Novel

এক ছাতার নিচে। পর্ব:৫৯

July 16, 2026

214 views

গল্প- এক ছাতার নিচে

  লেখিকা- বুশরা নাদরাহ 

 পর্ব - ৫৯ 

 সকাল থেকেই বাড়ির অন্য রকম পরিবেশ। চারপাশে পারফিউমের ঘ্রাণ, তাজা ফুলের মিষ্টি সুবাস। 

  ইনায়া নিজের রুমে বসে আছে।গায়ে লাল বেনারসি, মাথায় একটা বড় খোপা, যাতে তাজা গোলাপ দিয়ে ভরা।গায়ে বিভিন্ন রকম গহনা।

  বাড়ি ভর্তি এত মানুষ, এত হৈচৈ কিন্তু তারপরও ইনায়ার মনে কেমন একটা ভয় কাজ করছে।  সে আয়নায় নিজের দিকে তাকিয়ে ফিসফিস করে বলল,

 " আমি সবাই কে ছেড়ে কিভাবে থাকব

 নিজেই নিজেকে প্রশ্ন করল। 

ধীরে ধীরে সময় গড়িয়ে যায়।  দুপুর গড়াতেই বাসার সামনে হইচই শুরু হয়।

 "বর আসছে! বর আসছে!  

সবাই ছুটে যায় গেটের দিকে।  ফুল দিয়ে সাজানো গাড়ি এসে থামে— রায়হান ধীরে নেমে আসে। পাঞ্জাবি আর শেরওয়ানিতে একদম জমে গেছে সে।  

তার সাথে বন্ধুরা— হাসি, মজা, দুশটমি পুরো পরিবেশ জমজমাট। গেটের সামনে দাঁড়িয়ে আছে ইনায়ার কাজিন রা সবাই।  

"এই এই! দাঁড়ান! এভাবে ঢুকা যাবে না!

 সায়েম হেসে বলে,

"কেন? 

 বাসায় ঢুকতেও পারমিশন লাগবে নাকি?  একজন কাজিন হেসে বলে,

" পারমিশন না, ৫০ হাজার টাকা দেন তারপরে ঢুকেন। 

 রায়হানের বন্ধুরা বলে,

"এইটা তো একদম ডাকাতি!  

কাজিনরা একদম নড়ছে না,

"আজকে নিয়ম আমাদের।

 অনেক দরকষাকষি, ঠাট্টা, হাসাহাসির পর শেষমেশ রাইহান পকেট থেকে ২০ হাজার টাকা বের করে সামনে ধরে— 

"এই নিন। 

 সবাই চিৎকার করে ওঠে— 

"ইয়েস!   হাসতে হাসতেই গেট খুলে দেওয়া হয়।  ভেতরে ঢুকতেই আপ্যায়ন, কোলাকুলি।মেহমানদের ভিড়, আনন্দ, হৈচৈ শুরু হয়ে যায়।

  ইনায়াকে নিয়ে আসা হয়। লাল বেনারসিতে সেজে অসম্ভব সুন্দর লগছে তাকে। সবাই মুগ্ধ য়ে তাকিয়ে থাকে।

 ইনায়াকে এনে রাইহানের পাশে বসানো হয়। সবাই কথা বলে।ছবি তুলে।  

কাজী সাহেব আসলেন। সবাই চুপ।কাজী সাহেব বিয়ে পরাতে শুরু করলেন। প্রথমে রাইহান কবুল বলল। তারপরে কাজী সাহেব ইনায়ার দিকে ঘুরে বললেন,  

"রায়হান চৌধুরীর পক্ষ হইতে ১০ লক্ষ টাকা মোহর ধার্য করিয়া, নগদ পরিশোধ করিয়া। আপনাকে বিবাহের প্রস্তাব করিয়াছে। আপনি কি রাজি? 

 প্রশ্নটা কানে যেতেই ইনায়ার পুরো শরীর কেঁপে উঠলো। বেনারসির আঁচলটা দুই হাতে খামচে ধরলো।  হাত পা থরথর করে কাঁপতেছে। গলা শুকিয়ে গেল।চোখের কোণ ভিজে গেল।  দুফোঁটা পানি গড়িয়ে পড়লো।  

কাজী সাহেব আবার বললেন,

   " রাজি থাকলে বলুন, আলহামদুলিল্লাহ  কবুল।

  সবাই তাকিয়ে আছে।  ইনায়ার কান্না আর আটকালো না।  ফুঁপিয়ে উঠলো। মাথা নিচু করে ওড়নায় মুখ ঢাকলো।  

 আরিশা আর চাচি আম্মু  দুইজন দুইপাশ থেকে ইনায়ার হাত ধরলো।  

  "কাঁদিস না। বল। 

ইনায়া কাঁপা গলায় ফিসফিস করে বলল,

 " আলহামদুলিল্লাহ কবুল।  

সবাই এক সাথে আলহামদুলিল্লাহ বলে উঠে।

  তারপরে খাওয়া দাওয়া শেষ করে, এখন বিদায়ের পালা। বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা শেষ  সবাই ব্যস্ত হয়ে পড়ে বিদায়ের প্রস্তুতিতে। 

  ইনায়া উঠে  দাঁড়াতেই চারপাশের সব শব্দ যেন হঠাৎ থেমে যায়।  এটাই সেই মুহূর্ত-  বিদায়।  ইনায়া একে একে সবাই  জড়িয়ে ধরে কান্না কাটি করে। চারপাশে কান্নার শব্দ ভেসে ওঠে।  ইনায়ার চোখ বারবার একজনকে খুঁজছে,  ইহান।  ঠিক তখনই ভিড় ঠেলে সামনে আসে ইহান।  হালকা হাঁপাচ্ছে— মনে হচ্ছে দৌড়ে এসেছে।  চোখে ক্লান্তি, কিন্তু তার থেকেও বেশি কিছু— অদ্ভুত এক ভাঙা অনুভূতি। 

 " দাভাই। 

ইহান সামনে গিয়ে ইনায়া কে জড়িয়ে ধরে।  দুজনেই কাঁদতে থাকে।  

চারপাশে সবাই চুপ হয়ে তাকিয়ে থাকে। ভাই-বোনের ভালোবাসার দিকে। সবাই তখন আর  চোখের পানি আটকাতে পারল না।  

এই বিদায়ের মুহূর্তটা— একটা সম্পর্কের গভীরতা নতুন করে বুঝিয়ে দেয়। 

 বাইরে গাড়ি প্রস্তুত। সময় হয়ে গেছে।  ইহান ধীরে ধীরে ইনায়ার হাত ছাড়ে।কিন্তু তার চোখ এখনো তার দিকেই।

 " চল। আরিশার কন্ঠ। 

ইনায়া গাড়িতে উঠে বসে। 

গাড়ি চলতে শুরু করে।

Picked up where you left off

Comments

    Please login to post comment. Login