আংটি পরানোর পর চারপাশে আনন্দের রেশ এখনো কাটেনি। হাসি, মিষ্টি আর শুভকামনায় ভরে ওঠে পরিবেশ।
এর মাঝেই শারমিন বেগম হালকা হাসি দিয়ে বলে,
"ওদের একটু আলাদা কথা বলতে দাও।
ইনায়া আর রায়হানকে অন্য একটা রুমে যেতে দেওয়া হয়।
রুমে ঢুকে দুজনেই কিছুক্ষণ চুপ হয়ে থাকে। নীরবতাটা যেন একটু অস্বস্তিকর, আবার অদ্ভুত শান্তও।
রায়হান ইনায়ার দিকে গভীর ভাবে তাকায়,
" আপনি আমার বাবাকে কিভাবে রাজি করালেন?আর আব্বু নাকি অনেক চিল্লাচিল্লি করেছে?
কথাটা শুনে হঠাৎই রায়হান হালকা হেসে ফেলে,তারপর ধীরে ধীরে হাসিটা যেন আরো বাড়তে থাকে।
" আংকেল আমাদের বাসায় গিয়ে ছিল ঠিক ই।কিন্তু কোনো চিল্লাচিল্লি করে নি।
রায়হান এবার একটু সামনে গিয়ে বলে,
" আংকেল আমাকে বিকালে দেখা করতে বলে।
দুপুরের পরে বিকাল হয়ে আসছে ঠিক সে সময় আমার বাসার দরজায় টক টক আওয়াজ।
দরজা খুলতেই আমার মা দেখলেন একটা অপরিচিত চেহারা। মুখটা অনেক কড়া আর গম্ভীর । পাঞ্জাবি ঘামে ভেজা।
আমি তখন রুমের ভেতর। আংকেল একটা লম্বা শ্বাস নিয়ে আমার মা কে জিজ্ঞাসা করলেন,
আমার বাবা চেয়ার এগিয়ে দিলেন। কিন্তু আংকেল বসলো না। দাঁড়িয়েই রইলো।
" তোমার কি চাই?
" আমার শুধু ইনায়াকে চাই।আর ইনায়াকে আমার লাগবে।
"আমার মেয়ে কে আমি কখনো কষ্ট পেতে দেইনি। তুমি ওকে সুখে রাখবে তো?
" জি আংকেল আমি ইনায়াকে সুখে রাখব।
" ঠিক আছে কিন্তু আমার একটা শর্ত আছে।
" তুমি ইনায়ার সাথে কোন যোগাযোগ করবে না।
"কিন্তু আরিশা তো বলল, বাবা গিয়ে অনেক চিল্লাচিল্লি করেছে।
রায়হান মাথা নাড়িয়ে হালকা হাসে,
" আংকেল আরিশাকে এসব বলতে বলছে।আর ইহানকে তো বাইরে ঘুরতে পাঠিয়ে দিয়েছে।যেন কিছুই বুঝতে না পারে।
" আপনি তো পারতেন আমাকে বলতে।কেন এতো কষ্ট দিলেন?
" আরে পাগলি আমি তোমাকে বললে তো আর তোমাকে পেতাম না।
ইনায়ার চোখে এখন শুধু অভিমান।আর রায়হানের চোখে একটা শান্ত, অদ্ভুত নিশ্চয়তা।
ইনায়া ধীরে মাথা নেড়ে দরজার দিকে হাঁটতে শুরু করে। আর মনে মনে বলতে থাকে আরুর বাচ্চা তুই আজকে শেষ।