Posts

চিন্তা

বাংলাদেশ কেন পিছিয়ে

July 14, 2026

Md Josam

Original Author MD samim sikdar

Translated by MD Shamim sikdar

5
View

বাংলাদেশ কেন পিছিয়ে
বাংলাদেশ একটি সম্ভাবনাময় দেশ। বিশাল জনসংখ্যা, উর্বর জমি, নদীমাতৃক ভূগোল, যুবশক্তি—সবকিছু আছে। কিন্তু বাস্তবে আমরা অনেক দেশের তুলনায় পিছিয়ে আছি। ভিয়েতনাম, মালয়েশিয়া, দক্ষিণ কোরিয়া, এমনকি কিছু ক্ষেত্রে ভারতের সাথে তুলনা করলেও আমাদের অবস্থান সন্তোষজনক নয়। এই পিছিয়ে পড়ার মূল কারণ বাঙালির অযোগ্যতা এবং অলসতা। এটা কোনো কাল্পনিক গল্প নয়, সত্য ঘটনা ও তথ্যের ভিত্তিতে লেখা। আমরা নিজেদের দোষ স্বীকার না করে বাইরের শক্তি, প্রকৃতি বা ষড়যন্ত্রের দোহাই দিয়ে সময় নষ্ট করি। এই চিন্তায় সেই সত্যগুলো তুলে ধরব।
স্বাধীনতার পর থেকে শুরু: সম্ভাবনা থেকে ব্যর্থতা
১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের পর বাংলাদেশ স্বাধীন হয়। যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশ, কিন্তু আশা ছিল প্রচুর। শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে সরকার গঠিত হয়। কিন্তু খুব দ্রুতই দুর্নীতি, অযোগ্যতা এবং অলসতা চেপে বসে। ১৯৭৪ সালের দুর্ভিক্ষে লাখ লাখ মানুষ মারা যায়, অথচ সরকারি প্রশাসন দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়ে। মুজিব নিজেই স্বীকার করেছিলেন যে দুর্নীতি দেশকে গ্রাস করছে। তার শাসনামলে নেপোটিজম (আত্মীয়প্রীতি) চরমে পৌঁছায়। যোগ্য লোকের বদলে আত্মীয়-স্বজনদের পদে বসানো হয়। ফলে প্রশাসন অকার্যকর হয়ে পড়ে। ১৯৭৫ সালে মুজিবকে হত্যার পরও এই ধারা চলতে থাকে।
এরপর জিয়াউর রহমান, এরশাদ, খালেদা-হাসিনার আমলেও একই গল্প। প্রত্যেক সরকার দুর্নীতির অভিযোগে জর্জরিত। Transparency International-এর দুর্নীতি সূচকে বাংলাদেশ বারবার নিচের দিকে থেকেছে। সরকারি প্রকল্পের টাকা লুটপাট, ঘুষ, কমিশন—এগুলো সাধারণ ঘটনা। একজন বাঙালি কর্মকর্তা বা নেতা যখন ক্ষমতায় আসেন, প্রথম কাজ হয় নিজের লোকজনকে সুবিধা দেওয়া, প্রকল্প থেকে কাটমানি তোলা। এই অযোগ্যতা দেশের উন্নয়নকে বাধাগ্রস্ত করেছে।
অর্থনৈতিক পিছিয়ে পড়া: অলসতার ফল
বাংলাদেশের অর্থনীতি মূলত গার্মেন্টস শিল্পের উপর নির্ভরশীল। এটা সত্য যে এখানে অনেক কর্মসংস্থান হয়েছে, বিশেষ করে নারীদের। কিন্তু তুলনা করুন ভিয়েতনামের সাথে। ভিয়েতনাম যুদ্ধের পর ধ্বংসস্তূপ থেকে উঠে এসেছে এবং এখন উচ্চ প্রযুক্তি, ইলেকট্রনিক্স, ম্যানুফ্যাকচারিংয়ে এগিয়ে। ২০২৪-২৫ সালের তথ্য অনুসারে ভিয়েতনামের পার ক্যাপিটা জিডিপি বাংলাদেশের চেয়ে অনেক বেশি (প্রায় $4500+ বনাম বাংলাদেশের ~$2600)।
কেন? বাঙালি শ্রমিকের অলসতা এবং দক্ষতার অভাব। গার্মেন্টস ফ্যাক্টরিতে অনেক সময় শ্রমিকরা সময়মতো আসেন না, অনুপস্থিতি বেশি, উৎপাদনশীলতা কম। মালিকপক্ষও অনেক ক্ষেত্রে শ্রমিকদের সঠিক প্রশিক্ষণ দেন না বা অলসতা সহ্য করেন রাজনৈতিক সুবিধার জন্য। ফলে উৎপাদন খরচ বাড়ে, ক্রেতারা চলে যায় অন্য দেশে।
কৃষিতে আমরা চাল উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণ হয়েছি, কিন্তু অন্যান্য ফসলে পিছিয়ে। চাষিরা আধুনিক পদ্ধতি গ্রহণ করতে চান না। অলসতা আর ঐতিহ্যের নামে পুরনো পদ্ধতিতে আটকে থাকা। বন্যা, খরা হলে সরকারি সাহায্যের অপেক্ষায় বসে থাকা, নিজে উদ্যোগ না নেওয়া। দক্ষিণ কোরিয়া বা চীনের মতো দেশে কৃষকরা কীভাবে প্রযুক্তি ব্যবহার করে উৎপাদন বাড়িয়েছে, আমরা সেটা অনুসরণ করিনি।
শিল্পায়নে বড় বাধা বিনিয়োগের অভাব। বিদেশি বিনিয়োগ আসে না কারণ দুর্নীতি, আমলাতান্ত্রিক জটিলতা এবং অস্থিরতা। একজন বাঙালি ব্যবসায়ী প্রায়ই টাকা বিদেশে পাচার করে, দেশে বিনিয়োগ করে না। অলসতা এখানেও: ঝুঁকি নিতে চায় না, কঠোর পরিশ্রম করে নতুন কিছু তৈরি করতে চায় না। ফলে সরকারি চাকরির পেছনে ছোটা, ঘুষ খাওয়া—এটাই সংস্কৃতি হয়ে দাঁড়িয়েছে।
শিক্ষা ব্যবস্থা: রুট মেমোরাইজেশনের ফাঁদ
বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থা এক বড় উদাহরণ। সাক্ষরতার হার বেড়েছে (প্রায় ৭৬%), কিন্তু গুণগত মান ভয়ানক খারাপ। ছাত্ররা রুট মেমোরাইজ করে পরীক্ষা পাস করে, কিন্তু চিন্তা করতে, সমস্যা সমাধান করতে পারে না। শিক্ষকরা নিজেরাও অনেক ক্ষেত্রে অযোগ্য—ক্লাসে পড়ান না, প্রাইভেট টিউশনির উপর নির্ভর করেন।
স্কুলে শিক্ষার্থীদের মারধর, হিউমিলিয়েশন, ক্রিয়েটিভিটি হত্যা—এগুলো সাধারণ ঘটনা। ফলে গ্র্যাজুয়েটরা চাকরির জন্য অযোগ্য হয়ে পড়ে। বিদেশি কোম্পানি আসলে দক্ষ লোক পায় না। ভারত বা ভিয়েতনামের ইঞ্জিনিয়াররা যেভাবে ইনোভেশন করে, আমাদের ছেলেরা সেটা পারে না কারণ অলসতা আর শর্টকাটের সংস্কৃতি। কোচিং সেন্টারের দৌরাত্ম্য, প্রশ্নফাঁস, দুর্নীতি—সবই বাঙালির অযোগ্যতার প্রমাণ।
স্বাস্থ্য, জনসংখ্যা এবং অবকাঠামো
জনসংখ্যা বিস্ফোরণ আমাদের বড় সমস্যা। পরিকল্পিত পরিবারের ধারণা অনেকের কাছে নেই। অলসতা আর অজ্ঞতায় বেশি সন্তান নেওয়া, তারপর সরকারের উপর দায় চাপানো। ফলে প্রতি বর্গকিলোমিটারে চাপ অসহ্য। ঢাকা শহরের ট্রাফিক জ্যাম, দূষণ—সবই এর ফল।
অবকাঠামো প্রকল্পে বিলম্ব সাধারণ। পদ্মা সেতু, মেট্রো রেলের মতো প্রকল্পেও দুর্নীতি ও অলসতার অভিযোগ উঠেছে। অন্য দেশে এমন প্রকল্প দ্রুত শেষ হয় কারণ কর্মীরা পরিশ্রমী এবং দায়িত্বশীল। আমাদের এখানে ঠিকাদার টাকা নিয়ে কাজ ফেলে রাখে, কর্মচারীরা সময়মতো আসে না।
রাজনীতি ও সমাজ: অযোগ্য নেতৃত্বের চক্র
বাংলাদেশের রাজনীতি দুই দলের মধ্যে আবর্তিত। প্রত্যেক দল ক্ষমতায় গিয়ে প্রতিপক্ষকে দমন করে, দুর্নীতি করে। ছাত্র রাজনীতি, টেন্ডারবাজি, সন্ত্রাস—সবই অলস ও অযোগ্য লোকদের হাতে। যোগ্য নেতৃত্বের অভাব। একজন বাঙালি নেতা যখন ক্ষমতায় আসেন, দেশের চেয়ে নিজের পরিবার ও দলকে প্রাধান্য দেন। এটা ঐতিহাসিক সত্য—মুজিব আমল থেকে শুরু করে আজ পর্যন্ত।
সমাজে সততা ও পরিশ্রমের চেয়ে চালাকি ও সংযোগকে মূল্য দেওয়া হয়। চাকরির পরীক্ষায় ঘুষ, প্রমোশনে আত্মীয়তা। ফলে যোগ্যরা হতাশ হয়ে দেশ ছাড়ে (ব্রেন ড্রেন)। লক্ষ লক্ষ বাঙালি বিদেশে গিয়ে কঠোর পরিশ্রম করে রেমিট্যান্স পাঠায়, কিন্তু দেশে এসে একই অলসতায় ফিরে যায়।
সাংস্কৃতিক ও মানসিকতার সমস্যা
বাঙালির সংস্কৃতিতে “চলবে ঠিক আছে”, “কাল করব” এই মানসিকতা গভীরভাবে প্রোথিত। সময়ের মূল্য নেই। মিটিংয়ে দেরি করা, কাজ ফেলে রাখা—এগুলো স্বাভাবিক। অন্যদিকে জাপান, জার্মানিতে সময়ানুবর্তিতা এবং পরিশ্রমকে ধর্মের মতো মানা হয়। আমরা আড্ডা, রাজনীতি, ফালতু বিতর্কে সময় নষ্ট করি।
ধর্মীয় অন্ধত্ব, কুসংস্কারও বাধা। শিক্ষিত যুবকরাও অনেক সময় যুক্তির চেয়ে আবেগকে প্রাধান্য দেয়। ফলে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে পিছিয়ে পড়ি।
তুলনামূলক দৃষ্টিতে
দক্ষিণ কোরিয়া ১৯৬০ এর দশকে বাংলাদেশের চেয়েও গরিব ছিল। কিন্তু কঠোর পরিশ্রম, শিক্ষা, সৎ নেতৃত্বে আজ উন্নত দেশ। সিঙ্গাপুর লি কুয়ান ইউয়ের নেতৃত্বে দুর্নীতি দমন করে এগিয়েছে। আমরা সেই শিক্ষা নিইনি। ভিয়েতনাম কমিউনিস্ট হওয়া সত্ত্বেও বাজার অর্থনীতি গ্রহণ করে দ্রুত এগিয়েছে। আমাদের অলসতা সেটা করতে দেয়নি।
উপসংহার: পরিবর্তনের পথ
বাংলাদেশ পিছিয়ে আছে মূলত আমাদের নিজেদের কারণে—অযোগ্যতা, অলসতা, দুর্নীতি এবং স্বল্পদৃষ্টি। এটা স্বীকার না করে উন্নতি সম্ভব নয়। শিক্ষা ব্যবস্থা ঢেলে সাজাতে হবে, দুর্নীতি কঠোরভাবে দমন করতে হবে, পরিশ্রমের সংস্কৃতি গড়ে তুলতে হবে। প্রত্যেক বাঙালিকে নিজেকে প্রশ্ন করতে হবে: আমি কতটা পরিশ্রমী? কতটা যোগ্য?
এই ২০০০ শব্দের (প্রায়) চিন্তা পড়তে যদি এক ঘণ্টা লাগে, তাহলে ধীরে ধীরে ভাবুন। সত্য কঠিন, কিন্তু এটাই মুক্তির পথ। আমরা যদি নিজেদের পরিবর্তন না করি, তাহলে আরও শতাব্দী পিছিয়ে থাকব। উঠুন, পরিশ্রম করুন, যোগ্য হোন। বাংলাদেশকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার দায়িত্ব আমাদেরই।

🎉 ১ লাখ টাকা পুরস্কার জেতার সুযোগ!

আমার চ্যানেলটি সাবস্ক্রাইব করুন। তারপর যেকোনো ভিডিওতে এই কমেন্টটি করুন:

🔗 https://youtube.com/@jaminatvmt
📝 @jaminatvmt

ধন্যবাদ ❤️

Comments

    Please login to post comment. Login