এক ব্যস্তময় গ্রাম। গাছপালা নদী-নালা খাল বিল এই গ্রামের প্রকৃতির সুন্দর্য। এক সময় এই গ্রামের মানুষরা সকালবেলায় কাজে চলে যেত টিক ভুর ছয়টায়। সাতটা আটটার দিকে ছেলে মেয়েরা হেঁটে হেঁটে মাদ্রাসা স্কুলে যেত। বিকাল তিনটায় চারটার সময় স্কুল মাদ্রাসা থেকে ফিরত। ঘরে গিয়ে কাপড় চোপড় পরিবর্তন করে মাঠে খেলার জন্য দূরে চলে আসতো। বিকাল বেলাটা ভরে উঠলো এই সুন্দর খেলার দৃশ্যে। গ্রামের মুরুব্বিরা আসরের নামাজ পড়ে কোন এক প্রান্তে বসে তাদের আড্ডা জমাতো। সন্ধ্যা বেলায় পাখির কিচিমিচি কানযালা পালা হয়ে যেতো। মাগরিবের নামাজ পড়ে সকলেই যার যার বাড়ি যেত। মা ছেরাক জ্বালিয়ে পড়ার জন্য বসিয়ে দিতেন। এশার নামাজ পড়ে ভাত খেয়ে সকলে গল্প আলাপ করে ঘুমিয়ে পড়তো। আর বর্তমানে সেই দৃশ্যটি অন্যরকম হয়ে পড়েছে। এখন প্রকৃতি হয়ে পড়েছে খুবই ভয়ঙ্কর। নদী এক ভয়ঙ্কর রূপে পরিণত হয়েছে । বিল আগের মত সেই বিল নেই সবুজ শ্যামল। মানুষরা এখন ঘুম থেকে উঠে সকাল দশটায়। যে বিকাল বেলায় আগে মাঠে ছেলে মেয়েদের আনাকোনা ছিল। সেই আনাকোনা এখন আর নেই। মাগরিবের নামাজের পর যে চেরাক জ্বালানি পড়তে বসতে হতো সেই দৃশ্য এখন আর চোখে পড়ে না। পড়ালেখা বলতে এখন নিয়ে বসে থাকাটা কে দেখা যায়। খাবার, খাবারের কোন ঠিক ঠিকানা নেই। মোবাইল দেখতে দেখতে রাত বারোটা একটা পার হয়ে যায়।ঘুমানোর কোন নির্দিষ্ট সময় নেই। যতক্ষণ মোবাইলের চার্জ শেষ না হয় ততক্ষণ ঘুমায় না। রাতের ভয়ংকর সে রূপ প্রতিটি মানুষের মধ্যে এখন বিরাজমান।