Posts

গল্প

রাকিব কেন সুমির বাসায় কাজের ছেলে।

June 28, 2026

Shafin pro

29
View

লন্ডনের হিথ্রো বিমানবন্দর থেকে যখন রাকিবের ফ্লাইট ঢাকার বুকে ডানা মেলল, তখন তার পকেটে জ্বলজ্বল করছে পিএইচডি ডিগ্রি। নামী অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতিতে ডক্টরেট শেষ করে সে দেশে ফিরেছে। কিন্তু তার মনের ভেতর তখন অন্য এক পরিকল্পনা।রাকিবের বাবা তরফদার সাহেব এলাকার মস্ত বড় ব্যবসায়ী। চৌধুরী ভিলার মালিক। তিনি এবং তার স্ত্রী রেহানা বেগম আগে থেকেই ঠিক করে রেখেছেন, তাদের একমাত্র সুপুত্র রাকিবের সাথে বিয়ে হবে তাদেরই পুরোনো ও ঘনিষ্ঠ বন্ধু আজমল সাহেবের একমাত্র রূপবতী ও বিদুষী কন্যা সুমির।কিন্তু রাকিব আধুনিক যুগের ছেলে। সে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছিল, "বাবা, বিয়ে যদি করতেই হয়, তবে আমি মেয়েটিকে আগে ছদ্মবেশে দেখব। তার মনমানসিকতা কেমন, সে অহংকারী কি না, সেটা না জেনে আমি ছদ্মবেশ ছাড়া বিয়েতে রাজি হব না।"যেমন ভাবা, তেমন কাজ। রাকিব লন্ডনের স্যুট-বুট ছেড়ে, একটা পুরোনো জিন্স আর সাধারণ একটা সুতির ফতুয়া পরে, পিঠে একটা সস্তা ব্যাগ ঝুলিয়ে রওনা দিল আজমল সাহেবের গুলশানের আলিশান বাড়ির উদ্দেশ্যে। তার পরিকল্পনা ছিল সাধারণ এক অতিথি বা দূর সম্পর্কের আত্মীয়ের পরিচয় দিয়ে বাড়িতে ঢোকার। কিন্তু ভাগ্য তার জন্য অন্য এক নাটক সাজিয়ে রেখেছিল।অধ্যায় ১: জমিদার বাড়িতে "নতুন কাজের ছেলে"সেদিন সকাল থেকেই আজমল সাহেবের বাড়িতে এলাহী কাণ্ড। কারণ, তাদের গ্রামের বাড়ি বিক্রমপুর থেকে 'রহিম' নামের এক দূর সম্পর্কের আত্মীয়ের সুপারিশে একজন নতুন কাজের ছেলে আসার কথা ছিল। ঘরের পুরোনো কাজের লোকগুলো সব ছুটিতে, তাই আজমল সাহেব নিজেই ড্রয়িংরুমে বসে চশমার ওপর দিয়ে খবরের কাগজ পড়তে পড়তে অস্থির হয়ে অপেক্ষা করছিলেন।ঠিক সেই মুহূর্তে রাকিব কলিংবেল চাপল। দরজা খুললেন স্বয়ং আজমল সাহেব।রাকিব কিছুটা ইতস্তত করে বলল, "আসসালামু আলাইকুম আঙ্কেল, আমি আসলে..."তার কথা শেষ হওয়ার আগেই আজমল সাহেব খবরের কাগজটা সোফায় ছুড়ে ফেলে চেঁচিয়ে উঠলেন, "আরে! এসে গেছিস? তোকে রহিম পাঠিয়েছে তো? ঠিক সময়েই এসেছিস। গ্রামের ছেলেদের এই এক গুণ, সময়ের দাম বোঝে।"রাকিবের চোখ চড়কগাছ। অক্সফোর্ডের পিএইচডি থিসিস ডিফেন্স করার সময়ও তার মাথা এতটা ঘোরেনি, যতটা আজমল সাহেবের এই চটজলদি আবিস্কারে ঘুরল। রাকিব থতমত খেয়ে ভাবল, 'এখন যদি বলি আমি তরফদার সাহেবের ছেলে, তবে তো ছদ্মবেশের বারোটা বেজে যাবে। সুমিকে আর চেনা হবে না।'কোনো তাৎক্ষণিক বুদ্ধি মাথায় না পেয়ে রাকিব আমতা আমতা করে বলে ফেলল, "হ্যাঁ... হ্যাঁ আঙ্কেল। রহিম ভাই-ই পাঠাইছে।""ব্যস, আর কথা নেই। ভেতরে আয়।" আজমল সাহেব তাকে ড্রয়িংরুমে নিয়ে গেলেন। "তোর নাম কী রে?"রাকিব মনে মনে ভাবল, নিজের নামটা অন্তত ঠিক রাখি। সে বলল, "জি, রাকিব।""আচ্ছা রাকিব, শোন। এই বাড়ির নিয়মকানুন খুব কড়া। তোকে আমি ঘরের কেয়ারটেকারের কাজ দিচ্ছি। বাগান পরিষ্কার রাখা, বাজারের ব্যাগ টানা, আর বসের (মানে আমার মেয়ে সুমি) হুকুম তামিল করা—এই তোর কাজ। আর হ্যাঁ, চা বানানো শিখতে হবে ভালো করে। যা, হাত-মুখ ধুয়ে রান্নাঘরে গিয়ে মোস্তফা মিয়ার কাছ থেকে কাজ বুঝে নে।"লন্ডনের বিলাসবহুল ফ্ল্যাটে থাকা, কফি মেকারে কফি খাওয়া ডক্টর রাকিব এখন গুলশানের এক বিশাল বাংলোর নতুন "কেয়ারটেকার তথা কাজের ছেলে"।অধ্যায় ২: পিএইচডি বনাম ঝাড়ু-পোছা (হাসি-ঠাট্টার পর্ব)প্রথম তিন দিনেই রাকিবের হাড়মাস এক হয়ে গেল। জীবনে যে ছেলে নিজের ঘরের বিছানা নিজে গুছায়নি, তাকে এখন বিশাল ড্রয়িংরুমের কাঁচের টেবিল মুছতে হচ্ছে।একদিন সকালে রাকিব ড্রয়িংরুমের এক কোণে বসে ভ্যাকুয়াম ক্লিনার দিয়ে কার্পেট পরিষ্কার করছিল। কিন্তু সে তো আধুনিক ব্রিটিশ ভ্যাকুয়াম ক্লিনারে অভ্যস্ত, এই পুরোনো মডেলের মেশিন চালাতে গিয়ে সে উল্টো সুইচ চেপে বসল। ধুলো পরিষ্কার হওয়ার বদলে পুরো ঘর ধুলোয় অন্ধকার হয়ে গেল।ঠিক তখনই সিঁড়ি দিয়ে নেমে আসছিল সুমি। পরনে সাধারণ সালোয়ার-কামিজ, চুলে আলগা খোঁপা। সুমিকে প্রথম দেখামাত্রই রাকিবের বুকের ভেতর যেন ইকোনমিক্সের সব থিওরি ওলটপালট হয়ে গেল। নিখুঁত সুন্দরী, চোখে এক অদ্ভুত মায়া।কিন্তু সুমি এসেই কাশতে শুরু করল, "ওহ খোদা! এই নতুন ছেলে, তুমি এটা কী করছ? ঘর পরিষ্কার করছ নাকি মরুভূমি বানাচ্ছ?"রাকিব অপ্রস্তুত হয়ে ল্যাপটপের কি-বোর্ড চাপার মতো করে ভ্যাকুয়াম ক্লিনারের সব বোতাম একসাথে চাপতে লাগল। ফলাফল, মেশিনটা বিকট আওয়াজ করে বন্ধ হয়ে গেল।রাকিব মাথা চুলকে বলল, "দুঃখিত আপা, মেশিনের ইকোনমি রেটটা একটু ইমব্যালেন্সড হয়ে গেছিল।"সুমি ভুরু কুঁচকে তাকাল, "ইকোনমি রেট? ইমব্যালেন্সড? কাজের ছেলে হয়ে এসব কী ইংরেজি ঝাড়ছ?"রাকিব সামলে নিয়ে বলল, "না মানে আপা, ওই রহিম ভাই কইছিল আর কি, সবকিছুর একটা হিসাব-নিকাশ আছে।"সুমি হেসে ফেলল। সেই হাসিতে রাকিবের মন যেন আরও একবার ব্যাকুল হলো। সুমি বলল, "হয়েছে, পণ্ডিতি করতে হবে না। যাও, আমার জন্য এক কাপ আদা চা বানিয়ে নিয়ে এসো। চিনি কম দেবে।"রাকিব রান্নাঘরে গিয়ে মহাবিপদে পড়ল। অক্সফোর্ডের ল্যাবে জটিল সব কেমিক্যাল ইকুয়েশন মেলানো ছেলেটা এখন চায়ের পাতিল, আদা আর চিনির অনুপাত মেলাতে পারছে না। মোস্তফা মিয়া (পুরোনো বাবুর্চি) তাকে ধমক দিয়ে বলল, "ঐ মিয়া, পিএইচডি করছ চায়ের ওপরে? এতক্ষণ লাগে এক কাপ চা বানাইতে?"রাকিব মনে মনে হাসল, 'হ্যাঁ চাচা, পিএইচডিই তো করছি, তবে চায়ের ওপর না।'সেদিন সুমিকে চা দিতে গিয়ে রাকিবের হাত কাঁপছিল। সুমি চায়ের কাপে চুমুক দিয়েই চোখ বন্ধ করল। রাকিব ভাবল, নিশ্চয়ই চা জঘন্য হয়েছে। কিন্তু সুমি চোখ খুলে বলল, "বাহ্! চা-টা কিন্তু চমৎকার হয়েছে রাকিব। তোমার হাতের চায়ে অন্যরকম একটা টেস্ট আছে।"রাকিব মনে মনে ব্রিটিশ কায়দায় বলল, ‘Thank you, milady!’ কিন্তু মুখে বলল, "জি আপা, আপনের ভালো লাগছে, এইডাই আমার সার্থকতা।"অধ্যায় ৩: কাজের ছেলের প্রেমে সুমিদিন যত যেতে লাগল, সুমি লক্ষ্য করল এই নতুন ছেলেটি অন্য সব কাজের লোকের মতো নয়। সে অসম্ভব ভদ্র, কথা বলার ধরণ মার্জিত, আর তার চোখের ভাষা অনেক গভীর।একদিন বিকেলে সুমি তার বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাসাইনমেন্ট নিয়ে বারান্দায় বসে মাথা খাটাচ্ছিল। ম্যাক্রো-ইকোনমিক্সের একটা জটিল গ্রাফ ও থিওরি কিছুতেই মিলাতে পারছিল না সে। বিরক্ত হয়ে সে খাতাটা টেবিলের ওপর ছুড়ে ফেলল।রাকিব তখন বারান্দার টবে জল দিচ্ছিল। সুমির বিরক্তি দেখে সে একটু এগিয়ে গেল। সাহস করে বলল, "আপা, কোনো সমস্যা?"সুমি বিরক্ত হয়ে বলল, "তোমাকে বললে তুমি বুঝবে? ইকোনমিক্সের থিওরি অফ ইনফ্লেশন অ্যান্ড ডিমান্ড কার্ভ। মাথা নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।"রাকিব মৃদু হাসল। সে তো এই বিষয়েরই ডক্টর! সে নিজেকে সামলাতে না পেরে বলেই ফেলল, "আপা, এই গ্রাফটা আসলে এইভাবে না, যদি আপনি সাপ্লাই সাইডটা একটু শিফট করে দেন, তবে ডিমান্ড কার্ভের সাথে ইকুইলিব্রিয়াম পয়েন্টটা সহজেই মিলে যাবে। আর এই থিওরিটা অ্যাডাম স্মিথের ডকট্রিন অনুযায়ী ধরলে..."সুমি হাঁ করে রাকিবের দিকে তাকিয়ে রইল। প্রায় দুই মিনিট কোনো কথা নেই।সুমি বলল, "তুমি... তুমি এসব কীভাবে জানো? তুমি কি পড়াশোনা করেছ?"রাকিবের হঠাৎ হুঁশ ফিরল। সর্বনাশ! সে তো নিজের পরিচয় ফাঁস করে দিচ্ছিল। সে তাড়াতাড়ি বলল, "আরে না আপা! ওই যে গ্রামে থাকতে এক বড় ভাইয়ের বইখাতা গুছায়া দিতাম না? ওই ভাই রাতে চিল্লাইয়া চিল্লাইয়া পড়ত, কান দিয়া ঢুকছে আর কি। আমি তো মুখ্যু-সুখ্যু মানুষ।"সুমি পুরোপুরি বিশ্বাস না করলেও তার মনে একটা গভীর কৌতূহল তৈরি হলো। সেই থেকে সুমি প্রায়ই পড়াশোনার বাহানায় রাকিবকে ডেকে পাঠাত। দুজনে মিলে বাগানে বসে গল্প করত। রাকিব তার "গ্রামের গল্প" বানিয়ে বলত, যা আসলে লন্ডনের হাইড পার্ক বা টেমস নদীর তীরের অভিজ্ঞতার দেশি সংস্করণ ছিল।সুমি বুঝতে পারল, সে এই সাধারণ, অতি চতুর এবং মায়াবী ছেলেটির প্রতি দুর্বল হয়ে পড়ছে। সুমি নিজেকে বোঝাত, 'এটা অন্যায়। সে আমাদের বাড়ির কাজের ছেলে। বাবা জানলে আকাশ ভেঙে পড়বে।' কিন্তু মনের ওপর কার নিয়ন্ত্রণ আছে? রাকিবের ব্যক্তিত্ব সুমিকে পুরোপুরি মুগ্ধ করেছিল।এক রাতে ভারী বৃষ্টি হচ্ছিল। সুমি জানলা দিয়ে দেখল, রাকিব বাগানের দামি অর্কিডগুলো বাঁচাতে বৃষ্টির মধ্যে ভিজে ভিজে সেগুলো বারান্দার শেডের নিচে আনছে। সুমি ছাতা নিয়ে নিচে নেমে এলো। রাকিবের মাথার ওপর ছাতাটা ধরে বলল, "তুমি কি পাগল? এই ঠাণ্ডায় ভিজলে জ্বর আসবে না?"রাকিব সুমির এত কাছাকাছি এসে থমকে গেল। বৃষ্টির জলের ফোঁটা সুমির মুখে চকচক করছিল। রাকিব বলল, "আপনার প্রিয় ফুলগুলো নষ্ট হয়ে যাচ্ছিল আপা। আপনার কষ্টের চেয়ে আমার জ্বর হওয়া অনেক ভালো।"সুমির চোখে জল এসে গেল। সে বুঝতে পারল, এই ছেলেটি তাকে কতটা ভালোবাসে। সেও মনে মনে রাকিবকে নিজের জীবনসঙ্গী হিসেবে মেনে নিল, সমাজ আর আভিজাত্যের সব দেয়াল ভেঙে।অধ্যায় ৪: সেই ঐতিহাসিক দিন ও মুখোমুখি ধরাসুমি ও রাকিবের এই নীরব প্রেমের আবহেই কেটে গেল মাসখানেক। এর মধ্যে রাকিবের আসল বাবা-মা (তরফদার সাহেব ও রেহানা বেগম) লন্ডন থেকে ফেরা ছেলের কোনো হদিস না পেয়ে অস্থির। রাকিব ফোনে বাবাকে শুধু এটুকুই বলেছিল, "বাবা, আমি একটা বিশেষ গবেষণার কাজে ব্যস্ত আছি। খুব তাড়াতাড়ি তোমাদের সারপ্রাইজ দেব।"অবশেষে তরফদার সাহেব আর ধৈর্য ধরতে পারলেন না। তিনি আজমল সাহেবকে ফোন করে বললেন, "দোস্ত, আমার ছেলে তো দেশে ফিরেছে, কিন্তু কী এক গবেষণায় ব্যস্ত। চল, এই ফাঁকে আমরা সুমির সাথে বিয়ের পাকাকথাটা সেরে ফেলি। আমরা আজ বিকেলে তোদের বাসায় আসছি।"আজমল সাহেব তো মহাখুশি। তিনি বাড়িতে এলাহী রান্নাবান্নার আদেশ দিলেন। সুমিকে বললেন, "মা, আজ তোর হবু শ্বশুর-শাশুড়ি আসছেন। ভালো একটা শাড়ি পরে তৈরি হ।"সুমি মনে মনে কাঁদছিল। সে তো রাকিবকে ভালোবাসে। সে কীভাবে অন্য কাউকে বিয়ে করবে? সে ঠিক করল, আজই সে তার বাবাকে সব জানাবে, প্রয়োজনে বাড়ি ছেড়ে চলে যাবে।এদিকে রাকিব এই খবর কিছুই জানত না। সে রান্নাঘরে মোস্তফা মিয়ার সাথে পেঁয়াজু ভাজায় ব্যস্ত ছিল।বিকেল চারটেয় চৌধুরী ভিলার রাজকীয় গাড়ি এসে থামল আজমল সাহেবের বাড়ির সামনে। তরফদার সাহেব এবং রেহানা বেগম ভেতরে ঢুকলেন। আজমল সাহেব তাদের জড়িয়ে ধরে ড্রয়িংরুমে বসালেন। সুমিকে ডেকে আনা হলো। সুমি গম্ভীর মুখে মাথা নিচু করে এসে বসল।আজমল সাহেব ড্রয়িংরুম থেকে হাঁক ছাড়লেন, "রেহানা ভাবি, তরফদার দোস্ত, তোদের জন্য স্পেশাল চা আর নাস্তা আসছে। এই বাড়ির নতুন ছেলেটা দারুণ চা বানায়। ঐ রাকিব! চা-নাস্তা নিয়ে আয় জলদি!"রান্নাঘর থেকে রাকিব তখন বড় একটা রুপোর ট্রিতে করে চায়ের কাপ আর নাস্তার প্লেট সাজিয়ে ড্রয়িংরুমের দিকে রওনা দিল। সে মনে মনে ভাবছিল, 'আজকে সুমির বাবার অতিথিদের বিদায় করে সুমিকে আমার আসল পরিচয়টা দিয়ে দেব। আর নাটক ভালো লাগছে না।'রাকিব ড্রয়িংরুমে ঢুকল। মাথা নিচু করে ট্রিতে চোখ রেখে সে টেবিলের সামনে গিয়ে দাঁড়াল।"নিন আঙ্কেল, চা নেন। ভাবি... ওহ থুড়ি, আন্টি চা নেন।" রাকিব মাথা তুলল।এবং ঠিক সেই মুহূর্তে পুরো ড্রয়িংরুমে যেন একটা বজ্রপাত হলো!তরফদার সাহেব চায়ের কাপ নিতে গিয়ে হাত বাড়িয়েছিলেন, কিন্তু ছেলের মুখ দেখামাত্র তার হাত বাতাসে জমে গেল। রেহানা বেগম সোফা থেকে প্রায় লাফিয়ে উঠলেন, "ওমা! রাকিব! তুই এখানে এই কাজের ছেলের পোশাকে কেন? তোর হাতে চায়ের ট্রি কেন?!"আজমল সাহেব চশমাটা নাক থেকে খসিয়ে ফেলে বললেন, "কী! তরফদার, তুই এই কাজের ছেলেকে রাকিব ডাকছিস কেন? ও তো আমাদের রহিম মিয়ার পাঠানো কাজের ছেলে!"রেহানা বেগম কেঁদে ফেলার মতো করে বললেন, "কী বলছ আজমল ভাই! ও তো আমার একমাত্র সোনা ছেলে ডক্টর রাকিব! অক্সফোর্ড থেকে পিএইচডি করে এসেছে!"সুমির মাথা তখন বনবন করে ঘুরছিল। যে ছেলেকে সে কাজের ছেলে ভেবে মন দিয়ে বসে আছে, সে আসলে লন্ডনের পিএইচডি হোল্ডার, কোটিপতির দুলাল এবং তার বাবার বন্ধুর ছেলে! সুমি বুঝতে পারছিল না সে হাসবে নাকি কাঁদবে।আজমল সাহেব সোফা থেকে উঠে দাঁড়িয়ে রাকিবের কলার চেপে ধরার মতো করে বললেন, "এই ছোকরা! কী ঘটনা কী? তুমি পিএইচডি করা ছেলে হয়ে আমার বাসায় কাজের ছেলে সেজে কেন ঢুকলে? আমার মেয়েকে নিয়ে কোনো বদ মতলব ছিল?"রাকিব তখন ট্রাটা টেবিলে নামিয়ে রেখে দুই হাত জোড় করে বলল, "আঙ্কেল, আব্বু, আম্মু... প্লিজ শান্ত হও। আমি সব বুঝিয়ে বলছি।"রাকিব তখন শুরু থেকে সব খুলে বলল। কীভাবে সে সুমিকে ছদ্মবেশে দেখতে চেয়েছিল, কীভাবে আজমল সাহেব তাকে ভুল করে 'রহিম' ভেবে ঘরে তুলে নিয়েছিলেন, আর কীভাবে কোনো উপায় না পেয়ে সে এই অভিনয় চালিয়ে গেছে।সব শুনে তরফদার সাহেব রাগে গরগর করতে করতে বললেন, "তোর এত বড় সাহস! তুই আমাদের মানসম্মান ধুলোয় মিশিয়েছিস! অক্সফোর্ডের ডিগ্রি নিয়ে তুই মানুষের বাড়ি ঝাড়ু দিয়েছিস?!"কিন্তু আজমল সাহেব কিছুক্ষণ চুপ করে থেকে হঠাৎ হাহা করে হেসে উঠলেন। হাসতে হাসতে তার চোখে জল চলে এলো। তিনি তরফদার সাহেবের পিঠে চাপড় মেরে বললেন, "দোস্ত! রাগ করিস না। তোর ছেলে তো রত্ন! আজকের যুগে নিজের জীবনসঙ্গীকে চেনার জন্য একটা ছেলে এত বড় ত্যাগ স্বীকার করতে পারে, এত পরিশ্রম করতে পারে, এটা ভাবাই যায় না। আর ও তো খুব ভালো কেয়ারটেকার ছিল রে!"সুমি তখন লজ্জায় লাল হয়ে ওখান থেকে দৌড়ে নিজের ঘরে চলে গেল। তার মনের ভেতর তখন আনন্দের সানাই বাজছে।অধ্যায় ৫: ধুমধাম করে বিয়ে ও বিস্তারিত উৎসবমিথ্যা ধরা পড়ার পর রাকিবকে আর কাজের ছেলে হিসেবে থাকতে দেওয়া হলো না। তাকে সসম্মানে চৌধুরী ভিলায় ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়া হলো। তবে আজমল সাহেব একটি শর্ত দিলেন, "রাকিব, তুমি তো এক মাস আমার বাসায় কাজ করেছ, এবার জামাই সেজে আসার আগে তোমাকে এক সপ্তাহ সুমির সব হুকুম ফোনের মাধ্যমে পালন করতে হবে।" রাকিব সানন্দে রাজি হলো।পরের মাসেই রাজকীয়ভাবে বিয়ের দিন ঠিক হলো। গুলশানের একটি নামী কনভেনশন হলে তাদের ধুমধাম বিয়ে হল। গল্পটি পরে আপনাদের কার কেমন লেগেছিল একটু লিখে জানাও খুশি হতাম। ধন্যবাদ। 

Comments

    Please login to post comment. Login