Posts

উপন্যাস

প্রেমের গল্প

July 17, 2026

Asfak nijam Chy

42
View

গ্রামের নাম ছিল সবুজপুর। সেখানে একই পরিবারের দুই শাখায় বড় হয়েছে মামাতো ভাই রায়হান আর ফুফাতো বোন মেহজাবীন। ছোটবেলা থেকেই তাদের মধ্যে ছিল গভীর বন্ধুত্ব। ঈদের ছুটি, পারিবারিক অনুষ্ঠান কিংবা বেড়াতে যাওয়া—সব সময়ই তারা একসঙ্গে থাকত। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সেই বন্ধুত্ব ধীরে ধীরে এক অদ্ভুত টানে রূপ নেয়।

রায়হান পড়াশোনার জন্য শহরে চলে যায়। অন্যদিকে মেহজাবীন গ্রামেই থেকে কলেজে ভর্তি হয়। দূরে থাকলেও তারা নিয়মিত ফোনে কথা বলত। পড়াশোনার খবর, ভবিষ্যতের স্বপ্ন আর জীবনের ছোট ছোট সুখ-দুঃখ—সবকিছুই ভাগ করে নিত একে অপরের সঙ্গে। একদিন রায়হান বুঝতে পারে, মেহজাবীনকে ছাড়া তার দিনগুলো যেন অসম্পূর্ণ। সাহস করে সে নিজের মনের কথা জানায়।

মেহজাবীন কিছুক্ষণ নীরব থেকে মৃদু হেসে বলে, “আমিও অনেক দিন ধরে তোমাকে অন্যরকমভাবে অনুভব করি। কিন্তু আমাদের সম্পর্ক নিয়ে পরিবারের মতামত কী হবে, সেটাই ভাবি।”

এরপর দুজনেই সিদ্ধান্ত নেয়, কোনো তাড়াহুড়ো করবে না। আগে নিজেদের পড়াশোনা শেষ করবে এবং প্রতিষ্ঠিত হওয়ার চেষ্টা করবে। কয়েক বছর পর রায়হান চাকরি পায়, আর মেহজাবীনও নিজের পড়াশোনা শেষ করে।

একদিন তারা পরিবারের বড়দের সামনে নিজেদের অনুভূতির কথা জানায়। প্রথমে সবাই কিছুটা অবাক হলেও পরে শান্তভাবে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করেন। পরিবারের সদস্যরা তাদের পরিণত চিন্তাভাবনা, পারস্পরিক শ্রদ্ধা এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা দেখে ইতিবাচক মনোভাব দেখান। তবে তারা মনে করিয়ে দেন যে, এমন সম্পর্কে বিয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে ধর্মীয় বিধান, সামাজিক রীতি এবং প্রয়োজনে চিকিৎসাগত (জেনেটিক) পরামর্শ বিবেচনা করা উচিত।

সব দিক ভেবে-চিন্তে, পরিবারের সম্মতি ও আশীর্বাদ নিয়ে রায়হান ও মেহজাবীন তাদের নতুন জীবনের পথে এগিয়ে যায়। তাদের সম্পর্কের ভিত্তি ছিল শুধু ভালোবাসা নয়, বরং বিশ্বাস, সম্মান, ধৈর্য এবং দায়িত্ববোধ।

গল্পটি আমাদের শেখায়, সত্যিকারের ভালোবাসা কখনো শুধু আবেগের ওপর দাঁড়িয়ে থাকে না। পারস্পরিক শ্রদ্ধা, পরিবারের প্রতি সম্মান এবং ভবিষ্যতের কথা ভেবে নেওয়া পরিণত সিদ্ধান্তই একটি সম্পর্ককে সুন্দর ও দীর্ঘস্থায়ী করে তোলে।

Comments

    Please login to post comment. Login