আমরা মানুষকে তার অবস্থান আর পদমর্যাদা দিয়ে বিচার করি। যদি কারও কোনো পদমর্যাদা না থাকে, যদি তার কোনো যশ বা খ্যাতি না থাকে, আমরা তাকে মানুষই মনে করি না। আমরা মানুষকে বিচার করি টাকা-পয়সা আর পদমর্যাদা দিয়ে।
একজন ধনীকে আমরা যে চোখে দেখি, সেই চোখে আমরা একজন গরিবকে দেখি না। আমরা মানুষের অস্তিত্বকে তার বাহ্যিক অবস্থান দিয়ে বিচার করি। কিন্তু আমরা কখনো ভাবি না যে সবাই মানুষ, আর একদিন সবাইকে মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণ করতে হবে।
যদিআমরাএটাভাবতাম, তাহলেমানুষেরঅবস্থানবাপদমর্যাদারবাইরেগিয়েতাকেবিচারকরতাম।আমরাপ্রায়ইবলি—“এইমানুষেরঅবস্থাভালো, তাইসেভালোমানুষ।” কিন্তুআসলেতানয়।মানুষের জীবনে সবসময় একই অবস্থা থাকেনা। যেমন খারাপ সময়আসে, আবার ভালো সময়ওআসে। মানুষের অবস্থাও পরিবর্তনশীল—কেউ সবসময় তরুণথাকে না, ধীরে ধীরেবার্ধক্যে পৌঁছায়। একইভাবে, কারো ভালো অবস্থানওচিরস্থায়ী নয়, তা বদলায়।
আজ যদি কারো অবস্থা খারাপ হয়, আমরা তাকে গুরুত্ব না দিই, কিন্তু কাল হয়তো তার ভালো সময় আসবে। তাই মানুষকে বিচার করতে হলে তার অবস্থান দেখে নয়, বরং তার চরিত্র, মন, আর সততা দেখে বিচার করতে হবে।
যদি আমরা অবস্থান দেখে বিচার করি, তাহলে কখনোই সঠিক মানুষকে চিনতে পারব না। কারণ অনেক সময় ভালো মানুষ খারাপ অবস্থায় থাকে, আর আমরা ভুল করে তাদের অবমূল্যায়ন করি। আবার অনেক সময় ভালো অবস্থায় থাকা মানুষও আসলে ভালো হয়, কারণ তারা অবস্থার বাইরে গিয়ে মানুষকে মানুষ হিসেবে মূল্য দিতে শেখে।
কিন্তু এই যুগে একটা বিষয় আমি বুঝি না—কেন সবাই শুধু অবস্থান দেখে মানুষকে বিচার করে? কেন মানুষ বোঝার চেষ্টা করে না যে অবস্থান সবসময় একই থাকে না?
তাই আমাদের উচিত মানুষকে তার মূল্যবোধ আর আচরণ দিয়ে বিচার করা, অবস্থান দিয়ে নয়। এভাবেই আমরা ভালো মানুষ চিনতে পারব এবং সমাজকে আরও ভালো করতে পারব।