মা কিংবা বাবার হাত ধরে স্কুলে যেতাম আর আসতাম। কিছু বছর পর হাত ধরা ছেড়ে দিলাম। শুধু রাস্তা পার হওয়ার সময় শক্ত করে ধরতাম। একা চলা শুরু করলাম। শুধু সন্ধ্যার পর বাবার হাতের ছায়া নিয়ে বাসায় ফিরতাম। এখন সেটাও বন্ধ । নিজেই ফিরি। কখনো হাতে থাকে মোটা বই। ব্যাগে নিলে কাঁধ ভার সইতে পারে না। তাই হাতের ভাগে দায়িত্ব চলে যায়। কখনো হাতে থাকে এক পলিথিন ভেলপুরি। কখনো বা শূন্য। এক কোষ বৃষ্টির পানি। আনমনে লেখা প্রিয় মানুষের নাম। কিংবা শখ করে কেনা কাচের চুড়ি।শৈশবের প্রিয় হাওয়াই মিঠাই।হতাশায় এক কাপ চা। রাতদুপুরের দুঃখবাষ্প যার নাম "অশ্রু"।
প্রণয় হলে অন্য একজনের হাত ধরবো। গোটা শহরে এক জোড়া হাত ঘুরে বেড়াবে।সেজে উঠবে বেলিফুলের গাজরায়। সংসারের সুবাদে হাতে উঠবে এক আটি শাক কিংবা এক ব্যাগ বাজার৷হাড়ি পাতিল, খুন্তি, কড়াই সব উঠবে। কর্মসংস্থান হলে সেখানকার ফাইল বাংলায় যাকে বলে "নথি"। আরো কিছু সময় পর একজন নবজাতকের গুটি গুটি আঙুল স্পর্শ করবে এই হাত। তারপর সেই আঙুল বড় হবে। স্কুলে ধরে নিয়ে যাবে আমারই হাত! সেটা সাধারণ কোন হাত হবে না। হবে মায়ের হাত, ভরসার হাত।এই হাত ভাতের নলা বানিয়ে মুখে তুলে দিবে কিংবা মাথায় বোলাবে শান্তির সুর।সময় এগোবে। হাত থেকে দায়িত্বরা বিদায় নেবে। বিনিময়ে উঠে যাবে অপারগতা, অন্তঃসারশূন্যতা। একটু একটু করে ম্লান হবে এই হাত৷ কুচকে যেতে থাকবে। কাঁপা কাঁপা দুটি হাত।ঝড়ে মুছড়ে যাওয়া গাছের ডালের মতো। একদিন হঠাৎ করে মুষ্টিবদ্ধ হাত টান টান হয়ে বিছানায় লুটিয়ে পড়বে। হিমশীতল হাত ;যার আর দায় নেওয়ার সক্ষমতা নেই।
2
View