নোবেলজয়ী লেখক ওলগা তোকারচুক তার লেখায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই ব্যবহারের কথা প্রকাশ করার পর ব্যাপক বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। সাহিত্য বিষয়ক ওয়েবসাইট লিটারারি হাব এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে ৬৪ বছর বয়সী পোলিশ এই লেখক স্বীকার করেছেন, লিটারারি ফিকশনের ক্ষেত্রে এই প্রযুক্তি এক অবিশ্বাস্য মাত্রার সুবিধা নিয়ে এসেছে।
পোল্যান্ডের পোজনান শহরে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে ওলগা তোকারচুক জানিয়েছেন, তার সর্বশেষ উপন্যাস ‘দ্য এম্পুসিয়াম’ লিখতে তিনি এআই ব্যবহার করেছেন। তোকারচুকের বক্তব্যের কিছু অংশ অনুবাদ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ব্লুস্কাই’ এ প্রকাশ করেছেন পোলিশ-অস্ট্রেলিয়ান লেখক ম্যাকস সিপোভিচ।
তোকারচুক বলেছেন, 'আমার সর্বশেষ উপন্যাসটি লেখার সময় আমি এই উন্নত মডেলটিকে (এআই চ্যাটবট) জিজ্ঞেস করেছিলাম যে, কয়েক দশক আগে কোনো নাচের আসরে আমার গল্পের প্রধান চরিত্ররা কী ধরনের গান শুনত। তখন এআই আমাকে কয়েকটি গানের নাম জানিয়েছিল।'
তিনি আরও বলেছেন, "প্রায়ই আমি মেশিনটিকে বলি, ‘ডার্লিং, বিষয়টিকে আমরা কীভাবে সুন্দরভাবে এগিয়ে নিতে পারি?’ অর্থনীতি ও সুনির্দিষ্ট তথ্যের ক্ষেত্রে বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রদান এবং নানা ধরনের ভুলভ্রান্তি থাকা সত্ত্বেও আমাকে বলতেই হবে যে, লিটারারি ফিকশনের ক্ষেত্রে এই প্রযুক্তি এক অভাবনীয় সুবিধাজনক মাধ্যম।”
এদিকে লিটারারি হাব এর কাছে দেওয়া এক বিবৃতিতে তোকারচুক বলেছেন, ‘বিশ্বের অধিকাংশ মানুষের মতোই আমি দ্রুত তথ্য পাওয়ার কাজে এআইকে ব্যবহার করি। যখনই আমি এই প্রযুক্তি ব্যবহার করি, তখন প্রাপ্ত তথ্যগুলো অতিরিক্তভাবে যাচাই করেও নিই। ঠিক যেমনটা আমি গত কয়েক দশক ধরে লাইব্রেরি ও আর্কাইভ ঘাঁটার মাধ্যমে করে আসছি। তবে আমার কোনো লেখাই এমনকি এই শরতে পোলিশ ভাষায় প্রকাশিত হতে যাওয়া উপন্যাসটিও এআই এর সহায়তায় লেখা হয়নি। কেবল দ্রুত প্রাথমিক গবেষণার একটি হাতিয়ার হিসেবেই আমি এর সাহায্য নিয়েছি।’
তোকারচুকের প্রথম বক্তব্য এবং পরবর্তীতে লিটারারি হাবে দেওয়া তার বিবৃতিতে সাহিত্যিক মহলের অনেকের মধ্যেই বিস্ময় ও উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে। পাজিবা ব্লগে সাংবাদিক কেলি ডোনাল্ডসন লিখেছেন, ‘কোনো লেখক যদি স্বীকার করেন যে, তারা এআই এর কাছে তাদের সহজাত কৌতূহল বিসর্জন দিয়েছেন কিংবা কেবল সামান্য একটা কাজের জন্য তারা এটি ব্যবহার করেছেন। তবে সেই লেখকের বই পড়ার আগ্রহ আমার কেনইবা জাগবে? এ ধরনের অজুহাত আমার কাছে একেবারেই গ্রহণযোগ্য নয়।’
উল্লেখ্য, ওলগা তোকারচুক ২০১৮ সালে সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার জিতেছিলেন। একই বছর তিনি 'ফ্লাইটস' উপন্যাসের জন্য ইন্টারন্যাশনাল বুকার প্রাইজ পান। বইটি ইংরেজিতে অনুবাদ করেছেন জেনিফার ক্রফট। ‘দ্য বুকস অব জ্যাকব’ উপন্যাসটিকে তার শ্রেষ্ঠ রচনা হিসেবে বিবেচনা করা হয়। ১ হাজার ১০০ পৃষ্ঠার বেশি বিশাল এই বইকে তোকারচুকের ম্যাগনাম ওপাস বা মহান কর্ম বলে উল্লেখ করেছে সুইডিশ একাডেমি।