Posts

ফিকশন

ঐ শোনছো

July 6, 2026

KARIMUL ISLAM FARAZI

24
View

স্ত্রী- ঐ শোনছো?

স্বামী- হ্যা, শোনছি কও।

স্ত্রী- না। তুমি শোনছো না।

স্বামী- আরে শোনতেছি। তুমি কও না?

স্ত্রী- না। এভাবে হবে না। তুমি তোমার হাতের ওটা ফেলে দাও।

স্বামী- ফেলে দিয়েছি।

স্ত্রী- দিয়েছো!

স্বামী- হ্যাঁ...। ফেলে দিয়েছি তো আর কি করতে হবে?

স্ত্রী- এহন আমার চোখের দিকে তাকাও।কান দু'টুও আমার দিকে পেতে রাখো।

স্বামী- হু।তোমার দিকে তাকিয়ে কান পেতে রইলাম।

স্ত্রী- আমার দিকে এমন ডেবডেব করে তাকিয়ে আছো কেন?

স্বামী- ও'মা। তুমিই তো তাকিয়ে থাকতে কইলা।

স্ত্রী- কহন কইলাম আবার।

স্বামী- আচ্ছা। তুমার দিকে তাইলে তাকাচ্ছি না?

স্ত্রী- হ। আমার দিকে তাকিয়ে থাকবা ক্য।

স্বামী- আহ্-হা। তুমি আবার রাগ করতেছো নাকি?

স্ত্রী- নাহ্। তুমি কি রাগ করার মতো কোন কিছু করছ।

স্বামী- আচ্ছা 'বাবা'। তোমার দিকে তাকিয়েই রইলাম।

স্ত্রী- আমি তোমাকে ভালো....

স্বামী- আরে 'বাবা' কি? বলো।

স্ত্রী- কিছু নাহ।

স্বামী- কিছু তো একটা আছে।

স্ত্রী- আচ্ছা। আজ কে জানি কই তারিখ?

স্বামী- ৫ ই জুন (শুক্রবার)

স্ত্রী- ও। তুমি তো আজকে কাজেই যাও নাই।আর অফিসের বে..ত..ন...

স্বামী- বেতন! বেতন ত আগামী পরশো দিন পাইমো।

স্ত্রী- চুচ্‌ ( আফসোস আকৃতির)

স্বামী- চলো বাইরে ঘুরতে যাই।

স্ত্রী- হ্যাঁ। সত্যিই!

স্বামী- হ।সত্যি।

স্ত্রী- নাহ।বাইরে যাইমো না। তুমি তো এখনো বেতনই পাও নাই?

স্বামী- আরে।আসো সমস্যা নাই।

স্ত্রী- আচ্ছা। কও দেহি তাইলে বাইরে কি পরিধান করে যাইমো।

স্বামী- তোমার ইচ্ছে?


 

( মিনিট পাঁচেক পর )


 

স্ত্রী- এই দেখছো?

স্বামী- হু। দেখলাম।

স্ত্রী- কি্- ই। দেখলা?

স্বামী- আচ্ছা বুঝতে পারছি। তোমাকে ক্রিম কালারের জামাতে অনেক সুন্দর মানিয়েছে?

স্ত্রী- (মুচকি হেসে) আচ্ছা তুমি কি পরিধান করে বাইরে যাইবা?

স্বামী- ওই নীল কালারের পাঞ্জাবিটা।

স্ত্রী- কেন?

স্বামী- কেন আাবার পাঞ্জাবির কাপড়টা একটু পাতলা এমনি তেও বাইরে তাপ একটু বেশি। পড়লে গরম কম লাগবে।

স্ত্রী- আচ্ছা, তুমি রেডি হও আমি কিন্তু বসে রইলাম।

স্বামী- কি অদ্ভুত ব্যাপার মেয়ে মানুষও আগে তৈরী হয়ে থাকে।

স্ত্রী- আ্-হাহা গো। মেয়েরা মনে হয় কোন মানুষ ই নাহ?

স্বামী- হয়ছে...। আমি ও রেড়ি। চল এহন যাওয়া যাক

স্ত্রী- আচ্ছা। চলো।

স্বামী- সমানের রাস্তা পর্যন্ত পায়ে হেটে যাওয়া যাক, তারপর না হয় রিকশায় উঠি।

স্ত্রী- এতে সমস্যা কই। চল যাই।আ..র তুমি চাইলে পুরো রাস্তাই হেঁটেও ঘুরতে পারি।

স্বামী- নাহ।তুমি চাইলে হাটতে পারো তবে আমি তো আমার প্রিয়তমাকে এত পথ হাটাবো নাহ।

স্ত্রী- ও আচ্ছা। আপনি বোঝি।আপনার প্রিয়তমাকে খুব ভালোবাসেন।

স্বামী- নাহ। অতোটাও নাহ।(মুচকি হেসে)


 

(হাটতে হাটতে সব সময় রিকশা পাওয়া যায় এমন রাস্তায় আসার পর)


 

স্বামী- ঐ মামা যাইবা।

রিকশাওয়ালা- কই যাইবেন মামা?

স্বামী- পূরণপুর পার্কে।

রিকশাওয়ালা- মামা...। যাইবাম তবে ভাড়া একটু বারিয়ে দিতে হইবো।রোদের যে অবস্থা তা ছাড়া ঐ দিক থেকে আসার সময় কোন যাএিও পাওয়া যাই না।

স্বামী- আচ্ছা।মামা ভাড়া বারিয়েই দিমুনে। তাও চলেন।


 

(রিকশাওলা মামা শন শন করে পূরণপুর পার্কের দিকে যাচ্ছে। কিছুক্ষণের মধ্যেই সম্ভবত দুই তিন মিনিটে তীব্র তাপদাহ আকাশে অন্ধকার নেমে আসল এবং দক্ষিণা শীতল আবহাওয়া বয়তে শুরু করল। যা একটি মোষল ধারের বৃষ্টি আসার পূর্ণাঙ্গ সমীকরণ)


 

স্ত্রী- ঐ... শোনছ।

স্বামী- আরে শোনবো না কেন? তোমার পাশেই তো বসে আছি।

স্ত্রী- কিছুক্ষণের মধ্যেই মনে হয় মুষলধারে বৃষ্টি আসা শুরু করে।

স্বামী- হ্যা। আকাশে সমীকরণ দেখছি তাই-ই বলছে।

স্ত্রী- মামারে থামতে কও?

স্বামী- ক্যান থামবার কইমো।

স্ত্রী- ক্যান ক্যান করিয় না তো?

স্বামী- ক্যান থামবো, কইতে হয়বো নাহ।

স্ত্রী- পার্কে যাইমো নাহ।

স্বামী- যাইবা নাহ মানে!

স্ত্রী- হ। যামো নাহ।

স্বামী- তাইলে করবা-ডা কি?

স্ত্রী- বাসায় চইলা যাইমো।

স্বামী- এইডা কোন কথা হয়লো। বাসা থেকে তৈরী হয়ে বের হয়লাম। ঘুরমো বলে। আর তুমি বলতেছ বাসায় চলে যাইবা।

স্ত্রী- আরে বাসায় চলে যাইমো বলতে..।

স্বামী- বলতে কি?

স্ত্রী- আমাদের বাসার পাশে একটা মাঠ আছে নাহ।

স্বামী- হ আছে।

স্ত্রী- ঐনে...

স্বামী- হ্যা ঐনে। ঐ ঐনে-ডা কি ঐডাই তো কইবা?

স্ত্রী- বাসায় যাইমো।

স্বামী- হুম

স্ত্রী- তোমার এই পাজ্ঞাবীর কালারের মতো আমার আমার একটা শাড়ি আছে না।

স্বামী- ঐ নীল কালারের শাড়ি।

স্ত্রী- হ। ঐ শাড়িটাই। বাসায় যেয়ে তুমি পরিধান করাই দিবা।

স্বামী- কিহ!

স্ত্রী- ও..মা। কি হলো।

স্বামী- এহন বাসায় যেয়ে তোমারে আমি শাড়ি পরিধান করাই দিমু নাকি?

স্ত্রী- হ্যা.. তাইলে আর কে দিবো। অন্য বেডা আইবো নাকি?

স্বামী- চু্প। (গম্ভীর সুরে)।ফারদার এরকম কথা আর কইবা নাহ?

স্ত্রী- আচ্ছা। এমন উচ্চারণ আর কখনোই করমো নাহ।

স্বামী- এমন চিন্তাও মাথায় আনবা নাহ।

স্ত্রী- ওকে।তাইলে চল বাসায় গিয়ে শাড়ী পরিধান করাই দিবা?

স্বামী- হুম।তারপর করবা-ডা কি?

স্ত্রী- তুমি নীল পাঞ্জাবি আর আমি নীল কালার শাড়ি। পরিধান করে।দু'জনে ঐ খোলা মাঠে হাটতে থাকমু। বসে বসে গল্প করমো।যখন বৃষ্টি নামবে তখন দু'জনে বৃষ্টিতে ভিজমো।

স্বামী- ওও। বৃষ্টিতে ভেজায় তাইলে মূখ্য উদ্দেশ্য?

স্ত্রী- হ..।মামারে থামাও। তোমার সাথে কথা বলতে বলতে আবার পূরণপুর পার্কেই প্রায় এসেই পরতেছি।

স্বামী- মামা। রিকশা থামান তো?

রিকশাওয়ালা- বলেন?

স্বামী- রিকশা ঘুরান যেই খান থেকে আসলাম। আবার ঐখানে যান তো?

রিকশাওয়ালা- ক্যেন? মামা আপনারা নাহ পূরণপুর পার্কে ঘুরতে যাইবেন বলেন।

স্বামী- হ। কইছিলাম তবে এহন আর যাইতেছি নাহ।

রিকশাওয়ালা- মামিরে নিয়ে মনে হয় অনেক দিন পর ঘুরতে বের হলেন।আর এহন বাসার দিকে চইলা যাইবেন বাসায় কোন সমস্যা নাকি?

স্বামী- নাহ, মামা কোন সমস্যা নাই।আপনি যান তো?

রিকশাওয়ালা- হ, যাই।


 

(শেষ পর্যন্ত বাসায় কাছে এসে পৌঁছাল)


 

স্ত্রী- কি বাসার গ্যাট খুলছ না যে?

স্বামী- আরে খুলবাম কি দিয়ে চাবি যে তোমার কাছে।

স্ত্রী- চাবি! আমার কাছে চাবি?

স্বামী- হ। তোমারে নাহ রিকশায় উঠার পরে দিলাম।

স্ত্রী- আচ্ছা। তাইলে মনে হয় ব্যাগেই আছে।

স্বামী- দেখো ব্যাগে।

স্ত্রী- এই নাও চাবি। ব্যাগ এর মধ্যেই ছিল কিন্তু আমারি মনে ছিল না?

স্বামী- তুমি ভিতরে যাও।আমি গেট লাগিয়ে দিয়ে আসতেছি।।

স্ত্রী- আচ্ছা আসো।

স্বামী- শাড়ি পরছো না যে?

স্ত্রী- শাড়ি আলমারিতে।

স্বামী- তো?

স্ত্রী- তো কি আবার? আলমারি তালা দেওয়া আর চাবি তোমার হাতে?

স্বামী- এই নাও চাবি।

স্ত্রী- ই..স্

স্বামী- কি হইলো আবার?

স্ত্রী- দ্যাখো তো আলমারির তালাটা খুলছে না ক্যান?

স্বামী- দাড়াও আমি যাচ্ছি।

স্ত্রী- আসোতো

স্বামী- কই কি সমস্যা?

স্ত্রী- এই যে চাবি দিয়ে তালায় মোচড় দিচ্ছি তাও তালা খুলছে না?

স্বামী- ওও তাই!

স্ত্রী- হ

স্বামী- একটু সরে দাড়াও বিষয়-ডা আমি দেখি।

স্ত্রী- হুম

স্বামী- তালা খুলবো কিভাবে?

স্ত্রী- ক্যান?

স্বামী- তালার চাবি যেইডা ঐড়া বাদ দিয়ে অন্যডা দিয়ে মোচড় দিলে তালা খুলবো?

স্ত্রী- উওফ.. খেয়াল করি নাই।

স্বামী- এ..হ্। তালার খোলার সময় চাবির দিকেও খেয়াল থাকে না?

স্ত্রী- থাকব কিভাবে?

স্বামী- ক্যান থাকব না কেন?

স্ত্রী- আমার যত খেয়াল আর মনোযোগ আছে সবই তোমার দিকে।

স্বামী- এজন্যই তো দশা।

স্ত্রী- এই দশা আবার কোন দশা?

স্বামী- এই যে সকল মনোযোগ আমার দিকে থাকায় আর কোন দিকে তেমার চোখ- ই যায় নাহ।

স্ত্রী- আচ্ছা, অনেক কথা হইছে। এহন যাও, শাড়িটা পরাইয়া দাও।

স্বামী- হুম। এই নাও, হাতটা এদিকে দাও।

স্ত্রী- আস্তে...। এত টানাটানি করতেছো ক্যান?

স্বামী- আমি কি জানি! আগে কবে আর শাড়ি পরাইছি?

স্ত্রী- তাইলে শিখে রাখো। ভবিষ্যতে লাগবো।

স্বামী- তাই নাকি! তাইলে মাঝে মাঝেই নতুন শাড়ি কিনতে হইবো বুঝি?

স্ত্রী- শাড়ি কিনবা কি না জানি না, তবে শাড়ি পরাইয়া দেওয়ার দায়িত্ব কিন্তু তোমারই।

স্বামী- আচ্ছা, দায়িত্ব নিলাম।

স্ত্রী- এইবার কেমন লাগতেছে?

স্বামী- এক মিনিট...।

স্ত্রী- কি দেখতেছো?

স্বামী- মনে হইতেছে, বৃষ্টির আগেই আমার আকাশটা সুন্দর হইয়া গেছে।

স্ত্রী- ইস্...! কথা কইতে কইতে দেখি অনেক রোমান্টিক হইয়া গেছো।

স্বামী- তোমারে দেখলে না হইয়া উপায় আছে?

স্ত্রী- আচ্ছা, এহন চল।

স্বামী- ছাতা নিবা?

স্ত্রী- নাহ।

স্বামী- ভিজবা যে।

স্ত্রী- আজ ইচ্ছা করেই ভিজমু।

স্বামী- তাইলে আমিও ছাতা নিলাম না।

স্ত্রী- কেন?

স্বামী- তুমি যদি ভিজো, তাইলে আমি শুকনা থাকি কেমনে?

স্ত্রী- (মুচকি হেসে) চল... আজকের বৃষ্টিটা শুধু আমাদের জন্য।)

Comments

    Please login to post comment. Login