সন্ধ্যা সাড়ে ছ’টায় অফিস ছুটি। ঘড়িতে ছ’টা বাজতেই বাইরে প্রায় অন্ধকার হয়ে এলো বলে। অপেক্ষার প্রহর গুণতে গুণতে অবশেষে অফিস ছুটি সুতপার। তড়িঘড়ি করে লিফট বেয়ে নিচে নেমে স্বস্তির নিঃশ্বাস। যতক্ষণ অফিসে আটকে থাকে সহকর্মীদের তড়িৎ পদচারণায় দেহে যেন কর্টিসলের মাত্রা বিপদসীমা অতিক্রম করে। মাঝে মাঝে পৃথিবীটা বড্ড হালকা লাগে, যেন এখনই মাথা ঘুরে পড়ে যাবে সুতপা। কিন্তু পড়ে যায় না, বলা ভালো নিজেকে দূর্বল হতে দেয় না। উঠে দাঁড়িয়ে লেগে পড়ে নতুন কাজে।
সুতপা কিছুক্ষণ হেঁটে মেজাজটা ফুরফুরে করে নিচ্ছিলো হঠাৎ ঝিরিঝিরি বৃষ্টি নামল। ঝিরিঝিরি বৃষ্টি একসময় নিজের গতি বাড়িয়ে মুষলধারায় পরিণত হলো। এই হঠাৎ বৃষ্টিতে অযাচিত সমস্যার কি করে সমাধান করবে এটা ভেবে রাস্তায় চলাচলকৃত মানুষের মাঝে মৃদু আন্দোলনের সৃষ্টি হলো। সবাই নিরাপদে গন্তব্যে পৌঁছুতে খালি রিকসা বা সিএনজির উদ্দেশ্যে হাঁকডাক আরম্ভ করলো। একটা ব্যাটারি রিকশা কোথা থেকে হঠাৎ উদয় হয়ে সুতপার পাশে ব্রেক কষলো।
‘আপা এই বৃষ্টিতে রিকশা গাড়ি কিছু পাইবেন না, উইঠা পড়েন।’
সুতপা লোকটির দিকে একবার তাকিয়ে তার একমনে সিগারেট টেনে যাওয়া লক্ষ্য করলো। সিগারেট খাওয়ার ব্যাপারটা তাকে খুব বিরক্ত করে। সাধারণত রিকশাওয়ালারা সিগারেট খেলে সে নিষেধ করে তারপর রিকশায় উঠে। কিন্তু আজকে বলবে না কারণ বৃষ্টিতে এমনিতেও সে বেশিক্ষণ টানতে পারবে না!
‘আপনি শনির আখড়া, ভূতের গলি যাবেন?’
‘হ, উডেন, যামু।’
‘ভাড়া…’
‘আরে উডেন, বৃষ্টিতে তো ভিজা যাইতাসেন, যা দিবেন তাই।’
মনে মনে অনেকটা কৃতজ্ঞতাকাতর হয়ে সুতপা উঠে বসলো রিকশায়। বৃষ্টির মধ্যে রিকশা গাড়ির কেমন অপ্রাপ্যতা তৈরি হয় সে সম্পর্কে তার ভালোই ধারণা আছে। পুরো ভিজে যাওয়ার আগেই উঠে পড়তে পেরেছে, আল্লাহর কাছে শুকরিয়া।
যেতে যেতে রাস্তার দু’ধারে, চোখে মুখে বিরক্তি হতাশা নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকা মানুষগুলোর বিব্রত হওয়া দেখছে। কারও কারও চোখে চোখ পড়তেই সে ব্যক্তি চোখ সরিয়ে নিচ্ছে। ভীড়ের মাঝে হঠাৎ কেউ আগে রিকশা পেয়ে গেলে বাকিরা কি পরিমাণ অসহায়ত্ব আর ঈর্ষায় ভোগে তা সে ভালভাবেই জানে। ভেজা ধানমন্ডির চাকচিক্য দেখতে দেখতে সে এগিয়ে যাচ্ছে বাড়ির দিকে। বৃষ্টি পড়বে আর ঢাকার রাস্তায় জ্যাম থাকবে না তা তো হতে পারে না। কিছুদূর যেতেই জ্যাম। রিকশাওয়ালা মামা এর মধ্যে দু’বার পেছনে ফিরেছিলো নীল পলিথিনটা ঠিকঠাক করে দিতে। পলিথিনে নাকি পা লাগানো যাবে না, কাঁদা লেগে যাবে। পলিথিনটা ঠিক করতে গিয়ে এরমধ্যে একবার সুতপার পায়ে উনার হাতটা লেগে যায়। সুতপার নিশ্চিন্ত মুখচ্ছবিটা মুহূর্তেই বিষন্ন হয়ে যায়। লোকটা কি আসলেই পলিথিন গোছাচ্ছে নাকি ঠিকঠাক করার বাহানায় তার গায়ে হাত দেয়ার চেষ্টা করছে কে জানে। এই রকম মূহুর্ত গুলো আসলে খুব বিভ্রান্তিকর। কি করা উচিত বুঝে ওঠা যায় না।
‘কিছু ঠিক করতে হলে আমাকে বলবেন, আমি ঠিক করে নিবো, আপনার করতে হবে না।’, একবার বলতে ইচ্ছে করলো কিন্তু পরক্ষণেই মনে হলো থাক্, কিছুক্ষণের পথ, কিইবা হবে কথা বাড়িয়ে। ভালয় ভালয় বাড়ি পৌঁছুতে পারলে বাঁচে। ভাবনার জগৎ থেকে ফেরত এসেই চারপাশে তাকালো সুতপা। আর তখুনি চোখে পড়লো অদ্ভুত কিছু। একটি মেয়ে ভিজে জবুথবু হয়ে দাঁড়িয়ে আছে রাস্তার পাশে। কাঁধে একটা সাইড ব্যাগ, কোন এনজিও কর্মী হতে পারে, যদিও এভাবে আন্দাজ করে কারও প্রফেশন সম্পর্কে ধারণা করা যায় না। সুতপার চোখে চোখ পড়তেই মেয়েটি হাত নাড়লো। মেয়েটি কি বুঝলো জানে না, সে দ্রুত হেঁটে রিকশার কাছে এসে চলে আসে। কাছে আসার পর সুতপা তার চেহারা ভালোভাবে দেখতে পেলো। খুব নিষ্পাপ চেহারায় গোরা রঙ মেয়েটির। বয়েস একেবারেই কম হবে। মেয়েটিই জিজ্ঞেস করলো,
‘আপু, তুমি কোথায় নামবে?’
‘আমি তো ভুতের গলি যাচ্ছি। তুমি কোথায় যাবে?’
মেয়েটি আশান্বিত ও খানিকটা উত্তেজিত হয়ে বললো,
‘আমি রায়েরবাগ। ভূতের গলি পার হয়ে একটু সামনেই। আমায় নামিয়ে দাও না প্লিজ।’
মেয়ে মানুষের এই এক সমস্যা। মন ভীষণ নরম। মেয়েটির সাদা ওড়না ভিজে গায়ের সাথে লেপ্টে আছে। রিকশা গাড়ির যে পরিমাণ ক্রাইসিস ও কিছু একটা পেলেও ততক্ষণে ওর শারীরিক অবস্থার অবনতি হয়ে যাবে আরও। সুতপা বেশ কিছুক্ষণ তাকিয়ে ভাবতে লাগবো। এরইমাঝে গাড়ির হর্ণ বেজে উঠলো।
‘উঠে পড়ো, উঠে পড়ো, গাড়ি ছেড়ে দিলো।’, সুতপা তাড়া দিলো।
রিকশাওয়ালা মামা বিরক্ত হয়ে পিছনে একবার তাকিয়ে কিছু বলতে চাইলো কিন্তু জ্যাম ছেড়ে দেয়ায় গাড়ির শব্দে তার কথাগুলো হারিয়ে গেলো বাতাসে। সুতপা আর মেয়েটি দুজনেই ঠুটো জগন্নাথ হয়ে বসে আছে। কারও মুখে রা টি নেই। সুতপার মনে হলো এই বুঝি মেয়েটি ছুড়ি বের করে গলায় ধরবে আর বলবে, বোকারাম কোথাকার! কিন্তু কেউ কিছু করলো না, বললো না। এভাবেই কিছুদূর যাওয়ার পর সুতপা বললো,
আমি সুতপা, একটা ফার্মে আছি। তুমি কি স্কুলে পড়ো?
মেয়েটি খুবই ক্ষীণ স্বরে বললো, ‘ক্লাস টেন। স্যার এর কোচিং থেকে বের হতেই বৃষ্টি নামলো।’
কিছুক্ষণ চুপ থেকে সুতপা আবার জিজ্ঞেস করলো,
‘আচ্ছা, তোমার কেনো মনে হলো আমি তোমাকে আমার রিকশা উঠাতে রাজি হবো? না মানে, নাও তো উঠাতে পারতাম।’
মেয়েটি একটু বিব্রত হাসি দিলো দেখে সুতপার হাসি পেলো।
‘এত রাতে এমন একা একা পড়তে আসবে না। কাউকে নিয়ে আসবে। বাই দ্য ওয়ে তোমার কাছে মোবাইল আছে?’
সুতপার এটা সেটা প্রশ্ন করতে করতেই ভূতের গলি চলে এলো। সুতপা নেমে গিয়ে মামাকে বললো, ‘মামা, ওকে আরেকটু সামনে নামিয়ে দিয়েন। আমি আপনাকে ভাড়া বাড়িয়ে দিচ্ছি।’
‘আপনে আমার উপর একজনকে চাপায় দিয়া দিলেই হইবো। আমারে না জিগায়েই তো উঠায় ফালাইলেন’, ঝাঁঝালো কণ্ঠে অভিযোগ ঝরে পড়লো।
‘কি আশ্চর্য! আপনি এমন কেনো করছেন। এই সামনেই তো নামবে ও’, অন্য কোন সময় হলে লোকজন জড়ো করে ঝগড়া করতো সুতপা, কিন্তু এই সময় তর্ক করাটা বুদ্ধিমানের কাজ হবে না ভেবে যথেষ্ট সমীহ করলো এই বিরক্তিকর লোকটাকে। নরম হয়ে বললো, ‘প্লিজ মামা, সামনেই তো, একটু নামায় দিয়া আসেন।’
লোকটা গজগজ করতে করতে সামনে টান দিলো। এতক্ষণ এত কথার মাঝে ‘সাদা ওড়না’ মেয়েটি একটা কথাও বললো না। কাঁচুমাচু হয়ে বসে রইলো। মেয়েটি হয়তো ভয়ে আছে এই ভেবে রিকশাওয়ালা মামা না নামিয়ে দেয় এই মাঝপথে। কিন্তু তেমন কিছু হলো না, রিকশা চলতে থাকলো। এখান থেকে রায়েরবাগ তিরিশ টাকা রিকশা ভাড়া। একেবারে কাছেও না, আবার খুব দূরেও না। যেতে পথে অনেক গলি পার হতে হয়। এই বৃষ্টিস্নাত সন্ধ্যায় এই অনুন্নত পাড়ার গলিতে খুব একটা মানুষ জন নেই। আবছা আলোয় রাস্তাঘাট চেনা থাকলেও কারও চিনতে অসুবিধা হবেই। একটা গলির শেষ মাথায় এসে রিকশা থামলো। মেয়েটি একটু উঁকি দিয়ে বোঝার চেষ্টা করলো রায়েরবাগে চলে এলো কিনা। কিন্তু রাস্তার এমন এক প্রান্তে রিকশা দাঁড়িয়ে আছে, এখানে নির্জীব এক টুকরো জমি ছাড়া কিছুই চোখে পড়ছে না। এরকম কোন জায়গা সে কস্মিনকালেও দেখেনি। মেয়েটি দেখলো মামা একটু দূরেই দাঁড়িয়ে সিগারেট টানছে। সে কিছুই না করে, কিছুই না বলে চুপটি করে বসে রইলো। ভাবলো হয়তো মামা একটু বিশ্রামের জন্য দাঁড়িয়েছে।
রিকশাওয়ালা লোকটি এবার সরাসরি কাছে এসে মেয়েটির হাত ধরে টেনে রিকশা থেকে নামিয়ে দিলো। মেয়েটিও চুপচাপ রিকশা থেকে নেমে গেলো।
‘কি সোনামণি? মাইনষের ভাড়ায় ফ্রি ফ্রি যাওনের শখ নাকি তোমার? আইজ শখ মিটামু তোমার। আসো কাছে হি হি হি।’, এই বলে মেয়েটাকে তড়িৎগতিতে ওর ঘর্মাক্ত ও বিশেষ গন্ধবিশিষ্ট বুকের কাছে চেপে ধরলো। তার বাহুবন্ধনের বলয়ে চাপ প্রয়োগ করতে লাগলো। জোর দিতে দিতে একসময় খেয়াল করলো সে যতই শক্তি দিচ্ছে না কেনো মেয়েটি অসাড় হয়ে দাঁড়িয়েই আছে। লোকটা এবার প্রচণ্ড রেগে গিয়ে ওর চুলের মুঠি চেপে ধরে মাথা নাড়াতে নাড়াতে ওকে ব্যাথা দিতে থাকলো। মেয়েটি প্রচন্ড ব্যাথা পাচ্ছে কিন্তু তাও কিছুই বললো না। এক ধাক্কায় ওকে মাটিতে ফেলে ওর কামিজ শরীর থেকে খুলে নিচ্ছে আর মেয়েটিও অনায়াসে লোকটার কাজে সায় দিয়ে যাচ্ছে। কোন প্রতিবাদ করছে না!
‘ঐ ছেমড়ি? তুই মানুষ নাকি জীন পরী? এমন তব্দা মাইরা আসোস ক্যান? শরীরে কি রক্ত মাংস নাই?’
মেয়েটি চুপ করে এক দৃষ্টিতে লোকটার দিকে তাকিয়ে রইলো। ওর থুতনি বেয়ে বৃষ্টির ফোঁটা গড়িয়ে নিচে পড়ছে।
লোকটি থাপ্পড় মারলো মেয়েটির গালে, সে চুপ করে রইলো। আবার মারলো, আবার মারলো, মারতেই থাকলো। এভাবে বার, তেরো, চৌদ্দ…
মেয়েটি শারিরীকভাবে অসাড় হয়ে গেলেও তার মন আর নিতে পারলো না। চোখ গড়িয়ে জল নেমে মাটিতে মিশে গেলো! কিন্তু লোকটি দেখতে পেলো না!
লোকটি তার কালশিটে পড়া দাঁতগুলো প্রদর্শন করে বলতে লাগলো,
‘কি রে? তুই কান্দোস নি? কান্দোস না? কান্দোস না ক্যান? তোর ব্যাথা লাগে না? এই বলতে বলতে আরও দু’চারটা থাপ্পড় লাগিয়ে দিলো। ও ওওওও বুজঝি, তুমি নাটক করো আমার লগে? নাটক? হ্যা? মনে করসো এডি করলে আমি গইলা যামু? সোনা চান্দু, মন্টুরে এহনও তুমি চিনো নাই…হিহি হিহি হি!’, বিকৃত হাসিতে চারপাশে বৃষ্টির টুপটাপ ছন্দে ব্যাঘাত ঘটলো।
‘খোল খোল তাড়াতাড়ি খোল জামা। তোমার নরম শইলডায় আমার যন্ত্র কাম করা শুরু করলেই সব নাটক ঠিক হইয়া যাইবো। হিহি হিহি হি!’
আঙ্কেল!
এই! কে কথা কয়?
আঙ্কেল, আমি!
আমি? আমি কে?
মেয়েটি লোকটিকে স্পর্শ করলো কাঁধে। লোকটি একটু চমকে উঠলো,
ও মা! বলে লোকটি আবার একটা থাপ্পড় বসিয়ে দিলো মেয়েটিকে সাথে অশ্রাব্য ভাষায় গালাগাল। ‘***, এমনে কেউ চমকাইয়া দেয়?’
‘সরি আঙ্কেল। আপনাকে চমকে দিতে চাইনি। আঙ্কেল আপনি যেটা করতে চাচ্ছেন করতে পারেন। আমি এমনিই আপনাকে সহযোগিতা করবো। আমাকে জোড়াজুড়ি করতে হবেনা।’
এই কথা শুনে লোকটি আবার বিকৃত হাসিতে ফেটে পড়লো। ‘ওলে লে লে আমার লক্ষী রে, আমার সোনার পক্ষী টারে’ একথা বলেই মেয়েটির হাতদুটো পেছনদিকে মোচড় দিয়ে লোকটি কটমট করে তাকিয়ে বললো, ‘তুই কি আমার বউ লাগোস শু*য়ো*রের বাচ্চা? তোরে আমি প্রথমে ****, তারপর দম বন্ধ কইরা মাইরা ফালামু, বুঝছোস **** ***? হিহি হিহি হি।’
লোকটি মেয়েটিকে আংশিক অনাভরণের পর নিজে যখন প্রস্তুত হলো ঠিক সেই মূহুর্তে মেয়েটি তার সম্পূর্ণ শক্তি দিয়ে হাতের ফাউন্টেন পেনটা তার প্রজননে অঙ্গে প্রবেশ করিয়ে দিলো।
দিক বিদিক শীর্ণ করে মন্টু চিৎকার দিলো। কিন্তু তার চিৎকার কেউ শুনলো না। কারণ এ বড় নির্জন জায়গা। নির্জীব এক টুকরো জমির হাহাকার ছাড়া কোন মানুষের আনাগোনা এখানে নেই!
মেয়েটি উঠে দাঁড়িয়ে নিজের জামা কাপড় ঠিক করে নিলো। এতক্ষণ চুপসে থাকা মেয়েটার চোখেমুখে বেশ আত্মবিশ্বাস ফুটে উঠেছে। সে তার ভেজা ব্যাগ থেকে আইফোনটা বের করেই মাহমুদুর রহমান নামের একজনকে কল দিলো। মাহমুদ সাহেব ফোন ধরেই বললো,
‘সিমিন, আর ইউ ওকে?’
‘আই এম ফাইন, স্যার। মিশন একমপ্লিশড্।’
‘তুমি ওখানেই থাকো। তোমাকে ট্র্যাক করে পুলিশ আর গোয়েন্দারা কাছাকাছিই অবস্থান করছে। আমার সিগনাল পাওয়া মাত্রই তোমাকে উঠিয়ে নিবে।’
‘ওকে স্যার!’
ফোন রেখে দিয়ে জ্ঞান হারানো মন্টু সিরিয়াল রেপিস্টকে এক নজর দেখলো সিমিন। কিছুক্ষণ আগের ভয়াবহ জন্তুটা কেমন নিস্তেজ হয়ে পড়ে আছে! কলমটা জায়গামতো বিঁধেনি, বিঁধলে এতক্ষণে ডেডবডি হয়ে যেত। প্রোস্টেট গ্ল্যান্ড এর একটু উপরে লেগেছে। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ হওয়ায় জ্ঞান হারিয়ে ফেলেছে।
গাড়িতে উঠে বসলো সিমিন। বাকি কর্মকর্তারা একটু অবাক চোখে তাকিয়ে আছে তার দিকে। এর কারণ অবশ্য সিমিন জানে, সে মনে মনে একটু হাসলো। আসলে পুরুষ সমাজকে অবাক করে দিতে তার ভালই লাগে!
পরদিন,
নতুন সকাল। রাতে ভালো ঘুম হয়নি। হবেই বা কি করে, দিনরাত যে জানোয়ারদের সাথে তাকে লড়তে হয়। তবু নতুন উদ্যমে নতুন দিনের সূচনা করতে হবে, সে যে সময়ের তরুণ গোয়েন্দা কর্মকর্তা!
অফিসে ঢুকে নিজের রুমে যাওয়ার আগে মাহমুদ সাহেবের রুমে একবার গেলেন মন্টু দ্য সিরিয়াল রেপিস্ট এর খবর জানার জন্য।
‘তাকে পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। শারীরিক অবস্থার উন্নতি ঘটলেই কারাগারে পাঠানো হবে।’
‘কোনভাবেই যেন সে ছাড় না পায়। তার কুকর্মের বড় প্রমাণ আমি নিজেই।’
‘কি বলছো? কি করেছে ও তোমার সাথে!?’
সিমিন অপরাধী হাসি হেসে বললো,
‘আসলে স্যার, আপনাদের না জানিয়ে গতকাল রাতে আমি একটা এক্সপেরিমেন্ট করার চেষ্টা করি। সাধারণত রেপ ভিক্টিমকে আক্রমণ করার পর তারা নিজেদের বাঁচানোর চেষ্টা করে। এতে ধস্তাধস্তি হয়, ভিক্টিমদের উপর জানোয়ার গুলো আরও ক্ষেপে গিয়ে চূড়ান্ত ক্ষতি করে বসে। হোয়াট ইফ ভিক্টিম রা সাবমিসিভ থাকে? কিংবা কিছুক্ষণের জন্য ফ্রিজ হয়ে যায়? ওদের অনূকূলে আচরণ করে ওদেরকে খানিকটা হতবুদ্ধি করে দেয়?’
‘আর এই কাজটা করে কি লাভ?’
‘স্যার, আমি আপনাকে বুঝিয়ে বলছি। ভিক্টিমের এই অস্বাভাবিক রিএকশনে অপরাধী ধাঁধায় পড়ে যাবে বা কিছুক্ষণের জন্য মনোযোগ অন্যদিকে চলে যাবে। আই মিন বেশিরভাগ ক্ষেত্রে। এই সুযোগে ভিক্টিমরা ওদের এটাক করার একটা সুযোগ কিন্তু পেয়ে যাবে। এই ধারণাকে কাজে লাগিয়েই আমি গতকাল এক্সপেরিমেন্টটা করি এবং সফল হই। যদিও এই কাজটায় সফলতার হার শতভাগ হবে না। অনেকক্ষেত্রে মনে হচ্ছে উল্টো অপরাধীরই লাভ হবে।’
মাহমুদ সাহেব বলেন, ‘এই বিষয়ে আমার আরেকটু ভাবতে হবে। আপাতত এখন তুমি যাও। নেক্সট মিশনে নেমে পড়ো।’
‘ওকে স্যার!!’