Posts

উপন্যাস

এক ছাতার নিচে। পর্ব:৫৭

July 3, 2026

busra islam

42
View

# গল্প- এক ছাতার নিচে

 # লেখিকা- বুশরা নাদরাহ 

# পর্ব- ৫৭  

 

 দেখতে দেখতে সময়টা যেন উড়ে গেল। একটু একটু কথা, লাজুক মুহূর্ত, ছোট ছোট অনুভূতি। সবকিছুর মাঝে হঠাৎ করেই বিয়ের দিনটা চলে এলো। 

 

 আজ ইনায়ার হলুদের দিন। সকাল থেকেই হুলুদের হইচই।  ভোরের আলো ফোটার আগেই ইনায়াদের বাড়িটা জেগে উঠলো। 

 

 সকাল 7টা বাজতে না বাজতেই একে একে মানুষ আসা শুরু করলো।  আত্মীয়-স্বজন, পাড়ার খালা-চাচি, ইনায়ার বান্ধবীরা। 

 

পুরো বাড়িটা একদম ভরে গেছে।  উঠানে বড় প্যান্ডেল টানানো হয়েছে। চারপাশে গাঁদা আর রজনীগন্ধার মালা ঝুলছে।   

 

  ইনায়ার রুমের সামনে পা ফেলার জায়গা নেই।   সবাই একবার করে উঁকি দিয়ে দেখছে,

  "হলুদের কনে কই?  

 

 ইনায়া লজ্জায় বারবার ওড়না টানছে, আর তা দেখে বান্ধবীরা খিলখিল করে হাসছে। বাইরে তখন আরও মানুষ আসছে।  বাড়ির উঠান, বারান্দা, এমনকি রুমে রুমেও মানুষে গিজগিজ করছে।  

 

সন্ধ্যা নামতেই ইনায়াদের বাড়িটা যেন অন্যরকম হয়ে গেল।  পুরা বাড়ি লাইট দিয়ে সাজানো।  উঠানের চারপাশে ঝিকিমিকি ঝাড়বাতি। গাছের ডালে ডালে টুনি লাইট। ছাদের কার্নিশে, বারান্দার রেলিংয়ে আলোর মালা। মেইন গেট থেকেও আলো ঝুলছে।  হলুদ, কমলা, সাদা আলো। সব আলো মিলে বাড়িটা একটা সপ্নের রাজবাড়ীর মতো লাগছে।  

 

পুরো বাড়ি জুড়ে হলুদ রঙ,সবাই হলুদ শাড়ি পরেছে।   উঠানে গান বাজছে, সবাই মিলে হাসাহাসি করছে । বাচ্চারা দৌড়াচ্ছে।হাসি খুশিতে ভরে গেছে চারপাশ।

 

  হঠাৎ তিন-চারটা বান্ধবী এসে ইনায়াকে ঘিরে ধরলো। একটা জরি দেওয়া হলুদ ওড়না মাথার উপর দিয়ে ধরলো চাঁদোয়ার মতো করে। 

 

 "আয় আয়, কনেকে স্টেজে তুলি। 

 

 সবাই মিলে হাসতে হাসতে বললো।  ইনায়া লজ্জায় একদম কুঁকড়ে গেল। মাথা নিচু করে, ওড়নার আড়ালে মুখ লুকিয়ে ফেললো।  

 

 চারপাশে সবাই তখন হৈ-হুল্লোড় আর হাততালি দিতে লাগল।

 

ওড়নার নিচে শুধু ইনায়ার সবুজ শাড়ির পাড় আর মেহেদী রাঙা হাত দুটো দেখা যাচ্ছিল। ধীরে ধীরে সবাই মিলে ওকে স্টেজ পর্যন্ত নিয়ে গেল।  স্টেজের মাঝখানে বসিয়ে দিতেই ওড়নাটা আস্তে করে সরিয়ে দেওয়া হলো। 

 

তারপর একে একে সবাই ইনায়াকে হলুদ দিতে এলো।  বড়রা আদর করে গালে, হাতে, কপালে হলুদ ছোঁয়ালো।  

 

  হলুদ দেওয়া শেষ হতেই সাউন্ড বক্সের  ভলিউমটা আরো বাড়ায়ে দিল। আর সাথে সাথেই শুরু হলো নাচের পর্ব।  সব মেয়েরা ইনায়াকে মাঝখানে নিয়ে গোল হয়ে নাচতে লাগলো। ইনায়াও প্রথমে লজ্জা পাচ্ছিল, তারপর ধীরে ধীরে তাল মেলালো। 

 

ঠিক তখনই বাইরে থেকে হইচই শোনা যায়। অনেকগুলো বাইকের শব্দ। 

 

  "রায়হানের বন্ধুরা আসছে

 

  সবাই একসাথে তাকায় দরজার দিকে।  বাইকগুলো একে একে থামে। রায়হান আর তার বন্ধুরা হাসতে হাসতে ভেতরে ঢোকে।  কিন্তু ভেতরে ঢুকেই রায়হান থেমে যায়।  তার চোখ পড়ে স্টেজের উপর।  ইনায়া আর ওর বান্ধবীরা তখনো নাচছে।  

 

ইনায়ার চুলে ফুলের গাজরা, মুখে হাসি, চারপাশে হলুদের আলো।  রায়হান একদম চুপ হয়ে তাকিয়ে থাকে। মনে হয় যেন সময়টাই থেমে গেছে।  

 

গান শেষ হতেই ইনায়া ধীরে ঘুরে দাঁড়ায়। আর তখনই তার চোখ পড়ে রায়হানের দিকে।   রায়হান ওর দিকেই তাকিয়ে আছে, একদম হা করে।  ইনায়া এক মুহূর্তে লজ্জায় পড়ে যায়।   চোখ নিচু হয়ে আসে, ঠোঁটে ছোট্ট একটা হাসি।

 

  রায়হান ধীরে ধীরে ওর সামনে এসে দাঁড়ায়।  নরম গলায় বলে,   

 

"তুমি এত সুন্দর নাচতে পারো আগে কখনো বলোনি তো।  

 

ইনায়া মুচকি হেসে বলে,  

 

 "আপনি কখনো জানতে চেয়েছেন?

 

 "এখন থেকে তুমি প্রতিদিন নাচবে আর আমি বসে বসে দেখব। 

 

 ইনায়া কিছু বলতে পারে না। শুধু লাজুকভাবে হাসে।  

 

তারপর আস্তে করে নিজের হাতটা সামনে বাড়িয়ে দেয়। মেহেদী দেওয়া হাত। তালুর মাঝখানে একটা জায়গা খালি।  

 

রায়হান অবাক হয়ে তাকায়,

 

  "এইখানে খালি রাখছো কেন?  

 

ইনায়া চোখ নামিয়ে ফিসফিস করে বলে,  

 

 "আমার জামাইয়ের নাম লিখবো তাই খালি রাখছি।  

 

কথাটা শুনে রায়হানের মুখে মিষ্টি হাসি ফুটে ওঠে। আরিশা দৌড়ে মেহেদী এনে দেয়।

 

  রায়হান আস্তে করে ইনায়ার হাতটা ধরে,  তারপর ধীরে ধীরে মেহেদী দিয়ে লেখে ,,রায়হান,,  

 

ইনায়া চুপ করে তাকিয়ে থাকে। ওর চোখে খুশির ঝিলিক, মুখে লাজুক হাসি।  

 

নাম লেখা শেষ করে রায়হান বড় বড় চোখ করে ইনায়ার দিকে তাকায়।  

 

"এমন করে তাকাচ্ছো যেন মনে হচ্ছে এখনই চোখ দিয়ে খেয়ে ফেলবে।

 

 রায়হান ফিসফিস করে বলে,

 

 "কালকের রাতটা আসুক জান তারপরেই দেখো, চোখ দিয়ে খাই নাকি অন্য কিছু দিয়ে।

Comments

    Please login to post comment. Login