নীল আকাশের শেষ চিঠি
জুলহাজ আলী জীবন
পর্ব: ১
ঢাকা শহরের একঘেয়ে দুপুরটা হঠাৎ করে ভেঙে গেল বৃষ্টির শব্দে। কালো মেঘে ঢেকে আসা আকাশটা তখন ধূসর, বাতাসে ঝিরিঝিরি পানির ছোঁয়া। বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাস ফাঁকা হয়ে যাচ্ছে, সবাই দৌড়ে আশ্রয় নিচ্ছে ভবনের বারান্দায়।
জীবন তখনো দাঁড়িয়ে আছে লাইব্রেরির সিঁড়িতে। হাতে অর্ধেক পড়া বই, চোখে অদ্ভুত শূন্যতা। সে বৃষ্টি দেখতে ভালোবাসে, কিন্তু আজ বৃষ্টির ভেতরেও তার বুকের ভেতর এক ধরনের শূন্যতা জমে আছে—যেনো কোথাও কিছু নেই।
হঠাৎ তখনই সে দেখল একটা মেয়েকে।
সাদা সালোয়ার, নীল ওড়না মাথায় হালকা করে টানা। মেয়েটি একেবারেই ভিজেছে, বৃষ্টিকে যেনো নিজের ভেতর টেনে নিচ্ছে। চুল ভিজে মুখে লেগে আছে, চোখে এক অদ্ভুত মায়া। জীবন এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইল।
তার মনে হলো—এই মেয়েটি বৃষ্টির জন্যই জন্মেছে।
বৃষ্টির ভেতর এমন করে দাঁড়িয়ে থাকা, যেনো চারপাশের দুনিয়া তার জন্য থমকে গেছে।
সেদিন তাদের কথা হয়নি।
কিন্তু বুকের ভেতর অচেনা এক ঝড় শুরু হলো—একটা অদৃশ্য টান, যা সে ভাষায় প্রকাশ করতে পারল না।
সন্ধ্যায় লাইব্রেরিতে আবার মেয়েটিকে দেখতে পেলো। দেখে বই হাতে বসে আছে, ভেজা চুল শুকাতে শুকাতে পাতার ভেতর ডুবে আছে। তখনই প্রথম চোখাচোখি হলো তাদের।
কিছুক্ষণ পর হঠাৎই মেয়েটির কলম মাটিতে পড়ে গেল।
জীবন ঝুঁকে তুলে দিল।
মেয়েটি হেসে বলল—
“ধন্যবাদ।”
সেই ছোট্ট শব্দেই যেনো কেঁপে উঠল জীবনের ভেতরটা।
তখন স্যার নীলাকে ডেকে বলবো নীলা কলমটা দেও। তখনি সে নাম জানতে পারল—নীলা।
জীবন জানত না, এই নামই একদিন তার জীবনটাকে আলো থেকে অন্ধকারে নিয়ে যাবে।