বিখ্যাত ব্রিটিশ উপন্যাসিক ও চিত্রনাট্যকার অ্যান্টনি হরোউইটজ স্বীকার করেছেন যে, তিনি তার লেখালেখির কাজে সহায়তার জন্য নিয়মিত চ্যাটজিপিটি ব্যবহার করেন। সম্প্রতি ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ইন্ডিপেনডেন্টকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এই তথ্য জানিয়েছেন।
হরোউইটজ তরুণ পাঠকদের জন্য লেখা জনপ্রিয় ‘অ্যালেক্স রাইডার’ সিরিজের পাশাপাশি প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য লেখা উপন্যাস ‘দ্য ওয়ার্ড ইজ মার্ডার’, ‘দ্য টুইস্ট অব আ নাইফ’ এবং গত মাসে প্রকাশিত ‘আ ডেডলি এপিসোড’ এর জন্য সুপরিচিত। এছাড়া ইয়ান ফ্লেমিং পাবলিকেশন্সের অনুরোধে তিনি জেমস বন্ডকে নিয়েও উপন্যাস লিখেছেন। তিনি এই জনপ্রিয় গোয়েন্দা চরিত্র নিয়ে ধারাবাহিকভাবে তিনটি উপন্যাস লেখার সুযোগ পাওয়া একমাত্র লেখক।
হরোউইটজের ধারণা, চ্যাটজিপিটি ব্যবহার করে লেখায় তার খুব বেশি অবদান থাকে না। তাই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই ব্যবহারের এই প্রক্রিয়াটি তার নিজের কাছেই প্রতারণার মতো মনে হয়। তিনি বলেন, 'বিষয়টি নিয়ে আমি কিছুটা অস্বস্তিবোধ করছি। কারণ, এটা কি এক ধরনের প্রতারণা? আমার কাছে অনেকটা স্কুলের পরীক্ষায় প্রতারণা করার মতো মনে হচ্ছে।'
চ্যাটবট থেকে পাওয়া তথ্যের সত্যতা যাচাই করা গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করে হরোউইটজ বলেন, 'প্রযুক্তিটি বেশ উপকারী হলেও আমি মনে করি, এটি পুরোপুরি বিশ্বাসযোগ্য নয়। তাই চ্যাটজিপিটি থেকে পাওয়া তথ্যের সত্যতা আপনাকে সবসময়ই যাচাই করে দেখতে হবে কী বলা হচ্ছে এবং অন্য কোনো উৎস থেকেও তথ্যটি মিলিয়ে নিতে হবে।'
তিনি আরও বলেন, ‘আগে যেসব তথ্যের জন্য আমাকে লাইব্রেরিতে গিয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা সময় কাটাতে হতো, এখন সেই গবেষণার কাজ দ্রুত করতে আমি চ্যাটজিপিটির সাহায্য নিচ্ছি। তবে লেখকদের এই প্রযুক্তির ওপর পুরোপুরি নির্ভরশীল না হওয়াই উচিত।’
৭১ বছর বয়সী এই লেখক এআই এর সীমাবদ্ধতার কথাও উল্লেখ করেন। এ প্রসঙ্গে তিনি একটি ঘটনার কথা জানান, যখন তিনি চ্যাটজিপিটির কাছে আলুর আকৃতি কেমন—তা জানতে চেয়েছিলেন এবং উত্তরে তাকে ‘উপবৃত্তাকার’ শব্দটি বলা হয়েছিল। তিনি বলেন, ‘এ ধরনের পরিস্থিতিতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে বাদ দিয়ে নিজের বুদ্ধিমত্তা কাজে লাগাতে হয়। পাঠকরা যখন পড়বেন যে, তার প্লেটে থাকা আলুটা ছিল উপবৃত্তাকার তখন তারা বলবে, লোকটা আসলে কীসব আজেবাজে কথা বলছে?’
উল্লেখ্য, সাহিত্য জগতে এআই এর ব্যবহার একটি বিতর্কিত বিষয় হয়ে উঠেছে। গত বছর প্রকাশনা সংস্থা পেঙ্গুইন র্যান্ডম হাউস, হ্যাশেট বুক গ্রুপ, হার্পার কলিন্স, সাইমন অ্যান্ড শুস্টার ও ম্যাকমিলানের কাছে দেওয়া একটি খোলা চিঠিতে বহু লেখক স্বাক্ষর করেছেন। তাদের দাবি, প্রকাশনা সংস্থাগুলো যেন ‘যন্ত্রের দ্বারা সৃষ্ট’ কোনো বই প্রকাশ না করার প্রতিশ্রুতি দেয়। এছাড়া চলতি বছরের শুরুর দিকে, প্রকাশনা সংস্থা হ্যাশেট মার্কিন লেখক মিয়া ব্যালার্ডের হরর উপন্যাস ‘শাই গার্ল’ প্রকাশের পরিকল্পনা বাতিল করে দেয়। কারণ বইটি রচনায় এআই ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছিল।