প্রথম পর্ব: অচেনা চিঠি
শীতের ভোর। গ্রামের নাম শিউলিপুর। চারদিকে কুয়াশার সাদা চাদর, দূরে বাঁশঝাড়ের ফাঁক দিয়ে সূর্যের আলো ধীরে ধীরে ফুটে উঠছে।
মেঘলা প্রতিদিনের মতো উঠোন ঝাড়ু দিচ্ছিল। এমন সময় গ্রামের ডাকপিয়ন রহিম চাচা এসে ডাক দিলেন—
—"মেঘলা, তোমার নামে একটা চিঠি এসেছে!"
মেঘলা অবাক হয়ে বলল, —"আমার নামে? কে পাঠাবে?"
চিঠির খামে কোনো প্রেরকের নাম নেই। শুধু সুন্দর হাতের লেখায় লেখা— "মেঘলার জন্য।"
কাঁপা হাতে খাম খুলল সে। ভেতরে একটি ছোট্ট চিঠি।
"তুমি আমাকে চিনবে না। কিন্তু আমি তোমাকে অনেক দিন ধরে চিনি। সময় এলে সব বলব। তার আগে শুধু এটুকু বিশ্বাস রেখো—তোমার জীবনের সবচেয়ে বড় সত্য এখনও তোমার অজানা।"
চিঠিটা পড়ে মেঘলার বুক ধড়ফড় করতে লাগল। কে এই মানুষ? কেন এমন রহস্যময় কথা লিখেছে?
সারাদিন তার মন আর কোনো কাজে বসল না। সন্ধ্যায় আবার সে চিঠিটা পড়ল। প্রতিটি শব্দ যেন নতুন কোনো প্রশ্নের জন্ম দিচ্ছে।
রাতে ঘুমোতে যাওয়ার আগে জানালার পাশে দাঁড়িয়ে আকাশের দিকে তাকিয়ে সে মনে মনে বলল, "আপনি যেই হন... কেন আমার জীবনকে এভাবে বদলে দিতে চাইছেন?"
ঠিক তখনই বাইরে কারও পায়ের শব্দ শোনা গেল।
মেঘলা ভয়ে দরজার দিকে এগিয়ে গেল...
চলবে...