রাফির হঠাৎ আতঙ্ক ভরা চিৎকারে পুরো বাড়িটা যেন কেঁপে উঠল।
পর মুহূর্তেই দরজা ঠেলে রুমে ঢুকে পড়লেন রাফির মা। তাঁর চোখে-মুখে স্পষ্ট আতঙ্ক।
— "কী হয়েছে?"
কণ্ঠটা কাঁপছিল। যেন উত্তর শোনার আগেই তিনি ভয়ঙ্কর কিছু আঁচ করে ফেলেছেন।
রাফির বাবা বিছানার পাশে দাঁড়িয়ে ছিলেন। তাঁর দৃষ্টি স্থির রাফির দিকে। কয়েক সেকেন্ড নীরব থাকার পর নিচু স্বরে বললেন,
— "মনে হয়... আবার এসেছে।"
'আবার এসেছে'— কথা টার অর্থ কিছুতেই বুঝতে পারছিলনা কাফি। ঘরের ভেতরের ভারী নীরবতা, সবার আতঙ্কিত মুখ আর রাফির অসহায় অবস্থা তার বুকের ভেতর অদ্ভুত এক অস্বস্তি তৈরি করছিল।
শেষপর্যন্ত সে আর নিজেকে থামাতে পারলনা।
— "রাফির কী হয়েছে?"
রাফির মা কিছু বলতে গিয়েও থেমে গেলেন।
— "এই যে... মানে..."
বাকিটা শেষ করতে দিলেননা রাফির বাবা।
— "শরীরটা খারাপ। তাইএকটু উল্টাপাল্টা বলছে।"
কথাগুলো যতটাস্বাভাবিক শোনানোর চেষ্টা করা হচ্ছিল, তার চেয়েও বেশি অস্বাভাবিক লাগছিল।
কাফি ধীরে ধীরে রাফির কাছে গিয়ে বসল।
রাফিকে দেখে তার বুকটা মোচড় দিয়ে উঠল। ছেলেটার মুখ ফ্যাকাশে, ঠোঁট শুকিয়ে সাদা হয়েগেছে। চোখের নিচে গাঢ় কালো দাগ, অথচ চোখ দুটো যেন কারও উপস্থিতি অনুসরণ করছে— এমন কাউকে, যাকেএই ঘরে আরকেউ দেখতেপাচ্ছেনা।
কাফি নিচু স্বরে বলল,
— "রাফি... কী হয়েছে তোর?"

রাফি কয়েক মুহূর্ত চুপ করে রইল। তারপর কাঁপতে থাকা ঠোঁট সামান্য নাড়ল।
— "আমি... হঠাৎ হঠাৎ অস্বাভাবিক কিছু দেখি..."
সে একবার দরজার দিকে তাকাল, তারপর ধীরে ধীরে ঘরের অন্ধকার কোণায় চোখ স্থির করল।
তারপর প্রায় ফিস ফিসিয়ে বলল,
— "কেউ... আমার কানের একেবারে কাছে এসেবলে..."
সে হঠাৎ থেমে গেল।
ঘরের বাতাস যেন আরও ভারী হয়ে উঠল।
তারপর নিঃশ্বাস বন্ধকরে দেওয়ার মতো কণ্ঠেবলল,
— "তোকে নিয়ে যাব..."
কথাটা শেষ হতেই ঘরের ভেতর এক অস্বাভাবিক নীরবতা নেমে এল। মনেহলো, অন্ধকারের গভীরে কেউ যেন নিঃশব্দে দাঁড়িয়ে আছে... আর তাদের কথোপকথন মন দিয়ে শুনছে।
কাফি বলে উঠল,
"কে... কে ওখানে?"