Posts

গল্প

৪০ বন্ধুর বাইসাইকেল পিকনিক।

July 7, 2026

Shafin pro

21
View

বিদায়ের আগে বন্ধুতা: ৪০ বন্ধুর সাইকেল ওড়ানোর গল্পপর্ব ১: সকালের কুয়াশা আর ৪০ জোড়া চাকাভোর সাড়ে ছয়টা। বরিশাল শহরের আকাশ তখনো পুরোপুরি খোলেনি। হালকা একটা কুয়াশার চাদর যেন কীর্তনখোলার কোল ঘেঁষে পুরো শহরকে জড়িয়ে ধরে রেখেছে। কিন্তু নতুল্লাবাদ বাস স্ট্যান্ডের ঠিক পেছনের গলিটায় তখন এক অন্যরকম উৎসবের আমেজ।একে একে জড়ো হচ্ছে পাড়ার মোল্লা সব এসএসসি পরীক্ষার্থী বন্ধুরা। সবার পরনে সাধারণ টি-শার্ট আর জিন্স, চোখে একরাশ উত্তেজনা আর পিঠে ছোট ব্যাগ। আজ কোনো কোচিংয়ের তাড়া নেই, নেই টেস্ট পরীক্ষার খাতা দেখার টেনশন। আজ শুধু উড়ে বেড়ানোর দিন।সবার আগে এসে হাজির হয়েছে আবির আর সাকিব। আবির দলের মূল সমন্বয়ক। তার হাতে একটা ছোট ডায়েরি, যেখানে আজকের খরচের হিসাব লেখা হবে। সাকিব দাঁড়িয়ে আছে একটা বিশাল ভ্যান গাড়ির পাশে। ভ্যান চালক রহমত মিয়া হাসিমুখে বিড়ি ফুঁকছেন। ভ্যানের ওপর অলরেডি উঠে গেছে বিশালাকার ডেকচি, কড়াই, চালের বস্তা, ডাল আর তেলের জার।"কিরে আবির, হাড়ি-পাতিল সব ঠিকঠাক উঠছে তো?" দূর থেকে চিৎকার করতে করতে সাইকেল চালিয়ে এলো রাফি। তার সাইকেলের পেছনে বাঁধা একটা মস্ত বড় লাউ।"একদম পারফেক্ট। কিন্তু তোরা বাকিরা কই?" আবির ঘড়ির দিকে তাকিয়ে বলল। তখন ঘড়িতে সকাল সাতটা বেজে দশ মিনিট।ঠিক তখনই একঝাঁক পাখির মতো একসঙ্গে সাইকেল নিয়ে হাজির হলো একদল বন্ধু—তামিম, মুশফিক, রিয়াদ, তাসকিন, শরিফুল, মেহেদী, মোস্তাফিজ, লিটন, শান্ত, আর হৃদয়। প্রত্যেকের সাইকেলের ক্যারিয়ারে কিছু না কিছু বাঁধা। কারও পেছনে আলুর বস্তা, কারও পেছনে পেঁয়াজ-রসুনের থলে, আবার কেউ সযত্নে বেঁধে নিয়েছে মশলার কৌটোগুলো। ছাত্র মানুষ, তাই বাজারের খরচ বাঁচানোর জন্য সবাই বাড়ি থেকে কিছু না কিছু জিনিস আব্বু-আম্মুর চোখ ফাঁকি দিয়ে বা বুঝিয়ে নিয়ে এসেছে।"এই শান্ত! তোর সাইকেলের পেছনের তেলের বোতলটা লিক করতেছে না তো?" চিৎকার দিল সৌম্য। সে আর তাইজুল মাত্রই এসে পৌঁছেছে।"ধুর মিয়া! সরিষার খাঁটি তেল, আম্মু নিজে বোতলে ভইরা দিছে। একটুও পড়বে না," শান্তর আত্মবিশ্বাসী জবাব।একে একে বাকিরাও এসে যোগ দিল। নুরুল, নাসুম, ইবাদত, খালেদ, জাকির, মাহমুদুল, পারভেজ, শামীম, তৌহিদ, তানজিম, আফিফ, সাইফ, নাইম, মোসাদ্দেক, সাব্বির, রুবেল, আল-আমিন, তাসামুল, আবু জায়েদ, কামরুল, শুভাগত, সৈকত, এনামুল, ফরহাদ আর সোহাগ। পুরো ৪০ জনের স্কোয়াড এখন রেডি।"সবাই শোন!" আবির সাইকেলের ওপর দাঁড়িয়ে হাত উঁচিয়ে বলল, "আমাদের বাজেট সীমিত। আমরা ছাত্র মানুষ, তাই রাস্তায় কোনো ফালতু খরচ করা যাবে না। কিন্তু ফূর্তি হবে আনলিমিটেড। সবার সাইকেল চেইন ঠিক আছে তো?""সব ওকে ওস্তাদ! এবার টান দাও!" পেছন থেকে চিৎকার করল রুবেল।ভ্যান গাড়িটা আগে আগে রওনা দিল দুর্গাসাগরের উদ্দেশ্যে। আর তার পেছনে ৪০টা সাইকেলের এক বিশাল বহর। প্যাডেলের কিচকিচ শব্দ আর বন্ধুদের হাসির আওয়াজে মুখরিত হয়ে উঠল বরিশালের রাস্তা। সকাল আটটা বাজার সাথে সাথেই শুরু হলো জীবনের অন্যতম সেরা এক যাত্রা।পর্ব ২: নতুন বাজার থেকে কাশিপুর—স্পটে স্পটে ফইহুল্লাহআমাদের প্রথম স্টপেজ ছিল নতুন বাজার। সকালের হালকা মিষ্টি রোদে তখন বাজার জমে উঠেছে। সাইকেলের বহর যখন নতুন বাজারের মোড়ে এসে থামল, চারপাশের মানুষ অবাক হয়ে তাকাচ্ছিল। ৪০টা সাইকেল একসাথে, তাও আবার সবার পেছনে রান্নাবান্নার জিনিসপত্র!"এইখানে চরম একটা চা-নাস্তার দোকান আছে," বলল তানজিম।সবাই সাইকেলগুলো একপাশে স্ট্যান্ড করিয়ে রাখল। তৌহিদ আর সাইফ মিলে দ্রুত দোকানদারের সাথে কথা বলে নিল। গরম গরম পুরি আর সাথে মরিচ-পেঁয়াজ দিয়ে চানাচুর মাখানো। একেকজন চার-পাঁচটা করে পুরি এক নিমেষেই সাবাড় করে দিল। সাথে এল এলাচ দেওয়া কড়া চা।"আহ! পরীক্ষা আর পড়ালেখার চৌদ্দটা বাজাইয়া এই চায়ের যে স্বাদ, তা কোনো ফাইভ স্টার হোটেলেও পাবি না," এক চুমুক দিয়ে বলল ফরহাদ।খাওয়াদাওয়া শেষ হতেই আবার সাইকেলে চাপ। এবার গন্তব্য নতুল্লাবাদ হয়ে কাশিপুর চৌমাথা। কাশিপুরের রাস্তায় তখন বাস আর থ্রি-হুইলারের আনাগোনা বেড়েছে। কিন্তু ৪০ জনের এই দলটাকে কেউ দমাতে পারছিল না। সাইকেল চালানোর মাঝেই একে অপরকে ল্যাং মারা, পিছন থেকে ক্যারিয়ার ধরে টান দেওয়া, আর গান গাওয়ার প্রতিযোগিতা চলছিল।দলের সবচেয়ে সুকণ্ঠী গায়ক ছিল নাইম। সে সাইকেল চালাতে চালাতে সজোরে গাইল—"পুরানো সেই দিনের কথা..."। তার সাথে কোরাসে যোগ দিল বাকি ৩৯ জন। কাশিপুর চৌমাথায় যখন দলটা পৌঁছাল, তখন সবার কপালে হালকা ঘাম, কিন্তু মুখে চওড়া হাসি।কাশিপুরে এসে দেখা গেল মোসাদ্দেকের সাইকেলের চেইন গেছে পইড়া। "ধুর মিয়া, তোর এই ভাঙা সাইকেল লইয়া আইছস কেন?" খেপল সাব্বির।"থাম তোরা, আমি ঠিক করতেছি," বলেই কামরুল আর শুভাগত বসে গেল চেইন ঠিক করতে। হাত পুরো কালো মবিল মেখে ভূত হয়ে গেল তাদের, কিন্তু সেটা নিয়েও চলল চরম ফইহুল্লাহ আর ট্রোলিং। এই ফাঁকে রাস্তার পাশের দোকান থেকে সবাই মিলে ঠান্ডা লেবুর শরবত খেয়ে নিল। প্রতিটি স্পটে থামা, কিছু না কিছু খাওয়া, আর বন্ধুদের টেনে ধরে ছবি তোলা—এ যেন এক অন্তহীন আনন্দ।পর্ব ৩: গড়িয়ার পারের মোড় আর দুর্গাসাগরে প্রবেশকাশিপুর পার হয়ে সাইকেলের বহর যখন গড়িয়ার পারের দিকে এগোচ্ছিল, তখন চারপাশের দৃশ্যপট বদলাতে শুরু করেছে। শহরের কোলাহল কমে এসে দুপাশে সবুজ গাছপালা আর ধানের ক্ষেত উঁকি দিচ্ছে। বাবুগঞ্জের বাতাসটা কেমন যেন চনমনে।গড়িয়ার পারের মোড়ে এসে ভ্যান গাড়িটাকে ধরা গেল। রহমত মিয়া ভ্যান থামিয়ে ডাব খাচ্ছিলেন। "ও বাজানেরা, তোমরা তো চরম স্পিডে সাইকেল চালাও! মুই তো ভাবছি তোমরা পিছে পইড়া রইছ," হাসতে হাসতে বললেন রহমত মিয়া।এখানে এসে ঠিক হলো, দুপুরের রান্নার জন্য কিছু তাজা মসলা আর অতিরিক্ত কাঁচামরিচ কেনা দরকার। বাজারে ঢুকল মাহমুদ আর পারভেজ। তারা বিক্রেতার সাথে দরদাম করতে গিয়ে পুরো ছাত্রত্বের ফায়দা তুলল। "চাচা, আমরা এসএসসি পরীক্ষার্থী, পকেটে টাকা কম। একটু কম রাখেন!" এই সংলাপে কাজ হলো। চাচা হেসে কিছু মরিচ ফ্রিতেই দিয়ে দিলেন।গড়িয়ার পার থেকে মাধবপাশার রাস্তাটা চমৎকার। দুপাশে বড় বড় গাছ ছায়া দিয়ে রেখেছে। সাইকেল চালানোর ক্লান্তি এক নিমেষেই উধাও হয়ে গেল যখন দূর থেকে দুর্গাসাগরের বিশাল দীঘির সীমানা প্রাচীর চোখে পড়ল।বেলা তখন ঠিক পৌনে বারোটা। দুর্গাসাগরের মূল গেটের সামনে এসে যখন ৪০টা সাইকেল একসাথে ব্রেক কষল, তখন চারপাশের দর্শনার্থীরা হাঁ করে তাকিয়ে রইল। আমরা টিকিট কেটে, ভ্যান গাড়িটাকে ভেতরে ঢোকানোর ব্যবস্থা করে সোজা চলে গেলাম দীঘির পশ্চিম পাড়ের একটা বিশাল মেহগনি গাছের ছায়ায়। এটাই আমাদের আজকের পিকনিক স্পট।পর্ব ৪: দীঘির পাড়ে চুলার ধোঁয়া আর রান্নাবান্নার ধুমবেলা বারোটা বাজতেই শুরু হয়ে গেল আসল যুদ্ধ। রান্নাবান্নার দায়িত্ব ভাগ করা হলো কয়েকটি গ্রুপে।কাটাকুটি গ্রুপ: সাকিব, তাসকিন, শরিফুল আর মেহেদী। এরা বটি আর ছুরি নিয়ে বসে গেল পিঁয়াজ, আলু আর মাংস কাটতে। তাসকিনের চোখে পেঁয়াজের ঝাঁঝে পানি চলে আসায় সবাই মিলে তাকে নিয়ে হাসাহাসি শুরু করল।চুলা ও জ্বালানি গ্রুপ: লিটন, সৌম্য আর তাইজুল। তারা এদিক-ওদিক থেকে শুকনো পাতা আর কাঠ কুড়িয়ে এনে ইটের অস্থায়ী চুলা তৈরি করল।রাধুনী গ্রুপ: আবির, রিয়াদ আর মোস্তাফিজ। এদের রান্নার হাত নাকি ভালো, তাই মেইন বাবুর্চির দায়িত্ব তাদের ওপর।"ঐ আবির, ডালে লবণ ঠিক হইছে তো দেখিস, নাইলে কিন্তু তোরেই পুরো ডাল খাইতে হইবো," দূর থেকে চিৎকার দিল হৃদয়।চুলায় আগুন জ্বলল। লাকড়ির ধোঁয়ায় সবার চোখ লাল হয়ে যাচ্ছিল, কিন্তু সেদিকে কারও খেয়াল নেই। রান্নার ফাঁকে ফাঁকে চলল মুড়ি মাখানো। বিশাল একটা গামলায় চানাচুর, পেঁয়াজ, কাঁচামরিচ আর সরিষার তেল দিয়ে মুড়ি মাখল এনামুল আর সৈকত। সেই মুড়ি খাওয়ার জন্য ৪০ জন যেভাবে হুমড়ি খেয়ে পড়ল, তা দেখার মতো ছিল।বেলা দেড়টার দিকে যখন ডেকচি থেকে খাসির মাংস আর পোলাওয়ের সুগন্ধ ছড়াতে শুরু করল, তখন সবার পেটে ইঁদুর দৌড়াচ্ছে। পরীক্ষার পড়া, জ্যামিতির বক্স, আর সাজেশনের চিন্তা তখন বরিশাল থেকে বহু দূরে। এখানে শুধু আছে ৪০ জন বন্ধু আর এক পাতিল গরম খাবার।পর্ব ৫: দীঘিতে মৎস্য শিকার আর আসরের আযানদুপুর আড়াইটায় দুপুরের খাওয়া-দাওয়া শেষ হলো। কলাপাতায় গরম পোলাও আর মাংসের স্বাদ যেন অমৃতের মতো লাগল। খাওয়া শেষ করেই সবাই মিলে ডেকচি-কড়াই ধুয়ে ভ্যানে তুলে ফেলল। রহমত মিয়াও তৃপ্তি করে খেয়ে গাছের ছায়ায় একটা ঘুম দিলেন।এবার শুরু হলো দুপুরের আসল আকর্ষণ—দীঘিতে মাছ ধরা। আল-আমিন আর তাসামুল বাড়ি থেকে বড় বড় বড়শি নিয়ে এসেছিল। দীঘির ঘাটে গিয়ে বসা হলো। পুরো দীঘির শান্ত পানি দুপুরের রোদে ঝিলমিল করছে।"চুপ কর সবাই, মাছ কিন্তু আওয়াজ পাইলে আসবে না," ফিসফিস করে বলল আবু জায়েদ।কিন্তু ৪০ জন বন্ধু যেখানে থাকে, সেখানে নীরবতা আশা করা বোকামি। একটু পরেই সোহাগের বড়শিতে টান পড়ল। "টান দে, টান দে!" বলে চিৎকার করে উঠল পুরো দল। পানি তোলপাড় করে উঠে এলো একটা মাঝারি সাইজের রুই মাছ। মাছটা তুলতেই সবাই এমনভাবে আনন্দধ্বনি করল যেন বাংলাদেশ দল বিশ্বকাপ জিতে গেছে।মাছ ধরা, দীঘির পাড়ে বসে আড্ডা আর তাস খেলার মাঝেই সময়টা কীভাবে কেটে গেল কেউ টের পেল না। পরীক্ষার আগের এই শেষ স্বাধীনতাটুকু সবাই যেন বুক ভরে শুষে নিচ্ছিল।হঠাৎ করেই মাধবপাশা জামে মসজিদ থেকে ভেসে এলো আসরের আযানের সুমধুর ধ্বনি। আযানের শব্দ আসতেই আড্ডায় একটু নীরবতা নেমে এলো। এবার ফেরার পালা। এক অদ্ভুত ভালোলাগা আর হালকা মন খারাপের অনুভূতি সবাইকে ছুঁয়ে গেল। এই তো আর কয়েকটা দিন, তারপর পরীক্ষা শেষ হলে কে কোথায় ছিটকে পড়বে কেউ জানে না।পর্ব ৬: গোধূলির আলোয় ফেরা এবং অন্তহীন স্মৃতিবিকেল সাড়ে চারটায় আমরা আবার সাইকেলে উঠলাম। রহমত মিয়ার ভ্যান গাড়িটা আবার রওনা দিল আগে আগে। যাওয়ার সময়ের সেই তীব্র উত্তেজনা এখন কিছুটা শান্ত, কিন্তু মনের ভেতর আনন্দের রেশ তখনো টগবগ করছে।ফেরার পথে সূর্যটা যখন ডুবুডুবু, তখন আমরা আবার গড়িয়ার পার এসে থামলাম। এবার খাওয়া হলো গরম গরম মিষ্টি আর সিঙ্গাড়া। খাওয়া-দাওয়ার খরচ হিসাব করে আবির জানাল, "দোস্তরা, আমাদের বাজেট একদম পারফেক্ট ছিল। সামান্য কিছু টাকা বাঁচছেও।" সেই বেঁচে যাওয়া টাকা দিয়ে শেষবারের মতো চৌমাথায় এসে সবাই মিলে আইসক্রিম খেল।সন্ধ্যা নেমে এসেছে বরিশালের বুকে। রাস্তার ল্যাম্পপোস্টের আলোগুলো জ্বলে উঠেছে। রাত আটটায় যখন আমরা আবার নতুল্লাবাদের সেই শুরুর জায়গায় এসে পৌঁছালাম, তখন শরীর ক্লান্তিতে ভেঙে পড়ছে, কিন্তু চোখগুলো জ্বলজ্বল করছে।১২ ঘণ্টার এই সাইকেল যাত্রা, স্পটে স্পটে ফইহুল্লাহ, দুর্গাসাগরের রান্না আর বন্ধুদের এই বাঁধভাঙা উল্লাস—সবকিছু মিলিয়ে এই পিকনিকটা আমাদের জীবনের সেরা অধ্যায় হয়ে থাকবে। সাইকেল থেকে নেমে সবাই যখন একে অপরকে জড়িয়ে ধরে বিদায় নিচ্ছিল, তখন সবার মনে একটাই প্রতিজ্ঞা—"পরীক্ষা যাই হোক, বন্ধুত্বের এই চেইন কখনো ছিঁড়বে না।"আশা করি এই দীর্ঘ গল্পটি আপনাদের ভালো লাগবে। গল্পটি কেমন হলো লিখে জানাতে পারেন ধন্যবাদ।

Comments

    Please login to post comment. Login