Posts

উপন্যাস

উপন্যাস:শেষ চিঠির অপেক্ষা

July 8, 2026

Kajoly Khatun

4
View

উপন্যাস: শেষ চিঠির অপেক্ষা

পঞ্চম পর্ব: মুখোশের আড়ালে সত্য

পুরোনো ট্রেনের হুইসেলের শব্দ যেন পুরো গুদামঘর কাঁপিয়ে দিল। নীলার বুকের ধুকপুকানি আরও বেড়ে গেল। দরজার সামনে দাঁড়িয়ে থাকা মানুষটির চোখে ছিল এক অদ্ভুত শান্তি, কিন্তু সেই শান্তির আড়ালে যেন লুকিয়ে ছিল বহু বছরের কষ্ট।

লোকটি ধীরে ধীরে বলল, “আমি আরিফ। তোমার বাবার সবচেয়ে কাছের বন্ধু। তিনি মারা যাওয়ার আগে আমার হাতে এই শেষ দায়িত্ব দিয়ে গিয়েছিলেন।”

নীলা কাঁপা গলায় জিজ্ঞেস করল, “তাহলে এতদিন কোথায় ছিলেন? কেন আমার কাছে আসেননি?”

আরিফ গভীর নিঃশ্বাস ফেললেন।

“কারণ তোমার বাবার মৃত্যুকে সবাই দুর্ঘটনা বললেও, সেটা দুর্ঘটনা ছিল না। তিনি এমন একটি সত্য জেনে গিয়েছিলেন, যা কিছু ক্ষমতাবান মানুষ কখনো প্রকাশ হতে দিতে চায়নি। আমি যদি তখন তোমার কাছে আসতাম, তাহলে তুমিও বিপদে পড়তে।”

নীলা স্তব্ধ হয়ে গেল।

আরিফ ডায়েরির শেষ দিকে রাখা একটি ভাঁজ করা মানচিত্র বের করলেন। মানচিত্রে একটি লাল বৃত্ত দিয়ে চিহ্নিত ছিল বহু বছর আগে বন্ধ হয়ে যাওয়া একটি রেলওয়ে বাংলো।

“সত্যের শেষ অংশ সেখানে লুকিয়ে আছে,” তিনি বললেন। “তোমার বাবা সব প্রমাণ এক জায়গায় রাখেননি। তিনি জানতেন, কেউ যদি একটি খুঁজে পায়, তবুও পুরো সত্য জানতে পারবে না।”

ঠিক তখনই গুদামঘরের বাইরে গাড়ির ব্রেক করার শব্দ শোনা গেল।

আরিফ জানালার ফাঁক দিয়ে তাকিয়ে ফিসফিস করে বললেন, “ওরা এসে গেছে!”

নীলার বুক কেঁপে উঠল।

“কারা?”

“যারা এত বছর ধরে এই রহস্য চাপা দিয়ে রেখেছে।”

পরের মুহূর্তেই গুদামঘরের দরজায় জোরে ধাক্কা পড়ল।

“দরজা খোলো!”—বাইরে থেকে কঠোর কণ্ঠ ভেসে এল।

আরিফ দ্রুত ডায়েরি, মানচিত্র আর চিঠিগুলো একটি ব্যাগে ভরে নীলার হাতে দিলেন।

“পেছনের গোপন দরজা দিয়ে বেরিয়ে যাও। যাই হোক, এই প্রমাণগুলো রক্ষা করবে।”

নীলা দ্বিধায় পড়ে গেল।

“কিন্তু আপনি?”

আরিফ মৃদু হেসে বললেন, “কখনো কখনো সত্যকে বাঁচাতে কাউকে না কাউকে সময় কিনে দিতে হয়।”

দরজায় আবার প্রচণ্ড আঘাত পড়ল।

নীলা চোখের পানি সামলে গোপন দরজা দিয়ে অন্ধকার পথে বেরিয়ে গেল।

বনের সরু পথ ধরে দৌড়াতে দৌড়াতে সে একবার পেছনে তাকাল।

ঠিক তখনই গুদামঘরের ভেতর থেকে একটি বিকট শব্দ ভেসে এল।

নীলার হাত থেকে প্রায় ব্যাগটি পড়ে যাচ্ছিল।

সে বুঝতে পারল—এখন আর ফিরে যাওয়ার সুযোগ নেই।

সামনে রয়েছে সেই পরিত্যক্ত রেলওয়ে বাংলো, আর সেখানেই হয়তো লুকিয়ে আছে তার বাবার মৃত্যুর প্রকৃত রহস্য।

Comments

    Please login to post comment. Login