বাংলা একাডেমির সভাপতি, প্রখ্যাত লেখক, গবেষক সাহিত্য সমালোচক ও সমাজ বিশ্লেষক এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হক মারা গেছেন (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। রোববার (৫ জুলাই) বিকেলে হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে মারা যান তিনি। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮৫ বছর।
বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক মোহাম্মদ আজম তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হক দুপুরে রাজধানীর মিরপুরে একটি চায়নিজ রেস্তোরাঁয় পরিবারের সদস্যদের নিয়ে খাবার খেতে গিয়েছিলেন। সে সময় অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে স্থানীয় একটি হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি।
এদিকে পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, সোমবার (৬ জুলাই) সকাল সাড়ে ১০টা থেকে ১১টা পর্যন্ত বাংলা একাডেমিতে আবুল কাসেম ফজলুল হকের কফিন রাখা হবে। এরপর সবার শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য কফিনটি বেলা ১১টা থেকে ১২টা পর্যন্ত কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে এবং বেলা ১২টা থেকে ১টা পর্যন্ত অপরাজেয় বাংলার পাদদেশে রাখা হবে। জোহরের নামাজের পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় মসজিদে তার জানাজা হবে।
বাংলা একাডেমি এক বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, জানাজা শেষে মিরপুরের শহীদ বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে তাকে সমাহিত করা হবে। প্রতিষ্ঠানটি প্রয়াত সভাপতির আত্মার শান্তি কামনা এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনাও জ্ঞাপন করেছে।
উল্লেখ্য, অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগে অধ্যাপনা করেছেন। বাংলা ভাষা, সাহিত্য, সংস্কৃতি ও রাষ্ট্রচিন্তা বিষয়ে তার গবেষণা, প্রবন্ধ ও বিশ্লেষণ বিশেষভাবে সমাদৃত। সর্বস্তরে বাংলা ভাষার ব্যবহার নিশ্চিত করতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন তিনি। তার প্রথম বই ‘মুক্তিসংগ্রাম’ ১৯৭২ সালে প্রকাশিত হয়। ‘সুন্দরম’ ও ‘লোকায়ত’ নামে দুটি সাময়িকপত্র সম্পাদনা করেছেন তিনি। ‘একুশে ফেব্রুয়ারি আন্দোলন’, ‘রাজনীতি দর্শন’, ‘সাহিত্য চিন্তা’, ‘বাংলাদেশের রাজনীতিতে বুদ্ধিজীবীদের ভূমিকা’, ‘সংস্কৃতির সহজ কথা’সহ ৩২টির মতো মৌলিক বইয়ের লেখক তিনি। ১৯৮১ সালে তিনি বাংলা একাডেমি পুরস্কার পেয়েছিলেন।