বরেণ্য চিকিৎসক ডা. এ বি এম আব্দুল্লাহ্'র 'ইমেরিটাস অধ্যাপক' পদ বাতিল করেছে বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। যদিও এটি যেকোনো অধ্যাপকের জন্য শেষ বয়সে অমর্যাদাকর -তবু এমনটা করবার রাইটস কর্তৃপক্ষের আছে। কিন্তু যে পোস্টের সাথে রাষ্ট্রীয় কোনো আর্থিক সংযোগ নেই -সেই ব্যক্তিটির কাছে অর্থ ফেরত চাওয়া চরম অবমাননাকর। এই কাজটি কারা করেছে? যারা অতি অবশ্যই এই অধ্যাপকের কোনো না কোনো পর্যায়ের ছাত্র।
Emeritus (স্ত্রীলিঙ্গে Emerita) একটি লাতিন শব্দ, যার অর্থ: অবসরপ্রাপ্ত হলেও সম্মানসূচকভাবে পূর্বের পদবি বহাল রাখা। এটি সাধারণত বিশ্ববিদ্যালয়, গবেষণা প্রতিষ্ঠান বা পেশাগত ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়। কোনো ব্যক্তি অবসরের পর তাঁর দীর্ঘ ও উল্লেখযোগ্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ এই উপাধি পান। সাধারণত পদটি অবৈতনিক হয়। আর্থিক লাভালাভের চেয়ে উপাধিটাই ব্যক্তি মানুষকে সম্মানিত করবার উপলক্ষ তৈরি করে।
অধ্যাপক এ বি এম আব্দুল্লাহ্ দুঃখ ও খেদের সাথেই গণমাধ্যমকে বলেছেন, বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ হয়ত গেল দুই বছরে ১০-১২ হাজার টাকা দিয়েছে। মেবি এই অর্থটা আপ্যায়ন কিংবা ট্রাভেলিং অ্যালাউন্স জাতীয় কিছু হয়ে থাকবে। ঠিক জানি না এই চিকিৎসকের কাছ থেকে এই যৎসামান্য অর্থ আদায় করলে -জাতিরাষ্ট্রের কী উপকার সাধন হবে?
শুনেছি ডা. আব্দুল্লাহ্ ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রাইম মিনিস্টারের ব্যক্তিগত চিকিৎসক ছিলেন। তাই এমন অমর্যাদা। গেল ১৭ বছর প্রধামন্ত্রীর দপ্তর, গণভবন কিংবা সংসদ ভবনে বসে প্রজাতন্ত্রের যেসব কর্মকর্তা ও কর্মচারী সাবেক প্রিমিয়ারকে নিবিষ্ট মনে সেবা দিয়ে গেছেন -তাদের সবাইকে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে? রাষ্ট্রীয় নীতিনির্ধারণী যেসব ফাইলে এক্স পিএম স্বাক্ষর করেছিলেন -সেগুলো কি ছুঁড়ে ফেলে দেয়া হয়েছে?
আসলে কোনো কিছুই অপনোদন হয়নি। কাউকে উপড়ে ফেলা যায়নি। সকল সিস্টেম বহাল তবিয়তেই আছে। দায়টা কেবল এ বি এম আব্দুল্লাহ্'র?
আমেরিকা ও ভারতের সমর্থনে ভবিষ্যতে জামায়াত যেদিন ক্ষমতায় আসবে -বিএনপি সমর্থিত সব অধ্যাপক ও চিকিৎসককে দেশছাড়া করে দেবে? অমন ঘৃণা ও জিঘাংসা জিইয়ে রাখলে দেশটা আদৌ চলবে?
প্রথম আলো পত্রিকার ডিজিটাল হেড জাভেদ সুলতান পিয়াস তাঁর সোশ্যাল হ্যান্ডেলে এ বিষয়ে লিখেছেন, 'ডাক্তার আব্দুল্লাহ্ স্যারের কাছে আমি গিয়েছি চিকিৎসার জন্য। মাঝারি ডাক্তাররা যখন ১২-১৫'শ টাকা ভিজিট নেয়, আব্দুল্লাহ স্যার তখন ৩শ টাকা নেন। গরিব মানুষ দেখলেই জিজ্ঞেস করতেন এটাও তার জন্য কষ্ট হবে কিনা। আমার সিরিয়াল নিয়ে দেওয়া আমার গ্রামের একজনের সাথে তিনি সেটা বলেছিলেন। তিনি সজ্জন ব্যক্তি। বিদ্যান ব্যক্তি। সেরা ডাক্তার। চিকিৎসকদের চিকিৎসক।,
মেডিসিন বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. এ বি এম আবদুল্লাহর ইমেরিটাস অধ্যাপক (আজীবন) নিয়োগ বাতিল করেছে বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএমইউ)। একই সঙ্গে তাঁকে ২০২৪ সালের ২০ জুন থেকে ইমেরিটাস অধ্যাপকের বিপরীতে নেওয়া বেতন ও ভাতা ফেরত দিতে বলা হয়েছে।
গতকাল মঙ্গলবার বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার অধ্যাপক মো. মোস্তফা কামালের সই করা অফিস আদেশে এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়েছে।
গণ-অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ব্যক্তিগত চিকিৎসক ছিলেন বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিসিন বিভাগের সাবেক ডিন এ বি এম আবদুল্লাহ।
জানতে চাইলে অধ্যাপক আবদুল্লাহ আজ বৃহস্পতিবার প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমি ৫০ বছর চিকিৎসা পেশায় নিয়োজিত এবং প্রায় সমান সময় চিকিৎসা শিক্ষায় নিয়োজিত। আমি মনপ্রাণ দিয়ে রোগী ও মানুষের সেবা দেওয়ার চেষ্টা করেছি। আমার লেখা বই দেশে-বিদেশে পাঠ্য। আমাকে যে ইমেরিটাস অধ্যাপক করা হয়েছিল, তা আমার যোগ্যতার ভিত্তিতেই করা হয়েছিল। আমি আরও সম্মান ও সম্মাননা পেয়েছি। কিন্তু যেভাবে এটা বাতিল করা হলো, সেটি নীতিবহির্ভূত। আমি আশা করি এতে আমার সম্মান ক্ষুণ্ন হবে না।’
লেখক: সাংবাদিক
২৬ জুন ২০২৬