দিনটি ছিল মেঘাচ্ছন্ন। একটি ছেঁড়া সেন্ট্রাল গেঞ্জি পরে, নোংরা কাপড় গায়ে আর হাতে একটি জুতা পালিশের বাক্স নিয়ে আমি রাস্তায় হাঁটছিলাম। হাঁটতে হাঁটতে ডাক দিচ্ছিলাম, “জুতা পালিশ লাগবে? জুতো পালিশ?”
হঠাৎ একজন লোক উচ্চস্বরে ডাক দিলেন, “এই ছেলে, এদিকে আসো!”
লোকটিকে দেখে বেশ সচ্ছল মনে হলো। তিনি বললেন, “এই, আমার জুতাটা পালিশ করে দাও তো।”
আমি একটি জায়গায় বসে বললাম, “বাবু, জুতাটা বাক্সের ওপর রাখুন।”
কিন্তু তিনি জুতা না খুলেই পা-সহ বাক্সের ওপর তুলে দিলেন। তারপর জিজ্ঞেস করলেন, “তোমার এই অবস্থা কীভাবে হলো?”
আমি দীর্ঘশ্বাস ফেলে বললাম, “বাবু, কিছুদিন আগে এক ভয়ংকর ঝড় আর বন্যায় আমাদের ঘরবাড়ি সব নদীতে ভেঙে গেছে। মা-বাবা, ভাই-বোন—কেউ আর বেঁচে নেই। পৃথিবীতে একমাত্র আমিই বেঁচে আছি। আমাকে দেখার মতোও কেউ নেই। তাই কাজ করে খাই। কী আর করব বাবু? এক সময় আমাদেরও অনেক কিছু ছিল, আপনাদের মতোই। কিন্তু ভাগ্যের পরিহাসে আজ এই অবস্থা।”
লোকটি কিছুক্ষণ চুপ থেকে বললেন, “আচ্ছা, কত টাকা হয়েছে?”
আমি বললাম, “বাবু, ২০ টাকা।”
তিনি পকেট থেকে ১০ টাকার একটি নোট বের করে দিলেন।
আমি বিনয়ের সঙ্গে বললাম, “বাবু, আর ১০ টাকা দেবেন না?”
তিনি রাগ করে বললেন, “কিসের ১০ টাকা? এই ১০ টাকা রাখ, আর কোনো টাকা নেই।”
এই বলে তিনি আমাকে একটি লাথি মেরে চলে গেলেন।
আমি কষ্টে বুক ভরে তাকিয়ে রইলাম তার চলে যাওয়ার পথে। তারপর মনের দুঃখে গেয়ে উঠলাম—
“চিরদিন সমান কারো নাহি যায়, আজকে যে রাজাধিরাজ, কাল সে ভিক্ষা চায়।”