সকাল থেকেই বাড়ির অন্য রকম পরিবেশ। চারপাশে পারফিউমের ঘ্রাণ, তাজা ফুলের মিষ্টি সুবাস।
" আমি সবাই কে ছেড়ে কিভাবে থাকব
ধীরে ধীরে সময় গড়িয়ে যায়। দুপুর গড়াতেই বাসার সামনে হইচই শুরু হয়।
"এই এই! দাঁড়ান! এভাবে ঢুকা যাবে না!
বাসায় ঢুকতেও পারমিশন লাগবে নাকি? একজন কাজিন হেসে বলে,
" পারমিশন না, ৫০ হাজার টাকা দেন তারপরে ঢুকেন।
অনেক দরকষাকষি, ঠাট্টা, হাসাহাসির পর শেষমেশ রাইহান পকেট থেকে ২০ হাজার টাকা বের করে সামনে ধরে—
ইনায়াকে নিয়ে আসা হয়। লাল বেনারসিতে সেজে অসম্ভব সুন্দর লগছে তাকে। সবাই মুগ্ধ য়ে তাকিয়ে থাকে।
ইনায়াকে এনে রাইহানের পাশে বসানো হয়। সবাই কথা বলে।ছবি তুলে।
" রাজি থাকলে বলুন, আলহামদুলিল্লাহ কবুল।
সবাই তাকিয়ে আছে। ইনায়ার কান্না আর আটকালো না। ফুঁপিয়ে উঠলো। মাথা নিচু করে ওড়নায় মুখ ঢাকলো।
আরিশা আর চাচি আম্মু দুইজন দুইপাশ থেকে ইনায়ার হাত ধরলো।
ইনায়া কাঁপা গলায় ফিসফিস করে বলল,
সবাই এক সাথে আলহামদুলিল্লাহ বলে উঠে।
ইহান সামনে গিয়ে ইনায়া কে জড়িয়ে ধরে। দুজনেই কাঁদতে থাকে।
চারপাশে সবাই চুপ হয়ে তাকিয়ে থাকে। ভাই-বোনের ভালোবাসার দিকে। সবাই তখন আর চোখের পানি আটকাতে পারল না।
এই বিদায়ের মুহূর্তটা— একটা সম্পর্কের গভীরতা নতুন করে বুঝিয়ে দেয়।
বাইরে গাড়ি প্রস্তুত। সময় হয়ে গেছে। ইহান ধীরে ধীরে ইনায়ার হাত ছাড়ে।কিন্তু তার চোখ এখনো তার দিকেই।