তীব্র এক উত্তেজনা আর বিস্ময় আমাকে গ্রাস করতে চাইল, কিন্তু আমি নিজেকে সামলে নিলাম। ওটি টেবিল আবেগের জায়গা নয়, এখানে একটা মানুষের জীবন-মরণ জড়িয়ে আছে। আমি গভীর একটা শ্বাস নিয়ে অপারেশনে মনোযোগ দিলাম। মেয়েটি অত্যন্ত দক্ষতার সাথে আমার প্রতিটি ইনস্ট্রাকশন ফলো করছিল। তার কাজের মধ্যে এক ধরণের অদ্ভুত পারফেকশন ছিল, যা আমাকে মুগ্ধ করল।প্রায় দেড় ঘণ্টার টানটান উত্তেজনার পর অপারেশনটি সফলভাবে শেষ হলো। পেশেন্টকে পোস্ট-অপারেটিভ ওয়ার্ডে শিফট করার নির্দেশ দিয়ে আমি ওটি থেকে বের হলাম। হাত-মুখ ধুয়ে ফ্রেশ হয়ে জানতে পারলাম, এই কেসটি এবং ক্লিনিকের সার্বিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে ম্যানেজমেন্টের একটা জরুরি মিটিং আছে। আমি তখন অপারেশন শেষ করে এক বোর্ড মিটিং বসলাম। বড় একটা কনফারেন্স টেবিলের চারপাশে ক্লিনিকের ডিরেক্টর, কয়েকজন সিনিয়র ডাক্তার এবং ইনভেস্টররা বসে ছিলেন। আমিও তাদের সাথে যোগ দিলাম। মিটিং শুরু হওয়ার কিছুক্ষণ পর ওটি ড্রেস ছেড়ে সাধারণ পোশাকে সেই মেয়েটি এসে মিটিং রুমে ঢুকল এবং পেছনের সারির একটি চেয়ারে বসল।মিটিংয়ের একপর্যায়ে ক্লিনিকের ডিরেক্টর মেয়েটির দিকে ইশারা করে সবার উদ্দেশ্যে বললেন, "আমাদের আজকের ওটি সফল করার পেছনে ডক্টর আফরিনেরও বড় অবদান আছে। সে রিসেন্টলি আমাদের ক্লিনিকে জুনিয়র ডাক্তার হিসেবে জয়েন করেছে এবং খুব চমৎকার কাজ করছে।" সেখানে তার পরিচয় পেলাম যে সে ঐ ক্লিনিকের ডাক্তার। আফরিন! নামটা শুনেই মনের ভেতর যেন একটা সুর বেজে উঠল। মিটিং শেষ হওয়ার পর আমি তার সাথে আলাদা করে কথা বলার সুযোগ খুঁজছিলাম, কিন্তু ততক্ষণে সে রাউন্ড দেওয়ার জন্য ওয়ার্ডের দিকে চলে গেছে। তবে আজ আমার মনে কোনো আফসোস ছিল না। আমি তার নাম জেনেছি, তার কর্মস্থল জেনেছি। এখন আর তাকে হারিয়ে ফেলার ভয় নেই।এর পরের কয়েকটা মাস আমার জীবনের এক অদ্ভুত অধ্যায় ছিল। নিজের হাসপাতালের ডিউটি শেষ করে আমি প্রায়ই ওই ক্লিনিক থেকে কল পেলে যেতাম। কোনো ইমার্জেন্সি কেস হোক বা সাধারণ কনসালটেশন—তারা আমাকে ডাকলেই আমি সানন্দে রাজি হয়ে যেতাম। ডিরেক্টর সাহেব ভাবতেন আমি তার প্রতি কৃতজ্ঞতা থেকে আসছি, কিন্তু আমার আসল উদ্দেশ্য ছিল অন্য কেউ। ক্লিনিকে গেলেই আফরিনের সাথে দেখা হতো। কখনো করিডোরে, কখনো বা ওটির ভেতরে। আমাদের মধ্যে পেশাগত কথাবার্তা হতো প্রচুর, কিন্তু কাজের বাইরে পার্সোনাল কোনো কথা বলার সাহস বা সুযোগ আমি করে উঠতে পারছিলাম না। সে আমাকে অত্যন্ত সম্মান করত একজন সিনিয়র সার্জন হিসেবে, আর আমি সেই সম্মানের দেয়ালটা ভেঙে হুট করে কোনো ব্যক্তিগত আলাপ জুড়ে দিতে পারছিলাম না। ভয় হতো, যদি সে ভুল বোঝে!আমাদের এই সম্পর্কের মাঝে একটা অদৃশ্য দূরত্ব ছিল। আমরা একে অপরকে চিনতাম, প্রতিদিন দেখতাম, কিন্তু আমাদের মনস্তাত্ত্বিক দূরত্বটা কমছিল না। কিন্তু ভাগ্য বোধহয় আমাদের জন্য অন্য কিছু লিখে রেখেছিল। তবে তার সাথে সম্পর্কটা হয় একদিন সে আমাদের হসপিটালে তার ছোট ভাই কে অসুস্থতার কারণে ভর্তি করায়, সেখান থেকেই তার আমার সম্পর্ক হয়।সেদিন ছিল সোমবার। আমি আমার নিজস্ব সরকারি হাসপাতালে ওটি শেষ করে মাত্র কেবিনে এসে বসেছি, তখনই ইমার্জেন্সি ওয়ার্ড থেকে একজন নার্স ছুটে এলেন। তিনি হাঁপাতে হাঁপাতে বললেন, "স্যার, ইমার্জেন্সিতে একটা রোড এক্সিডেন্টের কেস এসেছে। ১৮-১৯ বছরের একটা ছেলে, মাথায় আর পেটে সিভিয়ার ইনজুরি। ইন্টারনাল ব্লিডিং হচ্ছে মনে হয়। আর স্যার, পেশেন্টের সাথে যে এসেছে, সে আপনাকে খুঁজছে। সে নিজেকে একজন ডাক্তার বলে পরিচয় দিয়েছে।"আমি এক মুহূর্ত সময় নষ্ট না করে ইমার্জেন্সির দিকে দৌড়ালাম। সেখানে গিয়ে ট্রলির পাশে যাকেই দেখলাম, তাকে দেখে আমার পা থমকে গেল। আফরিন! তার পরনের অ্যাপ্রনটা রক্তে ভেজা, চুলগুলো এলোমেলো, আর চোখ দিয়ে অনবরত পানি পড়ছে। সে ট্রলির ওপর শুয়ে থাকা ছেলেটির হাত ধরে কাঁদছে। আমাকে দেখামাত্রই সে পাগলের মতো ছুটে এসে আমার হাতটা চেপে ধরল। ডক্টর হিসেবে তার যে চেনা শান্ত রূপ আমি এতদিন দেখে এসেছি, তা আজ কর্পূরের মতো উড়ে গেছে। সে তখন কেবলই একজন অসহায় বোন।আফরিন কাঁদতে কাঁদতে বলল, "ভাইয়া, প্লিজ আমার শুভকে বাঁচান! ও কলেজ থেকে ফেরার পথে একটা ট্রাক ওকে ধাক্কা দিয়েছে। ওর পালস ড্রপ করছে ভাইয়া। আমি কারোর ওপর ভরসা করতে পারছিলাম না, তাই সরাসরি আপনার হসপিটালে নিয়ে এসেছি। আমি জানি আপনি ছাড়া ওকে কেউ বাঁচাতে পারবে না।"আমি আফরিনের মাথায় হাত রেখে শান্ত করার চেষ্টা করলাম। বললাম, "আফরিন, নিজেকে সামলান। আপনি নিজে একজন ডাক্তার, আপনি জানেন এই মুহূর্তে প্যানিক করলে চলবে না। শুভর দায়িত্ব এখন আমার। আপনি বাইরে অপেক্ষা করুন।"শুভকে দ্রুত ওটিতে নেওয়া হলো। এক্স-রে এবং আল্ট্রাসাউন্ডের রিপোর্টে দেখা গেল তার স্প্লিন (প্লীহা) ফেটে গেছে এবং পেটের ভেতর প্রচুর রক্তক্ষরণ হচ্ছে। মাথার ইনজুরিটা গুরুতর হলেও ভাগ্যবশত স্কাল ফ্র্যাকচার হয়নি। অপারেশনটা ছিল অত্যন্ত জটিল এবং দীর্ঘমেয়াদী। ওটির বাইরে আফরিন একা বসে করিডোরের মেঝেতে তাকিয়ে অপেক্ষা করছিল, তা আমি ওটির ভেতরে থেকেও অনুভব করতে পারছিলাম। দীর্ঘ চার ঘণ্টার অপারেশনের পর আমরা সফলভাবে ইন্টারনাল ব্লিডিং বন্ধ করতে সক্ষম হলাম এবং শুভর অবস্থা স্থিতিশীল হলো।ওটি থেকে বের হয়ে যখন আমি আফরিনকে শুভর বিপদমুক্ত হওয়ার খবরটা দিলাম, তখন সে আক্ষরিক অর্থেই মেঝেতে বসে পড়ল। তার চোখ থেকে আনন্দের অশ্রু ঝরছিল। সে কৃতজ্ঞতায় এতটাই আপ্লুত ছিল যে মুখে কোনো ভাষা ফুটিয়ে তুলতে পারছিল না। শুভকে যখন আইসিইউতে শিফট করা হলো, তখন আফরিন কেবিনের বাইরে এসে আমার সামনে দাঁড়াল।সে বলল, "আজ আপনি শুধু আমার ভাইকে বাঁচাননি ডক্টর, আমার পুরো পরিবারকে বাঁচিয়েছেন। আমাদের বাবা-মা ছোটবেলাতেই মারা গেছেন। আমি আর শুভ একে অপরের সবকিছু। ও চলে গেলে আমি মরেই যেতাম।"শুভর এই অসুস্থতা এবং আমাদের হসপিটালে তার ভর্তি হওয়াটাই আমাদের সম্পর্কের মোড় ঘুরিয়ে দিল। এরপরের দুই সপ্তাহ শুভ আমাদের হাসপাতালেই ভর্তি ছিল। আফরিন ডিউটির বাইরে বাকি পুরোটা সময় হাসপাতালের কেবিনেই কাটাত। আর আমি দিনে অন্তত তিন-চারবার শুভর কেবিনে রাউন্ড দিতাম—কখনো শুভর স্বাস্থ্যের খোঁজ নিতে, আবার কখনো বা আফরিনের সাথে একটু কথা বলার বাহানায়।হাসপাতালের এই ঘরোয়া পরিবেশে আমাদের মাঝের প্রফেশনাল দেয়ালটা আস্তে আস্তে ভেঙে পড়তে লাগল। আমরা এখন আর কেবল একজন সিনিয়র সার্জন আর জুনিয়র ডাক্তার ছিলাম না। আমরা একে অপরের সুখ-দুঃখের গল্প শুনতাম। আমি জানতে পারলাম, কত কষ্ট করে একা হাতে সে তার ছোট ভাইকে বড় করেছে এবং নিজে ডাক্তারি পাস করেছে। তার এই লড়াইয়ের গল্প শুনে আমার মনের ভেতর তার জন্য সম্মান আর ভালোবাসা আরও বহুগুণ বেড়ে গেল।একদিন বিকেলে শুভ ঘুমোচ্ছিল। আমি আর আফরিন কেবিনের বারান্দায় এসে দাঁড়ালাম। বাইরে তখন গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি পড়ছিল। পরিবেশটা কেমন যেন এক মায়াবী রূপ ধারণ করেছিল। আমি আফরিনের দিকে তাকিয়ে হালকা হেসে বললাম, "আফরিন, আপনাকে একটা সত্যি কথা বলি?"আফরিন তার বড় বড় চোখ দুটো তুলে আমার দিকে তাকাল, "কী কথা ভাইয়া?"আমি হেসে বললাম, "এই যে আপনি আমাকে 'ভাইয়া' বলছেন, এটা কিন্তু ডক্টর-পেশেন্ট সম্পর্কের বাইরে যাচ্ছে না। আচ্ছা, আপনার কি মনে পড়ে, আজ থেকে প্রায় এক বছর আগে ধানমন্ডির 'চার টেবিল' ক্যাফেতে আপনি কফি খেতে গিয়েছিলেন?"আফরিন কিছুটা অবাক হয়ে ভ্রু কুঁচকে ভাবার চেষ্টা করল। তারপর বলল, "হ্যাঁ, মনে আছে তো। ওই ক্যাফেতে আমি মাঝে মাঝে যেতাম। কিন্তু আপনি কী করে জানলেন?"আমি একটু এগিয়ে গিয়ে বললাম, "কারণ সেদিন ওই চার টেবিলে আমি আমার বন্ধুদের সাথে আড্ডা দিচ্ছিলাম। আর নীল কুর্তি পরা একটা মেয়েকে দেখে আমি নিজের অজান্তেই তার নাম-ঠিকানা খোঁজার চেষ্টা করেছিলাম। সেদিন আফসোস করেছিলাম, জানিনা তাকে আবার দেখতে পাব কিনা। কিন্তু ঈশ্বর আমাদের বারবার মিলিয়ে দিয়েছেন—ক্লিনিকের ওটিতে, বোর্ড মিটিংয়ে, আর আজ এখানে শুভর মাধ্যমে।"আমার কথা শুনে আফরিনের ফর্সা মুখটা মুহূর্তে লজ্জায় লাল হয়ে উঠল। সে চোখ নামিয়ে নিল, কিন্তু তার ঠোঁটের কোণে ফুটে ওঠা মৃদু হাসিটা আমাকে আমার উত্তর দিয়ে দিল। সে নিচু স্বরে বলল, "আসলে... সেদিন চার টেবিলে আমিও কাউকে একজন দেখছিলাম, যার নাম-ঠিকানা আমি জানতাম না।"আমাদের চার চোখের মিলন আর মনের অব্যক্ত কথার আদান-প্রদান যেন সেই বৃষ্টির বিকেলে পূর্ণতা পেল। চার টেবিলের সেই নামহীন, ঠিকানাহীন মেয়েটি আজ আমার জীবনের সবচেয়ে কাছের মানুষ হয়ে উঠেছে। হাসপাতালের সেই চেনা করিডোর আর শুভর অসুস্থতার দিনগুলো আমাদের একে অপরের হৃদয়ের এত কাছে পৌঁছে দিতে পারে সেটা ও নিজেও কখনো ভেবে দেখিনি। গল্পটি কেমন লাগলো লিখে জানাবেন। ভালো লাগলে গল্পটি ধারাবাহিক করতে পারি। ধন্যবাদ