সবুজে ঘেরা ছোট্ট একটি গ্রাম। গ্রামের নাম শালবন। গ্রামের মাঝখানে একটি বিশাল আমগাছ, যার ছায়ায় প্রতিদিন বিকেলে গ্রামের মানুষ জড়ো হতো। কেউ গল্প করত, কেউ লুডু খেলত, আবার কেউ গ্রামের সুখ-দুঃখের কথা ভাগাভাগি করত।
সেই গ্রামেই থাকত কৃষক রহিম আলী। সারা বছর মাঠে পরিশ্রম করে যা ফসল ফলাতেন, তা দিয়েই চলত তাঁর সংসার। অভাব ছিল, কিন্তু সততা আর আত্মসম্মানে তিনি ছিলেন গ্রামের সবার প্রিয় মানুষ।
একদিন সকালে রহিম আলী মাঠে কাজ করতে গিয়ে একটি কাপড়ে মোড়ানো ব্যাগ পেলেন। ব্যাগ খুলে দেখলেন, তাতে অনেক টাকা। গ্রামের অনেকেই বলল, "এত টাকা পেয়েছ, রেখে দাও।" কিন্তু রহিম আলী বললেন, "যা আমার নয়, তা আমি রাখতে পারব না।"
তিনি গ্রামের মসজিদের মাইকে ঘোষণা করালেন। বিকেলের দিকে পাশের গ্রামের এক বৃদ্ধ ছুটে এসে কাঁদতে কাঁদতে বললেন, "এই টাকাগুলো আমার মেয়ের বিয়ের জন্য জমানো ছিল। পথে কোথায় যেন হারিয়ে ফেলেছিলাম।"
রহিম আলী এক মুহূর্ত দেরি না করে ব্যাগটি তাঁর হাতে তুলে দিলেন। বৃদ্ধ আনন্দে কেঁদে ফেললেন এবং রহিম আলীকে কিছু টাকা পুরস্কার দিতে চাইলেন। কিন্তু তিনি বিনয়ের সঙ্গে বললেন, "আপনার দোয়াই আমার সবচেয়ে বড় পুরস্কার।"
সেদিন থেকে গ্রামের মানুষ আরও বেশি সম্মান করতে লাগল রহিম আলীকে। গ্রামের শিশুদেরও শেখানো হলো—মানুষের আসল পরিচয় তার ধন-সম্পদে নয়, তার সততা ও ভালো কাজে।
আজও শালবন গ্রামের সেই পুরোনো আমগাছটি দাঁড়িয়ে আছে। গ্রামের প্রবীণরা সেখানে বসে নতুন প্রজন্মকে রহিম আলীর সততার গল্প শোনান। আর সেই গল্প শুনে বড় হতে থাকে গ্রামের নতুন স্বপ্ন, নতুন মানুষ।
8
View