কপোতাক্ষ নামটি সংস্কৃত ভাষা থেকে এসেছে। "কপোত" শব্দের অর্থ পায়রা এবং "অক্ষ" শব্দের অর্থ চোখ। এই দুটি শব্দ মিলিয়ে কপোতাক্ষ শব্দের আক্ষরিক অর্থ দাঁড়ায় "পায়রার চোখের মতো সুন্দর" বা "পায়রার চোখবিশিষ্ট"। ধারণা করা হয়, নদীর শান্ত, স্বচ্ছ ও মনোমুগ্ধকর সৌন্দর্যের কারণেই প্রাচীনকালে এর এমন নামকরণ করা হয়েছিল।
আরেকটি প্রচলিত লোককথা অনুযায়ী, অতীতে নদীর তীরজুড়ে অসংখ্য বুনো পায়রার বসবাস ছিল। নদীর শান্ত পরিবেশে পায়রার ঝাঁক উড়ে বেড়াত, তাই স্থানীয় মানুষের মুখে মুখে নদীটির নাম হয়ে ওঠে "কপোতাক্ষ"। যদিও এই মতের পক্ষে নির্ভরযোগ্য ঐতিহাসিক প্রমাণ নেই, তবু এটি লোকঐতিহ্যের অংশ হিসেবে পরিচিত।
বাংলা সাহিত্যেও কপোতাক্ষ নামটি বিশেষ মর্যাদা লাভ করেছে। মহাকবি মাইকেল মধুসূদন দত্ত তাঁর বিখ্যাত কবিতা "কপোতাক্ষ নদ"-এ এই নদীকে মাতৃভূমির স্মৃতি, শৈশব এবং আবেগের প্রতীক হিসেবে অমর করে তুলেছেন।
12
View