Posts

নন ফিকশন

✦মহানবীর﷽জীবনী✦ পর্ব 2

July 4, 2026

Md Josam

Original Author মোঃ জসিম

Translated by মোঃ জসিম

8
View

✦মহানবীর﷽জীবনী✦
পর্ব ২: নবুয়্যতের আলো ও মক্কার কঠিন দিনগুলো (প্রথম ওহী থেকে হিজরতের প্রাক্কাল পর্যন্ত)
বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম। আলহামদুলিল্লাহ, প্রথম পর্বে আমরা মহানবী হযরত মুহাম্মদ ﷺ-এর জন্ম, শৈশবের অনাথত্ব, যৌবনের সততা এবং খাদিজা (রা.)-এর সাথে বিবাহ পর্যন্ত বিস্তারিত দেখেছি। এই দ্বিতীয় পর্বটি প্রথম পর্বের চেয়েও অনেক বড় এবং বিস্তৃত করা হয়েছে। এতে নবুয়্যতের শুরু, প্রথম ওহী, গোপন ও প্রকাশ্য দাওয়াত, কুরাইশদের নির্যাতন, সাহাবীদের ত্যাগ, আবিসিনিয়ায় হিজরত, বয়কট, আবু তালিব ও খাদিজা (রা.)-এর ইন্তেকাল এবং হিজরতের প্রস্তুতি পর্যন্ত ঘটনাপ্রবাহ কভার করা হয়েছে। ঐতিহাসিক সূত্র (ইবনে ইসহাক, ইবনে হিশাম, তাবারী, সহীহ বুখারী-মুসলিমের বর্ণনা) অনুসরণ করে নন-ফিকশন আকারে লেখা। এ পর্ব পড়তে প্রায় আড়াই থেকে তিন ঘণ্টা বা তারও বেশি সময় লাগতে পারে, কারণ বিস্তারিত প্রেক্ষাপট, প্রত্যেক ঘটনার পটভূমি, মানসিকতা, শিক্ষা এবং প্রভাব যোগ করা হয়েছে।
হেরা গুহায় ধ্যান এবং প্রথম ওহী (৬১০ খ্রিস্টাব্দ)
নবীজি ﷺ চল্লিশ বছর বয়সে পৌঁছে মক্কার আশেপাশের পাহাড়ে, বিশেষ করে জাবালে নূরের হেরা গুহায় নির্জনে ধ্যান করতেন। তিনি জাহিলিয়াতের অন্ধকার দেখে মর্মাহত হতেন। খাদিজা (রা.) তাঁকে খাবার পাঠিয়ে দিতেন।
এক রাতে, রমজান মাসের ১৭ তারিখ (লাইলাতুল কদরের কাছাকাছি), জিবরাঈল (আ.) আসেন। তিনি বলেন, “ইকরা! পড়!” নবীজি ﷺ বলেন, “আমি পড়তে জানি না।” জিবরাঈল তাঁকে জড়িয়ে ধরে চাপ দেন, তিনবার। তারপর প্রথম পাঁচ আয়াত নাজিল হয় (সূরা আলাক ৯৬:১-৫):
“পড় তোমার রবের নামে, যিনি সৃষ্টি করেছেন...”
নবীজি ﷺ কাঁপতে কাঁপতে ঘরে ফিরে খাদিজা (রা.)-কে বলেন, “আমাকে ঢেকে দাও।” খাদিজা (রা.) তাঁকে সান্ত্বনা দেন এবং ওয়ারাকা ইবনে নওফলের কাছে নিয়ে যান। ওয়ারাকা, যিনি খ্রিস্টধর্মের জ্ঞানী ছিলেন, বলেন, “এই তো সেই নামুস (জিবরাঈল) যা মুসা (আ.)-এর কাছে এসেছিল। তুমি এই উম্মতের নবী।”
এরপর কিছুদিন ওহী বন্ধ থাকে (ফাতরাতুল ওহী), যা নবীজিকে ﷺ দুঃখিত করে। তারপর আবার ওহী আসতে শুরু করে। প্রথম দিকে গোপনে ইসলাম প্রচার। প্রথম বিশ্বাসী: খাদিজা (রা.), আলী (রা.) (তখন শিশু), জায়েদ ইবনে হারিসা (রা.) এবং আবু বকর (রা.)। আবু বকর (রা.)-এর মতো সম্মানিত ব্যক্তির ইসলাম গ্রহণ অনেককে প্রভাবিত করে।
গোপন দাওয়াত থেকে প্রকাশ্য দাওয়াত
তিন বছর গোপন দাওয়াত চলে। প্রায় ৪০ জন সাহাবী ইসলাম গ্রহণ করেন। তারপর আল্লাহর নির্দেশে প্রকাশ্য দাওয়াত শুরু হয়। নবীজি ﷺ সাফা পাহাড়ে উঠে ডাকেন, “ইয়া সাবাহাহ!” (সকালের বিপদ!) কুরাইশরা এলে তিনি বলেন, “যদি আমি বলি যে শত্রু তোমাদের আক্রমণ করবে, তোমরা বিশ্বাস করবে কি?” তারা বলে, “হ্যাঁ।” তখন তিনি বলেন, “তাহলে আমি তোমাদেরকে আল্লাহর শাস্তি থেকে সতর্ক করছি।”
আবু লাহাব (তাঁর চাচা) রেগে যান এবং অপমান করেন। কিন্তু এ ঘটনা দাওয়াতের সূচনা করে। নবীজি ﷺ প্রতিদিন কাবায়, বাজারে, সমাবেশে তাওহীদের বাণী প্রচার করতেন: “আল্লাহ এক, মূর্তি পূজা ছেড়ে দাও, কিয়ামত আছে, হিসাব আছে।”
কুরাইশদের বিরোধিতা ও নির্যাতনের শুরু
কুরাইশদের অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক স্বার্থ কাবার মূর্তিপূজায় জড়িত ছিল। তাওহীদের বাণী তাদের ব্যবসা ও মর্যাদায় আঘাত করল। তারা প্রথমে উপহাস, তারপর অপমান, তারপর নির্যাতন শুরু করে।
দুর্বল সাহাবীদের উপর অত্যাচার: বিলাল (রা.)-কে গরম বালিতে শুইয়ে পাথর চাপা দেওয়া হতো। সুমাইয়া (রা.) এবং ইয়াসির (রা.) শহীদ হন। আম্মার (রা.)-কে নির্যাতন করা হয়।
আবু বকর (রা.)-কে মারধর করা হয়।
নবীজিকে ﷺ নিজেকে অপমান সহ্য করতে হয়। একবার কাবায় নামাজরত অবস্থায় উটের নাড়িভুঁড়ি তাঁর উপর ফেলা হয়।
কিন্তু নবীজি ﷺ ধৈর্য ধরতেন এবং বলতেন, “আল্লাহ আমাকে রহমত হিসেবে পাঠিয়েছেন।”
আবিসিনিয়ায় প্রথম ও দ্বিতীয় হিজরত
নির্যাতন বাড়লে নবীজি ﷺ সাহাবীদের আবিসিনিয়া (ইথিওপিয়া)-এর ন্যায়পরায়ণ খ্রিস্টান রাজা নাজ্জাশীর কাছে পাঠান (৬১৫ খ্রি.)। প্রথম দলে ১১ জন পুরুষ ও ৪ জন নারী। পরে আরও বড় দল।
নাজ্জাশীর দরবারে কুরাইশ প্রতিনিধিরা অভিযোগ করে। জাফর ইবনে আবি তালিব (রা.) সুন্দর বক্তৃতা দেন: ইসলামের শিক্ষা, ঈসা (আ.) সম্পর্কে কুরআনের বাণী (সূরা মরিয়াম) তেলাওয়াত করেন। নাজ্জাশী কাঁদেন এবং মুসলিমদের আশ্রয় দেন। এটি ইসলামের প্রথম আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির মতো। কুরাইশদের পরিকল্পনা ব্যর্থ হয়।
বয়কটের কঠিন সময় (৬১৭-৬১৯ খ্রি.)
কুরাইশরা বনু হাশিম ও বনু মুত্তালিবের বিরুদ্ধে অর্থনৈতিক বয়কট ঘোষণা করে। কোনো কেনাবেচা, বিবাহ, সম্পর্ক নিষিদ্ধ। তারা শিবে আবি তালিবে (একটি উপত্যকায়) আটকে রাখে। তিন বছর ধরে চরম দুর্ভিক্ষ। লোকেরা পাতা-ঘাস খেত। নবীজি ﷺ ও তাঁর পরিবার কষ্ট সহ্য করেন। খাদিজা (রা.) তাঁর সম্পদ দিয়ে সাহায্য করতেন।
শেষে কিছু সহানুভূতিশীল কুরাইশ (যেমন হিশাম ইবনে আমর) বয়কট ভঙ্গ করে। কিন্তু এ সময় নবীজির জীবনে বড় শোক নেমে আসে।
‘আমুল হুজন’ – শোকের বছর (৬১৯ খ্রি.)
এ বছর আবু তালিব ও খাদিজা (রা.) উভয়েই ইন্তেকাল করেন। আবু তালিব মুসলিম না হলেও নবীজিকে ﷺ সারাজীবন রক্ষা করেছেন। খাদিজা (রা.) ছিলেন প্রথম বিশ্বাসী, সম্পদ ও সান্ত্বনার উৎস। নবীজি ﷺ বলতেন, “খাদিজার মতো আর কেউ পাইনি।” এ বছরকে ‘শোকের বছর’ বলা হয়।
এরপর নবীজি ﷺ তায়েফে যান দাওয়াতের জন্য। কিন্তু সেখানে পাথর ছুড়ে তাড়িয়ে দেওয়া হয়। রক্তাক্ত অবস্থায় ফিরে আসেন। জিবরাঈল (আ.) এসে বলেন, আল্লাহ তায়েফের লোকদের উপর ফেরেশতা পাঠাতে পারেন, কিন্তু নবীজি ﷺ দোয়া করেন যেন তারা হিদায়াত পায়।
মিরাজ ও ইসরা (রাত্রিযাত্রা)
এই কঠিন সময়ে আল্লাহ তাঁকে মিরাজ দান করেন। এক রাতে বোরাকের মাধ্যমে মক্কা থেকে জেরুজালেমের আকসা মসজিদে (ইসরা), তারপর আকাশে সপ্তম আসমান পর্যন্ত (মিরাজ)। সেখানে অন্যান্য নবীদের সাথে সাক্ষাৎ, সিদরাতুল মুনতাহা, এবং পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ ফরজ হয়। এ ঘটনা বিশ্বাসীদের ঈমান বাড়ায় এবং অবিশ্বাসীদের মধ্যে বিভ্রান্তি ছড়ায়।
হিজরতের প্রস্তুতি এবং আনসারদের সাথে আকাবার শপথ
মক্কায় অবস্থা অসহনীয় হয়ে পড়ে। নবীজি ﷺ বিভিন্ন গোত্রের কাছে দাওয়াত দেন। মদিনার (যাসরিব) আউস ও খাজরাজ গোত্রের লোকেরা (যারা ইহুদিদের কাছ থেকে নবীর আগমনের কথা শুনেছিল) ইসলাম গ্রহণ করে।
প্রথম আকাবায় ১২ জন, দ্বিতীয় আকাবায় ৭৫ জন মদিনাবাসী শপথ করে: নবীজিকে ﷺ রক্ষা করবেন, ইসলামের উপর অটল থাকবেন। এটি হিজরতের ভিত্তি স্থাপন করে।
কুরাইশরা ষড়যন্ত্র করে নবীজিকে ﷺ হত্যার পরিকল্পনা করে। আল্লাহর নির্দেশে নবীজি ﷺ আবু বকর (রা.)-কে সাথে নিয়ে হিজরতের জন্য প্রস্তুত হন।
এ পর্বের শিক্ষা ও প্রভাব
এই পর্বে আমরা দেখলাম কীভাবে সত্যের পথে চলতে গেলে নির্যাতন আসে, কিন্তু ধৈর্য ও তাওয়াক্কুলের মাধ্যমে বিজয় আসে। খাদিজা (রা.)-এর ত্যাগ, আবু বকর (রা.)-এর বিশ্বস্ততা, বিলাল (রা.)-এর দৃঢ়তা—সবকিছু ইসলামের ভিত্তি মজবুত করে। মক্কার ১৩ বছরের দাওয়াত ছিল কষ্টের, কিন্তু এটি উম্মতের জন্য আদর্শ।
এ পর্বটি অত্যন্ত বিস্তারিতভাবে লেখা হয়েছে যাতে পুরো জীবনীর সাথে ধারাবাহিকতা বজায় থাকে। পর্ব ৩-এ হিজরত, মদিনায় প্রথম বছর, সংবিধান এবং বদরের যুদ্ধ নিয়ে আলোচনা হবে।

🎉 ১ লাখ টাকা পুরস্কার জেতার সুযোগ!

আমার চ্যানেলটি সাবস্ক্রাইব করুন। তারপর যেকোনো ভিডিওতে এই কমেন্টটি করুন:

🔗 https://youtube.com/@jaminatvmt
📝 @jaminatvmt

ধন্যবাদ ❤️

Comments

    Please login to post comment. Login