নিলিমা একদিন হঠাৎ দেখতে পেল তার শাশুড়ি বিনীতা দিদি অনামিকার সাথে বলছে। আড়ালে দাঁড়িয়ে সে সব কথা শুনতে লাগলো। বিনীতা দিদি বলছিলেন তোমার কি মনে আছে সেদিনের কথা। যেদিন আমি ওই মেয়েটার বিয়ে কিভাবে ভেঙে দিয়েছিলাম। আমি নিলয় কে ভুল বুঝিয়ে বলেছিলাম,, নীলিমা বাসা থেকে চলে গেছে তার সাথে তার পরিবার। ও আমার কথাই বিশ্বাস করে নিয়েছিল। বেচারিনি নীলিমা কিছু আন্দাজ ও করতে পারল না। এখন তুমি অপেক্ষা কর ও আগে সরে যাক তারপর আমি তোমাদের ধুমধাম করে বিয়ে দেবো। নীলিমা কথাগুলো শুনে তখনই নিলয়ের কাছে গেল। সে তাকে বললো কিছুই ঠিক নয় নিলয়। তোমার মা ষড়যন্ত্র করে আমাদের দুজনকে ভুল বুঝিয়েছে। তোমার মা তোমাকে মিথ্যা বলে মেহেন্দির অনুষ্ঠানে আসতে দেয়নি। আর তুমি আমাকে ভুল বুঝেছ আমিও তোমাকে ভুল বুঝেছি। নিলয় অবিশ্বাস করল সে বলল আমি আমার মাকে সম্পূর্ণ বিশ্বাস করি। তুমি একথা এ কারণে বলছো যে আমার মায়ের একটা মিথ্যা আমি জানতে পেরেছি তাই বলে আমি আমার মাকে কেউ যদি এখন মিথ্যা বলে তাহলে আমি সম্পূর্ণ বিশ্বাস করব। তাই না। তুমি কি ভেবেছো তুমি আমাকে যা বুঝাবে আমি তাই বুঝবো। তখন নীলিমা বলল,তুমি আমাকে বিশ্বাস করো বা না কর তাতে আমার যায় আসে না বুঝলে। কিন্তু আমি সত্যিটা প্রমাণ করতে চাই সত্যিটা সবার সামনে আঙুল দেখিয়ে ঠিক তুলে ধরবো। চলো গ্রামের লোকের কাছে তারাই সব সত্যি বলবে। তখন নিলয় বলল তারা কি সত্যি বলে আমিও শুনতে চাই চলো। নিলয় গ্রামে গেল। সে গ্রামের লোকদের জিজ্ঞাসা করল মেহেন্দির দিন কি নীলিমা ও তার পরিবার সেখানে উপস্থিত ছিল। কিছু জন বলল আমরা তো জানি না। আর কিছু জন বলল ও উপস্থিত ছিল।কিন্তু সেদিন তোমরাই তো অনুপস্থিত ছিলে। মেয়েটির পরিবার ও মেয়েটি খুব কেঁদেছে সেদিন। সেদিন আমাদের আজও ভুলবার নয়। তোমরা এমনটি মেয়েটির সাথে কিভাবে করতে পারলে। তখন নিলয় এতজনের কথা অবিশ্বাস করতে পারবো না।সে বাড়ি ফিরে গিয়ে তার মাকে বলল নীলিমাকে সঙ্গে নিয়ে। আপনি আমাদের সাথে এরকম কেন করলেন। বিনীতা দিদি বললেন আমি তোমাদের সাথে কি করেছি। নিলয় বলল আপনি আমাদের মেহেদি দিন সম্পর্ক ভেঙ্গেগেছেন। ভুল বুঝিয়েছেন একে অপরকে। আর আপনি বলছেন আপনি কি করেছেন। নিলয় মা অস্বীকার করল সে বলল না। আমি এমন কিছু করিনি। তুই ওই মেয়ের কথায় আমায় অবিশ্বাস করতে পারিস না। তখন নিলয় বলল আমি ওই মেয়ের কথায় তোমায় অবিশ্বাস করছি না। বরং গ্রামের অধিকাংশ লোকের কথায় আমি বুঝতে পেরেছি তোমার ষড়যন্ত্র। নিলয় বলল মা চুপ তোমার মুখ থেকে আমি আর একটা কথা শুনতে চাই না। নিলয় মা ন্যাকা কান্না করতে লাগলো। নীলিমা ফোন বেজে ওঠায় তার ঘরে চলে গেল। নীলিমা ফোনটি ধরে আকাশে গলার কণ্ঠস্বর শুনতে পারলো। আকাশ তাকে বলল কেমন আছো নীলিমা। নীলিমা বললো , আছি। তুমি কেমন আছো ? আকাশ বলল ভালো আছি। তবে তোমাকে ছাড়া বেশ তেমন না। সে বলল আমি খুব তাড়াতাড়ি তোমাকে নিতে চলে আসব। নীলিমা আমি তোমাকে নিজের বউ বানিয়ে ওই ঠকবাজ নিলয়ের কাছ থেকে নিয়ে যেতে চাই।তুমি কি যেতে রাজি আছো। তুমি ওকে ডিভোর্স দেবে। নীলিমা ফোন ধরে কিছুক্ষণ চুপ রইলো। সে কোন জবাব দিতে পারল না। কারণ তার নিলয় ঠকবাজ নয় বরং ঠকবাজের শিকার।
গল্পের পঞ্চম পর্বটি একটু দেরি করে আসবে।