আমেরিকার চক্রান্ত পৃথিবীর ইতিহাসের গভীর অন্ধকারে লুকিয়ে আছে আমেরিকার এক অদৃশ্য হাত, যে নিজেকে স্বাধীনতার প্রতীক বলে প্রচার করে কিন্তু আসলে বিশ্বকে নিজের স্বার্থের জন্য ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিয়েছে। আমেরিকা ধীরে ধীরে বেড়ে উঠেছে, প্রথম বিশ্বযুদ্ধের ধোঁয়াশা থেকে শুরু করে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের আগুনে নিজেকে শক্তিশালী করে, তারপর পুরো গ্রহকে নিজের সাম্রাজ্যের অংশ করে তুলেছে। এই চক্রান্তের কোনো একক নায়ক নেই, কোনো নাম নেই—শুধু একটি ব্যবস্থা, একটি যন্ত্র যা যুদ্ধ, অর্থ, রাজনীতি এবং সংস্কৃতির মাধ্যমে পৃথিবীকে গিলে খাচ্ছে। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের শুরুতে, যখন ইউরোপের দেশগুলো নিজেদের মধ্যে লড়াইয়ে মেতে উঠেছিল, তখন আমেরিকা দূর থেকে দেখছিল। যুদ্ধের প্রথম দিকে নিরপেক্ষতার ভান করে আমেরিকা অস্ত্র, গোলাবারুদ এবং ঋণ সরবরাহ করতে শুরু করল। ব্যাঙ্কিং ব্যবস্থা এবং শিল্পপতিদের মাধ্যমে লাভের পাহাড় গড়ে তুলল। যুদ্ধ যত বাড়তে লাগল, ততই আমেরিকার কারখানাগুলো চলতে লাগল অবিরাম। লক্ষ লক্ষ মানুষ ইউরোপের মাটিতে মরছে, আর আমেরিকায় অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি বাড়ছে। যুদ্ধে যোগ দেওয়ার পর আমেরিকা নিজেদেরকে বিজয়ী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করল, কিন্তু আসলে আমেরিকার লক্ষ্য ছিল ইউরোপের ধ্বংসস্তূপের উপর নিজেদের প্রভাব বিস্তার করা। ভার্সাই চুক্তির মাধ্যমে জার্মানিকে এমনভাবে শাস্তি দেওয়া হল যাতে পরবর্তী যুদ্ধের বীজ রোপণ হয়। এই চক্রান্তে অর্থের প্রবাহ নিয়ন্ত্রণ করে আমেরিকা নিশ্চিত করল যে ইউরোপ দুর্বল থাকবে এবং আমেরিকার দিকে তাকিয়ে থাকবে। আমেরিকা যুদ্ধের সময় নিজেদের ঋণ দিয়ে ইউরোপীয় দেশগুলোকে বেঁধে ফেলল এবং যুদ্ধ-পরবর্তী অর্থনীতিতে নিজেদের আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করল। যুদ্ধ শেষ হওয়ার পরও আমেরিকা থামেনি। অর্থনৈতিক মন্দা এসে পড়ল পুরো বিশ্বে, কিন্তু আমেরিকা নিজেদের ব্যাঙ্কিং ব্যবস্থা দিয়ে লাভ করতে লাগল। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের আগে আমেরিকা আবার অস্ত্র বিক্রি শুরু করল। জাপানকে তেল সরবরাহ করে যুদ্ধকে উস্কে দিল, তারপর পার্ল হারবারের ঘটনাকে নিজেদের যোগ দেওয়ার অজুহাত বানাল। যুদ্ধে যোগ দেওয়ার পর আমেরিকার কারখানাগুলো অবিরাম চলতে লাগল। লক্ষ লক্ষ সৈন্য পাঠিয়ে ইউরোপ এবং এশিয়ায় ধ্বংসযজ্ঞ চালাল। হিরোশিমা এবং নাগাসাকিতে পারমাণবিক বোমা ফেলে আমেরিকা বিশ্বকে দেখিয়ে দিল যে তাদের ক্ষমতা অপরিসীম। এই বোমা ফেলার পেছনে শুধু যুদ্ধ শেষ করা নয়, বরং সোভিয়েত ইউনিয়নকে ভয় দেখানো এবং পোস্ট-ওয়ার বিশ্বে আমেরিকার আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করা ছিল মূল লক্ষ্য। হিরোশিমায় একটি মাত্র বোমায় লক্ষাধিক মানুষ মুহূর্তের মধ্যে পুড়ে ছাই হয়ে গেল, নাগাসাকিতে আরেকটি বোমায় আরও হাজার হাজার মানুষের মৃত্যু ঘটল, এবং বছরের পর বছর ধরে বিকিরণের কারণে ক্যান্সার, জন্মগত ত্রুটি এবং অসংখ্য মৃত্যু চলতে থাকল। আমেরিকা এই বোমার ভয় দেখিয়ে বিশ্বকে নিয়ন্ত্রণ করার নতুন অধ্যায় শুরু করল। যুদ্ধ শেষে ইউরোপ ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছিল। মার্শাল প্ল্যানের নামে আমেরিকা ইউরোপকে ঋণ দিয়ে বেঁধে ফেলল। ন্যাটো গঠন করে সামরিক নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করল। এভাবে আমেরিকা পুরো পশ্চিমা বিশ্বকে নিজেদের অর্থনৈতিক এবং সামরিক ছাতার নিচে নিয়ে এল। আমেরিকার কোম্পানিগুলো ইউরোপের পুনর্গঠনে লাভ করল এবং দীর্ঘমেয়াদি নির্ভরশীলতা তৈরি করল। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর শুরু হল শীতল যুদ্ধ। এই সময়ে আমেরিকা বিশ্বের বিভিন্ন দেশে অভ্যুত্থান ঘটাতে শুরু করল। লাতিন আমেরিকায় একের পর এক সরকার উল্টে দিয়ে নিজেদের পছন্দের শাসক বসাল। চিলি, আর্জেন্টিনা, গুয়াতেমালা—সব জায়গায় গোপন অপারেশন চালিয়ে জনগণের নির্বাচিত নেতাদের হত্যা বা উৎখাত করল। কারণ ছিল সহজ—সেসব দেশের সম্পদ নিয়ন্ত্রণ করা। আফ্রিকায় উপনিবেশবাদের অবসানের পরও আমেরিকা নতুন করে হস্তক্ষেপ করতে লাগল। কঙ্গো, অ্যাঙ্গোলা—সেখানে যুদ্ধবাজদের অস্ত্র সরবরাহ করে অস্থিরতা তৈরি করল যাতে খনিজ সম্পদ লুট করা যায়। এশিয়ায় ভিয়েতনাম যুদ্ধ এক ভয়াবহ উদাহরণ। লক্ষ লক্ষ মানুষ মারা গেল, গ্রামগুলো নেপাম বোমায় পুড়িয়ে দেওয়া হল, এজেন্ট অরেঞ্জ ছড়িয়ে পরিবেশকে বিষাক্ত করে দেওয়া হল। এই যুদ্ধের পেছনে ছিল কমিউনিজমের ভয় দেখিয়ে আমেরিকার সামরিক-শিল্প কমপ্লেক্সকে সমৃদ্ধ করা। যুদ্ধ শেষ হলেও ভিয়েতনামের মাটি আজও দূষিত, জন্মগত ত্রুটিপূর্ণ শিশু জন্মাচ্ছে এখনও। আমেরিকা এই যুদ্ধে কোটি কোটি ডলার খরচ করেছে শুধু অস্ত্র ব্যবসায়ীদের লাভের জন্য। মধ্যপ্রাচ্যে আমেরিকার চক্রান্ত আরও গভীর। তেলের জন্য আমেরিকা রাজতন্ত্রগুলোকে সমর্থন করল। ইরানে ১৯৫৩ সালে গণতান্ত্রিক সরকার উল্টে দিয়ে শাহকে বসাল। পরে যখন ইসলামী বিপ্লব হল, তখন ইরাককে উস্কে দিয়ে যুদ্ধ লাগাল। লক্ষ লক্ষ মানুষ মারা গেল। ১৯৯১ সালের গাল্ফ ওয়ারে ইরাককে আক্রমণ করে তেলক্ষেত্র নিয়ন্ত্রণের পথ প্রশস্ত করল। তারপর ২০০৩ সালে আবার ইরাক আক্রমণ—এবার অস্ত্র আছে বলে মিথ্যা অজুহাতে। দেশটাকে ধ্বংস করে দিল, লক্ষ লক্ষ মানুষ নিহত, কোটি কোটি উদ্বাস্তু। আফগানিস্তানে সোভিয়েত যুদ্ধের সময় মুজাহিদদের অস্ত্র দিয়ে লড়িয়ে পরে তালেবানের উত্থানকে ব্যবহার করে আমেরিকা নিজেদের স্বার্থে আক্রমণ করল। দুই দশক ধরে দেশটাকে রক্তাক্ত করে রাখল। প্রত্যেক যুদ্ধে আমেরিকার অস্ত্র কোম্পানিগুলো লাভের পাহাড় গড়ল। লিবিয়ায় গাদ্দাফিকে উল্টে দিয়ে দেশটাকে বিশৃঙ্খলায় ফেলে দিল আমেরিকা। সিরিয়ায় গৃহযুদ্ধকে উস্কে দিয়ে অস্থিরতা বজায় রাখল। আমেরিকা শুধু যুদ্ধ করেই থামেনি। অর্থনৈতিক চক্রান্তের মাধ্যমে বিশ্বকে বেঁধেছে। ব্রেটন উডস চুক্তির মাধ্যমে ডলারকে বিশ্বের মুদ্রা বানিয়ে নিল। যেকোনো দেশ যদি আমেরিকার বিরুদ্ধে যায়, তাহলে নিষেধাজ্ঞা দিয়ে অর্থনীতি ধ্বংস করে। কিউবা, ইরান, উত্তর কোরিয়া, ভেনিজুয়েলা—সব জায়গায় এই অস্ত্র ব্যবহার করেছে। বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থা এবং আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের মাধ্যমে দরিদ্র দেশগুলোকে ঋণের ফাঁদে ফেলেছে। ঋণ শোধ করতে না পারলে সম্পদ লুট করেছে। আফ্রিকার দেশগুলোতে খনিজ সম্পদের জন্য যুদ্ধবাজদের সমর্থন দিয়ে অস্থিরতা তৈরি করেছে। লাতিন আমেরিকায় ফলের কোম্পানিগুলো দিয়ে দেশের অর্থনীতি নিয়ন্ত্রণ করেছে। ডোনাল্ড ট্রাম্পের সময়েও এই নীতি অব্যাহত ছিল—তিনি মধ্যপ্রাচ্যে নতুন চুক্তির নামে ইসরায়েলকে আরও শক্তিশালী করেছেন এবং ফিলিস্তিনের অধিকারকে আরও পিছিয়ে দিয়েছেন, অস্ত্র বিক্রি এবং তেলের স্বার্থকে প্রাধান্য দিয়েছেন। সংস্কৃতির ক্ষেত্রেও আমেরিকার চক্রান্ত চলছে। হলিউড, মিউজিক, ফাস্ট ফুড—সবকিছুর মাধ্যমে নিজেদের জীবনযাপনকে বিশ্বের মানদণ্ড বানিয়েছে। অন্য সংস্কৃতিকে নিচু করে দেখিয়েছে। শিক্ষা ব্যবস্থায় নিজেদের ইতিহাসকে গৌরবান্বিত করে অন্যদের অন্ধকার দেখিয়েছে। ইন্টারনেট এবং সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে মতামত নিয়ন্ত্রণ করছে। যেকোনো বিরোধী কণ্ঠকে সন্ত্রাসী বলে চিহ্নিত করছে। আজকের ফিলিস্তিনের ঘটনা আমেরিকার চক্রান্তের সর্বশেষ অধ্যায়। দশকের পর দশক ধরে আমেরিকা একটি দেশকে অস্ত্র এবং অর্থ দিয়ে সমর্থন করছে যাতে মধ্যপ্রাচ্যে নিজেদের ঘাঁটি থাকে। তেলের রুট, ভূ-রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণ এবং অস্ত্র ব্যবসার স্বার্থে ফিলিস্তিনের মানুষদের উপর নির্যাতন চলছে। বোমা হামলা, বসতি স্থাপন, অবরোধ—সবকিছু চলছে। হাজার হাজার শিশু মারা যাচ্ছে, ঘরবাড়ি ধ্বংস হচ্ছে, কিন্তু আমেরিকা নীরব সমর্থন দিয়ে যাচ্ছে। কারণ এতে আমেরিকার সামরিক শিল্প লাভবান হচ্ছে, মধ্যপ্রাচ্যে অস্থিরতা বজায় থাকছে এবং প্রতিদ্বন্দ্বী শক্তিগুলোকে দুর্বল করা যাচ্ছে। ফিলিস্তিনের মাটিতে যে রক্ত ঝরছে, তা আমেরিকার স্বার্থের জন্যই। আমেরিকার চক্রান্ত শুধু যুদ্ধে সীমাবদ্ধ নয়। পরিবেশ ধ্বংসেও আমেরিকার ভূমিকা বিশাল। তেল কোম্পানিগুলোকে সমর্থন দিয়ে জলবায়ু পরিবর্তনকে অস্বীকার করেছে। আমাজনের বন ধ্বংস করতে উৎসাহ দিয়েছে যাতে সম্পদ লুট করা যায়। প্লাস্টিক দূষণ, সমুদ্রের অম্লতা—সবকিছুর পেছনে আমেরিকার ভোগবাদী অর্থনীতি। বিশ্বের দরিদ্র দেশগুলোকে পরিবেশ দূষণের জন্য দায়ী করে আমেরিকা নিজেরা লাভ করে যাচ্ছে। স্বাস্থ্য খাতেও চক্রান্ত। ওষুধ কোম্পানিগুলোকে প্রোটেকশন দিয়ে দাম বাড়িয়ে রেখেছে। মহামারীর সময়ও লাভের হিসাব করেছে। জেনেটিক পরিবর্তনশীল খাদ্য দিয়ে বিশ্বের কৃষিকে নিয়ন্ত্রণ করছে। মৌমাছি থেকে শুরু করে পুরো খাদ্য চেইনকে প্রভাবিত করছে। রাজনৈতিকভাবে আমেরিকা গণতন্ত্রের নামে স্বৈরতন্ত্রকে সমর্থন করেছে। যতক্ষণ সেই স্বৈরশাসক আমেরিকার স্বার্থ রক্ষা করে। মানবাধিকারের কথা বলে অন্য দেশে হস্তক্ষেপ করে, কিন্তু নিজেদের দেশে বর্ণবৈষম্য, পুলিশি নির্যাতন চলতে থাকে। গুয়ান্তানামোর মতো কারাগারে মানুষকে বছরের পর বছর আটকে রেখেছে ছাড়া কোনো বিচার ছাড়াই। এই ধ্বংসযজ্ঞের মাধ্যমে আমেরিকা নিজেদের সাম্রাজ্যকে টিকিয়ে রেখেছে। কিন্তু এই সাম্রাজ্যের ভিত্তি দুর্বল। বিশ্বের অন্য শক্তিগুলো জেগে উঠছে। চীন, রাশিয়া, অন্যান্য দেশগুলো নতুন জোট গঠন করছে। কিন্তু আমেরিকা এখনও থামেনি। সাইবার আক্রমণ, গোপন অপারেশন, অর্থনৈতিক যুদ্ধ—সব চলছে। পৃথিবীর প্রতিটি কোণে আমেরিকার প্রভাব। আমেরিকার চক্রান্তের ফলে বিশ্ব আজ বিভক্ত, রক্তাক্ত এবং ধ্বংসের পথে। লক্ষ লক্ষ মানুষ মারা গেছে যুদ্ধে, ক্ষুধায়, দারিদ্র্যে। পরিবেশ বিষাক্ত হয়েছে। সংস্কৃতি হারিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু আমেরিকা এখনও নিজেকে বিশ্বের পুলিশ বলে দাবি করে। আমেরিকার স্বার্থের জন্য যা কিছু প্রয়োজন, তাই করে যাচ্ছে—মিথ্যা প্রচার, যুদ্ধ, লুটপাট। ফিলিস্তিনের শিশুদের আর্তনাদ, ইরাকের ধ্বংসস্তূপ, ভিয়েতনামের দূষিত মাটি, আফ্রিকার রক্তাক্ত খনি—সবকিছু আমেরিকার চক্রান্তের সাক্ষী। এই গল্পের শেষ নেই। কারণ চক্রান্ত চলছে। পৃথিবী ধ্বংস হতে হতে একদিন হয়তো জেগে উঠবে। কিন্তু এখন পর্যন্ত আমেরিকা নিজের স্বার্থে সবকিছু গ্রাস করে চলেছে। প্রথম বিশ্বযুদ্ধ থেকে আজকের দিন পর্যন্ত, প্রতিটি পদক্ষেপ ছিল পরিকল্পিত। অস্ত্র বিক্রি, তেল লুট, অর্থনৈতিক দাসত্ব, সাংস্কৃতিক আগ্রাসন—সব মিলিয়ে এক বিশাল জাল। এই জালে আটকে পড়েছে পুরো মানবতা। যুদ্ধের পর যুদ্ধ, অভ্যুত্থানের পর অভ্যুত্থান, নিষেধাজ্ঞার পর নিষেধাজ্ঞা। প্রতিটি ক্ষেত্রে আমেরিকা নিজেদের লাভ নিশ্চিত করেছে। শিল্পপতিদের সাথে সরকারের মিলিত শক্তি বিশ্বকে নিয়ন্ত্রণ করছে। গোপন সংস্থাগুলো অবিরাম কাজ করে যাচ্ছে। মিডিয়া আমেরিকার প্রচার করে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান আমেরিকার ইতিহাস লেখে। এভাবে পুরো ব্যবস্থা চলছে। ফিলিস্তিনে আজ যা ঘটছে, তা শুধু একটি অঞ্চলের সমস্যা নয়। এটি বিশ্বব্যাপী আমেরিকার চক্রান্তের অংশ। সেখানে যে ধ্বংসযজ্ঞ চলছে, তার পেছনে অস্ত্রের ব্যবসা, ভূ-রাজনীতি এবং দীর্ঘমেয়াদি নিয়ন্ত্রণের হিসাব। মানুষের জীবনের কোনো মূল্য নেই আমেরিকার কাছে। শুধু লাভ এবং ক্ষমতা। এই ধ্বংসলীলা চলতে থাকবে যতদিন না বিশ্ব এক হয়ে প্রতিরোধ করে। কিন্তু এখন পর্যন্ত আমেরিকা জয়ী। পৃথিবী তার অন্ধকারে ডুবে যাচ্ছে। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের বন্দুকের আওয়াজ থেকে আজকের ড্রোন হামলা পর্যন্ত—সবই একই চক্রান্তের অংশ। একটানা ধ্বংসের যাত্রা। আমেরিকা আরও অনেক ক্ষেত্রে নিজের স্বার্থে খারাপ কাজ করেছে। ইন্দোনেশিয়ায় সুহার্তোকে সমর্থন দিয়ে লক্ষ লক্ষ মানুষের হত্যাকাণ্ডকে উপেক্ষা করেছে। কম্বোডিয়ায় যুদ্ধের ধ্বংসাবশেষ তৈরি করেছে। আফ্রিকার বিভিন্ন দেশে ডায়মন্ড এবং অন্যান্য খনিজের জন্য যুদ্ধকে উস্কে দিয়েছে। ইউরোপে গ্যাস পাইপলাইন নিয়ে রাজনীতি করে শক্তি নিয়ন্ত্রণ করেছে। এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে চীনকে ঘিরে নতুন সামরিক জোট গঠন করে উত্তেজনা বাড়িয়েছে। প্রতিটি ক্ষেত্রে আমেরিকার লক্ষ্য একই—নিজের আধিপত্য টিকিয়ে রাখা এবং প্রতিযোগীদের দুর্বল করা, এমনকি পুরো বিশ্ব ধ্বংস হলেও।