Posts

নিউজ

মারা গেছেন ইরানি লেখক শাহরনুশ পারসিপুর

July 8, 2026

নিউজ ফ্যাক্টরি

Featured Image
25
View

৮০ বছর বয়সে মারা গেছেন প্রখ্যাত ইরানি লেখক শাহরনুশ পারসিপুর। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে। নারীবাদী সাহিত্যে প্রথা ভাঙা রচনার কারণে তাকে ৪ বার কারাবরণ করতে হয়েছিল।       

গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পারসিপুর  ৩ জুলাই, যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার সান ফ্রান্সিসকোতে মারা গেছেন। হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।    

পারসিপুরকে ইরানের নারী সাহিত্যের অন্যতম পথিকৃৎ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। তিনি ‘উইমেন উইদাউট মেন’ ও ‘তুবা অ্যান্ড দ্য মিনিং অব নাইট’ এর মতো উপন্যাসের মাধ্যমে দেশটির পিতৃতান্ত্রিক সংস্কৃতির কঠোর সমালোচনা করেছেন। শাহ এর শাসনামল এবং পরবর্তীকালে ইসলামি প্রজাতন্ত্র—উভয় আমলেই তাকে ৪ বার কারাবরণ করতে হয়েছিল।    

তার ‘উইমেন উইদাউট মেন’ উপন্যাসটি ২০২৬ সালে যুক্তরাজ্যে প্রথমবারের মতো প্রকাশিত হয়। ইরানে নিষিদ্ধ এ বইটি ফার্সি থেকে ইংরেজিতে অনুবাদ করেছেন ফারিদুন ফাররোখ। এটি চলতি বছরের ইন্টারন্যাশনাল বুকার প্রাইজের দীর্ঘ তালিকায় জায়গা পেয়েছিল।    

এদিকে তার যুক্তরাজ্যের প্রকাশক ডেনিস রোজ হ্যানসেন এক বিবৃতিতে বলেছেন, ‘সাহিত্যের ইতিহাসে শাহরনুশের যে অবদান, তার সাথে অন্য কারও তুলনা চলে না। তার অনন্য দৃষ্টিভঙ্গি ও অসাধারণ সাহস বহু মানুষের জন্য পথপ্রদর্শক হিসেবে কাজ করেছে এবং ভবিষ্যতেও করবে। মাত্র কয়েক দিন আগেও তার সাথে কথা হয়েছে; তিনি ঠিক আগের মতোই উদার, আন্তরিক, স্পষ্টভাষী, ক্ষিপ্রবুদ্ধিসম্পন্ন ও প্রতিভাদীপ্ত ছিলেন।'   

পারসিপুর, ১৯৯৪ সাল থেকে যুক্তরাষ্ট্রে রাজনৈতিক নির্বাসনে বসবাস করছিলেন। এ বছরের মার্চে দ্য গার্ডিয়ানকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছেন, ‘ইরানের নারীদের মধ্যে ব্যাপক পরিবর্তন এসেছে; তাদের অনেকেই এখন আর হিজাব পরেন না। ইসলামি প্রজাতন্ত্র কী ভাবছে, তা নিয়ে তারা মোটেও মাথা ঘামান না। ইরানের নারীরাই ইসলামি প্রজাতন্ত্রের পতনের কারণ হবেন।’       

তিনি ছোটবেলা থেকেই লেখক হতে চেয়েছিলেন। এ বছরে দেওয়া আরেকটি সাক্ষাৎকারে তিনি জানিয়েছিলেন, চার্লস ডিকেন্সের ‘গ্রেট এক্সপেকটেশনস’ উপন্যাসটির ফারসি অনুবাদ টানা ৩৬ বার পড়েছিলেন এবং লেখালেখির কৌশল শেখার ক্ষেত্রে এর ভূমিকার কথাও উল্লেখ করেন। ডিকেন্সের পাশাপাশি তিনি দস্তয়েভস্কি ও কাফকাকেও তার ওপর প্রভাব বিস্তারকারী লেখক হিসেবে উল্লেখ করেছেন। 

উল্লেখ্য, নারীবাদী এই লেখক ১৯৪৬ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি ইরানের রাজধানী তেহরানে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি তেহরান বিশ্ববিদ্যালয়ে সমাজবিজ্ঞান নিয়ে পড়াশোনা করেছেন। ১৯৭৪ সালে তার প্রথম উপন্যাস ‘দ্য ডগ অ্যান্ড দ্য লং উইন্টার’ প্রকাশিত হয়। এর ফলে তিনি সিমিন দানেশভারের পর ইরানের দ্বিতীয় নারী উপন্যাসিক হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন। 

Comments

    Please login to post comment. Login